জাতীয়

সবাই বাংলাদেশি, ‘সংখ্যালঘু’ শব্দে নিজেদের ছোট করার সুযোগ নেই: এ্যানি

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিজেদের ছোট না করার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা মুসলমান—ধর্ম যার যার হলেও জাতীয় পরিচয়ে সবাই বাংলাদেশি।

 

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের শ্যাম সুন্দর জিউর আখড়ায় আয়োজিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি ফিতা কেটে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

 

এ্যানি বলেন, পাহাড়ে বসবাসকারীদের পাহাড়ি বা আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। একইভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের নিজ নিজ ধর্মীয় পরিচয় রয়েছে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়ের জায়গায় আমরা সবাই বাংলাদেশি। কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিজেদের খাটো করার প্রয়োজন নেই। দেশের মানুষের ঐক্য ধরে রাখতে এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

 

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একটি নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন। তার সময়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার একটি রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর তারা মাত্র ছয় মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই এই অল্প সময়ের মধ্যে সমাজের সব অনাচার-নির্যাতন দূর করে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। তবে সরকারের উদ্যোগ ও লক্ষ্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

এ্যানি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, কংসের কারাগার ছিল অত্যাচার ও নিপীড়নের প্রতীক। সেই কারাগারেই শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে শান্তি, ন্যায় ও মানবতার কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এই দিনের অন্যতম শিক্ষা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে জন্মাষ্টমী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবা উল আলম ভূঁইয়া, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শৈবাল কান্তি সাহা, সাধারণ সম্পাদক মিলন মন্ডল, জেলা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণ দুলাল দাস, জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক মাখন লাল সাহা ও সদস্য সচিব উত্তম দেবনাথসহ অনেকে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছে, পরিচালনার পরিকল্পনা করেনি: বিমানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বিদ্যুতের নামে শুধু প্লান্ট করেছে, কিন্তু বিদ্যুৎ প্লান্ট কীভাবে চলবে তার কোনো পরিকল্পনা করেনি, তাহলে ভবিষ্যতে কীভাবে চলবে।’   বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   বিকালে দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি শ্যামল চন্দের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা প্রমুখ।   বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অন্তবর্তীকালীন সরকারও বিদ্যুৎ নিয়ে একটা কাজও করেনি, যেটা দিয়ে গ্যাস তৈরি হয়, সেটার একটা মেশিন নষ্ট হয়েছিল, সেটাও মেরামত করেনি, যে কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি হচ্ছে। একটি দেশ নতুন করে গড়তে, রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হলে আমাদের একটু সময় দিতে।’   এলাকার মানুষের কৃষি ও খাদ্য সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চলতি মাস থেকেই প্রতিটি ইউনিয়নে সারের ডিলার এবং টিসিবির ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িতরা যেন আর কোনো কারসাজি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।’

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের শক্তি, বিভেদের সুযোগ নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে বিপুল আইফোন-ল্যাপটপসহ ৬ চীনা নাগরিক আটক

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতের বর্তমান রাজনীতি দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে: নুর

ছবি: সংগৃহীত
সবাই বাংলাদেশি, ‘সংখ্যালঘু’ শব্দে নিজেদের ছোট করার সুযোগ নেই: এ্যানি

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিজেদের ছোট না করার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা মুসলমান—ধর্ম যার যার হলেও জাতীয় পরিচয়ে সবাই বাংলাদেশি।   শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের শ্যাম সুন্দর জিউর আখড়ায় আয়োজিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি ফিতা কেটে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।   এ্যানি বলেন, পাহাড়ে বসবাসকারীদের পাহাড়ি বা আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। একইভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের নিজ নিজ ধর্মীয় পরিচয় রয়েছে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়ের জায়গায় আমরা সবাই বাংলাদেশি। কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিজেদের খাটো করার প্রয়োজন নেই। দেশের মানুষের ঐক্য ধরে রাখতে এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।   তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একটি নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন। তার সময়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার একটি রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর তারা মাত্র ছয় মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই এই অল্প সময়ের মধ্যে সমাজের সব অনাচার-নির্যাতন দূর করে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। তবে সরকারের উদ্যোগ ও লক্ষ্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তিনি।   এ্যানি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।   জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, কংসের কারাগার ছিল অত্যাচার ও নিপীড়নের প্রতীক। সেই কারাগারেই শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে শান্তি, ন্যায় ও মানবতার কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এই দিনের অন্যতম শিক্ষা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে জন্মাষ্টমী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবা উল আলম ভূঁইয়া, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শৈবাল কান্তি সাহা, সাধারণ সম্পাদক মিলন মন্ডল, জেলা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণ দুলাল দাস, জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক মাখন লাল সাহা ও সদস্য সচিব উত্তম দেবনাথসহ অনেকে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নিয়োগ-বদলিতে দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল হাইকমিশন

