আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, বহু মানুষ নিখোঁজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৮, ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ায় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ায় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। দেশটির হালমাহেরা দ্বীপের মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ২০ পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

 

শুক্রবার (৮ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ডুকোনোতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সেন্টার ফর ভলকানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত আগুনের ছাই আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ভয়ংকর গর্জনের শব্দও শোনা গেছে।

 

স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি রয়টার্সকে জানান, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আটকে পড়া ২০ জন পর্বতারোহীকে খুঁজে বের করতে পুলিশসহ কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে নয়জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক রয়েছেন।

 

এএফপির বরাতে উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানিয়েছেন, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক। বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখার পর গত ১৭ এপ্রিল থেকেই এলাকাটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

 

কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মালুপাং ওয়ারিরাং ক্রেটার থেকে অন্তত ৪ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই ক্রেটারটিকেই আগ্নেয়গিরির প্রধান সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে।

 

আগুনের ছাই উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ায় সরকার পরিচালিত আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা তোবেলো শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, আগুনের ছাইয়ের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা পাথর এবং লাভার প্রবাহ থেকেও সরাসরি ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

 

মাউন্ট ডুকোনো বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেখানে প্রায় ২০০ বার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আটকে গেল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। ট্রাম্প এই তহবিলকে সরকারের ‘অস্ত্রায়ন’ বা রাজনৈতিক উদ্দেশে ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   শুক্রবার (২৯ মে) ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের বিচারক লিওনি ব্রিংকেমা এক আদেশে জানান, আদালতে আরও আইনি শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন এই তহবিল গঠন বা পরিচালনার বিষয়ে ‘আর কোনো পদক্ষেপ’ নিতে পারবে না।   রয়টার্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগ ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ নামে এই তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়। ট্রাম্পের কর নথি ফাঁসের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস)-এর বিরুদ্ধে করা মামলার সমঝোতার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   ১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটা কমিশন গঠনের কথা বলা হয়। কমিশনটি তাদের ক্ষতিপূরণ দেবে, যারা নিজেদের ‘ল-ফেয়ার’ এবং ‘ওয়েপনাইজেশন’-এর শিকার হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন।   ট্রাম্প ও তাঁর মিত্ররা তাঁদের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত ও ফৌজদারি মামলাগুলো বোঝাতে দীর্ঘদিন ধরেই এসব শব্দ ব্যবহার করে আসছেন।   এদিকে, ট্রাম্প-ভ্যান্স প্রশাসনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধী হিসেবে নিজেদের লক্ষ্যবস্তু দাবি করে একটা গোষ্ঠী আদালতে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, এই তহবিল থেকে তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন না।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল আরও ৬০ দিন

