যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোক্যামিকেল খাতের অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা মেরামত করে উৎপাদন আবার চালু করতে পারবে ইরান। তবে আগের মতো শক্তিশালী ও আধুনিক জ্বালানি খাত গড়ে তোলা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের নিজস্ব প্রকৌশলীরা চীন ও রাশিয়ার সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর অনেক কিছুই মেরামত করতে পারবেন। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, অর্থের অভাব, পুরোনো যন্ত্রপাতি এবং নতুন করে হামলার আশঙ্কা দেশটির জন্য বাধা হয়ে আছে।
কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরির (সিইওবিএস) স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১৪ জুনের হামলায় তেহরানের শাহরান তেল ডিপোর চারটি ট্যাংক ধ্বংস হয়। একই হামলায় দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
২০২৬ সালের মার্চে শাহরান, আকদাসিয়েহ ও কারাজের তেল সংরক্ষণাগার এবং তেহরান শোধনাগারেও হামলা হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, আসালুয়েহ এলাকায় দক্ষিণ পার্সের গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পেট্রোরসায়ন শিল্পেও হামলার প্রভাব পড়েছে। ৪ এপ্রিলের হামলায় মাহশাহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পরিষেবা সরবরাহকারী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বান্দার ইমাম শিল্প কমপ্লেক্সেও আঘাত লাগে। এসব স্থাপনা থেকে আশপাশের কারখানাগুলো বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পায়। ফলে একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কিছু স্থাপনায় উৎপাদন ফিরছে
যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে কিছুটা উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে পেরেছে ইরান। ২৩ সেপ্টেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া এক ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদনক্ষমতার অর্ধেক পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা যায়নি।
ইরানের নিজস্ব প্রকৌশলীদের তেল ও গ্যাস খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা বিভিন্ন প্রকল্প চালিয়ে গেছেন। দেশটির এমএপিএনএ প্রতিষ্ঠান উন্নত গ্যাস টারবাইন তৈরির পরীক্ষায় সফলতার কথাও জানিয়েছে।
তবে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ইরানের জ্বালানি খাতে বহু বছর ধরে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। অনেক যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে গেছে। আবার আধুনিক প্রযুক্তি আমদানিতেও বাধা রয়েছে।
গ্যাসক্ষেত্রের বয়স বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন কমতে থাকে। উৎপাদন ধরে রাখতে বিশেষ যন্ত্রপাতি বসাতে হয়। এ জন্য নতুন বিনিয়োগ দরকার। ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সরে যাওয়ায় সেখানে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এলএনজি রপ্তানিতেও পিছিয়ে ইরান
ইরান দীর্ঘদিন ধরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানির পরিকল্পনা করছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস স্থাপনা মেরামত করে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু এলএনজি রপ্তানির জন্য বিশেষ প্রযুক্তি, বিপুল অর্থ, গ্যাস পরিবহনের জাহাজ এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়।
চীন ও রাশিয়া কতটা সাহায্য করবে?
পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান চীন ও রাশিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। চীন ইরানের তেলের বড় ক্রেতা। দেশটি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্রকৌশল সহায়তা ও অর্থায়ন দিতে পারে। তবে ইরানের কাছ থেকে কম দামে তেল কেনা আর সেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা এক বিষয় নয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পর চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি প্রকল্প থেকে সরে যায়। নতুন করে বিনিয়োগের আগে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থের নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং লাভের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
রাশিয়ার সহায়তার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ও ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানির মধ্যে ৪০ বিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু সেই সমঝোতা অনুযায়ী বাস্তবে কতটা কাজ হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ইরানের জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়েও সংশয় আছে।
আবার হামলা হলে বিনিয়োগ করবে কে?
