আন্তর্জাতিক

ত্রিমুখী প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
দাবানল ও বন্যায় আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
দাবানল ও বন্যায় আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একই সময়ে দাবানল, দাবানলের ধোঁয়া এবং আকস্মিক বন্যার ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশটির পূর্বাঞ্চল ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে, দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা চলছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন দাবানল।

 

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। একই সময়ে টেক্সাসের হিল কান্ট্রিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্যা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে একাধিক দাবানলের সূত্রপাত হয়।

 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে। দেশজুড়ে এক কোটিরও বেশি মানুষ বায়ুদূষণ সতর্কতার আওতায় রয়েছেন। অনেক এলাকাতেই মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার জানিয়েছে, বজ্রপাতের কারণে শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই নতুন করে ১৭টি বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে ১৭ হাজার ৪০০ এর বেশি কর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার এবং চারটি সামরিক সি-১৩০ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

 

এবছর এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর জমি পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ একরেরও বেশি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই সময়ে একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জেসি বারম্যানের মতে, এ ধরনের ‘সমন্বিত দুর্যোগ’ একক কোনো দুর্যোগের তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক।

 

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিজ্ঞানী মাইকেল ম্যান বলেন, জেট স্ট্রিমের অস্বাভাবিক ঢেউয়ের কারণে এ ধরনের চরম আবহাওয়া দীর্ঘ সময় ধরে একই অঞ্চলে হচ্ছে। তার গবেষণা অনুযায়ী, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ১৯৫০ এর দশকের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা তিনগুণ বেড়েছে।

 

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানী জনাথন ওভারপেক বলেন, উষ্ণ বায়ুমণ্ডল একদিকে মাটি ও উদ্ভিদের আর্দ্রতা দ্রুত শুষে নিয়ে দাবানলের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে একই বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার ঘটনাও বাড়ছে।

 

এদিকে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় মিনিয়াপোলিস থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত আকাশ কমলা-বাদামি রঙ ধারণ করেছে। শিকাগোতে শুক্রবার বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত বাতাস রেকর্ড করা হয়। পরিস্থিতির কারণে লেক মিশিগানের তীরবর্তী পার্ক ও সমুদ্রসৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে টেক্সাসে মঙ্গলবার থেকে কোথাও কোথাও ২৭ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ সপ্তাহের বন্যায় অন্তত দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বৃষ্টি কমলেও নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির উচ্চ নিরাপত্তার সামরিক ঘাঁটির উপরে ড্রোনের আনাগোনা

জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় এক সামরিক ঘাঁটির উপরে বৃহস্পতিবার রাতে দুটি ড্রোন চিহ্নিত হয়েছে। এর দুই দিন আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের এক রানওয়ের কাছে বিস্ফোরক ভর্তি একটি ড্রোন পাওয়া গিয়েছিল।   শনিবার জার্মানির সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের মেখারনিশ শহরের সামরিক ঘাঁটির উপর ড্রোনগুলো দেখা যায়। শহরটি থেকে বেলজিয়ামের সীমান্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে।   রয়টার্স জানিয়েছে, ড্রোন দেখার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সেখানে মিলিটারি পুলিশ মোতায়েন করা হয় আর বিষয়টি দেখার দায়িত্ব নিকটবর্তী অয়স্কিরশেন শহর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই মুখপাত্র জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।   জার্মানির গণমাধ্যম জানিয়েছে, জার্মানির সামরিক বাহিনীর (বুন্ডেসভেয়ার) মেখারনিশ ঘাঁটিটিতে সামরিক বস্তুগত সরঞ্জাম ও স্পেয়ার পার্টসের উচ্চ নিরাপত্তার ভূগর্ভস্থ গুদাম আছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের একটি ঘাঁটি।   স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোনটি বিমানবন্দরের এক কর্মী ইউক্রেইনের বেশ কয়েকটি আন্তোনভ এএন-১২৪ কার্গো বিমানের কাছে দেখতে পান।   এই ঘটনাটি নেটোর আকাশসীমায় ড্রোন ঢুকে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছে। এটি নেটো সামরিক জোটের জার্মানির মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশগুলো নতুন এসব নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় কতোটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো করে তুলেছে।   জার্মানির সরকার এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে কোনো দেশকে দায়ী করেনি। কিন্তু দেশটির কিছু আইনপ্রণেতা এর জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। রাশিয়া ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেইনের সঙ্গে যুদ্ধরত আছে।   শুক্রবার রাশিয়ার বার্লিন দূতাবাস লাইপজিগের ঘটনাটিকে ‘সাজানো উস্কানি’ বলে বলে অভিহিত করেছে। এটি কোনো প্রমাণ ছাড়াই রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার আরেকটি উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছে তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
মার্কিন যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত গোলাবারুদ আছে যুক্তরাষ্ট্রের: পেন্টাগন

ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলি তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি, কারণ কী?

