বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তৎপরতায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পুনর্গঠন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা। ঈদুল আজহার আগে বা পরে নতুন কমিটি আসতে পারে—এমন আভাসে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপও বেড়েছে। ত্যাগী, তরুণ ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার বার্তা থাকায় সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি বড় অংশ এখন নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছেন।
বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের কমিটির মধ্যে ১০টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। দলীয় গঠনতন্ত্রে নির্দিষ্ট সময় পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতা। ফলে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁদের সময় ও মনোযোগ কমে গেছে। এমন বাস্তব প্রেক্ষাপটে দলীয় অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে বিএনপি। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল পুনর্গঠনের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল নিয়ে কাজ করছেন দায়িত্বশীল নেতারা।
সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গত এপ্রিলের প্রথম থেকেই অঙ্গ সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। সে লক্ষ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন তারেক রহমান। বৈঠক থেকে আভাস মিলেছে, ত্যাগী, যোগ্য ও তরুণদের দিয়ে সংগঠনে বড় পরিবর্তন আনা হবে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী কমিটি গঠনই এখন প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ইউনিটগুলোতে নতুন মুখ আনার মাধ্যমে সংগঠনে গতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
তারা জানান, পদায়নের ক্ষেত্রে কেবল সিনিয়রিটি নয়, গুরুত্ব পাবে বিগত আমলে মামলার সংখ্যা ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের চিত্র। যারা বিগত কয়েক বছরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তারাই হবেন নতুন কমিটির কান্ডারি। পদপ্রত্যাশীদের লবিং ও তদবিরেও এবার বিশেষ কড়াকড়ি থাকছে। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের আমলনামা এখন হাইকমান্ডের টেবিলে।
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এমন কয়েকজন নেতা সম্প্রতি যুগান্তরকে জানিয়েছেন, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান সংগঠনের বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। যোগ্য, ত্যাগী এবং তরুণদের হাতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্ব দিতে চাচ্ছেন তিনি। তাঁরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৯ মে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের ঢাকায় ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ওই দিন তিনি খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
প্রায় অভিন্ন সুরে নেতারা জানান, বর্তমান কমিটির ‘সুপার ফাইভে’ থাকা নেতাদের নতুন কমিটিতে থাকা না থাকা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। তেমনটি হলে আগামীতে নেতৃত্বের সুযোগ পাবেন বিগত দিনের বঞ্চিতরা। এতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো গতি পাবে এমন দাবিও করেন তারা।
২০২৪ সালে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে এই কমিটির মেয়াদ প্রায় ২২ মাস পার হলেও তা পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
যুবদল নেতারা বলছেন, অনুকূল পরিবেশে আংশিক কমিটি দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ না করার কারণে বর্তমান কমিটির ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে। কয়েক মাস আগে ১৫১ সদস্যের কমিটি অনুমোদনের জন্য বিএনপি হাইকমান্ডের কাছে জমা দিলেও সেটিকে ‘মাইম্যান’ কমিটি হিসাবে উল্লেখ করছেন কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বে যুবদলের পুনর্গঠন দাবি জোরালো হচ্ছে।
বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি যুবদলের শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় আছেন, সংগঠনটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, সাবেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল কবীর পল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল, সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুব হাসান পিংকু, আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সাইদ ইকবাল টিটু, সাবেক সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামূল হক এনাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, সাবেক ছাত্রনেতা ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, তারেক উজ জামান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তবে দলের হাইকমান্ডের পছন্দের তালিকায় আছেন গোলাম মাওলা শাহীন, বিল্লাল হোসেন তারেক, নুরুল ইসলাম সোহেল, রবিউল ইসলাম নয়ন ও শরীফ উদ্দিন জুয়েলের নামও। এ ছাড়া ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে। শ্রাবণের নাম স্বেচ্ছাসেবক দলেও আলোচনা আছে।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোখতার হোসাইন, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামানের নাম। এ ছাড়া কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন, এম জি মাসুম রাসেল, নজরুল ইসলাম নোমান, শেখ ফরিদ হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুলের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে আলোচনার প্রথমদিকেই রয়েছে রবিন, নাজমুল, তুহিন, কাজী মোখতার ও জুয়েলের নাম। অবশ্য জুয়েলের নাম যুবদলেও আলোচনা রয়েছে।
