অর্থনীতি

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় বেড়েছে ইন্টারনেট গ্রাহক

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। পাঁচ মাসে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ৫০ লাখ ৮০ হাজার। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াসহ কয়েকটি কারণে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১২ কোটি ৮৯ লাখ। মে মাস শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৪১ লাখে।

 

একই সময়ে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৫৮ লাখ থেকে বেড়ে ১৮ কোটি ৮৬ লাখে পৌঁছেছে। এ সময়ে নতুন সক্রিয় গ্রাহক যুক্ত হয়েছে ২৮ লাখ।খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী মোবাইল ফোনে বিশ্বকাপের ম্যাচ স্ট্রিমিং করায়, ইন্টারনেট ট্রাফিক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহও ইন্টারনেট ব্যবহারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।

 

তাদের মতে, ঈদের ছুটিতে ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধি, এইচএসসি পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনলাইন কার্যক্রম ও মোবাইল ফোনের সিমে আরোপিত ৩০০ টাকার কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করাও নতুন মোবাইল সংযোগ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

 

মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সেবাদাতা কোম্পানি রবি’র করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান শাহেদ আলম রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা-বাসসকে বলেন, ‘চলমান ফিফা বিশ্বকাপের পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে ইন্টারনেট ট্রাফিকও বেড়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইন্টারনেট ট্রাফিক রেকর্ড করা হয়েছে।’

 

শাহেদ আলম আরও বলেন, ‘সিম কর পুরোপুরি প্রত্যাহার হওয়াও গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।’ জুন ও পরবর্তী মাসগুলোতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের প্রায় ৮৯ শতাংশই মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।

 

মে মাসে নিবন্ধিত ১৩ কোটি ৪১ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ১১ কোটি ৯১ লাখ মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। বাকি ১ কোটি ৪৯ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও পিএসটিএন অপারেটরদের ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সেবা ব্যবহার করেছেন।

 

তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির প্রায় পুরোটা এসেছে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকদের মাধ্যমে। এ সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক ১১ কোটি ৪২ লাখ থেকে বেড়ে ১১ কোটি ৯১ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রায় ৪৯ লাখ নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন।

 

অন্যদিকে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ফিক্সড ব্রডব্যান্ড গ্রাহক ছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ। এপ্রিলে তা বেড়ে ১ কোটি ৪৯ লাখে ওঠে ও মে মাসেও একই অবস্থায় থাকে।

 

সর্বশেষ পরিসংখ্যানে, ফেব্রুয়ারিতে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট গ্রাহক কমে যাওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে। ওই মাসে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক নেমে আসে ১২ কোটি ৮২ লাখে এবং মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমে দাঁড়ায় ১১ কোটি ৩৫ লাখে।

 

যদিও মার্চে আবার প্রবৃদ্ধি শুরু হয়। ওই মাসে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়ে হয় ১১ কোটি ৪৮ লাখ। এপ্রিলে তা ১১ কোটি ৬৪ লাখ ও মে মাসে ১১ কোটি ৯১ লাখে পৌঁছে।

 

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা সক্রিয় মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে সময়ে আবার বাড়তে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহক ছিল ১৮ কোটি ৮৫ লাখ। পরে তা ধারাবাহিকভাবে কমে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৮ কোটি ৫৮ লাখে নেমে আসে।

 

মে মাস শেষে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর হিসেবে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ছিল ৮ কোটি ৫৯ লাখ। এরপর রয়েছে রবি আজিয়াটা ৫ কোটি ৮২ লাখ, বাংলালিংক ৩ কোটি ৭৭ লাখ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক ৬৮ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক নিয়ে।

 

জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে টেলিটকই একমাত্র অপারেটর, যার গ্রাহক সংখ্যা কিছুটা কমেছে। জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ছিল ৬৮ লাখ ৩০ হাজার। মে মাসে তা কমে ৬৮ লাখ ১০ হাজারে দাঁড়ায়।

 

