সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগ আমলে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এবং ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের 'মব জাস্টিস'-এর মুখে পড়ে তার পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
তাছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সময় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে কয়েক বছর আগে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে খুরশীদ আলমের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। এই কাতারে জুলকার নায়েন সায়ের ও আকবর হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও ইনফ্লুয়েন্সারও শামিল হয়েছেন।
এমনকি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের সঙ্গে তোলা খুরশীদ আলমের পুরোনো ছবিও সামনে এনেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
ফলে ৫ আগস্টের পর থেকে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয়।
এরই অংশ হিসেবে সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম মানববন্ধন করে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়।
এ সময় তারা এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধন থেকে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকে ঢুকতে দেওয়া হবে না—এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে খুলনাসহ আরও কয়েকটি জেলায় এ ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়। একই রকম হুঁশিয়ারি ফেসবুকেও দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইসলামী ব্যাংক পুনর্গঠন করা হয়। এস আলমের প্রায় ৮৩ শতাংশ শেয়ার ব্লক করে রাখা হয়। ব্যাংকটিকে এস আলমমুক্ত করতে গেলে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় ২০১৭ সালের আগে ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এর পরে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
এরপর ২২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকে মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে চেয়ারম্যান করা হয়। তিনি আ. লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। তার ভাই আ. লীগ সরকারের একজন সচিব ছিলেন। ব্যাংকটিতে যোগদানের এক বছর না যেতেই তিনি পদত্যাগ করেন। এর পরপরই অন্য একটি ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে নিয়োগ পাওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনিরুল মাওলা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রায় এক বছর পদ দখল করে থাকেন। অনেক নাটকীয়তার পর ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। জুন মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক প্রভাষক এম. জুবায়দুর রহমান। তবে তিনিও ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বগুলো সঠিকভাবে সমাধান করতে পারেননি। বরং এমডি ওমর ফারুক খাঁনের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি প্রতিপক্ষ দাঁড় করানোর জন্য একচেটিয়াভাবে একজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) নিয়োগ দেন। এএমডিকে ক্ষমতাশালী করতে বিভিন্ন কৌশল হাতে নেন। এতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে। গত এপ্রিলে এমডিকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠান চেয়ারম্যান। এর আগে থেকেই ব্যাংকটির এএমডি কামাল উদ্দীন জসিমের কার্যক্রমে মনে হতে থাকে তিনিই এমডি।
এই সময়ে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ কর্মী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এস আলম গ্রুপের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৫ হাজার ৩৮৫ কর্মকর্তার যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মীকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় এবং নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগে কয়েকশ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই চাকরিচ্যুতরা বেশিরভাগই একটি অঞ্চলের লোক এবং তাদের অনেকেরই ব্যাংকে চাকরি করার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। তবে চাকরি হারিয়ে তারাও মাঠে নামে। বিভিন্ন সময়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করে।
সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের এই দখল-বেদখলের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'ব্যাংক দখল হয়েছে ইন্টেরিম সরকারের সময়, ব্যাংক দখল হয়েছে আওয়ামী লীগের সময়। তবে স্টাইলটা একটু ভিন্ন ছিল। কেউ সরকারি গোয়েন্দা ব্যবহার করে হোটেলে ডেকে নিয়ে ব্যাংক দখল করেছে, কেউ নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর বলে ব্যাংক দখল করেছে।'
ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি থিংক অ্যান্ড ইকোনোমিক রিসার্চ সেন্টারের (পিটিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, 'একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। একসময়ে এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে থাকা এই ব্যাংকটিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে গ্রাহকের আস্থা অনেকটা নষ্ট হয়েছে। এরপরও ব্যাংকটির রেমিট্যান্স আহরণের কারণে এখনও অর্থনীতিতে, বিশেষ করে রিজার্ভ সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ব্যাংক একটি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া ছিল একটি অভিশপ্ত অধ্যায়। অর্থনীতির স্বার্থে, রাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।'
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁনকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বিক্ষোভের মধ্যেই জুবায়দুরেরও পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাতে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে যেসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে, সেসবের তদন্ত অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ওই তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিযোগের সত্যতা পায়নি। ফলে জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পরিচালক পদ) থেকে ধাপে ধাপে নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পান খুরশীদ আলম।
অতীতের কর্মদক্ষতা ও সততার মূল্যায়ন করেই খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য দুই চেয়ারম্যানের তুলনায় এবার বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর একটি বেসরকারি চ্যানেলকে দেওয়া খুরশীদ আলমের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে অনেক বেশি ভিউ হতে দেখা যায়। সেখানে তাকে বলতে দেখা যায়, 'ইনশাআল্লাহ, ইসলামী ব্যাংক আবারও দেশের ১ নম্বর ব্যাংক হবে।'
এই বক্তব্যকে সামনে রেখে 'সম্মিলিত ব্যাংক পরিবার' নামের একটি পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাদের মধ্যে একজন লিখেছেন, 'ব্যাংকিং খাতের এক অনন্য বিজ্ঞ ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্বকে নেতৃত্বে পেয়ে দেশবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।'
মঙ্গলবার আবদুস সালাম কাজী নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী খুরশীদ আলমের সঙ্গে তার একটি ছবি পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, গণসংহতি আন্দোলনের (জিএসএ) নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুরশীদ আলম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইশতেহার প্রকাশ করে জিএসএ। পোস্টে খুরশীদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ পাওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান তিনি।
জানা গেছে, খুরশীদ আলমকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় তৎকালীন সরকার।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়ে খুরশীদ আলমসহ চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।
