ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের এই ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায় বলে তার জামাতা ডা. হিমেল কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।
মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের গ্রামের বাড়ী টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকরাজান ইউনিয়নে। তিনি পরিবার সদস্যদের নিয়ে ঘাটাইল পৌরর কলেজ রোড এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। বর্তমানে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ইসলামি শিক্ষায় সুদক্ষ এই আলেম একাধারে একজন মুহাদ্দিস ও বিজ্ঞ ইসলামীক চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ডা. হিমেল জানান, বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতের কোনো এক সময়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি ফসলি ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত তার ব্যবহৃত মোবাইলে কল করলেও সেটির সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।
কাকরাজান এলাকার স্থানীয়রা জানান, তার বসতবাড়ির পাশে নিজস্ব একটি ফসলি ক্ষেতে বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে বাড়ির পাশের ক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের আকস্মিক এই মৃত্যুতে ঘাটাইলের আলেম সমাজ ও সচেতন মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং তার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠন তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সমবেদনা প্রকাশ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর কাকরাজান এলাকায় নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে সংগঠনটির প্রার্থী ছিলেন মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। পরবর্তীতে সংগঠনটি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে সম্প্রতি এক সভায় আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসিরকে সমর্থন করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির ‘বক্স ক্রাব’ বা লজ্জাবতী কাঁকড়া। অদ্ভুত আকৃতির এই সামুদ্রিক কাঁকড়া নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে। আজ মঙ্গলবার কলাপাড়ার মৎস্য বন্দর মহিপুরে ইলিয়াস মাঝির মাছধরা ট্রলারের জেলেরা অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি নিয়ে আসেন আখি ফিশ নামের একটি মাছের আড়তে। তবে কাঁকড়াটি খাওয়া যায় কি না, এ নিয়ে সংশয় থাকায় জেলেরা এটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ছেড়ে দেন। আখি ফিশে কর্মরত মো. আলামিন জানান, অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এ ধরনের কাঁকড়া সাধারণত দেখা যায় না। তাই এটি নিয়ে জেলেদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। বক্স ক্রাবের খোলস গোল ও বেশ চওড়া। সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় এর শরীর অনেকটা গোলাকার। খোলস উঁচু ও শক্ত এবং ওপরের অংশ গম্বুজের মতো। খোলস জুড়ে ঘন কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ রয়েছে। দুই পাশে থাকা বড় ও মোটা দাঁড়া এ কাঁকড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি রয়েছে। সাধারণত বালুময়, কাদাময় নরম সমুদ্রতলে এবং কখনো প্রবাল প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এদের পাওয়া যায়। কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির কাঁকড়া সচরাচর দেখা যায় না। এ কারণে স্থানীয় মানুষ সাধারণত এগুলো খায় না। তবে যেসব এলাকায় এ কাঁকড়া বেশি পাওয়া যায়, সেখানে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেছেন, ‘এ কাঁকড়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া, যা সামনে ভাঁজ করে মুখ ঢেকে রাখতে পারে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় এ ধরনের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। উপকূলে এমন কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু আহরণ নয়, প্রজাতি, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সূর্যাস্তের পর অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থান ও আড্ডা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট পড়ানো সূর্যাস্তের আগেই শেষ করতে বলা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় উপজেলার সব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি এবং প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার পরিচালকদের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কিছু শিক্ষার্থী সূর্যাস্তের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা ও আড্ডায় সময় কাটাচ্ছে। এতে পড়াশোনায় ব্যাঘাতের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ সুসংহত করতে নির্দেশনায় কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দ্রুত শিক্ষক-অভিভাবক সভা আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের সূর্যাস্তের পর বাড়িতে অবস্থান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নেছারাবাদে পরিচালিত সব কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট শিক্ষকদের সূর্যাস্তের আগেই পাঠদান ও ব্যাচ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূর্যাস্তের পর কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যাচ বা প্রাইভেট ক্লাস পরিচালনা করা যাবে না। নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা যাতে অযথা সময়ক্ষেপণ না করে সরাসরি বাড়িতে ফিরে যায়, তা নিশ্চিত করতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিভিন্ন হাট-বাজার, পার্ক, ঘাট ও দোকানে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের আড্ডা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সমন্বয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নৈতিক শিক্ষামূলক পাঠদান ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করে গড়ে তুলতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস, কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করা, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনায় জড়িতদের বিচার, কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করাসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকালে এসব দাবি জানানো হয়। বিকেল সোয়া ৪টায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের দেওয়া অভিনন্দনপত্রে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। অভিনন্দনপত্রে বলা হয়, ‘‘বিপ্লব, ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক রাহবার ও উলামায়ে কেরামের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম জেলার ঐতিহাসিক জনপদ ফটিকছড়ির বাবুনগর পুণ্যভূমিতে’ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে উলামায়ে কেরাম ও জনগণের পক্ষ থেকে তাকে ‘প্রাণঢালা মহব্বত ও আন্তরিক মোবারকবাদ’’। এতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও সাবেক আমির আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী এবং ‘ইসলাম ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে আত্মত্যাগী সকল শহীদকে’ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অভিনন্দনপত্রে বলা হয়, ফটিকছড়ি শুধু ভৌগোলিকভাবে গঠিত কোনো এলাকা নয়; এটি দেশের দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামি সংস্কার ও আধ্যাত্মিক সাধনার একটি ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র। বাবুনগর মাদরাসা ও আশপাশের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে আলেম গঠন, বিশুদ্ধ আকিদা চর্চা ও সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এবং বর্তমান আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর মতো প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে এ অঞ্চলটি সমকালীন ইসলামি অন্যতম প্রধান মারকাজ হিসেবে স্বীকৃত বলে উল্লেখ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ‘এই অঞ্চলের ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিক্রমায় এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অভিনন্দনপত্রে আরও বলা হয়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, জুলাই বিপ্লব, ২০১৩ সালের ‘নাস্তিক্যবাদবিরোধী লড়াই’, বাঙালি মুসলিম সমাজের ধর্মীয় চেতনা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে আলেম সমাজের ভূমিকা সুদৃঢ় ও অবিচল ছিল। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, তিনি সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন করে জাতীয় রাজনৈতিক ধারায় ইসলামি মূল্যবোধকে সম্মানের স্থানে বসিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী (প্রয়াত) বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, তিনি এদেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক সমমর্মিতা প্রদর্শন করেছেন। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার সমর্থন ও সহমর্মিতার কথা আলেম সমাজ গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বলেও উল্লেখ করা হয়। হেফাজতের ৯ দাবি ১. মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা। ২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা। ৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িত, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার কায়েম করা। ৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করার মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশের সর্বত্র কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করা। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে সরকারি মাদরাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্সের সমমান) ডিগ্রির উল্লেখ করা। ৫. শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। ৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা ও হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা। ৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা। ৮. আলেমদের বিরুদ্ধে আওয়ামী সরকারের সময়ের মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এদেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা। ৯. বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের ‘বিতর্কিত’ মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া। অভিনন্দনপত্রের শেষে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি সফর ‘কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; এটি দ্বীন ও রাষ্ট্রের মেলবন্ধনের এক অনন্য স্মারক।’ তার এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও আলেম সমাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেশের তৌহিদী জনতাকে একতাবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল, ফলপ্রসূ ও নিরাপদ হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে তাকে নেক হায়াত, সহিহ সালামাত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তৌফিক দেওয়ার পাশাপাশি তার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে ‘একটি স্বাবলম্বী, ন্যায়ভিত্তিক ও নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলার হিম্মত দানের জন্য দোয়া করা হয়।