এদিকে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় আছেন শ্যামল মালুম, আমান উল্লাহ আমান, মো. খোরশেদ আলম সোহেল, সালেহ মো. আদনান, এসএম আবু জাফর, শরীফ প্রধান শুভ, মনজুরুল আলম রিয়াদ, ইজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, মমিনুল ইসলাম জিসান, ফারুক হোসেন, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, আজিজুল হক জিয়ন, ডা. আউয়ালসহ আরও বেশ কয়েকজন।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দলীয় অঙ্গ সংগঠনের পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলমান আছে। নতুন নেতৃত্বে সংগঠনগুলোর বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কবে নাগাদ নতুন কমিটি আসবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে কাজ করছেন। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরের ভর্তি কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থায় ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, তবে তা কেন্দ্রীয়ভাবে একক কোনও ব্যবস্থায় নয়। ক্যাচমেন্ট এরিয়া বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে সব জায়গায় একই ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে না। তিনি আরও জানান, আগে যেভাবে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হতো, নতুন ব্যবস্থাতেও সেভাবেই ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয় করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা সেভাবে যাচ্ছি না। আগে যেমন ভর্তি পরীক্ষা ছিল, তেমনই ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।” ভর্তি পরীক্ষার ধরন ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং সময়মতো পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জানানো হবে। প্রসঙ্গত, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরে লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন ব্যবস্থায় এলাকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি মূল্যায়নেরও সুযোগ রাখা হচ্ছে।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর সাতারকুলে (বাড্ডা) গ্রিনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই গণিত, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। সে লক্ষ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ পাবে। ম্যাথ ল্যাব সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ববি হাজ্জাজ আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, দক্ষতা-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তিবান্ধব করে তুলবে এবং স্মার্ট ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
নতুন হিজরি বছরকে স্বাগত জানিয়ে পবিত্র কাবা শরিফে পরানো হয়েছে নতুন কিসওয়া। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র এই স্থাপনার ঐতিহ্যবাহী গিলাফ পরিবর্তনের মাধ্যমে আবারও সৌদি আরবের কারুশিল্প, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং কাবার প্রতি বিশেষ যত্নের অনন্য নিদর্শন ফুটে উঠেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, মক্কার কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়ায় প্রায় ১১ মাসের নিরলস পরিশ্রমের পর নতুন কিসওয়া তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কাবা শরিফে তা পরানো হয়। নতুন কিসওয়া তৈরিতে প্রায় ১৫০ জন সৌদি কারিগর অংশ নেন। ৪৭টি বিশেষ কালো রেশমি কাপড়ের খণ্ড একত্র করে এটি তৈরি করা হয়েছে। কিসওয়ার বিভিন্ন অংশে পবিত্র কোরআনের ৩০টি আয়াত নকশাকৃতভাবে সংযোজন করা হয়েছে। অলংকরণে রুপার সুতা এবং তার ওপর ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়েছে। পুরো কিসওয়ার ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১০ কেজি। কাবার দরজার পর্দা, মিজাব, কোমরবন্ধ (হিজাম) এবং অন্যান্য অলংকরণে সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হয়েছে। এসব নকশা ও সজ্জা কিসওয়ার সৌন্দর্যকে আরও মহিমান্বিত করেছে। কিসওয়ার প্রধান আবরণ তৈরি হয়েছে উন্নতমানের কালো রেশম দিয়ে। এর ভেতরে টেকসই ও মজবুত কাঠামো নিশ্চিত করতে সুতি কাপড়ের একাধিক স্তর ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অলংকরণে লাল রেশম এবং কাবার অভ্যন্তরীণ আবরণ ও দরজার পর্দার পেছনে সবুজ রেশমি কাপড় ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতি বছর কিসওয়া পরিবর্তনের এই ঐতিহ্য মুসলিম বিশ্বের কাছে গভীর ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে এটি সৌদি কারিগরদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও শিল্পসৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।