জাতীয়

ইলিশসহ দেশীয় মাছ আমদানি কমাতে বারবার চিঠি, ফাইলেই আটকে উদ্যোগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইলিশসহ রুই, কাতলা, আইড়, বোয়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ উৎপাদিত হচ্ছে দেশেই। অথচ এসব মাছ বিদেশ থেকেও আমদানি হচ্ছে। এতে একদিকে দেশীয় মৎস্যচাষির বাজার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রশ্ন উঠছে।

 

পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশীয় মাছের আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করে মৎস্য অধিদপ্তর একাধিকবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো—চিঠির পর চিঠি গেলেও বাস্তবে উদ্যোগ কোথায়?

সংশ্লিষ্ট নথি ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর মৎস্য অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেশীয় মাছের আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

 

এরপর কেটে গেছে মাসের পর মাস। ১২ অক্টোবর পাঠানো সেই চিঠি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তৎকালীন মৎস্য সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবেরের মাধ্যমে অতিরিক্ত সচিবের কাছে পৌঁছাতে সময় লেগেছে তিন মাসেরও বেশি—২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

 

এরপরও দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

শুধু তাই নয়, চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ইলিশের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে জোর দেওয়ার বিষয়ে আবারও চিঠি দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই চিঠিও এখন পর্যন্ত কার্যকর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

অর্থাৎ, একটি সুপারিশের পর আরেকটি সুপারিশ—কিন্তু নীতিগত সিদ্ধান্তে গতি কতটা?

 

৫০ লাখ টনের বেশি মাছ উৎপাদন, তবুও আমদানি কেন?

মৎস্য অধিদপ্তরের চিঠিতে দেশের মৎস্য খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে দেশীয় মাছ আমদানি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।

 

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদিত হয়েছে ৫০ দশমিক ১৮ লাখ টন। এর মধ্যে কার্পজাতীয় মাছের উৎপাদন ১৮ দশমিক ৬০ লাখ টন, যা মোট উৎপাদনের ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

 

অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৯০ হাজার ৬২০ টন মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে প্রায় ৬ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে।

 

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তাহলে প্রশ্ন উঠছে—যে খাত দেশের খাদ্য, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি অর্থনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ, সেই খাতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করে এমন মাছ আমদানির নীতি কতটা যৌক্তিক?

 

ভারত-মিয়ানমার থেকে আসছে দেশীয় মাছ

মৎস্য অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আমদানি নীতির আওতায় ভারত ও মিয়ানমার থেকে রুই, কাতলা, ভেটকি, বোয়াল, কাঁচকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির হিমায়িত মাছ আমদানি হচ্ছে।

 

অধিদপ্তরের আশঙ্কা, দেশে সহজলভ্য এসব মাছ অবাধে আমদানি করা হলে স্থানীয় মাছচাষিরা বাজারে প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন এবং এর প্রভাব পড়তে পারে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সামগ্রিক মৎস্য খাতে।

 

এখানেই অনুসন্ধানের বড় প্রশ্নটি—

 

দেশে যে মাছ উৎপাদন করা সম্ভব, সেই মাছ আমদানি করে বাজারের চাহিদা মেটানোর নীতি কি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় উৎপাদনকে নিরুৎসাহিত করছে?

 

মৎস্য অধিদপ্তরের বক্তব্য হলো, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আমদানি নীতিতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আনা দরকার।

 

জাতীয় মাছ ইলিশও কি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ছে?

 

ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। একই সঙ্গে এটি ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য।

 

মৎস্য অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ইলিশের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানোর পরিবর্তে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে উৎপাদন ও আহরণ বাড়ানো প্রয়োজন।

 

অধিদপ্তর আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আমদানিকৃত মাছে ফরমালিন, ভারী ধাতু, অ্যান্টিবায়োটিক, রঞ্জক পদার্থ, সংরক্ষণকারী রাসায়নিক ও হিস্টামিনের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

 

তবে এসব ঝুঁকির উল্লেখকে আমদানিকৃত প্রতিটি মাছের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর উপাদান থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং আমদানিকৃত মাছের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সক্ষমতা এবং যথাযথ নজরদারি কতটা কার্যকর—সেটিও আলাদা করে খতিয়ে দেখার বিষয়।

 

চিঠি গেছে, ফাইল নড়েছে—কিন্তু সিদ্ধান্ত কোথায়?