বিটিআরসির সংজ্ঞা অনুযায়ী, গত ৯০ দিনের মধ্যে অন্তত একটি ভয়েস কল, এসএমএস বা ইন্টারনেট সেশন ব্যবহার করা হয়েছে— এমন সিমকেই সক্রিয় গ্রাহক হিসেবে গণ্য করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় বেড়েছে ইন্টারনেট গ্রাহক

চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। পাঁচ মাসে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ৫০ লাখ ৮০ হাজার। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াসহ কয়েকটি কারণে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১২ কোটি ৮৯ লাখ। মে মাস শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৪১ লাখে।   একই সময়ে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৫৮ লাখ থেকে বেড়ে ১৮ কোটি ৮৬ লাখে পৌঁছেছে। এ সময়ে নতুন সক্রিয় গ্রাহক যুক্ত হয়েছে ২৮ লাখ।খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী মোবাইল ফোনে বিশ্বকাপের ম্যাচ স্ট্রিমিং করায়, ইন্টারনেট ট্রাফিক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহও ইন্টারনেট ব্যবহারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।   তাদের মতে, ঈদের ছুটিতে ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধি, এইচএসসি পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনলাইন কার্যক্রম ও মোবাইল ফোনের সিমে আরোপিত ৩০০ টাকার কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করাও নতুন মোবাইল সংযোগ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।   মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সেবাদাতা কোম্পানি রবি’র করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান শাহেদ আলম রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা-বাসসকে বলেন, ‘চলমান ফিফা বিশ্বকাপের পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে ইন্টারনেট ট্রাফিকও বেড়েছে।’   তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইন্টারনেট ট্রাফিক রেকর্ড করা হয়েছে।’   শাহেদ আলম আরও বলেন, ‘সিম কর পুরোপুরি প্রত্যাহার হওয়াও গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।’ জুন ও পরবর্তী মাসগুলোতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।   বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের প্রায় ৮৯ শতাংশই মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।   মে মাসে নিবন্ধিত ১৩ কোটি ৪১ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ১১ কোটি ৯১ লাখ মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। বাকি ১ কোটি ৪৯ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও পিএসটিএন অপারেটরদের ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সেবা ব্যবহার করেছেন।   তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির প্রায় পুরোটা এসেছে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকদের মাধ্যমে। এ সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক ১১ কোটি ৪২ লাখ থেকে বেড়ে ১১ কোটি ৯১ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রায় ৪৯ লাখ নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন।   অন্যদিকে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ফিক্সড ব্রডব্যান্ড গ্রাহক ছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ। এপ্রিলে তা বেড়ে ১ কোটি ৪৯ লাখে ওঠে ও মে মাসেও একই অবস্থায় থাকে।   সর্বশেষ পরিসংখ্যানে, ফেব্রুয়ারিতে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট গ্রাহক কমে যাওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে। ওই মাসে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক নেমে আসে ১২ কোটি ৮২ লাখে এবং মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমে দাঁড়ায় ১১ কোটি ৩৫ লাখে।   যদিও মার্চে আবার প্রবৃদ্ধি শুরু হয়। ওই মাসে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়ে হয় ১১ কোটি ৪৮ লাখ। এপ্রিলে তা ১১ কোটি ৬৪ লাখ ও মে মাসে ১১ কোটি ৯১ লাখে পৌঁছে।   বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা সক্রিয় মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে সময়ে আবার বাড়তে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহক ছিল ১৮ কোটি ৮৫ লাখ। পরে তা ধারাবাহিকভাবে কমে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৮ কোটি ৫৮ লাখে নেমে আসে।   মে মাস শেষে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর হিসেবে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ছিল ৮ কোটি ৫৯ লাখ। এরপর রয়েছে রবি আজিয়াটা ৫ কোটি ৮২ লাখ, বাংলালিংক ৩ কোটি ৭৭ লাখ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক ৬৮ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক নিয়ে।   জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে টেলিটকই একমাত্র অপারেটর, যার গ্রাহক সংখ্যা কিছুটা কমেছে। জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ছিল ৬৮ লাখ ৩০ হাজার। মে মাসে তা কমে ৬৮ লাখ ১০ হাজারে দাঁড়ায়।   বিটিআরসির সংজ্ঞা অনুযায়ী, গত ৯০ দিনের মধ্যে অন্তত একটি ভয়েস কল, এসএমএস বা ইন্টারনেট সেশন ব্যবহার করা হয়েছে— এমন সিমকেই সক্রিয় গ্রাহক হিসেবে গণ্য করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ছুটি না নিয়েই অস্ট্রেলিয়া, চাকরিচ্যুত এনবিআরের প্রথম সচিব

