সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পরিধি বাড়াচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড, ইসলামিক বন্ড ও শরিয়াভিত্তিক সুকুক বন্ডসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ উপকরণ বাজারে আনা হয়েছে। আকর্ষণীয় মুনাফা ও সহজ বিনিয়োগ সুবিধার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এসব বন্ড ও বিলে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সরকার এখন ব্যাংকনির্ভর ঋণ কমিয়ে ধীরে ধীরে জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করছে। এজন্য ট্রেজারি বিল ও বন্ড কেনার প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় অনেক সহজ করা হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলামে অংশ নিয়ে এসব বন্ড ও বিল কিনতে পারছে। পাশাপাশি আন্তঃব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে মেয়াদপূর্তির আগেই সেগুলো নগদায়নের সুযোগও রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যকর হলে সরকারকে ঋণের জন্য ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির ওপর অতটা নির্ভর করতে হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পিত বা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ড ও বিল বিক্রি করে জনগণের কাছ থেকেই অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে সরকারের ঋণের বড় অংশই আসে ব্যাংক খাত থেকে। এতে ব্যাংকগুলোর ওপর তারল্যের চাপ বাড়ছে এবং বেসরকারি খাত কাঙ্ক্ষিত ঋণ পাচ্ছে না। নতুন উদ্যোগ সফল হলে ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়বে, ঋণের সুদহার সহনীয় থাকবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে বাজারে সরকারি খাতের তিন ধরনের স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিল, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ছয়টি ট্রেজারি বন্ড, দুটি ইসলামিক বন্ড এবং একটি সুকুক বন্ড চালু রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইতালির রোমে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে আটকে পড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের যাত্রীদের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উড়োজাহাজটির প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও ত্রুটি নিরসনের কাজ চলছে। জানা গেছে, ফ্লাইট বিজি৩০৬ (টরন্টো–রোম–ঢাকা) পরিচালনার সময় ইতালির রোম ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটিতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে উড্ডয়নের আগে বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা ও ত্রুটি সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে সমাধান এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে বিজি৩০৬ ফ্লাইটটি রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। একই উড়োজাহাজে পরিচালিত হওয়ার কারণে বিজি৩০৫ (ঢাকা–রোম–টরন্টো) ফ্লাইটও বিলম্বিত হবে। রোমে অবস্থানরত বিজি৩০৬ ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য হোটেলে থাকা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে বিজি৩০৫ ফ্লাইটের নতুন প্রস্থানের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১টা। সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ওই দিন সকাল ৯টার মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিপোর্ট করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজি৩০৬ ফ্লাইটের হালনাগাদ সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়েছে, নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এর আগে শুক্রবার (৭ আগস্ট) ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে নিয়মিত জ্বালানি নেওয়ার জন্য রোমে অবতরণের পর উড়োজাহাজটিতে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে টরন্টো–ঢাকা রুটের ফ্লাইটটি রোম ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকে। ফ্লাইটটিতে প্রায় ২৬০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঐতিহাসিক নাটোরকে উন্নত আবাসন, আধুনিক হাসপাতালসহ সব ধরনের পর্যটনবান্ধব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, ‘বলনতা সেন, রানী ভবানী আর বিখ্যাত মিষ্টান্ন কাঁচাগোল্লা খ্যাত জেলা নাটোর হবে টুরিস্ট হাব। নাটোরে বিশ্বমানের পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।’ শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘নাটোরের উত্তরা গণভবন, রাজবাড়ী, হালতি বিল ও চলনবিলসহ পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এখানে তেমন আবাসন ও পর্যটন গড়ে উঠেনি। অনেক মানুষ এখনো নাটোরের ব্যাপারে বিস্তারিত জানে না। পর্যটকদের বসবাস ও অবস্থানের জন্য সকল সুবিধাসম্পন্ন প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।’ পর্যটন শিল্পের বিকাশে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আফরোজা খানম বলেন, ‘সারা দেশে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন করা হবে। উত্তরবঙ্গের মধ্যে নাটোরের মতো এত সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী জায়গা আর নেই। তাই এখান থেকেই কাজ শুরু করা হচ্ছে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের পর্যটন স্থানগুলোকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে দায়িত্ব তাকে দিয়েছেন, সেই আস্থা রাখার চেষ্টা করবেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের স্বপ্ন পূরণ করাই তার দায়িত্ব।’ পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের এমপি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পর্যটন করপোরেশন ও পর্যটন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা ও সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী ১২ কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে ইউনিয়নের চণ্ডীপুর মডেল প্রাইমারি স্কুল মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন। ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম আমজাদ। সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলাইমান কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আবু সাঈদ, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাবু এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলুসহ স্থানীয় নেতারা। অনুষ্ঠানে মনিরুজ্জামানের হাত থেকে ফুলের মালা গ্রহণ করে বিএনপিতে যোগ দেন ১২ জন। আয়োজকদের দাবি, তারা সবাই জামায়াতের বহিষ্কৃত নেতা ও সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী ছিলেন। নবযোগদানকারীরা হলেন, কামাল হোসেন মিন্টু, শাহাদাত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, জিন্নুর রহমান, আতিয়ার রহমান, মিজানুর রহমান আলী, আব্দুল মাজেদ, শাহাজালাল, শহীদ গাজী, গফুর গাজী এবং তৌহিদুর রহমান বাবু। সভায় বিএনপির নেতারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। নতুন যোগদানকারীদের দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলা মেনে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আমজাদ বলেন, ‘যোগদানকৃতরা সকলে আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তারা গাজী নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের কর্মী। তারা জাতীয় নির্বাচনেও নজরুলের পক্ষে কাজ করেছেন। তবে সম্প্রতি গাজী নজরুলের অপকর্ম দেখে তারা বিএনপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়। আজ অনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছে।’