 

নথির সময়রেখা বলছে, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর মৎস্য অধিদপ্তর থেকে সুপারিশ পাঠানো হয়।

 

এরপর তিন মাসেরও বেশি সময় পর, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন মৎস্য সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের চিঠিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত সচিবের কাছে পাঠান।

 

এরপরও দৃশ্যমান সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

এরই মধ্যে ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একই ধরনের বিষয়ে আবারও চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

একটি প্রশাসনিক সুপারিশ বাস্তবায়নে এত দীর্ঘ সময় লাগার কারণ কী—এ প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ।

 

কারণ বিষয়টি শুধু একটি মাছের আমদানি-রপ্তানির প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িত

 

দেশীয় মাছচাষি, জেলে, ভোক্তা, বাজারমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রা এবং জাতীয় মৎস্যসম্পদের ভবিষ্যৎ।

 

মহাপরিচালক বলছেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে

 

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, বাজারে ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে প্রতি বছরই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সীমিত পরিমাণে ইলিশ আমদানি করে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হয়।

 

তবে তাঁর মতে, আমদানিনির্ভরতা কমানো না গেলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হবে।

 

তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় মৎস্য খাত অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন একটি টেকসই পরিকল্পনা।

 

অর্থাৎ, মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো সুপারিশের পেছনে অধিদপ্তরের যুক্তি পরিষ্কার—বাজারের সাময়িক চাপ মোকাবিলায় আমদানি হতে পারে একটি উপায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোই মূল সমাধান।

 

অতীতে বিপুল ইলিশ আমদানি—কত টাকা গেছে বিদেশে?

 

নথিতে থাকা তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ অতীতেও বিভিন্ন সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ আমদানি করেছে।

 

২০১৩-১৪ অর্থবছরে শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চল দিয়েই ২ হাজার ১১৮ দশমিক ৮৮ টন ইলিশ আমদানি করা হয়।

 

২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমদানি হয় ৭২৩ দশমিক ৮২৫ টন।

 

২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমদানি হয় ১ হাজার ৪৫৪ দশমিক ২৭৯ টন।

 

এরপর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ১২৫ দশমিক ৬১৭ টনে। এ জন্য ব্যয় হয় প্রায় ৬১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮২ মার্কিন ডলার।

 

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়েও বিভিন্ন অর্থবছরে গড়ে প্রায় ৩ হাজার টন ইলিশ আমদানির তথ্য রয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য আমদানির পরিমাণ কমেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী

 

- ২০২৪-২৫ অর্থবছর: ৫৬৬ টন
- ২০২৫-২৬ অর্থবছর: ৭৬৫ টন
- চলতি অর্থবছর: এখন পর্যন্ত ৪৫০ টন

 

অর্থাৎ, আমদানি কমেছে—কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো কতটা শক্তিশালী করা হয়েছে?

 

৪৩১ কোটি টাকার ইলিশ প্রকল্প—ফল কোথায়?

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ৪৩১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।

 

প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩০ জুন।

 

কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও ইলিশ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই কাঠামো গড়ে ওঠেনি।

 

একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

 

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন।

 

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকও বলেছেন, প্রকল্পে কী কী অনিয়ম হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

 

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ বেহাত হয়েছে—তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হলে তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

 

এখন প্রশ্ন—৪৩১ কোটি টাকার প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন বা নিরীক্ষা কি হবে?

 

ইলিশ আমদানি বন্ধ করলেই কি সমাধান?

 

এখানে রয়েছে আরেকটি জটিলতা।

 

দেশীয় মাছের আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি শুধু জাতীয় নীতির ওপর নির্ভর করে না; আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধিও বিবেচনায় নিতে হয়।

 

WTO-এর GATT-এর Article XI সাধারণভাবে আমদানি-রপ্তানিতে শুল্ক বা করের বাইরে পরিমাণগত নিষেধাজ্ঞা, কোটা বা লাইসেন্সের মাধ্যমে বিধিনিষেধ আরোপকে সীমাবদ্ধ করে। তবে একই বিধানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমের সুযোগও রয়েছে, যার মধ্যে কৃষি ও মৎস্যপণ্যের কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।

 

তাই ‘আমদানি বন্ধ’—এই এক লাইনের সমাধানের পরিবর্তে কোন ধরনের নিয়ন্ত্রণ WTO-সঙ্গত, তা আইনগত ও বাণিজ্যিকভাবে পরীক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

 

তাহলে করণীয় কী?

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইলিশসহ দেশীয় মাছের আমদানি নীতি নির্ধারণে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

 

প্রথমত, বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি।

 

দ্বিতীয়ত, দেশীয় মাছচাষি ও জেলেদের জীবিকা।

 

তৃতীয়ত, ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা।

 

চতুর্থত, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রভাব।

 

পঞ্চমত, নদী ও জলজ পরিবেশের ভারসাম্য।

 

এর পাশাপাশি ইলিশের প্রজননক্ষেত্র ও অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা, জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

 

গবেষকের প্রশ্ন: দেশে উৎপাদিত মাছ আমদানি কেন?

 

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমানের মতে, দেশে উৎপাদিত মাছের ক্ষেত্রে বিশেষ সংকট না থাকলে বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

 

তিনি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

 

অর্থাৎ, বাজারে সাময়িক ঘাটতি হলে আমদানি করা হবে কি না—এটি একটি সিদ্ধান্ত।

 

কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রশ্ন

 

কেন বারবার আমদানির প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে?

 

আর যদি উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা দেশেরই থাকে, তাহলে সেই সক্ষমতা কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন?

 

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

 

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

 

ফলে মৎস্য অধিদপ্তরের সুপারিশের পর মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, কেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে এবং ১৫ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ চিঠির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

 

শেষ প্রশ্ন: চিঠি কি শুধু ফাইলেই থাকবে?

