ধোনির পরে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে নাম তুলেছেন ভিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মধ্যকার ম্যাচে মাঠে নেমে দুজনই খেললেন নিজেদের ২৭৮তম আইপিএল ম্যাচ।
এর মাধ্যমে তারা স্পর্শ করলেন মাহেন্দ্র সিং ধোনির রেকর্ড। গত মৌসুমে ২৭৮ ম্যাচ খেলে আইপিএলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছিলেন ধোনি।
রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি তাই কোহলি ও রোহিতের জন্য বিশেষ উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
ধোনি ২০০৮ সাল থেকে চেন্নাই সুপার কিংস ও রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের হয়ে খেলেছেন। যদিও চলতি মৌসুমে চোটের কারণে এখনো মাঠে নামা হয়নি তার।
অন্যদিকেম রোহিত শর্মা ক্যারিয়ারের শুরুতে ডেকান চার্জার্সের হয়ে খেললেও ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত খেলছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে।
আর কোহলি আইপিএলের প্রথম আসর থেকেই খেলছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে।
ব্যাট হাতে আইপিএলে এখন পর্যন্ত ধোনির রান ৫ হাজার ৪৩৯। রোহিত করেছেন ৭ হাজার ২৬৭ রান। আর টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কোহলির সংগ্রহ ৯ হাজার ৪০ রান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে হুলিয়ান আলভারেজের দেওয়া এক মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে যে ঝড় তুলেছে, তা এখন আইনি লড়াইয়ের রূপ নিতে যাচ্ছে। অনুমতি ছাড়া আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টার অভিযোগে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। আর ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বার্সেলোনা ও আলভারেজ—উভয়ের ওপরই নেমে আসতে পারে কঠোর শাস্তি। ফিফার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস অ্যান্ড ট্রান্সফারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্লাব যদি চুক্তিবদ্ধ কোনো খেলোয়াড়কে তার বর্তমান ক্লাবের অনুমতি ছাড়া চুক্তি ভাঙতে প্ররোচিত বা প্রলোভিত করে, তবে শাস্তির বিধান একেবারেই স্পষ্ট। নিয়ম ভঙ্গ প্রমাণিত হলে নতুন ক্লাবটির ওপর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক—উভয় বাজারে পরপর দুটি পূর্ণাঙ্গ ট্রান্সফার উইন্ডোতে (দলবদল মৌসুম) নতুন কোনো খেলোয়াড় নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। ফিফার নিয়মে 'সুরক্ষিত মেয়াদ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ২৩ থেকে ২৮ বছর বয়সী কোনো ফুটবলার চুক্তি স্বাক্ষর করলে পরবর্তী ৩টি পূর্ণ মৌসুম বা ৩ বছর পর্যন্ত এই সুরক্ষিত মেয়াদের আওতায় থাকেন। ২৬ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। ফলে তিনি বর্তমানে এই সুরক্ষিত মেয়াদের ভেতরেই আছেন। এক্ষেত্রে ফিফার আরও একটি মারপ্যাঁচে পড়তে পারে বার্সেলোনা। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি চুক্তি বাতিলের ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন কোনো ক্লাবে যোগ দেন, তবে ধরে নেওয়া হয় নতুন ক্লাবটিই তাঁকে চুক্তি ভাঙতে প্ররোচিত করেছে। এই দায় থেকে বাঁচতে হলে বার্সেলোনাকে ফিফার 'ফুটবল ট্রাইব্যুনাল'-এ নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। আতলেতিকোর সঙ্গে চুক্তি থাকা অবস্থায় আলভারেজ যদি একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করতে চান, তবে তাঁর নিজের ক্যারিয়ারও বড় ঝুঁকিতে পড়বে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এমনটা করলে যেকোনো অফিশিয়াল ম্যাচ খেলা থেকে চার মাসের জন্য নিষিদ্ধ হবেন তিনি, যা গুরুতর পরিস্থিতিতে ছয় মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে। চলমান কোনো প্রতিযোগিতামূলক মৌসুমের মাঝে কোনো খেলোয়াড় একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করতে পারেন না। যদি এমন কিছু ঘটে, তবে খেলোয়াড় ও তার নতুন ক্লাবকে যৌথভাবে আতলেতিকো মাদ্রিদকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারিত হবে খেলোয়াড়ের বর্তমান বাজারমূল্য, সম্ভাব্য ট্রান্সফার ভ্যালুর ক্ষতি এবং তার বিকল্প খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর খরচের ওপর ভিত্তি করে। বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর আলভারেজের বলেন, 'সবার জন্যই এখন সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো একটা ট্রান্সফার। আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই'—মন্তব্যটি যে কেবল আলোচনার খোরাক ছিল না, বরং এর পেছনে গভীর আইনি জটিলতা লুকিয়ে ছিল, তা এখন ফিফার এই কঠোর নিয়মগুলোতেই স্পষ্ট।
বিশ্বকাপ চলাকালে ফিফা, ফিফা সভাপতি ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক কথা বলে করে নিজের বিশ্বকাপ অ্যাক্রেডিটেশন হারিয়েছেন প্যারাগুয়ের টেলিভিশন ধারাভাষ্যকার হোর্হে চিপি ভেরা। গত শনিবার (২০ জুন) প্যারাগুয়ে ও তুরস্কের ম্যাচে প্যারাগুয়ের তারকা ফুটবলার মিগেল আলমিরনের লাল কার্ড দেখাকে কেন্দ্র করে লাইভ সম্প্রচারে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভেরা। তবে দশ জনের দল নিয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের প্রথমার্ধের অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে আলমিরনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে কোনো তর্ক-বিতর্কের সময় মুখ ঢেকে কথা বলা নিষিদ্ধ। তুরস্কের ডিফেন্ডার মের্ত মুলদুরকে কিছু বলার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখায় বিশ্বকাপে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই নিয়ম ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত হন আলমিরন। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সরাসরি সম্প্রচারে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও ম্যাচ রেফারিকে ‘চোর’ আখ্যা দেন ভেরা। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফুটবলকে হত্যা করা হচ্ছে।’ পরে অবশ্য নিজের ভুল বুঝতে পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ক্ষমা চান তিনি, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।
বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ঘানা পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে। বস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পুরো সময়জুড়ে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের উত্তেজনা থাকলেও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন থাকে শূন্য শূন্য। ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। একের পর এক আক্রমণ সাজালেও ঘানার সংগঠিত রক্ষণভাগ বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মাঝমাঠে চাপ সৃষ্টি করে ইংলিশ আক্রমণকে কার্যত থামিয়ে দেয় আফ্রিকার এই দলটি। ঘানাও সুযোগ পেয়ে কয়েকবার দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে গেলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ সতর্ক থাকায় বড় কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সেট পিস ও কর্নার পেলেও কোনো দলই গোলের খাতা খুলতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বদলি খেলোয়াড় নামিয়েও গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে তারা। তবে ঘানার গোলরক্ষক ও ডিফেন্স লাইনের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচে কোনো গোল আসেনি। ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্তও গোলশূন্য ফলাফল বজায় থাকে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দুই দলকেই এক পয়েন্ট করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।