স্টারমারের পতন ব্লেয়ারের পথ অনুসরণ করে

সংগৃহীত ছবি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সহযোগী’ বলল ইরান

ইসরায়েল ও লাতিন আমেরিকার খ্রিস্টীয় সিয়নবাদীদের 'ইসাক চুক্তি' উদ্যোগ

আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর হাত মেলানো   আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই—যিনি নিজেকে 'বিশ্বের সবচেয়ে সিয়নবাদী প্রেসিডেন্ট' দাবি করেন—ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। ডেবি হিল/ইউপিআই ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল জেরুজালেমে পৌঁছান আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই—যিনি নিজেকে 'বিশ্বের সবচেয়ে সিয়নবাদী প্রেসিডেন্ট' দাবি করেন।   তাঁর 'প্রিয়তম বন্ধু' বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপনের পর, গাজায় চলমান গণহত্যা সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে একাধিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তিনি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ৭৫,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।   'ইসাক চুক্তি'—যা সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রতিশ্রুতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে—২০২৫ সালের আগস্ট থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় মিলেই ইসরায়েল ও বিভিন্ন লাতিন আমেরিকান দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে একটি অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।   জেনেসিস পুরস্কারের অর্থায়নে নিউইয়র্কভিত্তিক নিবন্ধিত অলাভজনক সংস্থা 'আমেরিকান ফ্রেন্ডস অব দ্য ইসাক অ্যাকর্ডস' (এফওআইএ) এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।   মাত্র দুই মাস পূর্বে মিলেই জেনেসিস পুরস্কারের প্রথম অমুসলিম প্রাপক হন, যা 'ইহুদি নোবেল' হিসেবে পরিচিত।   কোস্টারিকা, পানামা ও উরুগুয়ে—যেসব দেশ 'ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত'—প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে। এছাড়া ব্রাজিল, কলম্বিয়া, চিলি এবং সম্ভাব্যভাবে এল সালভাদরের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। 'ইসাক চুক্তি আব্রাহাম চুক্তির স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা,' বলেন স্টাফোর্ড ফিটজেরাল্ড হ্যানি—যিনি কোস্টারিকায় সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং বর্তমানে এফওআইএ-র প্রধান। 'একই চেতনা, নতুন অঞ্চল, ব্যাপক প্রভাব।'   বাইবেলীয় বর্ণনা এফওআইএ-র আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা করছে বহু খ্রিস্টীয় সিয়নবাদী ও সিয়নবাদী সংস্থা, যার মধ্যে রয়েছে 'প্যাসেজেস ইসরায়েল' (পূর্বতন ফিলোস প্রজেক্ট), 'ইসরায়েল অ্যালাইজ ফাউন্ডেশন' ও 'আইএলএএন ইসরায়েল ইনোভেশন নেটওয়ার্ক'। এই সব সংস্থার আমেরিকাজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে, যারা ইসরায়েলপন্থী পাদ্রি ও রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে নীতি ও জনমত প্রভাবিত করতে কাজ করে।   'ইসরায়েল অ্যালাইজ ফাউন্ডেশন' নেসেটের খ্রিস্টীয় অ্যালাইজ ককাসের (কেসিএসি) সঙ্গে সহযোগিতায় বিশ্বজুড়ে 'বাইবেলবিশ্বাসী খ্রিস্টানদের' সঙ্গে ইসরায়েলের মধ্যে 'বিশ্বাসভিত্তিক কূটনীতি' প্রচার করে। লাতিন আমেরিকার ১৪টি দেশে তাদের ককাস রয়েছে, যার মধ্যে আর্জেন্টিনা, কোস্টারিকা, পানামা ও উরুগুয়ে অন্তর্ভুক্ত।   কোস্টারিকার অধিবেশনে ফারব্রিসিও আলভারাদো মুনোজ—একজন ইভানজেলিক খ্রিস্টান ও দেশটির আইনসভার চরমপন্থী ডানপন্থী উপনেতা—ককাসের সভাপতিত্ব করেন। লাতিন আমেরিকায় রাজনৈতিক-ধর্মীয় অংশগ্রহণ বিশেষজ্ঞ মনিকা উলোয়া গোমেজ বলেন, তিনি 'নিজেকে সিয়নবাদী বলতে এড়িয়ে যান,' কিন্তু 'তাঁর বক্তৃতা বিশ্লেষণ করলে তাঁর রাজনৈতিক খ্রিস্টান হিসেবে কার্যক্রম ও সিয়নবাদের সরাসরি সম্পর্ক স্পষ্ট হয়।' তাঁর 'খ্রিস্টানদের রাজনীতিতে' গ্রন্থে 'ইহুদি পরিচয়, ভাববাদী সময় ও ঈশ্বরের রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠার উল্লেখ সর্বত্রই রয়েছে,' বলেন গোমেজ।   ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর তিনি কোস্টারিকার সংসদে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তৃতা দেন, যেখানে তিনি 'যারা বলি শিকারকে দোষারোপ করে, আক্রমণকারীকে ন্যায়সঙ্গত করে ও ইহুদি জাতির আত্মরক্ষার বৈধ অধিকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায়' তাদের নিন্দা করেন। এরপর তিনি বামপন্থী কর্মীদের দোষারোপ করেন ও গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের মিথ্যা বর্ণনা পুনরাবৃত্তি করেন।   এটি কেবল অলস বক্তৃতা নয়। 'রক্ষণশীল ইভানজেলিক সম্প্রদায় কৌশলগত রাজনৈতিক চ্যানেলে পরিণত হয়েছে,' বলেন চিলিভিত্তিক আর্জেন্টাইন ধর্মতত্ত্ববিদ নিকোলাস পানোত্তো। 'পশ্চিমা মূল্যবোধের প্রতিরক্ষা' ও 'গণতন্ত্র' বুঝিয়ে 'অন্যদের বিরুদ্ধে সীমানা আঁকা'—এই কাঠামোর মধ্যেই 'ইসাক চুক্তি' গঠিত। 'লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারবিরোধী লড়াই শুধু একটি বাস্তব সমস্যার প্রতি ইঙ্গিত নয়, বরং সমালোচনামূলক ও বামপন্থী কণ্ঠস্বর দমনের অজুহাতও বটে,' বলেন পানোত্তো।   কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'মাদক উৎপাদক' তকমা এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে 'মাদক-সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে বিচারের উদ্যোগ এই প্রমাণ সরবরাহ করে।   'পশ্চিমা মূল্যবোধের প্রতিরক্ষা'র বর্ণনার মাধ্যমে ইসাক চুক্তি ধর্মীয় বন্ধনের ভিত্তিতে সমন্বিত কৌশলগত পদক্ষেপ প্রচার করে। এতে ইসরায়েলি, আর্জেন্টাইন ও 'পশ্চিম গোলার্ধের অন্যান্য একই ধরনের অংশীদার' অন্তর্ভুক্ত।   এমনকি 'ইসাক' উল্লেখও একটি নির্মিত কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত, যেখানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার তথাকথিত 'দ্বন্দ্ব' আব্রাহামের পুত্র ইসাক ও ইসমাইলের চিরস্থায়ী বিরোধ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।   গণহত্যামূলক কূটনীতি আর্জেন্টিনাভিত্তিক ইহুদি বিরোধী সিয়নবাদী সংগঠন 'জুদিয়স এক্স প্যালেস্তিনা'-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইভান জেতা বলেন, ইসাক চুক্তি মূলত 'ট্রাম্পকে অনুকরণের' বড়াই এবং 'মিলেইকে লাতিন আমেরিকায় নতুন চরমপন্থী সিয়নবাদী পুনর্গ্রুপণের প্রধান হিসেবে উপস্থাপনের উপায়।'   'আমি ইসাক চুক্তিকে সম্পূর্ণ নতুনত্ব হিসেবে দেখি না,' বলেন তিনি। 'রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার উপায় হিসেবেই আমি এটিকে দেখি... আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একাত্মতা প্রকাশ করেছে,' বলেন তিনি, আর্জেন্টিনায় ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি মেকোরটের উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে—যা দখলকৃত ফিলিস্তিনে প্রাকৃতিক সম্পদ অবৈধভাবে লুণ্ঠনের জন্য দায়ী।   একইভাবে কোস্টারিকা, পানামা ও উরুগুয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর ইসরায়েলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যদিও এরা অঞ্চলের সবচেয়ে প্রকাশ্য ইসরায়েলপন্থী দেশ নয়। হন্ডুরাস, ইকুয়েডর ও বলিভিয়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও উৎসাহী সমর্থন দেখিয়েছে—আনুষ্ঠানিক সফর থেকে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও পূর্বে ছিন্ন সম্পর্ক পুনর্নবীকরণ পর্যন্ত।   এফওআইএ-র মতে, এই সব দেশ 'জলপ্রযুক্তি, কৃষি, সাইবার প্রতিরক্ষা, ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা ও শক্তিতে ইসরায়েলি দক্ষতা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হতে পারে।' এবং ভিত্তি ইতোমধ্যেই তৈরি।   মন্টেভিডিওতে একটি সাম্প্রতিক সম্মেলনে ১৫টি লাতিন আমেরিকান দেশের কর্মকর্তারা—যার মধ্যে উরুগুয়ে, পানামা ও কোস্টারিকা অন্তর্ভুক্ত—একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। কথিত ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী লড়াইয়ের পরিবর্তে তারা ইসরায়েলের প্রতি 'দৃঢ় সংহতি' ঘোষণা করেন এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের মধ্যে 'কূটনীতি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি ও পর্যটন' সহ 'প্রতিটি প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক' জোরদারের আহ্বান জানান।   