জাতীয়

জামায়াতের বর্তমান রাজনীতি দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে: নুর

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তবে দলটির নেতাকর্মীদের প্রতি তার সহানুভূতি ও ভালো লাগা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শরিফুল কবির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর পৃষ্ঠপোষকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সংগঠিত সাইবার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তার দাবি, এমন কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারি দলের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ভুয়া পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং পরিকল্পিতভাবে অন্যদের আক্রমণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জামায়াতে ইসলামী নিজেদের ইসলামী আদর্শের রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করলে তাদের নেতাকর্মীদের আচরণেও ইসলামের শিক্ষা ও মহানবী (সা.)-এর আদর্শের প্রতিফলন থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। সাইবার অপপ্রচার ও অনলাইনভিত্তিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

সরকারের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর যথাযথ মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব পালনে গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা রয়েছে। মিত্রদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

তিনি বলেন, রাজপথের আন্দোলনের সময় যারা পাশে ছিলেন, বড় রাজনৈতিক সংকটের মুহূর্তে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।

 

নিজেকে ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে নুর বলেন, এসব প্রচারণায় তারা বিচলিত হবেন না। দায়িত্ব গ্রহণের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না বলেও দাবি করেন তিনি। মানুষের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধায় ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানান নুর।

 

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে গণঅধিকার পরিষদ জনগণের পাশে থেকে ভূমিকা রাখবে বলে জানান নুরুল হক নুর।

 

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে যেখানে কথা বলা প্রয়োজন, সেখানে তারা কথা বলবেন। কোনো অনিয়ম বা অঘটন দেখেও নীরব থাকার রাজনীতি তারা করেন না।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনসহ বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদ ও অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্মের মানুষের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখবেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা এবং প্রয়োজনে তাঁদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।   বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ। এ দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।   আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে পূর্ণ নিরাপত্তায় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।   জামায়াতের আমির আরও বলেন, দেশের ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও স্বস্তির সঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।   এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।   বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।  

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, আটক ৭

ছবি: সংগৃহীত

দৌলতদিয়া ঘাটে অনিয়মের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি

শাহ আমানত বিমানবন্দরে দেড় মাসে ৯ বার চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত বাংলাদেশ-কিরগিজস্তান

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রম গতিশীলতায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তান। বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার এই দেশটিতে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।   কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বুধবার দ্বিতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠকের (এফওসি) ফাঁকে দেশটির তিন মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।   আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   কিরগিজস্তানের শ্রম, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিবাসনবিষয়ক প্রথম উপমন্ত্রী আরলেন আলিয়াসোভের সঙ্গে এক বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।   কিরগিজ পক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে শ্রমের যে ক্রমবর্ধমান চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে তারা আরও বেশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। সম্ভাব্য কর্মসংস্থান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্মাণ, বস্ত্র, ওষুধ, ডিজিটাল সেবা, কৃষি ও শিক্ষাদান।   উভয় পক্ষ নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শ্রম গতিশীলতা সহজতর করতে সরকার-টু-সরকার(জি-টু-জি) সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করে এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে।   কিরগিজ উপশ্রমমন্ত্রী কর্মসংস্থান ও অভিবাসন সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।   অপর এক বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম কিরগিজস্তানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যবিষয়ক উপমন্ত্রী মেদের তুমানোভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন।   দুই পক্ষ তুলনামূলক সুবিধা এবং ইউরেশীয় বাজারে সম্ভাব্য প্রবেশের সুযোগ বিবেচনায় নিয়ে তুলা উৎপাদন, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করে। তারা ওষুধ খাতকেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সহযোগিতার একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।   উভয় পক্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। তারা ইউরেশীয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে জেনারেল সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন।   কিরগিজস্তানের বিজ্ঞান, উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবন বিষয়ক মন্ত্রী গুলজাত ইসামাতোভার সঙ্গে পৃথক এক বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   আলোচনায় শিক্ষাগত বিনিময় বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কিরগিজস্তানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বড় সুযোগ তৈরির ওপর আলোকপাত করা হয়।   কিরগিজ মন্ত্রী জানান যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম দুই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ইসামাতোভাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। কিরগিজ মন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।   এই বৈঠকগুলোতে প্রথাগত কূটনৈতিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ গতিশীলতা ও শিক্ষা অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বহুমুখী করার ক্ষেত্রে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে।   তাসখন্দে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এম মনিরুল ইসলাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৫, ২০২৬

ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে জোর, তিন মাস পর অগ্রগতি দেখতে চান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

ফাইল ছবি

১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত দাম্মাম-রিয়াদগামী সব ফ্লাইট

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে। ছবি: সংগৃহীত

নতুন দায়িত্বে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

ছবি: সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ড পেতে যেসব শর্ত মানতে হবে

দেশের অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি নারীকে পরিবারপ্রধান হিসেবে মাসিক নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আট ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকা পরিবার ও ব্যক্তিরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।   কর্মসূচির খসড়া ও উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রকৃত অভাবী পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নীতিমালায় কিছু বর্জনীয় শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।   ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যেসব ৮ শ্রেণির পরিবার   ১. নির্ধারিত আয়ের চেয়ে সচ্ছল পরিবার সরকার নির্ধারিত প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করা সচ্ছল, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবার এ সুবিধা পাবে না।   ২. সরকারি চাকরিজীবী পরিবার পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না। একইভাবে, তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলেও এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।   ৩. পেনশনভোগী পরিবার পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধা পেলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রাপ্ত বিশেষ পেনশনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।   ৪. নির্দিষ্ট সীমার বেশি আর্থিক আমানত পরিবারের কোনো সদস্যের নামে সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না। একইভাবে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো সদস্যের নামে ৫ লাখ টাকার বেশি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) বা সঞ্চয় থাকলেও পরিবারটি বাদ পড়বে।   ৫. মোটরযানের মালিক পরিবার পরিবারের যেকোনো সদস্যের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক কিংবা সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলারের মতো যানবাহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   ৬. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার লাইসেন্স পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে অথবা বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে ওই পরিবার এ সুবিধা পাবে না।   ৭. করযোগ্য আয় থাকা আয়করদাতা পরিবারের যেকোনো সদস্য নিয়মিত আয়কর প্রদান করলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়বে।   ৮. নির্ধারিত সীমার বেশি জমির মালিক বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া, পরিবারের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও এ সুবিধা দেওয়া হবে না।   আবেদনকারীর তথ্য যেভাবে যাচাই হবে নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যাচাই করতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সরাসরি এপিআই সংযোগ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হবে। তথ্যে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে আবেদন বাতিল করার ব্যবস্থার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া। তাই নির্ধারিত যোগ্যতা ও বর্জনীয় শর্ত যাচাই করেই চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম যাবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সংসদ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৯২

0 Comments