স্বাস্থ্য

মানুষ প্রতিদিন গড়ে কত কদম হাঁটে? জানাচ্ছে গবেষণা

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আজকাল কবজিতে ফিটনেস ট্র্যাকার বা স্মার্টওয়াচ পরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সুস্থ থাকার তাগিদে অনেকেই এখন প্রতিদিনের হাঁটার হিসাব রাখেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে আসলে কত কদম হাঁটেন? গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পদক্ষেপ গণনা করেন, তারা অন্যদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২,৫০০ কদম বেশি হাঁটেন।

 

বয়স ও লিঙ্গভেদে হাঁটার তারতম্য

মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটার পরিমাণ কমতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে—

  • ১৮ বছরের নিচে: শিশুরা সাধারণত প্রতিদিন ১০,০০০ থেকে ১৬,০০০ কদম হাঁটে।
  • প্রাপ্তবয়স্ক (১৮+): একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ গড়ে ৪,০০০ থেকে ১৮,০০০ কদম পর্যন্ত হাঁটতে পারেন।
  • লিঙ্গভেদ: শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত পুরুষরা সাধারণত নারীদের তুলনায় বেশি হাঁটেন।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা প্রতিদিন গড়ে ৫,৩৪০ কদম এবং নারীরা ৪,৯১২ কদম হাঁটেন।

 

পেশা যখন হাঁটার নিয়ন্ত্রক

 

আপনার প্রতিদিনের হাঁটার পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কী কাজ করেন তার ওপর। একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণায় ১০টি ভিন্ন পেশার মানুষের হাঁটার গড় হিসাব পাওয়া গেছে—

  • ওয়েটার: প্রতিদিন গড়ে ২২,৭৭৮ কদম
  • নার্স: ১৬,৩৯০ কদম
  • খুচরা বিক্রেতা: ১৪,৬৬০ কদম
  • শিক্ষক: ১২,৫৬৪ কদম
  • অফিস কর্মী: ৭,৫৭০ কদম
  • কল সেন্টার কর্মী: ৬,৬১৮ কদম

বিশ্বজুড়ে হাঁটার চিত্র

বিভিন্ন দেশের মানুষের হাঁটার গড়েও রয়েছে বড় পার্থক্য। ২০১৭ সালের একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে—

  • হংকং: তালিকায় শীর্ষে, এখানকার মানুষ গড়ে ৬,৮৮০ কদম হাঁটেন।
  • চীন: ৬,১৮৯ কদম
  • যুক্তরাজ্য: ৫,৪৪৪ কদম
  • ভারত: ৪,২৯৭ কদম
  • ইন্দোনেশিয়া: তালিকার নিচের দিকে, মাত্র ৩,৫১৩ কদম।

জলবায়ু, রাস্তার হাঁটার উপযোগিতা এবং আয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যার পরিবর্তন হতে পারে।

সুস্থ থাকতে লক্ষ্য কত হওয়া উচিত?

সাধারণত প্রতিদিন ১০,০০০ কদম হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করাকে আদর্শ মানা হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি (CDC)-র মতে, সুস্থ থাকতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা প্রয়োজন, যা দিনে গড়ে ২,০০০ কদমের মতো দ্রুত হাঁটার সমান। তবে সারাদিনের অন্যান্য কাজ মিলিয়ে ১০,০০০ কদমের লক্ষ্য পূরণ করা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।

প্রতিদিন হাঁটার পরিমাণ বাড়ানোর কিছু সহজ উপায়

  • ১. লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
  • ২. কেনাকাটা বা কাজের প্রয়োজনে গাড়ি একটু দূরে পার্ক করে বাকি পথ হাঁটুন।
  • ৩. বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে হাঁটুন।
  • ৪. ঘরের কাজ নিজে করার চেষ্টা করুন।
  • ৫. কাজের বিরতিতে ছোট ছোট হাঁটাহাঁটি করুন।

প্রতিদিনের এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অ্যাপেনডিসাইটিস কেন বিপজ্জনক, জানুন লক্ষণ ও চিকিৎসা

