জাতীয়

এয়ারবাস বর্তমান সরকারের জন্য বড় ‘পরীক্ষা’: ফরাসি রাষ্ট্রদূত

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান বিএনপি সরকার ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব কীভাবে এগিয়ে নিতে চায়, এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টিকে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চান ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে।

 

মঙ্গলবার ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ডিক্যাব টকে এক প্রশ্নে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

 

সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও দরকষাকষি চলমান থাকায় এয়ারবাস বিক্রি নিয়ে এখনও ‘চিন্তিত’ না হওয়ার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের উপর জোর দিচ্ছি এবং এটা এমন এক বার্তা, সেটা বর্তমান সরকারের কাছেও আমরা দিচ্ছি। কেননা, আমরা মনে করি এটা অত্যাবশ্যকীয়।

 

আমি মনে করি এটা বর্তমান সরকারের জন্য ভালো পরীক্ষা এবং এই সরকার এবং বিমানের প্রতি আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে।”

 

এয়ারবাস বিক্রিকে ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেন এটা ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? অবশ্য ১০টি উড়োজাহাজ বড় চুক্তি না, কিন্তু এটা আমাদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু। বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ইউরোপীয়দের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যাওয়ার জন্য আলোচনায় যুক্ত হতে বাংলাদেশ ইচ্ছুক। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

“আমরা অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি। আপনি একটি চুক্তি করবেন এবং আর সরে পড়বেন, এমনটাতে আমরা বিশ্বাস করি না, এভাবে আমরা কাজও করি না। আমরা সত্যিকারের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়তে চাই, যেভাবে অনেক ফরাসি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব রয়েছে।”

 

এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সামনের দিনে এগিয়ে নিতে আগ্রহী হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটা এমন না যে, শুধু এয়ারবাস বিক্রি করলাম, এরপর শেষ; এটি আসলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীরদারত্বে যুক্ত হওয়া।”

 

ইউরোপকে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার হিসাবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকায় ১৭ শতাংশের বিপরীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ৪৮ শতাংশ যায় ইউরোপে। এটা তিন অনুপাত এক। যুক্তরাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করলে এটা আরও বেশি।

 

“সুতরাং ইউরোপ হচ্ছে প্রধান অংশীদার। যখন আমরা বাংলাদেশি বন্ধুদের সাথে আলাপ করি, তখন কেবল একটা বিষয়ই স্মরণ করিয়ে দিই যে, আমাদের অভিন্ন স্বার্থ হচ্ছে অংশীদারত্বের গড়ে তোলা। কেননা, আপনার নির্ভরযোগ্য, প্রাসঙ্গিক ও আগ্রহী অংশীদার রয়েছে, যে আপনার সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায়।”

 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই বিমানের জন্য উড়োজাহাজ কেনার কথা চলছিল। বিলিয়ন ডলারের এই ব্যবসা মার্কিন জায়ান্ট বোয়িং না ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস–কার পাতে যাবে, তা নিয়ে তখন থেকেই একটা টানাহেঁচড়া চলছিল।

 

আওয়ামী লীগ সরকার শেষ দিকে এসে এয়ারবাসের পক্ষে ঝুঁকেছিল, এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিলেন তখনকার বিমানমন্ত্রী মাহাবুব আলী।

 

তবে ৫ অগাস্টের পালাবদলের পর পাশার দান উল্টে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত দেয়।

 

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও সিয়াটলের পথেই হেঁটেছে। দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার চুক্তি করে সরকার।

 

তবে সেই চুক্তির পরেও এয়ারবাসের কর্মকর্তারা দৃশ্যত হাল ছেড়ে দেননি। এয়ারবাসের কর্মকর্তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন।

 

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরাও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জুন মাসেই জানা গিয়েছিল এয়ারবাস কিনতে সরকার ‘ইতিবাচক’।

 

এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনা চলার মধ্যে বোয়িং থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে বিএনপি সরকার। বুধবার নিউ ইয়র্কে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এ বিষয়ে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

 

এয়ারবাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলোচনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, তা তুলে ধরে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, মিশ্র বহরের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ভালো ‘কারিগরি কারণে’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, ‘রাজনৈতিক কারণে নয়’।

 

“বিশ্বের বহু বিমান সংস্থা এয়ারবাসকে গ্রহণ করেছে, বিমানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।”

 

এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনার মধ্যে আমেরিকান কোম্পানি বোয়িং থেকে বিমানের উড়োজাহাজ কেনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গেও আগ্রহ বজায় রেখেছে বিমান এবং আলোচনা ও দরকষাকষি এখনও চলমান।

 

“সুতরাং এতে সময় লাগতে পারে, তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি দরকষাকষি এখনও ভালোভাবে চলছে এবং ভালো ফলও আসছে।”

