জাতীয়

ধানমণ্ডির জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৫০ কোটির প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডি লেককে কোনোভাবেই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, লেকটি পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব নগর অবকাঠামো হিসেবেই সংরক্ষণ করা হবে।

 

একই সঙ্গে ধানমণ্ডি এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

রোববার রাজধানীর রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-১-এর আওতাধীন বিষয়গুলো নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

গণশুনানির আয়োজন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

অনুষ্ঠানে ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও শাহবাগসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিক, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার বিষয়ে মতামত ও অভিযোগ তুলে ধরেন।

 

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার অংশীদারভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চায়। এ ধরনের গণশুনানি সেই ব্যবস্থারই বাস্তব উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় সরকার, সিটি করপোরেশন ও নাগরিক—সবারই দায়িত্ব রয়েছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণসহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে এবার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গঠনে নাগরিকদের সহযোগিতা অপরিহার্য।

 

তিনি আরও জানান, ধানমণ্ডি লেককে পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিকভাবে উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেখানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না।

হকার ও রিকশা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, নির্ধারিত স্থানে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে এবং তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে রিকশাচালকদেরও নিবন্ধনের মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনার শৃঙ্খলায় আনা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
মেঘনার পানি হবে ঢাকার ভরসা : মির্জা ফখরুল

মেঘনা নদীর পানি শোধন করে ঢাকায় সরবরাহের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো হবে বলে জানিয়েছেনপল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টার দিকেনারায়ণগঞ্জে ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্প পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।   মির্জা ফখরুলবলেন, ‘মেঘনার পানি হবে ঢাকার ভরসা। এনদীর পানি শোধন করে ঢাকায় সরবরাহের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।’   তিনিবলেন, ‘এ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে নদীতে পানি গ্রহণ কেন্দ্র, কাঁচা পানি পরিবহন লাইন, ৫০ কোটি লিটার দৈনিক সক্ষমতার পানি শোধনাগার এবং শোধিত পানি সরবরাহের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক। বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।’   তিনি আরও বলেন, ‘শোধনাগারের মূল অবকাঠামোর প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর ব্যবস্থা করা হবে।’   মন্ত্রীপ্রকল্পটি পরিদর্শনে করেন এবং ঘুরে ঘুরে দেখেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১১ জেলার সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে আনসার মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত

ধানমণ্ডির জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৫০ কোটির প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
এটাই হয়তো ‘সিন্থেসিস’, আমরাই বুঝিনি এতদিন: মাহফুজ আলম

জাতীয় সংসদে উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) শুরুতে এই শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।   শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।   সোমবার (৮ জুন) রাত ১টার দিকে দেয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এটাই। এখানে ট্রুথ, জাস্টিস অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন হবে না। ৭১-এর যুদ্ধাপরাধের সহযোগী ও ২৪-এর মানবতাবিরোধী অপরাধী উভয়ের জন্যই শোক প্রস্তাব হবে।’   তিনি আরও লিখেছেন, ‘কোনো বিচার না, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং না, ক্ষমাপ্রার্থনা না। এটাই হয়ত সিন্থেসিস! আমরাই বুঝি নাই এতদিন’।   মাহফুজ আলম লিখেছেন,‘সবাই দেখসি মোনাজাত ধরসে। অভ্যুত্থানের নেতারাও। পরিবেশ সুন্দর। কোথাও কোলাহল নেই!’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকায় স্বস্তির খবর

ছবি: সংগৃহীত

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত

ছবি: সংগৃহীত

মার্চ-এপ্রিলে দেশে ৬০৫ জন খুন : টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত
গোপালগঞ্জে ভোরে ট্রাক চুরি, দুপুরে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে একটি পণ্যবাহী ড্রামট্রাক চুরির পর মালিকের কাছে ফোন করে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে একটি চোরচক্র। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   রোববার (৭ জুন) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকায় ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে।   ভুক্তভোগী ট্রাক মালিক মেহেদী হাসান কাশিয়ানী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।   মালিক মেহেদী হাসান জানান, শনিবার রাতে ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকায় গাড়িটি রেখে তিনি আশপাশেই অবস্থান করছিলেন। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাড়িতে যান। সকাল ৮টায় ফিরে এসে দেখেন নির্ধারিত স্থানে ট্রাকটি নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি।   তিনি আরও জানান, দুপুর ১২টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, ট্রাকটি তাদের হেফাজতে রয়েছে। ফেরত পেতে হলে ২ ঘণ্টার মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা পাঠাতে হবে। টাকা না দিলে ট্রাকের যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।   মেহেদী হাসান বলেন, “এত বড় একটি ট্রাক কীভাবে দিনের আলোতে চুরি হলো বুঝতে পারছি না। এখন আবার টাকা দাবি করছে, আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”   কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ট্রাকটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।   পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর কারাগারে সাজা শেষে ১৭ বিদেশি বন্দিকে পাঠানো যাচ্ছে না

ছবি : সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইনে ৫ মাসে ৩৭২০ কল

ছবি: সংগৃহীত

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তুতি - টিআইবি

0 Comments