ছবি : সংগৃহীত

ইউএস-বাংলার ডানায় রেকর্ড বিনিয়োগের হাওয়া, বিদেশিদের টেক্কা দিতে চায়

ছবি : সংগৃহীত

তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

শেয়ার বাজারে কারসাজি: কীভাবে কাজ করে ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’

শেয়ার বাজারে কোনও কোম্পানির শেয়ারের দাম হঠাৎ কয়েক দিনে ৩০, ৫০ কিংবা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। অথচ কোম্পানির ব্যবসা, মুনাফা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায় দৃশ্যমান কোনও পরিবর্তন থাকে না। আবার অনেক সময় লোকসানি, উৎপাদন বন্ধ কিংবা দীর্ঘদিন লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানির শেয়ারও অস্বাভাবিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়। প্রশ্ন ওঠে—এমনটা কীভাবে সম্ভব?   পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে কাজ করে শেয়ার বাজারে কারসাজি (মার্কেট ম্যানুপুলেশন)। এটি এমন একটি অবৈধ প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তি বা একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিমভাবে কোনও শেয়ারের চাহিদা, সরবরাহ কিংবা মূল্যকে প্রভাবিত করে নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।   সাম্প্রতিক সময়ে ঝিল বাংলা সুগার মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, সোনারগাঁও টেক্সটাইলসহ কয়েকটি দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে কারসাজির বিষয়টিকে আলোচনায় এনেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—শেয়ার বাজারে কারসাজি আসলে কী, কীভাবে এটি পরিচালিত হয় এবং কেন এটি রোধ করা কঠিন?   কারসাজি আসলে কী   শেয়ার বাজারে প্রতিটি শেয়ারের দাম স্বাভাবিকভাবে নির্ধারিত হওয়ার কথা ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রকৃত চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতে। কিন্তু যখন কোনও ব্যক্তি বা চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য, গুজব, কৃত্রিম লেনদেন বা গোপন তথ্যের অপব্যবহার করে সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে, তখন সেটিই বাজার কারসাজি।   অর্থাৎ বাজারে যে মূল্য দেখা যাচ্ছে, সেটি প্রকৃত ব্যবসায়িক অবস্থার প্রতিফলন নয়; বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা একটি মূল্য। এই কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি বা মূল্যপতনের সুযোগ নিয়ে কারসাজিকারীরা বিপুল মুনাফা করে, আর শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।   কীভাবে কাজ করে কারসাজির চক্র?   বাজার-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি কারসাজি চক্র সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে। প্রথমে তারা এমন একটি কোম্পানি নির্বাচন করে, যার বাজার মূলধন তুলনামূলক কম, শেয়ারের সংখ্যা সীমিত অথবা কোম্পানিটি দীর্ঘদিন লোকসান করছে। এরপর ধীরে ধীরে কম দামে বিপুল পরিমাণ শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।   পরবর্তী ধাপে শুরু হয় কৃত্রিম চাহিদা তৈরির খেলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ, মেসেজিং অ্যাপ কিংবা ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় নানা গুঞ্জন—কোম্পানিতে বড় বিনিয়োগ আসছে, নতুন প্রকল্প চালু হচ্ছে, বড় লভ্যাংশ আসবে কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনছে।   এই গুজবে প্রভাবিত হয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা শুরু করলে দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। দাম যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন কারসাজি চক্র তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে বিপুল মুনাফা নিয়ে বাজার থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর কৃত্রিম চাহিদা শেষ হয়ে গেলে শেয়ারের দাম দ্রুত পড়ে যায় এবং ক্ষতির ভার বহন করতে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।   