অন্যান্য

বিএনপির তিন সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব: সাবেক ছাত্রনেতারা আলোচনায়

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ০৮, ২০২৬ 0

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তৎপরতায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পুনর্গঠন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা। ঈদুল আজহার আগে বা পরে নতুন কমিটি আসতে পারে—এমন আভাসে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপও বেড়েছে। ত্যাগী, তরুণ ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার বার্তা থাকায় সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি বড় অংশ এখন নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছেন।

 

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের কমিটির মধ্যে ১০টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। দলীয় গঠনতন্ত্রে নির্দিষ্ট সময় পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতা। ফলে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁদের সময় ও মনোযোগ কমে গেছে। এমন বাস্তব প্রেক্ষাপটে দলীয় অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে বিএনপি। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল পুনর্গঠনের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল নিয়ে কাজ করছেন দায়িত্বশীল নেতারা।

 

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গত এপ্রিলের প্রথম থেকেই অঙ্গ সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। সে লক্ষ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন তারেক রহমান। বৈঠক থেকে আভাস মিলেছে, ত্যাগী, যোগ্য ও তরুণদের দিয়ে সংগঠনে বড় পরিবর্তন আনা হবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী কমিটি গঠনই এখন প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ইউনিটগুলোতে নতুন মুখ আনার মাধ্যমে সংগঠনে গতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

 

তারা জানান, পদায়নের ক্ষেত্রে কেবল সিনিয়রিটি নয়, গুরুত্ব পাবে বিগত আমলে মামলার সংখ্যা ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের চিত্র। যারা বিগত কয়েক বছরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তারাই হবেন নতুন কমিটির কান্ডারি। পদপ্রত্যাশীদের লবিং ও তদবিরেও এবার বিশেষ কড়াকড়ি থাকছে। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের আমলনামা এখন হাইকমান্ডের টেবিলে।

 

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এমন কয়েকজন নেতা সম্প্রতি যুগান্তরকে জানিয়েছেন, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান সংগঠনের বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। যোগ্য, ত্যাগী এবং তরুণদের হাতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্ব দিতে চাচ্ছেন তিনি। তাঁরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৯ মে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের ঢাকায় ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ওই দিন তিনি খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

 

প্রায় অভিন্ন সুরে নেতারা জানান, বর্তমান কমিটির ‘সুপার ফাইভে’ থাকা নেতাদের নতুন কমিটিতে থাকা না থাকা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। তেমনটি হলে আগামীতে নেতৃত্বের সুযোগ পাবেন বিগত দিনের বঞ্চিতরা। এতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো গতি পাবে এমন দাবিও করেন তারা।

 

২০২৪ সালে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে এই কমিটির মেয়াদ প্রায় ২২ মাস পার হলেও তা পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

 

যুবদল নেতারা বলছেন, অনুকূল পরিবেশে আংশিক কমিটি দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ না করার কারণে বর্তমান কমিটির ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে। কয়েক মাস আগে ১৫১ সদস্যের কমিটি অনুমোদনের জন্য বিএনপি হাইকমান্ডের কাছে জমা দিলেও সেটিকে ‘মাইম্যান’ কমিটি হিসাবে উল্লেখ করছেন কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বে যুবদলের পুনর্গঠন দাবি জোরালো হচ্ছে।

 

বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি যুবদলের শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় আছেন, সংগঠনটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, সাবেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল কবীর পল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল, সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুব হাসান পিংকু, আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সাইদ ইকবাল টিটু, সাবেক সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামূল হক এনাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, সাবেক ছাত্রনেতা ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, তারেক উজ জামান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তবে দলের হাইকমান্ডের পছন্দের তালিকায় আছেন গোলাম মাওলা শাহীন, বিল্লাল হোসেন তারেক, নুরুল ইসলাম সোহেল, রবিউল ইসলাম নয়ন ও শরীফ উদ্দিন জুয়েলের নামও। এ ছাড়া ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে। শ্রাবণের নাম স্বেচ্ছাসেবক দলেও আলোচনা আছে।

 

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোখতার হোসাইন, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামানের নাম। এ ছাড়া কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন, এম জি মাসুম রাসেল, নজরুল ইসলাম নোমান, শেখ ফরিদ হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুলের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে আলোচনার প্রথমদিকেই রয়েছে রবিন, নাজমুল, তুহিন, কাজী মোখতার ও জুয়েলের নাম। অবশ্য জুয়েলের নাম যুবদলেও আলোচনা রয়েছে।