ইরানের সামনে আরেকটি বড় সমস্যা হলো নতুন করে হামলার আশঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার হামলা চালালে নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মেরামত করা স্থাপনাগুলোও।
এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানে বিনিয়োগ করতে বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে আগ্রহী নাও হতে পারে। কারণ, নতুন হামলায় তাদের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তাই ইরানকে শুধু স্থাপনা মেরামত করলেই চলবে না, কোন স্থাপনাগুলো আগে চালু করা জরুরি, সেটিও ঠিক করতে হবে। গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ঠিক করা গেলে একসঙ্গে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন শুরু হতে পারে।
ক্ষতির ধরন অনুযায়ী মেরামতে সময়ও লাগবে ভিন্ন ভিন্ন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে কিছু স্থাপনা কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে চালু করা সম্ভব। তবে বড় যন্ত্রপাতি বদলানো ও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় গাজা উপত্যকাজুড়ে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির আশ্রয়কেন্দ্র ও তাবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) উত্তর গাজার গাজা শহর থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, অনেক ফিলিস্তিনি অস্থায়ী তাবুগুলোতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, সেগুলো প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। আল-খালিলি বলেন, সর্বশেষ ঝড়টি প্রমাণ করে দিয়েছে, তাদের সুরক্ষাব্যবস্থা কতটা নাজুক। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাসে সেই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তছনছ হয়ে গেছে, যা মজবুত করার জন্য পরিবারগুলো দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করেছিল। তিনি জানান, সেখানে বিছানা, বালিশ ও কাপড়চোপড় সব ভিজে গেছে। প্রায় ৪ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এমন সব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন, যা আরও বন্যার ঝুঁকির দিক থেকে অত্যন্ত অরক্ষিত। সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার শেষ রাত থেকে গাজায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস আঘাত হেনেছে। এতে ৭০ হাজার তাবু প্লাবিত হয়েছে এবং বহু দেয়াল ধসে পড়েছে। গাজায় যখন চরম মানবিক সংকট চলছে, ঠিক তখনই এই বন্যার ঘটনা ঘটল। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে ইসরায়েল ত্রাণ সরবরাহের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে আলজাজিরার আশরাফ আবু আমরা জানান, যেসব বাস্তুচ্যুত পরিবারের আশ্রয়কেন্দ্র বন্যায় প্লাবিত হয়েছে, তারা শনিবার সকাল থেকে কোনো খাদ্য সহায়তা পায়নি। ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি জোনাথন ভিচ জানিয়েছেন, অধিকাংশ মানুষ অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য আরও তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঝড়ে প্রায় ৩০ লাখ ডলার মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অথচ ত্রাণ সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ধরে সেখানে সহায়তা পৌঁছানোর জন্য হিমশিম খাচ্ছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা অন্তত ১,৫০০টি জরুরি কল পেয়েছে। সংস্থাটির মতে, ২ হাজারেরও বেশি ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া দুর্যোগের কবলে পড়া বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য অন্তত ৩ লাখ তাবুর প্রয়োজন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি ত্রাণ, আশ্রয়সামগ্রী ও পুনর্নির্মাণের উপকরণের ওপর অব্যাহত বিধিনিষেধ ত্রাণ কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হওয়া গণহত্যামূলক যুদ্ধের পর থেকে ৭৪,৬৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ১,৬১০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতাকারীদের ‘শয়তানের প্রভাবাধীন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তাঁর এমন বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি দেশটির রক্ষণশীল মহলের কয়েকজনও এ মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। গত ২৩ অক্টোবর ইসরায়েলি উপস্থাপক আমির তসারফাতির সঞ্চালনায় ‘দ্য অ্যাঙ্কর পডকাস্টে’ অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন হাকাবি। সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। যুদ্ধবিরোধীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য পডকাস্টে হাকাবি বলেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমালোচনা করছেন, তাঁদের মন শয়তান অন্ধ করে দিয়েছে এবং তাঁদের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা ‘আধ্যাত্মিক অন্ধকার ও আধ্যাত্মিক অন্ধত্বে’ ভুগছেন। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশকারীদের এভাবে আখ্যায়িত করা একজন কূটনীতিকের জন্য অস্বাভাবিক। রক্ষণশীল মহলেও সমালোচনা হাকাবির বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সাময়িকী ‘দ্য আমেরিকান কনজারভেটিভ’-এর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক অ্যান্ড্রু ডে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা শয়তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন, এমন তত্ত্ব তুলে ধরে একজন রাষ্ট্রদূতের এভাবে কথা বলা সত্যিই অদ্ভুত। অ্যান্ড্রু ডের এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে হাকাবির বক্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক পরিসরেও যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মতবিরোধ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মতপার্থক্য রয়েছে। যুদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই হাকাবির মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ বিতর্ক আরও গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাকাবির মন্তব্য তাই শুধু একজন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকেও সামনে এনেছে। সূত্র: আল জাজিরা।
তিন দিনের সফরে আগামীকাল সোমবার ঢাকায় আসছেন এডিনবার্গের ডাচেস সোফি হেলেন। ৯ থেকে ১১ নভেম্বর তার এই সফরে নারীর ক্ষমতায়ন, যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। আজ ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে প্রচারিত রয়্যাল কমিউনিকেশন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিন দিনের এই সফরে ডাচেস দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের শক্তি ও ব্যাপ্তি তুলে ধরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংগঠনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এতে আরও বলা হয়, ঢাকায় তিনি নারী ও কন্যাশিশুদের কল্যাণ, সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়নে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় নারীদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতে ডাচেস ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিআইপিএসওটি)’ পরিদর্শন করবেন। এছাড়া নারী ও কন্যাশিশুদের নতুন সুযোগ তৈরিতে ক্রীড়ার ভূমিকা তুলে ধরতে তিনি ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ (বিকেএসপি)-এ নারী হকি খেলোয়াড়সহ তরুণ অ্যাথলেটদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এই সফরে বাংলাদেশে ‘ব্রিটিশ কাউন্সিল’-এর ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হবে, যেখানে ডাচেস শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নারী ক্ষমতায়ন জোরদারে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন । কক্সবাজারে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন এবং বাস্তুচ্যুত নারী, কন্যাশিশু ও পরিবারগুলোর সুরক্ষা ও সহায়তা সেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন। তার এই সফর বাস্তুচ্যুত নারী ও শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে পুনর্বাসন, সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তি সেবার পাশাপাশি শরণার্থী সম্প্রদায়ের মধ্যকার সক্ষমতা ও নেতৃত্ব জোরদারের প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হবে। যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অনুরোধে ডাচেস বাংলাদেশ সফর করছেন। এর আগে তিনি ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফর করেন।