সবচেয়ে পরিচিত কৌশল ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’   বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে পরিচিত কারসাজির কৌশল হলো ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’। এ পদ্ধতিতে প্রথমে একটি শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে সেই শেয়ার নিয়ে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়, যাতে সাধারণ মানুষ শেয়ারটি কিনতে উৎসাহিত হন। যখন দাম অনেক বেড়ে যায়, তখন কারসাজিকারীরা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এরপর বাজারে বিক্রির চাপ বাড়লে শেয়ারের দাম ধসে পড়ে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অতীতের অনেক আলোচিত কারসাজির ঘটনায় এই কৌশলের মিল পাওয়া গেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।   ওয়াশ ট্রেডিং: নিজেরাই কেনেন, নিজেরাই বিক্রি করেন   আরেকটি বহুল ব্যবহৃত কৌশল হলো ওয়াশ ট্রেডিং বা সার্কুলার ট্রেডিং। এ ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কোনও মালিকানা পরিবর্তন হয় না। একই ব্যক্তি বা একই সিন্ডিকেটের সদস্যরা একাধিক বিও হিসাব ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যেই একই শেয়ার বারবার কেনাবেচা করেন।   ফলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বাইরে থেকে দেখে মনে হয়, ওই শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এই ভুয়া চাহিদা দেখে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার কিনতে শুরু করেন।   ইনসাইডার ট্রেডিং: গোপন তথ্য দিয়ে মুনাফা   শেয়ার বাজারে সবচেয়ে গুরুতর অনিয়মগুলোর একটি হলো ইনসাইডার ট্রেডিং। কোম্পানির পরিচালক, কর্মকর্তা, অডিটর বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনেক সময় মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, যেমন- বড় লভ্যাংশ, বড় চুক্তি, একীভূতকরণ, লোকসান কিংবা নতুন প্রকল্পের তথ্য—সাধারণ মানুষের আগে জেনে যান।   যদি সেই তথ্য প্রকাশের আগেই তারা নিজেরা বা তাদের ঘনিষ্ঠরা শেয়ার কেনাবেচা করেন, তাহলে তা ইনসাইডার ট্রেডিং হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সমান তথ্য পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।   ভুয়া অর্ডারের ফাঁদ   আধুনিক পুঁজিবাজারে আরেকটি পরিচিত কারসাজির কৌশল হলো স্পুফিং ও লেয়ারিং। এ ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের শেয়ার কেনা বা বিক্রির ভুয়া অর্ডার দেওয়া হয়, যাতে অন্য বিনিয়োগকারীরা মনে করেন বাজারে বড় ধরনের চাহিদা বা বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। বাজারে কাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই ভুয়া অর্ডার বাতিল করে দেওয়া হয়।   কেন টার্গেট হয় দুর্বল কোম্পানি?   বিশ্লেষকদের মতে, কারসাজিকারীরা সাধারণত শক্তিশালী নয়, বরং দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিকেই বেশি টার্গেট করে। বিশেষ করে জেড শ্রেণিভুক্ত, উৎপাদন বন্ধ, দীর্ঘদিন লোকসান করা বা কম মূলধনি কোম্পানির শেয়ার সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কারণ এসব কোম্পানির বাজারে অবাধে লেনদেনযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে। ফলে তুলনামূলক কম অর্থ দিয়েই একটি চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ঝিল বাংলা সুগার মিলসের মতো দীর্ঘদিনের লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে। কোম্পানিটির ব্যবসায়িক অবস্থার কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন না থাকলেও মাত্র কয়েক কার্যদিবসে শেয়ারের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। পরে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সাময়িকভাবে শেয়ারটির লেনদেন স্থগিত করে।   পুরোনো কৌশল, নতুন রূপ পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কারসাজির ধরন বদলালেও মূল কৌশল একই রয়েছে। আগে গুজব ছড়ানো হতো মুখে মুখে, এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গ্রুপ ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে মুহূর্তেই হাজারো বিনিয়োগকারীর কাছে পৌঁছে যায়।   কখনও দাম আগে বাড়ে, পরে কোম্পানি কোনও ইতিবাচক তথ্য প্রকাশ করে। আবার কখনও তথ্য প্রকাশের আগেই একটি নির্দিষ্ট চক্র সেই তথ্যের সুবিধা নিয়ে অবস্থান তৈরি করে ফেলে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সব সময়ই পিছিয়ে থাকেন।   