শিক্ষা

ধীরগতিতে জাতীয় গ্রন্থাগার নির্মাণ, চার বছরে ১১ কোটি টাকা খরচ

আক্তারুজ্জামান জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর জাতীয় গণগ্রন্থাগার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে বাড়ছে ব্যয় ও সময়। প্রকল্পের অংশ হিসেবে সাড়ে তিন লাখ বই ভাড়া করা ভবনে সংরক্ষণ করতে গিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন দুটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লাইব্রেরির বইগুলো স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসহ একাধিক ভবন ভাড়া নিয়ে বই সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

 

কয়েক বছরে ১১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়: সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে শুধু বই সংরক্ষণ ও ভাড়া বাবদ প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। চলতি বছরের ব্যয় যুক্ত হলে এ খরচ প্রায় ১৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময় পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় আরও প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন রয়েছে।
 

নকশা পরিবর্তন ও ধীরগতিতে আটকে নির্মাণকাজ: প্রকল্পের আওতায় একটি কংক্রিট ভবন ও একটি স্টিল স্ট্রাকচার ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্টিল কাঠামোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। একাধিকবার নকশা পরিবর্তনের কারণে কাজেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ হলেও সিভিল কাজের অগ্রগতি ৬৭ শতাংশ এবং ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল কাজের অগ্রগতি ২০–৩০ শতাংশের মধ্যে সীমিত।

লিফট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি আনা হলেও স্থাপন ও ব্যবহার শুরু হয়নি বলেও জানা গেছে।

 

ব্যয় বৃদ্ধি ও মেয়াদ বাড়ানো: প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় প্রায় ৯৬ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে এবং মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের আওতায় বই সংগ্রহের জন্য আরও প্রায় ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মধ্যে ১০ কোটি হার্ডবুক এবং ৫ কোটি ই-বুক কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে।

 

প্রকল্প পরিচালক যা বলছেন: জাতীয় গণগ্রন্থাগারের মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক মনীষ চাকমা জানান, ২০২২ সাল থেকে বইগুলো ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ১২ ও ১৩ তলায় ভাড়া করা স্থানে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমিত পরিসরে পাঠকসেবা চালু রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে এবং লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

শিক্ষা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ধীরগতিতে জাতীয় গ্রন্থাগার নির্মাণ, চার বছরে ১১ কোটি টাকা খরচ

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর জাতীয় গণগ্রন্থাগার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে বাড়ছে ব্যয় ও সময়। প্রকল্পের অংশ হিসেবে সাড়ে তিন লাখ বই ভাড়া করা ভবনে সংরক্ষণ করতে গিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।   প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন দুটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লাইব্রেরির বইগুলো স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসহ একাধিক ভবন ভাড়া নিয়ে বই সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।   কয়েক বছরে ১১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়: সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে শুধু বই সংরক্ষণ ও ভাড়া বাবদ প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। চলতি বছরের ব্যয় যুক্ত হলে এ খরচ প্রায় ১৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময় পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় আরও প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন রয়েছে।   নকশা পরিবর্তন ও ধীরগতিতে আটকে নির্মাণকাজ: প্রকল্পের আওতায় একটি কংক্রিট ভবন ও একটি স্টিল স্ট্রাকচার ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্টিল কাঠামোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। একাধিকবার নকশা পরিবর্তনের কারণে কাজেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ হলেও সিভিল কাজের অগ্রগতি ৬৭ শতাংশ এবং ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল কাজের অগ্রগতি ২০–৩০ শতাংশের মধ্যে সীমিত। লিফট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি আনা হলেও স্থাপন ও ব্যবহার শুরু হয়নি বলেও জানা গেছে।   ব্যয় বৃদ্ধি ও মেয়াদ বাড়ানো: প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় প্রায় ৯৬ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে এবং মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে প্রকল্পের আওতায় বই সংগ্রহের জন্য আরও প্রায় ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মধ্যে ১০ কোটি হার্ডবুক এবং ৫ কোটি ই-বুক কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে।   প্রকল্প পরিচালক যা বলছেন: জাতীয় গণগ্রন্থাগারের মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক মনীষ চাকমা জানান, ২০২২ সাল থেকে বইগুলো ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ১২ ও ১৩ তলায় ভাড়া করা স্থানে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমিত পরিসরে পাঠকসেবা চালু রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতি মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে এবং লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০ জুলাইয়ের মধ্যেই প্রকাশ হচ্ছে এসএসসির ফল: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাই উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার: প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ ছুটি শেষে খুলল স্কুল-কলেজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
নতুন ২ উপ-উপাচার্য পেল জাবি

শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে।   জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষককে উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. শামছুল আলম উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী, তারা যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসরে যাওয়ার তারিখ- যেটি আগে হবে, সে সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। দুই উপ-উপাচার্য তাদের বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন। এ ছাড়া বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত এবং উপাচার্য কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।  

মারিয়া রহমান জুন ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি কলেজে অনার্স কোর্স বন্ধ হতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

ছবি: সংগৃহীত

২০২২ সালের পর বঞ্চিত শিক্ষকদের অবসর ভাতা চালু, ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৬ পদে চাকরির সুযোগ

সংগৃহীত ছবি
এইচএসসি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নির্দেশনা জারির মাত্র একদিনের মাথায় তা স্থগিত করা হয়। আগামী ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সোমবার (১ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে সব কেন্দ্রের সচিবকে পরীক্ষাকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে থানা বা ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র আনার দায়িত্বে কারা থাকবেন, তাদের তথ্যও বোর্ডে পাঠাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এর একদিন পরই ২ জুন সেই চিঠি বাতিল করে বোর্ড। ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা নতুন চিঠিতে বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সিসিটিভির ডিভিআর, এনভিআরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখা এবং প্রশ্নপত্র গ্রহণে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের তথ্য পাঠানোসংক্রান্ত চিঠিটি স্থগিত করা হলো। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল ও মে মাসে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল। বোর্ডের দাবি, এর ফলে নকলের প্রবণতা কমেছে। তবে এ নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের একাংশের মধ্যে সমালোচনাও তৈরি হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার মতো কঠোর নজরদারি শিক্ষার্থীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেক শিক্ষাবিদ। হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু বলেন, ‘আমরা আগের চিঠিটা স্থগিত করেছি। শিগগির হয়তো নতুন আরেকটি চিঠি দেওয়া হবে।’ তবে কী কারণে এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলো, সেটিকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ উল্লেখ করে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

মারিয়া রহমান জুন ০৪, ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় : পুনঃ ভর্তির চক্রে শিক্ষার্থীরা

ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: ঢাবি জনসংযোগ দপ্তর

গবেষণার উন্নয়নে ঢাবি ভূতত্ত্ব বিভাগে ১ কোটি টাকার এনডাউমেন্ট ফান্ড

0 Comments