পানামা ২০১৮ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করে, যা পিস্তল, রিভলভার ও মুজল-লোডিং অস্ত্রের রপ্তানি শুল্ক হ্রাস অন্তর্ভুক্ত করেছিল। চুক্তি ২০২০ সালে কার্যকর হয় এবং ২০২১ সালে ইসরায়েলি দূতাবাস আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণে পানামীয় পুলিশ কাফিয়াপরা ফিলিস্তিনির ছবিতে গুলি চালাতে দেখা যায়—এই ঘটনায় তাদের বন্ধন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর কোস্টারিকা ইসরায়েলের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর করে 'দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার পর,' যা সাইবার নিরাপত্তা ও কৃষিপ্রযুক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ সুগম করবে।   কোস্টারিকার বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী ম্যানুয়েল তোভার রিভেরা একে 'ঐতিহাসিক মাইলফলক' বলে অভিহিত করেন এবং লাতিন আমেরিকায় 'উদ্ভাবনের কেন্দ্র' হিসেবে কোস্টারিকার অবস্থান জোরদারের পথে আরেক ধাপ বলে বর্ণনা করেন।   'কোস্টারিকা চিরজীবী হোক! ইসরায়েলের জাতি চিরজীবী হোক!' তিনি উল্লাস প্রকাশ করেন।   তবে 'বিভিন্ন সামাজিক খাত মনে করে এই এফটিএ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের বাইরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দ্বার উন্মুক্ত করবে, যা কোস্টারিকার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভাবমূর্তি নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে,' বলেন গোমেজ।   অবিভক্ত রাজধানী মিলেইর সিয়নবাদী উৎসাহের আরেকটি মূল ভিত্তি হলো তেল আবিব থেকে আর্জেন্টিনীয় দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি—'যে পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হবে সেই মুহূর্তেই।' এই পদক্ষেপ আর্জেন্টিনাকে পারাগুয়ে, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের সঙ্গে একত্রিত করবে—যারা ২০১৮ সালে মার্কিন পদক্ষেপ অনুসরণ করে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করেছিল।   কিন্তু শুধু আর্জেন্টিনাই নয়। কোস্টারিকা, যা ২০০৬ সালে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে স্থানান্তর করেছিল, সম্প্রতি জেরুজালেমে কূটনৈতিক মর্যাদাসহ একটি বাণিজ্য ও উদ্ভাবন কার্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছে।   এটি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অস্কার আরিয়াসের ২০০৬ সালের সিদ্ধান্ত থেকে একটি বড় পশ্চাদপসরণ হবে, যিনি তা 'ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন' বলেছিলেন।   'জেরুজালেমে কূটনৈতিক কার্যালয় খোলা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, মৌলবাদী, গণহত্যাকারী রাজতন্ত্রের প্রতি প্রতীকী বৈধতা প্রদান হবে, যা ১৯৪০-এর দশক থেকে কোস্টারিকার কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যাহত করছে,' বলেন গোমেজ।   ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো—যিনি একজন উৎসাহী ইভানজেলিক ও কলঙ্কিত সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পুত্র—অক্টোবরের নির্বাচনে জয়ী হলে ব্রাজিলের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি ব্রাজিলকে ইসাক চুক্তিতে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, যা 'ঐতিহাসিক অগ্রগতি' বলে বর্ণনা করেছেন।   পানামা ও উরুগুয়ে এখনো এমন প্রতিশ্রুতি দেয়নি, অন্তত এখনো নয়। কিন্তু হন্ডুরাস থেকে বলিভিয়া পর্যন্ত ডানপন্থী প্রশাসনের নতুন ঢেউ ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন পুনর্নবীকরণের মধ্য দিয়ে, এবং ব্রাজিল ও কলম্বিয়ায় আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের প্রতি আঞ্চলিক সংহতি গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে।   নেতানিয়াহুর কাছের সঙ্গী, ক্রমশাগার-ধারী মিলেই অবশ্যই ইসরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

