হরমুজ প্রণালিকে ‘উন্মুক্ত, নিরাপদ ও অবাধ’ রাখা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাই এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মোদি শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের মাধ্যমে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় পাঁচ দেশ সফর শুরু করেছেন। আবুধাবিতে সংক্ষিপ্ত সফরকালে তিনি একথা বলেন।
মোদির সফরটি মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল উদ্বেগের মধ্যে শুরু হলো, যা ইরান যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতের ওপরও। দেশটি শুক্রবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ক্রেতা এবং সাধারণত তাদের তেলের প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আমদানি করে, যা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আবুধাবিতে সংক্ষিপ্ত সফরে মোদি বলেন, ‘আমি আমার দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছি।’
তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হন।
সফরের সময় তার বিমানকে আমিরাতের আকাশসীমায় সামরিক জেট দিয়ে এসকর্ট করা হয়, যা তিনি ‘সম্মান’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সিটি সফরের কথা রয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। তবে তার এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। মামদানি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তার আসল জায়গা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন একজন যুদ্ধাপরাধী যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত এবং তাকে দ্য হেগের আদালতে দাঁড় করানো উচিত। নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র তার আইনি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সরাসরি তার প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হলেও, নেতানিয়াহুর মতো একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার করার আইনি এখতিয়ার সিটির মেয়রের রয়েছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টি তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না। এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিটির আইন বিভাগের সাথে তিনি নিবিড় ও সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সূত্র: আল-জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একই সময়ে দাবানল, দাবানলের ধোঁয়া এবং আকস্মিক বন্যার ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশটির পূর্বাঞ্চল ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে, দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা চলছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন দাবানল। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। একই সময়ে টেক্সাসের হিল কান্ট্রিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্যা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে একাধিক দাবানলের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে। দেশজুড়ে এক কোটিরও বেশি মানুষ বায়ুদূষণ সতর্কতার আওতায় রয়েছেন। অনেক এলাকাতেই মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার জানিয়েছে, বজ্রপাতের কারণে শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই নতুন করে ১৭টি বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে ১৭ হাজার ৪০০ এর বেশি কর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার এবং চারটি সামরিক সি-১৩০ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এবছর এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর জমি পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ একরেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই সময়ে একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জেসি বারম্যানের মতে, এ ধরনের ‘সমন্বিত দুর্যোগ’ একক কোনো দুর্যোগের তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিজ্ঞানী মাইকেল ম্যান বলেন, জেট স্ট্রিমের অস্বাভাবিক ঢেউয়ের কারণে এ ধরনের চরম আবহাওয়া দীর্ঘ সময় ধরে একই অঞ্চলে হচ্ছে। তার গবেষণা অনুযায়ী, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ১৯৫০ এর দশকের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা তিনগুণ বেড়েছে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানী জনাথন ওভারপেক বলেন, উষ্ণ বায়ুমণ্ডল একদিকে মাটি ও উদ্ভিদের আর্দ্রতা দ্রুত শুষে নিয়ে দাবানলের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে একই বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার ঘটনাও বাড়ছে। এদিকে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় মিনিয়াপোলিস থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত আকাশ কমলা-বাদামি রঙ ধারণ করেছে। শিকাগোতে শুক্রবার বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত বাতাস রেকর্ড করা হয়। পরিস্থিতির কারণে লেক মিশিগানের তীরবর্তী পার্ক ও সমুদ্রসৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে টেক্সাসে মঙ্গলবার থেকে কোথাও কোথাও ২৭ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ সপ্তাহের বন্যায় অন্তত দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বৃষ্টি কমলেও নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প তেল রপ্তানি পথ গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ইরাক। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জ্বালানি, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একাধিক প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশটি। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক সম্মেলনে এসব চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো বহু বছর ধরে অচল থাকা ইরাক-সিরিয়া অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করা, যাতে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করা সম্ভব হয়। প্রস্তাবিত পাইপলাইনটি ইরাকের তেলসমৃদ্ধ কিরকুক অঞ্চল থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন অংশ নেবে বলে জানিয়েছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পাইপলাইনটি পুনরায় চালু হলে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে ইরাকের তেল রপ্তানির জন্য নতুন করিডোর তৈরি হবে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেন, নতুন চুক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। শেভরনের কর্পোরেট ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রেসিডেন্ট জেক স্পিয়ারিং জানান, সিরিয়া হয়ে পাইপলাইন পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ইরাকে তেল উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেও আরও দুটি চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে, ইরাক সরকার ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সঙ্গে দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর জন্যও একটি চুক্তি করেছে। সম্মেলনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার উন্মুক্ত নীতি অনুসরণ করছে এবং যেকোনো সম্ভাবনাময় প্রকল্পকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।