এ প্রসঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অতীতে শেয়ার বাজারে কারসাজির ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটলেও বর্তমানে অটোমেশন ও কম্পিউটারভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সেই সুযোগ অনেকটাই কমে এসেছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু চক্র এখনও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো বা কমানোর চেষ্টা করতে পারে।   তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান কমিশন যেকোনও ধরনের কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে শুধু কারসাজি দমন করলেই হবে না, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’’   আবু আহমেদের মতে, শেয়ার বাজারকে শক্তিশালী ও গভীর করতে হলে বাজারে আরও বেশি মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও সুশাসনসম্পন্ন কোম্পানি আনতে হবে। বিশেষ করে বড় ও ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলে চলবে না। প্রয়োজন হলে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মতো বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ভালো কোম্পানিগুলোকে দ্রুত বাজারে আনা উচিত। এতে বাজারের গভীরতা বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।’’   নিয়ন্ত্রকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ   পুঁজিবাজারে কারসাজি রোধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নজরদারি জোরদারের কথা বলছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর রিয়েল-টাইম নজরদারি, কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধিতে দ্রুত ব্যবস্থা, জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির ওপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক লেনদেন স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   এ ছাড়া সরকারও শেয়ার বাজারে অতীতের বড় ধরনের কারসাজির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষার মতো উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে।   বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা   বিশ্লেষকদের মতে, কোনও শেয়ারের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেই সেটিকে ভালো বিনিয়োগ মনে করার সুযোগ নেই। বরং এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, মুনাফা, লভ্যাংশ, নগদ প্রবাহ, মূল্য-আয় অনুপাত (পি/ই), ব্যবসার প্রকৃত অবস্থা এবং মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ যাচাই করা জরুরি।   কারণ, শেয়ার বাজারে কারসাজির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—শুরুর দিকে এটি লাভের সুযোগ বলে মনে হলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীই ক্ষতির মুখে পড়েন। আর এ কারণেই একটি স্বচ্ছ, তথ্যনির্ভর ও কঠোর নজরদারির পুঁজিবাজার গড়ে তোলাই এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৭, ২০২৬

দামও কমছে, অর্ডারও কমছে—ইউরোপের বাজারে দ্বিমুখী চাপে বাংলাদেশের পোশাক খাত

দেশে আরও বাড়ল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

ছবি : সংগৃহীত

নতুন ঋণের আলোচনা শুরু: রাজস্ব ও ব্যাংকিং সংস্কারে জোর আইএমএফের

ছবি : সংগৃহীত
স্বপ্নে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা এসিআইর

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্লুচিপ কোম্পানি এডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডে (ব্র্যান্ড নাম স্বপ্ন) ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।   আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত এসিআই পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিনিয়োগ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।   কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।   সূত্র অনুসারে, বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কোম্পানিটি এসিআই পিএলসির এক হাজার টাকা মূল্যের ৭০ লাখ কনভার্টিবল প্রেফারেন্স শেয়ার কিনবে। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এই বিনিয়োগ করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বেড়ে ৫ শতাংশ

সংগৃহীত ছবি

সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৪,৩৭৪ টাকা

ব্রয়লার মুরগির খামার। ছবি : সংগৃহীত

ব্রয়লার উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে, বাংলাদেশ ৫৩তম

0 Comments