‘এলিয়েন’ ওয়েবসাইট চালু করল হোয়াইট হাউস

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চূড়ান্ত, এখন ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা

ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিচ্ছে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিল জাপান

জাপান ভারত থেকে আম আমদানি স্থগিত করেছে। এর কারণ চলতি বছরের শুরুতে জাপানের কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা ভারতের আম প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলোতে পোকা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন।   এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রীষ্মকালীন আমের মৌসুমে রফতানি ব্যাহত হয়েছে। আলফনসো, কেসর, ল্যাংড়া ও বাঙ্গানাপল্লীর মতো ভারতের উন্নতমানের আমগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।     ২০ বছর পর প্রথম নিষেধাজ্ঞা প্রায় ২০ বছর পর এটাই জাপানের প্রথম এমন নিষেধাজ্ঞা। এর আগে ফলের মাছি নিয়ে উদ্বেগের কারণে জাপান ভারতীয় আম নিষিদ্ধ করেছিল। ২০০৬ সালে ভারত চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এখন জাপান আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ভারত থেকে পাঠানো আম তাদের কঠোর উদ্ভিদ স্বাস্থ্য মান পূরণ করছে কি না।   জাপান ফলের মাছির মতো আক্রমণাত্মক পোকার ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ তথা ‘শূন্য সহনশীলতা নীতি’ অনুসরণ করে। এই পোকাগুলোকে তাদের দেশের কৃষির জন্য বড় হুমকি মনে করা হয়।     জাপানি পরিদর্শকরা কী পেয়েছেন   প্রতি আম রফতানি মৌসুমের আগে জাপান কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তাদের ভারতে পাঠায় ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট বা ভিএইচটি আম প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে। রফতানির আগে এসব কেন্দ্রে আমকে জীবাণুমুক্ত করা হয়।   ভিএইচটি হলো একটি রাসায়নিকবিহীন প্রক্রিয়া। এতে আমকে নিয়ন্ত্রিত গরম ও আর্দ্র বাতাসে রাখা হয় যাতে পোকা ও ফলের মাছির লার্ভা মরে যায়। দুই দেশের চুক্তি অনুসারে এই চিকিৎসা বাধ্যতামূলক।   চলতি বছর মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশের রহমানপুরের ভিএইচটি কেন্দ্রে পরিদর্শন হয়। খবর অনুসারে, জাপানি কর্মকর্তারা সেখানে ফিউমিগেশন ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি পেয়েছেন।  ভারতীয় ও জাপানি কর্তৃপক্ষ কোনো বিস্তারিত ত্রুটির কথা এখনও প্রকাশ্যে জানায়নি।   পরিদর্শনের পর জাপানের ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২৫ মার্চ ২০২৬-এর পর যেসব সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, সেসব আম আর গ্রহণ করা হবে না।     রফতানিকারকদের জন্য বড় ধাক্কা   জাপান ভারতের সবচেয়ে বড় আমের বাজার নয়। তবে রফতানিকারকরা বলছেন, সেখানে ভারতীয় আম অনেক বেশি দামে বিক্রি হয় বলে এই স্থগিতাদেশ বড় ধাক্কা।   ভারত প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন করে, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বেশিরভাগ আম দেশের ভেতরেই খাওয়া হয়। কিন্তু জাপানের মতো উন্নত বাজারে রফতানি করলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি লাভ করেন।   রফতানিকারকরা এখন আশঙ্কা করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের কৃষি মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং অন্য দেশগুলোও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারে।     চাষিদের ওপর নতুন চাপ   এই সময়ে নিষেধাজ্ঞা আসায় মহারাষ্ট্রের আলফানসো অঞ্চলের চাষিদের সমস্যা আরও বেড়েছে।   রাজ্যের চাষিরা এ বছর তীব্র গরম ও অনিয়মিত আবহাওয়ার (এল নিনো) কারণে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সরকারি জরিপ অনুসারে কোনো কোনো এলাকায় উৎপাদন ৮৫-৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।   উৎপাদন ইতিমধ্যেই অনেক কমে গেছে। এর ওপর জাপানের নিষেধাজ্ঞা আমের বাণিজ্য মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আয় কমিয়ে দেবে বলে রফতানিকারকরা জানিয়েছেন। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পদত্যাগ করলেন সিদ্দারামাইয়া, কর্নাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে?

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি খুব কাছাকাছি, তবু চূড়ান্ত হয়নি: ভ্যান্স

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

0 Comments