 

দেশে মাছ উৎপাদন ৫০ লাখ টনের বেশি। মৎস্য খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত কোটি মানুষের জীবিকা। রপ্তানি থেকে আসছে হাজার কোটি টাকা। তারপরও দেশেই উৎপাদিত মাছের একটি অংশ আমদানি করতে হচ্ছে।

 

ইলিশের ক্ষেত্রে আবার বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর—এটি শুধু একটি পণ্য নয়; বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং জিআই পণ্য।

 

মৎস্য অধিদপ্তর আমদানি নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেছে। একবার নয়, একাধিকবার।

 

প্রথম চিঠি গেছে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। তিন মাসের বেশি সময় পর সেটি নড়েছে প্রশাসনিক টেবিলে। এরপরও দৃশ্যমান সিদ্ধান্তের তথ্য নেই। এর মধ্যে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আবারও চিঠি গেছে।

 

অন্যদিকে, ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ৪৩১ কোটি টাকার প্রকল্প শেষ হয়েছে—কিন্তু প্রকল্পের অর্জন, স্থায়িত্ব এবং অর্থ ব্যবহারের প্রশ্নও এখন আলোচনায়।

 

সব মিলিয়ে অনুসন্ধানের কেন্দ্রীয় প্রশ্নটি তাই থেকে যাচ্ছে

 

দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ যদি সরকারি মৎস্য অধিদপ্তরই করে থাকে, তাহলে সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে এত সময় লাগছে কেন?

 

আর ৪৩১ কোটি টাকার প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও যদি ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়, তাহলে আগের প্রকল্পের সাফল্য-ব্যর্থতার জবাবদিহি কোথায়?

 

চিঠি, ফাইল ও সুপারিশের বাইরে এখন প্রয়োজন পরিষ্কার নীতি, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহি।

 

কারণ ইলিশ শুধু বাজারের মাছ নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নদী, জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা এবং একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশক সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।   সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   এ ছাড়া, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।   রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত আছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।’   সরকারপ্রধান বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।’   এ সময়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।   এদিকে বৈঠকে কানাডার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে কানাডা বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।   এ ছাড়া, বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোয় সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।   এগুলোর বাইরে নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে কানাডা আগ্রহী বলে বৈঠকে জানানো হয়। বর্তমানে এ খাতে কানাডার কার্যক্রম রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণে দেশটির পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।   বাংলাদেশের সঙ্গে ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।   প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রচেষ্টায় কানাডার সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যমান কার্যক্রমের কথাও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।   বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে, যা কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।’   তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে বাংলাদেশ সহযোগিতা পেতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।   একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব বলে বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।   তিনি বলেন, ‘মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।’   বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।   কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে কানাডা ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেবে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।   বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহী বলে জানায় প্রতিনিধিদল।   বৈঠকে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই। তিনি তাদের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া, দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।   বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   কানাডার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার অজিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।   সূত্র: বাসস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস কাল

হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

ফ্যামিলি কার্ড স্বাবলম্বিতা অর্জনের হাতিয়ার: প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন

৫১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৫৪১৮ যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথিদের হামলার ঘটনায় ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী ফ্লাইট একের পর এক বাতিল হচ্ছে। শনিবার থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ তিন পথে বিভিন্ন এয়ারলাইনস মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।   সোমবার বিকালে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব এ তথ্য জানিয়েছেন।   তিনি জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পাঁচ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন। ইতিহাসপড়ুন   সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দু্টি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের তিনটি নিয়ে মোট ১২টি সরাসরি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।   এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি, সালাম এয়ারের তিনটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি, ফ্লাই দুবাইয়ের পাঁচটি নিয়ে মোট ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।   শনিবার রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন ।   নিহত অন্যদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন এবং ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।   এ ঘটনার রেশ না কাটতেই রোববার ফের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালান হুথিরা। এতে এক প্রবাসী পাকিস্তানি নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১১ ব্যক্তি আহত হন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬

জনগণকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে কেউ সফল হতে পারে না : মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

সরকার প্রধান হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

সিনেমা হলের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।   তিনি বলেন, ‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’   রোববার জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে কীভাবে নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়, বাংলাদেশ তা করে দেখাবে।’   তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।   ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’   তিনি বলেন, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।   বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়িয়ে কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের আক্রান্তকারী প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’   তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলোও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।’   তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।   মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’   তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’   জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের কোনো নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না।’   তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা কখনোই ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’   নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। যার সুফল পাচ্ছেন নারীরা। ‘   তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবার পরিকল্পনার ওপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’   অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান।   নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।   এ উদ্যোগে অংশীদারত্বের জন্য তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।   বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকারী। আর গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া উচিত।’   বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিগণ প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।   অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।   সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনায় অংশ নেয়।   এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে- ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিন।   নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস:   এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬

বিএনপি সরকার আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী : রুহুল কবির রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, ভোট শুরু ২১ জানুয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে নীলফামারীতে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

0 Comments