চাকরি জীবনেও খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তার কিছু সহকর্মী। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পরিচালক পদ) থাকাকালে তার গৃহীত ছাদবাগান কর্মসূচিকে ঘিরে ওই অভিযোগ তোলা হয়। এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়নি।
অথচ এসব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষোদ্গার দেখা যায়। বিবিসির সাংবাদিক আকবর হোসেন তার এক ভ্লগে বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সখ্য ছিল এমন একজন লোককে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় একটা প্রশ্ন উঠেছে যে, তিনি (খুরশীদ আলম) ইসলামী ব্যাংকে এসে এস আলমের স্বার্থ রক্ষা করবেন কি না। একজন ক্লিন ইমেজের লোককে এখানে নিয়োগ দিলে এমন প্রশ্ন উঠত না।'
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর 'মব জাস্টিস' করে খুরশীদ আলমকে পদত্যাগ করানো হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।'
বাংলানিউজকে দেওয়া তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের এই কাজটিকে 'চ্যালেঞ্জিং' বলে মন্তব্য করেন খুরশীদ আলম। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকটিকে সফলভাবে পরিচালনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তার ভিন্ন কোনো অভিসন্ধি নেই বলেও দাবি করেন।
মো. খুরশীদ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ থেকে স্নাতকোত্তর ও এমবিএ করেন। ১৯৮৮ সালে সহকারী পরিচালক পদে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, কৃষিঋণ বিভাগ, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন, এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ, সচিব বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। খুরশীদ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে বাড়ানো হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, যা আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। এর আগে, সবশেষ গতকাল শুক্রবার সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। এদিন ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়। এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে, যা ১৯৯৩ সালের পর সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদদের মতে, শিল্প ও ব্যবসা খাতে নতুন বিনিয়োগের স্থবিরতা, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ ঋণসুদ, খেলাপি ঋণের চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ঋণপ্রবাহে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন শেষে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। ঋণের পরিমাণ বাড়লেও প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত বছরের জুলাইয়ে যেখানে এ হার ছিল ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ, এক বছরের ব্যবধানে তা কমে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, করোনা মহামারির সবচেয়ে কঠিন সময়েও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামেনি। অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে নতুন বিনিয়োগের গতি মন্থর হয়ে পড়া। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানে। কারণ দেশে নতুন কর্মসংস্থানের বড় অংশই সৃষ্টি হয় বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। ব্যাংকাররা বলছেন, বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংক নতুন ঋণ বিতরণের চেয়ে পুরোনো ঋণ আদায়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। খেলাপি ঋণের উচ্চ চাপ এবং অনেক ব্যাংকের দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে বড় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশ কার্যত এক ধরনের অর্থনৈতিক সংকটকাল অতিক্রম করছে। রপ্তানি চাহিদা কমে যাওয়া, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, গ্যাস সংকট এবং সামগ্রিক অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ঋণের চাহিদা কমেছে। রপ্তানি আদেশ কম থাকায় আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলাও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু উচ্চ সুদহার নয়, একাধিক কাঠামোগত সমস্যাও বিনিয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। আবার অনেক নতুন শিল্পপ্রকল্প বিনিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পরও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। এর পাশাপাশি ডলারের বাজারে অস্থিরতা, কাঁচামাল আমদানির অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তাও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। নতুন ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর সতর্কতার আরেকটি বড় কারণ খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এ অবস্থায় অনেক ব্যাংক বড় শিল্পঋণের পরিবর্তে তুলনামূলক কম ঝুঁকির এসএমই ঋণ কিংবা সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগকে বেশি নিরাপদ মনে করছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান নিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধিকে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাদের মতে, অতীতে বেসরকারি খাতে উচ্চ ঋণ প্রবৃদ্ধির বড় অংশই প্রভাবশালী গ্রাহকদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। পরবর্তীতে এসব ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ খেলাপিতে পরিণত হয় এবং অর্থ পাচারের ঘটনাও সামনে আসে। ফলে বর্তমানে অপেক্ষাকৃত সতর্ক ঋণ বিতরণকে তারা ইতিবাচক দৃষ্টিতেও দেখছেন। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নীতিসুদ (রেপো) হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে। প্রায় ছয় বছর পর এটিই প্রথম নীতিসুদ কমানোর সিদ্ধান্ত। এর ফলে ব্যাংকগুলোর অর্থ সংগ্রহের ব্যয় কমবে এবং ধীরে ধীরে ঋণের সুদও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকার উৎপাদনমুখী খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পসুদের প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। বড় বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থায়ন সহজ করতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের ঋণসীমাও শিথিল করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু সুদহার কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, করব্যবস্থার সংস্কার, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি না হলে বিনিয়োগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি না ফিরলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। কারণ দেশের নতুন কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই আসে বেসরকারি খাত থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, নীতিসুদ কমানো, প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশের উন্নতির মাধ্যমে আগামী কয়েক মাসে ঋণপ্রবাহে গতি ফিরবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অর্থবছর শেষে ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের অভিমত, শুধু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেই হবে না; বাস্তব খাতে উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব হবে না।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে যাতে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিদেবী উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পলাতক শেখ হাসিনা ৫ অগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এ খবর আলোচনায় উঠে আসে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাই কমিশনারকে বলেন, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।