অ্যাপেনডিসাইটিস হলো একটি ছোট, আঙুলের মতো অঙ্গ। এটি দেখতে নলাকার থলির মতো, যা পেটের নিচের ডানদিকে অবস্থিত। অ্যাপেনডিক্স বৃহদন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং কোলনের ওপর দিয়ে বিস্তৃত থাকে।   অ্যাপেনডিসাইটিসকে মেডিকেল জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ অ্যাপেনডিক্স গুরুতরভাবে ফুলে গেলে রক্ত সরবরাহের অভাব হয়। ফলে প্রদাহ বেড়ে যায় এবং টিস্যু ক্ষয় হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি ফেটে গিয়ে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়তে পারে।     অ্যাপেনডিসাইটিসের লক্ষণ   নাভির চারপাশে ব্যথা শুরু হয়ে আস্তে আস্তে ডানদিকে সরে যায়।   নড়াচড়া করলে, কাশি দিলে বা শ্বাস নিলে ওই জায়গায় আরও বেশি ব্যথা করে।   বমি, বদহজম, জ্বর ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।   হঠাৎ করে ক্ষুধা হ্রাস পায়।     অ্যাপেনডিসাইটিসের পর্যায়গুলো কী কী    ১. প্রাথমিক অ্যাপেনডিসাইটিস: নাভির চারপাশে ব্যথা হওয়া।   ২. তীব্র অ্যাপেনডিসাইটিস: তীক্ষ্ণ ব্যথা তলপেটে স্থানান্তরিত হয়, সঙ্গে জ্বর বা বমি বমি ভাব হয়।   ৩. ফেটে যাওয়া অ্যাপেনডিসাইটিস: যদি অ্যাপেনডিক্স ফেটে যায় তাহলে গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।   অ্যাপেনডিসাইটিসের চিকিৎসা   অ্যাপেনডিসাইটিস গুরুতর পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই এর চিকিৎসা করা জরুরি। এর চিকিৎসা সাধারণত দুইভাবে হয়-   ১. খোলা অস্ত্রোপচার পদ্ধতি: রোগীকে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর পেট কেটে অ্যাপেনডিক্স বের করা হয়। যদি এটি ইতোমধ্যে ফেটে যায় তাহলে শুধু পুঁজ বের করা হয়।   ২. ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতি: ল্যাপারেস্কোপের সাহায্যে পেট না কেটে ছোট ছোট ছিদ্র করে অ্যান্ডোস্কোপি অপসারণ করা হয়।   অ্যাপেনডিসাইটিসের জন্য ঘরোয়া প্রতিকার   পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।   পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যেমে হাইড্রেট থাকুন।   প্রতিদিন হালকা ব্যয়াম করুন।   এটি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত ভারি বস্তু উত্তোলন এড়িয়ে চলুন।   অপারেশনের পর কাটা স্থান সব সময় পরিষ্কার রাখুন।     অ্যাপেনডিসাইটিস আপনার শরীরের একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ, যা ছাড়াও আপনি বাঁচতে পারবেন। তবে এই অঙ্গে সমস্যা হলে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে; না হলে মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত হতে পারে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনে ইডিসিএলকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি

ছবি: সংগৃহীত

টেস্টোস্টেরন: শরীরের নীরব শক্তি ও প্রাণশক্তির অদৃশ্য চালিকাশক্তি

ছবি: সংগৃহীত

হলুদ খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো কতটা সত্য

ছবি: সংগৃহীত
দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত চিকিৎসক আসাদকে দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি আহত চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার চিকিৎসায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।   চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও তাদের ওপর হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের বড় অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রতিটি উপজেলায় ১০ জন করে অস্ত্রধারী আনসার ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে পুলিশের টহল ও নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওই চিকিৎসকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার পরও মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া এবং খুদে বার্তার মাধ্যমে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।   চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট আইন বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার পেছনে চাঁদাবাজির বাইরে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   গত ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে চেম্বার শেষে রিকশায় ওঠার সময় অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলায় তার মাথা, চোখ ও নাকে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের কান পাকা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় করণীয় সম্পর্কে জানুন

ছবি: সংগৃহীত

চুল সুন্দর রাখতে ঘরোয়া যত্নের সহজ টোটকা

ড্রাগন ফল | ছবি: সংগৃহীত

ড্রাগন ফল কারা খেতে পারবেন না? জানালেন পুষ্টিবিদ

রান্নাঘরের দৈনন্দিন কাজে আমরা সাধারণত ট্যাপের পানিই বেশি ব্যবহার করে থাকি | ছবি: সংগৃহীত
রান্নায় ট্যাপের পানি ব্যবহার করছেন? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