 

এদিকে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় আছেন শ্যামল মালুম, আমান উল্লাহ আমান, মো. খোরশেদ আলম সোহেল, সালেহ মো. আদনান, এসএম আবু জাফর, শরীফ প্রধান শুভ, মনজুরুল আলম রিয়াদ, ইজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, মমিনুল ইসলাম জিসান, ফারুক হোসেন, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, আজিজুল হক জিয়ন, ডা. আউয়ালসহ আরও বেশ কয়েকজন।

 

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দলীয় অঙ্গ সংগঠনের পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলমান আছে। নতুন নেতৃত্বে সংগঠনগুলোর বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কবে নাগাদ নতুন কমিটি আসবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে কাজ করছেন। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
এসএসসি খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার: ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

শিক্ষা বোর্ডগুলোর কঠোর নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক বার্তার পরও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। নিয়মানুযায়ী কেবল নির্ধারিত পরীক্ষকদের খাতা দেখার কথা থাকলেও অনেক পরীক্ষক সেই খাতা শিক্ষার্থীদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়ে নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নম্বর গণনা, বৃত্ত ভরাট করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও শিক্ষার্থী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।   সম্প্রতি, কিছু কিশোর-তরুণের এসএসসির খাতা দেখার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, পরীক্ষকের বদলে তাঁর ছাত্র বা পরিচিত তরুণরা উত্তরপত্র নিয়ে গোল হয়ে বসে আছে। কেউ খাতা পড়ছে, কেউ নম্বর দিচ্ছে, আবার কেউ অতি গুরুত্বপূর্ণ ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাটের কাজ করছে। খাতা দেখার এসব ছবি ও ভিডিও অনেকে নিজেদের প্রোফাইলে বিভিন্ন ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করেছে।   অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, নম্বর গণনা এবং বৃত্ত ভরাটের অন্তত ৮টি ভিডিও-রিলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেসব ভিডিওতে দেখা গেছে বোর্ড থেকে দেওয়া উত্তরপত্রের বান্ডিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে শিক্ষার্থী ও কিশোরদের সামনে। কিছু ভিডিওতে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, যশোর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের খাতা দেখা গেছে। ঢাকা বোর্ডের এবং কুমিল্লাসহ কিছু বোর্ডের ২০২৫ কিংবা তারও আগের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের কিছু ভিডিও নতুন করে পোস্ট করে ট্রেন্ডে আনা হয়েছে।   এসব ভিডিওতেও দেওয়া হয়েছে চটকদার ক্যাপশনও। এর মধ্যে টিকটকের বেশকিছু ভিডিওতে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে—'সবার সাথে বসে এসএসসি পরীক্ষার খাতা দেখলাম', '২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী, কে কে আছো কমেন্টে জানাও', 'এখানে কার কার ভবিষ্যৎ আছে কমেন্ট করে জানাও' প্রভৃতি।   খাতা দেখায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়, জানেন অনেকে!   কেন এবং কীভাবে খাতা দেখার মতো স্পর্শকাতর কাজ শিক্ষার্থীদের হাতে চলে যাচ্ছে, তা নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর বেশ কয়েকজন পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এমন 'অনিয়ম' হয় বলে একরকম স্বীকার করে নিয়েছেন। তারা বলছেন, সময় স্বল্পতা, অবহেলা এবং বাড়তি আয়ের নেশা থেকে কিছু পরীক্ষক এই প্রতারণার আশ্রয় নেন।   নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক পরীক্ষক বলেন, অনেক পরীক্ষক একটি 'মডেল উত্তরপত্র' শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেন এবং বলেন সে অনুযায়ী নম্বর দিতে। কিন্তু সৃজনশীল প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের উত্তরের বৈচিত্র্য বোঝার মতো গভীরতা বা অভিজ্ঞতা ওইসব তরুণ শিক্ষার্থীর নেই। ফলে যারা একটু ভিন্নভাবে বা নিজের ভাষায় উত্তর লেখে, তারা এই অপেশাদার মূল্যায়নের শিকার হয়ে নম্বর কম পায়।   রাজধানীর একটি স্কুলের একজন সিনিয়র শিক্ষক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বোর্ডের খাতা দেখছেন, তিনি জানান, মূলত সময় বাঁচানোর জন্যই অনেকে এই পথ বেছে নেন। একজন পরীক্ষককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩০০ থেকে ৫০০ খাতা মূল্যায়ন করতে হয়। আবার অনেক শিক্ষক কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট টিউশনিতে ব্যস্ত থাকেন। ফলে তারা খাতাগুলো নিজেরা না পড়ে তাদের বিশ্বস্ত ছাত্র বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া পরিচিতদের দিয়ে দেন। তারা কেবল শেষে নম্বরগুলো একবার যাচাই করে স্বাক্ষর করে দেন।   আরেক পরীক্ষক জানান, খাতা দেখার চেয়েও বেশি অনিয়ম হয় নম্বর গণনা ও ওএমআর শিট বৃত্ত ভরাটের ক্ষেত্রে।   ময়মনসিংহ বোর্ডের এক পরীক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক পরীক্ষক মনে করেন মূল্যায়নের কাজটা নিজে করলেই হলো, কিন্তু নম্বর যোগ করা বা বৃত্ত ভরাট করা তো যান্ত্রিক কাজ, তাই তারা এই কাজে নিজেদের সন্তান বা স্কুলের শিক্ষার্থীদের বসিয়ে দেন। অথচ এই যোগফল বা বৃত্ত ভরাটে সামান্য ভুল হলেই একজন শিক্ষার্থীর ফলাফল ওলটপালট হয়ে যায়।   তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো গোপনীয়তা লঙ্ঘন। একটি খাতা যখন শিক্ষকের ড্রয়িং রুম বা ক্লাসরুমে উন্মুক্তভাবে পড়ে থাকে, তখন সেটি আর নিরাপদ থাকে না। যে শিক্ষার্থীরা আজ টিকটকে ভিডিও দিচ্ছে, তারা আসলে জানেই না তারা কত বড় অপরাধ করছে। আর এই সুযোগটা করে দিচ্ছেন খোদ শিক্ষকরাই।   এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট বোর্ড এবং প্রধান পরীক্ষকদের তদারকি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।   এসএসসির খাতা দেখায় অননুমোদিত ব্যক্তি, কী বলছে আইন?   এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পাবলিক পরীক্ষার গোপনীয়তা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে। ভিডিওগুলোতে কোথাও শিক্ষার্থীদের খাতা দেখতে, কোথাও নম্বর তুলতে, আবার কোথাও ওএমআর বৃত্ত ভরাট করতে দেখা গেছে। অথচ আইন অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক ছাড়া অন্য কারও পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সুযোগ নেই। এমন অপরাধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।   এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ রয়েছে 'পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০'তে। আইন অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন, নম্বর প্রদান কিংবা ওএমআর শিট পূরণ করতে পারবেন না।   আইনের ৪২ এর ১০ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হয়েও কেউ যদি পাবলিক পরীক্ষার হলে পরীক্ষা পরিচালনা করেন অথবা পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।   আইনে বলা হয়েছে—'যিনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত বা ক্ষমতা প্রদত্ত না হওয়া সত্ত্বেও কোনো পরীক্ষার হলে কোনো পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন অথবা কোনো পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো উত্তরপত্র পরীক্ষা করেন, অথবা যিনি অন্য ব্যক্তির পরিচয়ে কিংবা কল্পিত নামে পরীক্ষার হলে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন, অথবা পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষা করেন, তিনি দুই বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা অর্থদণ্ড অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।'   যা বলছেন বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা   মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন ঢাকা পোস্টকে জানান, শিক্ষা বোর্ডের খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। অনেক সময় পুরোনো ভিডিও নতুন করে প্রচার করা হয়। তাই যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।   তিনি বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কঠোর গোপনীয়তার নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। পরীক্ষকদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিজেদের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন বা নম্বর দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও কাছে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য বা ভিডিও থাকে, তাহলে তা শিক্ষা বোর্ডকে দিতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশ, ডিজিএফআই, এনএসআই কিংবা বোর্ডের নিজস্ব তদন্ত টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জি. এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, বোর্ডের নজরে এখন পর্যন্ত এসএসসির খাতা মূল্যায়নের কোনো ভিডিও আসেনি।   তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ ধরনের কোনো ভিডিও আমাদের নজরে আসেনি। বিষয়টি ফেকও হতে পারে, আবার অন্য কোনো ঘটনাও হতে পারে।   খাতা মূল্যায়নে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষকদের শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাতা যেন কোথাও প্রকাশ্যে নেওয়া না হয় এবং সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে বাসায় বসে মূল্যায়ন করা হয়—সে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী বা অন্য কারও সামনে খাতা উন্মুক্ত না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, খাতা বিতরণের দিন থেকেই পরীক্ষকদের বারবার সতর্ক করা হয় যেন তারা নিজেরাই মূল্যায়নের কাজ সম্পন্ন করেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেও কোনো কাজ না করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাইরের কাউকে দিয়ে করানোর তো প্রশ্নই আসে না। খাতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করাও পরীক্ষা নীতিমালার পরিপন্থী।   মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নসংক্রান্ত কোনো ভিডিও, ছবি কিংবা এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ এখনো বোর্ডের দৃষ্টিগোচর হয়নি।   এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।   মন্তব্য পাওয়া যায়নি ১১ বোর্ডের সমন্বয় কমিটির সভাপতির   দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালন করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। এসব বিষয়ে কথা বলতে তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তাঁকে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ০৮, ২০২৬ 0