ছবি: সংগৃহীত

সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে সুখবর, যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি
চট্টগ্রামের বিশুদ্ধ পানির সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নতুন মডেলে কাজ শুরু হয়েছে। পতেঙ্গার দু’টি ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে তার যাত্রা শুরু হলো। এর মাধ্যমে পানি সংকট কেটে যাবে।’    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’র একটি হলরুমে শহরের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি-সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।   চুক্তির আওতায় ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। প্রতিষ্ঠান তিনটি একটি তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।   অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন (বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান) ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেনের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জনগণের পক্ষে ইসরাফিল খসরু ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানি সরবরাহের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ু বিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন সমঝোতা স্মারকের সাক্ষী ছিলেন। নেদারল্যান্ডস দূতাবাস এই উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।    অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এর অংশ হিসেবে নগরীর প্রান্তিক পর্যায়ে উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গায় একটি নতুন পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের সব মৌলিক চাহিদা পূরণের সরকার বদ্ধপরিকর, কিন্তু শুধু সরকার একা এটা করতে পারে না, এ জন্য পার্টনারশিপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মডেলে পানি সংকট নিরসনের চেষ্টা করছি আমরা। এই প্রকল্পে নেদারল্যান্ড দূতাবাস, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা একসাথে কাজ করবে।’   তিনি বলেন, ‘এখন অর্থনীতির সংজ্ঞাও বদলে গেছে। আগে সব সরকার করত। এখন সরকারের পক্ষে একা তো সবকিছু করা সম্ভব না। সরকারি সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা এই পার্টনারশিপটা সব জায়গায় অ্যাপ্লাই করছি। আমাদের পুরো অর্থনীতি মডেলে নতুন পদ্ধতি শুরু করেছি; আগে যেখানে ফাইন্যান্সিং শুধু লিমিটেড কিছু জায়গা থেকে হতো এখন তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এখন আমরা লিমিটেড জায়গা থেকে সরে গিয়ে পিপিপি মডেলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের দিকে যাচ্ছি। তার অর্থটা হচ্ছে, সরকার টাকা দেবে, প্রাইভেট সেক্টরও টাকা দেবে, এনজিওরা সহযোগিতা করবে। এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে যে মডেল আমরা দাঁড় করাচ্ছি, সেটা দীর্ঘমেয়াদী হবে, সেটার উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে। এবং এটার বেনিফিট পেতে মেইনটেনেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যায় যে সরকার অনেককিছু করে, কিন্তু এগুলো আবার মেইনটেনেন্স করা হয় না।   অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এইখানে কিন্তু পুরো প্যাকেজটা ওইভাবে করা হচ্ছে। আমরা ক্লিন ওয়াটারের সাথে সাথে বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের সমস্যাটাও আমরা সিরিয়াসলি দেখছি। এটা নিয়েও নেদারল্যান্ড দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে।’   চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির আওতায় তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জন্য একটি উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে, যার শুরু হবে কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ ওয়ার্ডের চাহিদা নিরূপণ ও পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে এটিই এ ধরনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা, যেটি বাংলাদেশের পানি সরবরাহ খাতের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনার সূচনা করেছে।   চলতি বছরের মে মাসে ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড (ম্যাক্স ট্যাপওয়াটার)-পরিচালিত একটি সমীক্ষার পর এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হলো।     ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ খাবার পানি প্রাপ্তির সুযোগ সীমিত। ওই দুটি ওয়ার্ডের মাত্র ২০-৪০ শতাংশ বাড়িতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন নেটওয়ার্ক পৌঁছেছে।   সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, দুটি ওয়ার্ডের অধিকাংশ বাসিন্দা বর্তমানে সেখানে কার্যক্রম পরিচালনকারী ৮৫-১১০টি বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার করে পানি কেনেন, যার জন্য ব্যয় হয় ২৫ থেকে ৫০ টাকা করে। এতে আরও দেখা যায় যে, এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি অত্যন্ত লবণাক্ত, পরীক্ষায় যার মাত্রা জাতীয় নিরাপদ সীমা ১ হাজার পিপিএমের বিপরীতে ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রাজপথে কর্মসূচির বদলে সংসদে সমাধানের প্রস্তাব দিন: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাসেই সব কাজ শেষ হবে—এমন প্রত্যাশা ঠিক নয়: পানিসম্পদ মন্ত্রী

0 Comments