সংগৃহীত ছবি

দাবানলের ধোঁয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে গর্ভের শিশুর ওপর: গবেষণা

সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দার ‘ফাঁদে’ ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট, গ্রেপ্তার

নারীর ফাঁদে পড়ে গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করায় নিজেদের বিমানবাহিনীর এক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে ভারত। ওই নারী পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বলে ধারণা করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।   সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে শনিবার (৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই মাস আগে ওই পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে পাঠানো হয় জেলে। তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে অভিযোগে আনা হয়েছে।   গ্রেপ্তারের পর ওই পাইলট নিজের জামিনের জন্য কোনো আবেদন করেননি।   ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ ওই উইং কমান্ডারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করে। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে দিল্লির একটি আদালতের কাছে সোপর্দ করে। আদালত পরবর্তীতে তাকে তিহার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাকরিরত ওই পাইলটকে গত ৩০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় বিমানবাহিনী জানতে পারে এক পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দার হানিট্র্যাপে পড়েছেন তিনি।   তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই পাইলট হয়ত পাকিস্তানের একটি বড় গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কবলে পড়েছেন।   পুলিশের একটি সূত্র বলেছেন, ওই পাইলটের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ করেন ওই নারী। ওই সময় গ্রেপ্তার পাইলট মানসিকভাবে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নারীর বার্তা পেয়ে এতে সাড়া দেন এবং বিভিন্ন সময় মেসেজ দেওয়া ও ভিডিও কলেও কথা বলেন। তখনই তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করেন।   যদিও কি ধরনের তথ্য ফাঁস করা হয়েছে সেটি উল্লেখ করা হয়নি। তবে তথ্যগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভারতীয় তদন্তকারীরা এখন একটি মোবাইল অ্যাপসের ব্যাপারে কাজ করছেন। গ্রেপ্তার ওই পাইলট তার এক সহকর্মীকে ওই অ্যাপসটি ইনস্টল করে দিতে বলেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই অ্যাপসের মাধ্যমে তার মোবাইলের অ্যাকসেস নিয়েছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কটি। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে আটক ৫১ হাজারের বেশি অভিবাসী

হরমুজের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখতে চায় ইরান। সংগৃহীত ছবি

হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে ইরানের সব শর্ত

এআই নির্মিত প্রতীকী ছবি

হরমুজে আবুধাবির তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর, বাতিল হলো শত শত আবেদন

বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি সংক্রান্ত আইন সংশোধনের পর কুয়েতে শত শত আবাসন আবেদন বাতিল করা হয়েছে। নতুন নিয়মে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক স্পনসরশিপের শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে।   এর আগে দর্শনার্থী ভিসায় কুয়েতে প্রবেশকারী অনেক বিদেশি নাগরিক ‘অপরাধমূলক রেকর্ড নেই’—এই শর্ত পূরণ করে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারতেন এবং তাদের অনেক আবেদন গ্রহণও করা হতো। তবে সাম্প্রতিক আইনি সংশোধনের ফলে সেই সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়েছে।   কুয়েত সরকার সংবিধানের ১৭, ১৮, ২০ ও ২২ নম্বর ধারায় পরিবর্তন আনার পর নতুন নীতিমালা কার্যকর করেছে। এর ফলে আগের নিয়মে জমা দেওয়া বহু আবেদনও পুনর্বিবেচনা করে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।   নতুন বিধান অনুযায়ী, ভিসাকে স্থায়ী আবাসন নথিতে রূপান্তর করতে আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি, স্বাস্থ্যবিমা এবং বসবাসের ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা দেখাতে হবে। পাশাপাশি সব খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রতি মাসে আবেদনকারীর হাতে কমপক্ষে ৮০০ কুয়েতি দিনার থাকতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।   এই শর্ত পূরণ করতে পারলে অনুমোদিত বিদেশিরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলে সন্তান এবং ২১ বছরের কম বয়সী মেয়ে সন্তানকে কুয়েতে স্থায়ীভাবে নিয়ে আসতে পারবেন।   তবে যারা স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পাবেন না, তারা পরিবারকে কুয়েতে আনতে পারলেও সেটি অস্থায়ী ভিসার আওতায় হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হলে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতিমালার লক্ষ্য হলো বিদেশি শ্রমিক ও প্রবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি বসবাস আরও নিয়ন্ত্রিত করা এবং উচ্চ আয়ের আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।   উল্লেখ্য, কুয়েতি দিনার বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান মুদ্রাগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক বাজারে ১ কুয়েতি দিনারের মূল্য ৩ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪০০ টাকার সমপরিমাণ।   সূত্র: গালফ নিউজ

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের নতুন প্রতিরক্ষা জোটের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

চুক্তি হলে ইরানের বন্দর থেকে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত ৫১টি জাহাজের রুট বদলেছে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments