আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ায় আগস্টে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে ২০২২ সালের শেষের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। চরম আবহাওয়া, কৃষিপণ্যের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা এবং কৃষ্ণসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সব মিলিয়ে খাদ্যপণ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। 

 

শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে সংস্থাটির খাদ্য মূল্যসূচক গড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। জুলাইয়ের সংশোধিত ১৩০ দশমিক ৮ পয়েন্টের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান।

 

তবে ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর তৈরি হওয়া রেকর্ড সর্বোচ্চ দামের তুলনায় আগস্টের সূচক এখনো প্রায় ১৭ শতাংশ কম।

 

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বাজারে ঝুঁকির প্রভাব আবারও ফিরে আসার সতর্কবার্তা পাওয়া যাচ্ছে। জলবায়ুজনিত ধাক্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন একসঙ্গে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

 

আগস্টে এফএওর খাদ্য মূল্যসূচকের আওতাভুক্ত শস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধ সব কটি পণ্যের দাম বেড়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে ভুট্টা ও চিনিবিটের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশুর উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়ার আশঙ্কা এশিয়ায় পাম তেল ও চিনি উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

 

আগস্টে শস্যের মূল্যসূচক এক মাসে ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।

 

সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন হয়েছে চিনির দামে। আগস্টে এফএওর চিনি মূল্যসূচক ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ মধ্য-দক্ষিণ অঞ্চলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার আবহাওয়াজনিত উদ্বেগও এতে ভূমিকা রেখেছে।

 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত সাড়ে চার বছরে চলা এ যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগরে হামলা বাড়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি কমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কৃষিপণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহেও চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছে এফএও।

 

সব মিলিয়ে জলবায়ু, যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট বিশ্ব খাদ্যবাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

 

এদিকে পৃথক এক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাসও কমিয়েছে এফএও। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় উৎপাদনের হিসাব ৩৪ লাখ মেট্রিক টন কমিয়ে ২৯৮ কোটি টন করা হয়েছে।

 

এটি ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম এবং ২০১৮ সালের পর এক বছরে শস্য উৎপাদনে সবচেয়ে বড় পতন হতে পারে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

 

২০২৬-২৭ মৌসুম শেষে বৈশ্বিক শস্যের মজুতের পূর্বাভাসও ১ দশমিক ১ শতাংশ কমিয়ে ৯৪ কোটি ৭২ লাখ টন করা হয়েছে। এই মজুত আগের মৌসুমের তুলনায় সামান্যই বেশি হবে।

 

এফএও জানিয়েছে, মোটা দানার শস্যের মজুত কমার পূর্বাভাসের প্রভাব গমের মজুত বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শস্য পরিবহনে বিঘ্নের কারণে ওই দুই দেশে গমের মজুত বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

 

সূত্র : রয়টার্স

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এপি
আমি না থাকলে ইসরায়েল বলে কিছু থাকত না: ট্রাম্প

ইসরায়েল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজের ভূমিকার কথা আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত না রাখলে আজ ইসরায়েল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব থাকত না। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে না পারলে আজ ইসরায়েল ও ‘পুরো মধ্যপ্রাচ্য’ বলে কিছু থাকত না। তিনি আরও লেখেন, ‘কেউ এ কথা বলতে চায় না, কিন্তু সবাই জানে এটাই সত্য!’ এর কয়েক দিন আগেই ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চলতি বছরই বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক হামলা চালাবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও অবস্থান জানাননি তিনি। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজের ভূমিকার কথা এবারই প্রথম বললেন না ট্রাম্প। এর আগে ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট না থাকলে ‘আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না’। গত জুনে ওভাল অফিসেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের কোনও অস্তিত্ব থাকত না।  সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬
পূর্ব লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটিতে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি ভারী পরিবহন বিমান সফলভাবে অবতরণ করে। ছবি: এক্স

সবচেয়ে উঁচুতে বিমান অবতরণ করিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের দাবি ভারতের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানে কি ফের হামলা চালাবেন ট্রাম্প, বাড়ছে জল্পনা?

ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে সহায়তার অভিযোগ, কানাডার ৮ প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ থামাতে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেন-রাশিয়ার নেতারা

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলা সংঘাত বন্ধের সবশেষ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় আগামী সপ্তাহে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন দুই দেশের নেতারা। এতে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন।   ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কিয়েভের বিরুদ্ধে মস্কোর যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আবুধাবিতে এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি মঙ্গল ও বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংঘাত নিরসনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর দেশের নেতাদের মধ্যে এটি প্রথম বৈঠক হতে যাচ্ছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেমলিনের সহযোগী ভ্লাদিমির মেদিনস্কি আবারও প্রধান আলোচক হিসেবে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। এই দলে প্রথমবারের মতো থাকছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াবকভ এবং জেনারেল স্টাফের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউরি ঝিগারলভস্কি।   রিয়াবকভ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক দেখাশোনা করেন। এছাড়া অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়গুলোও তার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। ঝিগারলভস্কি হলেন জেনারেল স্টাফের ‘মেইন অপারেশনাল ডিরেক্টরেট’-এর উপ-প্রধান। এই বিভাগটি সামরিক পরিকল্পনা ও অভিযানের দায়িত্বে থাকে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলে আরও থাকবেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল গালুজিন এবং রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ইগর কোস্তিউকভ, যারা আগের আলোচনাগুলোতেও অংশ নিয়েছিলেন। শুক্রবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে প্রতিনিধি দলের সব সদস্য প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকের একটি অংশ আসন্ন আলোচনার প্রস্তুতির বিষয়টিতে নিবেদিত ছিল।   বৈঠকের টেলিভিশনে সম্প্রচারিত অংশে পুতিন আলোচনার আয়োজন করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, রুশ দলের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি আলোচনা করতে চান। এ ধরনের বৈঠকের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, আলোচনার বেশিরভাগ অংশই রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে; ক্রেমলিন কেবল শুরুর কয়েক মিনিটের দৃশ্য প্রচার করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা শীত মৌসুম শুরুর আগেই দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত নিরসনে একটি বড় অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করছেন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।   সূত্র: রয়টার্স।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, কঠিন পরীক্ষায় প্রেসিডেন্ট হারজগ

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনে বড় ধাক্কা, পদত্যাগ করলেন তিন কর্মকর্তা

যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘আরও শক্তিশালী’: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্য পেতে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার (প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা) পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তথ্যদাতাকে প্রয়োজনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। যদিও এতদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার দেওয়া হবে।   সেন্টকম জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম ও ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার পাওয়া যাবে। দেশটির বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তথ্যদাতার নিরাপত্তা বিবেচনায় তাকে প্রয়োজনে অন্যত্র স্থানান্তরের সুযোগও রাখা হয়েছে।   এদিকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইসরায়েল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না।   ফ্লোরিডার নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি যদি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দিতাম, তাহলে আজ ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। ইসরায়েল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত।’   এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে না ঠেকালে আজ ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব থাকত না। তিনি লেখেন, ‘কেউ এটা বলতে চায় না, কিন্তু সবাই জানে, এটাই সত্য।’   সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৭, ২০২৬

তারেক রহমানের জায়গায় শেখ হাসিনার নাম, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদের ভুলে অস্বস্তিতে জাপানি মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের ৭ শর্ত

ছবি: সংগৃহীত

এক শতকে জেরুজালেমে খ্রিস্টান জনসংখ্যার হার কমেছে ২৩.৪৪ শতাংশ

0 Comments