 

আগামী বছর ইউরোপের সঙ্গে চালু হতে যাওয়া মু্ক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) দরকষাকষির সঙ্গেও এয়ারবাস কেনাকে আরেক প্রশ্নে মিলিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।

 

ঢাকায় ওই ২৭টির দেশের মধ্যে কেবল সাতটির দূতাবাস থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার সঙ্গে এফটিএ করেছে ইউরোপ ইউনিয়ন, কিন্তু সেই মানচিত্রে বাংলাদেশ নেই বা যথেষ্ট পরিমাণে নেই।

 

“সুতরাং আপনি যদি ওই মানচিত্রে আরও বেশি পরিমাপে থাকতে চান, তাহলে আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের আগ্রহ নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হতে হবে। সেই বিবেচনায় এয়ারবাস গুরুত্ব বহন করে। কেননা, এটা ইউরোপকে কেবল একটা বিকল্প হিসাবে হিসাবে বেছে নেওয়ার ইচ্ছা নয়, বরং সহযোগী হিসাবে বেছে নেওয়া যে, ‘আমরা ইউরোপে যাচ্ছি, আমরা জানি আপনারা আমাদের শ্রদ্ধা করবেন, আমাদের আপনাদের সঙ্গে স্বার্থ আছে’।”

 

রাষ্ট্রদূত বলেন, “ফ্রান্স এবং ইউরোপ কখনও বলে না, ‘আমাদের’ এবং ‘তাদের’ মধ্য থেকে একজনকে বেছে নাও, ‘তাদের’ বলতে যারাই হোক না কেন। আমি শুরুতে যেভাবে বলেছি, আমরা অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি। অংশীদারত্ব মানে বাদ দেওয়া নয়, অন্তর্ভুক্তি।

 

“আপনি যদি না চান, আপনার যদি মনে হয় এফটিএ নিয়ে আগানো ভালো কিছু হবে না, এটা আপনার সিদ্ধান্ত। হয়ত, ইউরোপীয় দেশগুলোও সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, তারা এফটিএ চায় না, এটা তাদের সিদ্ধান্ত। সুতরাং ঢাকা ইউরোপ কী বার্তা পাঠাচ্ছে, সেটা গুরুত্ব বহন করে।”

 

এফটিএ হলে ইউরোপের ২৭টি দেশে বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যের পরিসর বড় হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৪২ জেলায় ১২০ প্রতিষ্ঠানকে বিপুল জরিমানা

ফল ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য কারসাজি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও সরবরাহে অনিয়ম ঠেকাতে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।     সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ ৪২ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে ১২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।     অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অধিদপ্তরের ৫৬টি দল একযোগে বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি কার্যক্রম চালায়।       অভিযানে ফল ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয়মূল্য, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার, মূল্যতালিকা এবং ওজন ও পরিমাপ যাচাই করা হয়। এ সময় অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি এবং সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরির মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।   ফলের বাজারে অনিয়ম ঠেকাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি এবং ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহারের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ফলের মান বজায় রাখা এবং যৌক্তিক দামে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।       অধিদপ্তর জানিয়েছে, কোনো ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুদ কিংবা স্বাভাবিক সরবরাহে বাধা দিতে পারবেন না।       প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে হবে।     এদিকে পণ্য কেনার সময় ভোক্তাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। কেনাকাটার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, পণ্যের ওজন বুঝে নেওয়া এবং মোড়কজাত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কেনাকাটার রসিদও সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।       পণ্য কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়, ওজনে কারচুপি, ভেজাল কিংবা অন্য কোনো প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোক্তারা।     অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন

গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস কাল

হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও দুইশিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হাম উপসর্গে মৃত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৬৪ জন।   আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৬৯ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ২৯৭ জন।   গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৫৭৩ জন।   গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ২২৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৫৫ জন।   গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে দুইশিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ১ হাজার ৬০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।   গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড স্বাবলম্বিতা অর্জনের হাতিয়ার: প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন

৫১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৫৪১৮ যাত্রী

জনগণকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে কেউ সফল হতে পারে না : মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

সরকার প্রধান হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার তা নিশ্চিত করা সরকার প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব।   তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’    আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।   শারদীয় দুর্গাপূর্জা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের প্রতিনিধিগণ দেখা করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।     প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।    মতবিনিময়কালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতৃবৃন্দ। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।    এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’   দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’   ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।    তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’   নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।   মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন বলে জানান।    তাঁরা বলেন, তাঁদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যে ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপর বারবার প্রমাণ হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।    এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন।    এছাড়া মতবিনিময়কালে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬

সিনেমা হলের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

বিএনপি সরকার আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী : রুহুল কবির রিজভী

0 Comments