বিএনপির তিন সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব: সাবেক ছাত্রনেতারা আলোচনায়

ছবি: সংগৃহীত

১১৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলায় নূর আলী

ছবি: সংগৃহীত

নতুন মুখ খুঁজছে ঢাকা মহানগর বিএনপি

ছবি : সংগৃহীত
বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন। আগামী ১৩ মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন বলে জানা গেছে।  বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ডাকসুর নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আকদের অনুষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে মূল অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। জানা যায়, ডাকসু ভিপির হবু স্ত্রীর নাম আনিকা ফরায়েজি। তিনি এমবিবিএস চিকিৎসক। তার বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। বাবা রিলায়েন্স গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রবাসীবাংলা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ডাকসু ভিপির বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন ডাকসুর নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ডাকসু নেতা মাজহারুল ইসলামের তৈরি করা একটি বিয়ের কার্ডের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আরো আলোচনায় আসে।

মারিয়া রহমান মে ০৮, ২০২৬ 0

ফতুল্লায় হাতকড়াসহ ৫ আসামি ছিনতাই, থানার ২ এসআইসহ ৬ পুলিশ প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়েছে: নাহিদ

ছবি : সংগৃহীত

স্বামীসহ জাবি’র সাবেক উপাচার্য ফারজানার আয়কর নথি জব্দের আদেশ

ছবি : সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাগ, পোশাক ও ফুটওয়্যার সামগ্রী বিতরণ করা হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ, পোশাক ও ফুটওয়্যার সামগ্রী বিতরণ করা হবে। আর এ লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। আজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পাইলট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে প্রথম ধাপে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলের জন্যে মানসম্মত জুতা বিতরণ করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারকে অনুদান প্রদান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এই উদ্যোগটি শুধু একটি বিতরণ কর্মসূচি না হয়ে শিশুদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এজন্য জুতার মান, স্টাইল ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জুতার গুণগত মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকলে সেটি শিশুদের মধ্যে অসম অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক উপজেলায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর মাঝে (প্রায় এক লক্ষ শিক্ষার্থী) জুতা বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে সীমিত পরিসরে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পাইলট হিসেবে বাস্তবায়ন করা যায়। এ সময় তিনি টেকনিক্যাল ও কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ, লেদার ইন্সটিটিউট ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সহযোগী প্রতিটি কোম্পানির একজন প্রতিনিধি রাখার নির্দেশনা দেন এবং  ডিজাইন, কোয়ালিটি চেকিং, সার্টিফিকেশন সবকিছু যেন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হয়, সেজন্য টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই পাইলট উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের জুতা উৎপাদন করে, তাই অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন  এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমায় আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন চালু করল ইউএনডিপি ও ঢাবি

ছবি : সংগৃহীত

এনসিপিতে যোগ দিলেই মিলবে ‘মিল্লি কার্ড’, ছাত্রশক্তি নেতার প্রচারণা ভাইরাল

ছবি : সংগৃহীত

সরকার শিক্ষকতার মানোন্নয়নে কাজ করতে বদ্ধপরিকর : শিক্ষা মন্ত্রী

0 Comments