রান্নাঘরের দৈনন্দিন কাজে আমরা সাধারণত ট্যাপের পানিই বেশি ব্যবহার করে থাকি। ডাল সেদ্ধ করা হোক কিংবা ভাতের চাল ধোয়া; ট্যাপের পানি ব্যবহার করাই যেন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই আপাতদৃষ্টিতে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানি কি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সত্যিই নিরাপদ? এনডিটিভি ফুড-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে সম্প্রতি উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।   অধিকাংশ মানুষ মনে করেন পানি ফুটিয়ে নিলেই তা সব ধরণের জীবাণু ও ক্ষতিকারক উপাদান থেকে মুক্ত হয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। পানীয় জলের ক্ষেত্রে আমরা যতটা সচেতন হয়ে ওয়াটার ফিল্টার ব্যবহার করি, রান্নার পানির ক্ষেত্রে সেই একই সচেতনতা কেন নেই—এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।   ফুটানো কি সব দূষণ দূর করে? একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, পানি ফুটিয়ে নিলেই তা শতভাগ নিরাপদ। এটি ঠিক যে উচ্চ তাপমাত্রায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবী ধ্বংস হয়। তবে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনুসারে, পানি ফুটালে কেবল জীবাণু মরে কিন্তু ভারী ধাতু (যেমন: সীসা, আর্সেনিক), ফ্লোরাইড, নাইট্রেট এবং শিল্প কারখানার রাসায়নিক পদার্থের মতো দ্রবীভূত উপাদানগুলো পানির মধ্যেই থেকে যায়।   ইউরেকা ফোর্বসের প্রধান পানি বিজ্ঞানী ড. অনিল কুমার বলেন, ‘এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা যে কেবল পানি ফুটালে তা নিরাপদ হয়ে যায়। তাপ জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর হলেও রাসায়নিক দূষক দূর করতে পারে না।’   ফুটানোর ফলে কি বিপদ বাড়ে? আরেকটি আশ্চর্যজনক তথ্য হলো, পানি বেশিক্ষণ ফুটালে উল্টো কিছু ক্ষতিকর উপাদানের ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে। ড. কুমারের মতে, পানি যখন ফুটতে থাকে তখন জলীয় বাষ্প হয়ে কিছু পানি উড়ে যায়, কিন্তু দ্রবীভূত রাসায়নিকগুলো হাড়িতেই থেকে যায়। ফলে অবশিষ্ট পানিতে এই ক্ষতিকর উপাদানের ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। এছাড়া মার্কিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ)-এর মতে, গরম পানি ঠান্ডা পানির তুলনায় দ্রুত সীসা দ্রবীভূত করতে পারে, যা ট্যাপের পানিতে সীসার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।   অদৃশ্য শত্রু: মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে পানীয় জলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কণাগুলো এতই ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না এবং এর কোনো স্বাদ বা গন্ধও নেই। ড. কুমার সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ রান্নায় ট্যাপের পানির ব্যবহার কি সাথে সাথেই আমাদের অসুস্থ করে ফেলে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি তেমন নয়। এর আসল ঝুঁকি লুকিয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে। দিনের পর দিন খাবারের মাধ্যমে শরীরে এই ক্ষুদ্র পরিমাণের দূষক উপাদানগুলো জমা হতে থাকে যা এক সময় বড় রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   ড. কুমারের ভাষায়, ‘রান্নার পানিকে কেবল একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে না দেখে একে পুষ্টির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ এটি শরীরের ভেতরে যাওয়ার পর আমাদের শরীরেরই অংশ হয়ে যায়।’   তাই সময় এসেছে আমাদের রান্নাঘরের এই পুরনো অভ্যাসটি পরিবর্তনের। পান করার পানির মতো রান্নার পানিও ফিল্টার করা বা পরিশোধিত হওয়া জরুরি, যাতে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

খাদ্যচক্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক: মানবদেহে কতটা বিপজ্জনক

ছবি : সংগৃহীত

নিমকাঠি দিয়ে দাঁত মাজলে মিলতে পারে যেসব উপকার

প্রতীকী ছবি

বর্ষার ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি দেবে যেসব উপকরণ

0 Comments