অর্থনীতি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কতটা চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচির (ঋণ কর্মসূচি) অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা সামলে নিতে ধুঁকতে থাকার মধ্যে ঢাকার পক্ষ থেকে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

বাংলাদেশ সরকার আইএমএফের কাছে ঠিক কী ধরনের সহায়তা চেয়েছে, সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের অতীতের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা কেমন এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী অভিঘাত তৈরি করেছে, তার ওপর আলোকপাত করা হলো।

 

বাংলাদেশের চাওয়া কী

বাংলাদেশে আইএমএফের মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনার গত মঙ্গলবার জানান, বাংলাদেশ সরকার আইএমএফের নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচির অনুরোধ জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ক্রজনার বলেন, আইএমএফের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সংস্কারের সূচি ও নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন।
ক্রজনার বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলে নেওয়ার সক্ষমতা জোরদার করা এবং শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে আইএমএফ।

নতুন এ সহায়তা (ঋণ সহায়তা) প্যাকেজের আকার বা শর্তগুলো সম্পর্কে কোনো পক্ষই এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। অবশ্য গত মার্চে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট জ্বালানিসংকট কাটাতে তারা বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ২০০ কোটি ডলারের ঋণ খুঁজছে।

 

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কতটা

জ্বালানিসংকট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। বাদ যায়নি জ্বালানি স্থাপনাও। এ যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট দেখা দেয়। বিশ্ববাজারে দ্রুত বাড়তে থাকে জ্বালানি তেলের দাম। গত ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে স্থায়ী শান্তিচুক্তি এখনো অধরা রয়ে গেছে।

এর ওপর বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের শুরুর দিকে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এসব জ্বালানির বড় অংশের গন্তব্য ছিল এশিয়ার দেশগুলো। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তেহরানের হাতে।

এ প্রণালি ঘিরে দীর্ঘদিনের অবরোধ জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। যুদ্ধের আগে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৬ ডলারের আশপাশে। পরে সেটা বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদার ৯৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার কারণে জ্বালানির প্রয়োজনও অনেকাংশে বেড়ে যায়। এ আমদানির বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বেশির ভাগ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।

তৈরি পোশাক খাত: বাংলাদেশে ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ নেই। প্রভাব পড়েছে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের ওপরও। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি এ খাত থেকে আসে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কারখানাগুলো চীন থেকে বেশির ভাগ কাঁচামাল আনে। সচরাচর এসব পণ্য লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্য হয়ে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আমদানির খরচ বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ডেনিমের পরিচালক সাঈদ আহমেদ চৌধুরী ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, আগামী মৌসুমে ক্রয়াদেশ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চে কিছু বিমান পরিবহন সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করেছিল। এর ফলে বিশ্বখ্যাত পোশাকের ব্র্যান্ড জারা-এর মালিক প্রতিষ্ঠান ইনডিটেক্স এবং আরও বেশ কিছু বড় ব্র্যান্ডের পোশাকের চালান বাংলাদেশ ও ভারতের বিমানবন্দরে আটকা পড়ে।
কাঁচামালের বাড়তি দাম: পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশের অন্যান্য শিল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্লাস্টিক পণ্যের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের কারণে প্লাস্টিকের প্রধানতম কাঁচামাল রেজিনের দাম বেড়েছে।
ইংরেজি ভাষার দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে প্রতি টন রেজিনের দাম ছিল ৯০০ থেকে ৯৫০ ডলার। এখন তা দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে সরকারকে অনেক ঋণ নিতে হয়েছে। আইএমএফের মতে, এর ফলে বিদেশি ঋণের চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
লন্ডনভিত্তিক মার্কেট ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান আইএসআই-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারে। আগের প্রান্তিকেও তা ছিল ১১ হাজার ২২০ কোটি ডলার।

২০২৪ সালেও বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বাংলাদেশকে বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তখন ঋণের পরিমাণ ছিল মোট জাতীয় আয়ের প্রায় ২২ শতাংশ। তবে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় এই পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস কী?

 

বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের ৫৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচির মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চার বছর চলার কথা ছিল।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে একটি ভার্চ্যুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক। গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই পক্ষ দ্রুত নতুন একটি কর্মসূচি চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গত সপ্তাহে বাংলাদেশকে ৩৫ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ার ধকল সামলানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

 

যুদ্ধের কারণে ঋণসংকট কি আরও গুরুতর হচ্ছে?

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্য ইউরোপের অনেক দেশ ব্যাপকভাবে বৈদেশিক ঋণের চাপে ধুঁকছিল। করোনা মহামারি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ, খাদ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং বৈশ্বিক সুদহার বৃদ্ধির কারণে এ সংকটে পড়েছিল দেশগুলো।

উদাহরণ হিসেবে শ্রীলঙ্কার কথা বলা যায়। ঋণসংকট ও দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনার জেরে ২০২২ সালে দেশটির অর্থনীতি ধসে পড়ে। ২০২৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা পায় শ্রীলঙ্কা। চীন, ভারত আর জাপানের মতো পাওনাদার দেশগুলোর সঙ্গেও ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে চুক্তি করে দেশটি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল মোট জাতীয় আয়ের প্রায় ৫৯ শতাংশ।

গত এপ্রিলে আইএমএফ সতর্ক করে দিয়ে জানায়, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেওয়া ঋণ বেড়ে বিশ্ব জিডিপির প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছায় এবং ২০২৯ সালের মধ্যে তা ১০০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ঋণের এমন ভয়াবহ বোঝা আর দেখা যায়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১%

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের শেষে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার সমান। ২০২৪ সালে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ।   বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালের পর ২০২৫ সালেই বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটিই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ জমা।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে থাকা সব অর্থই যে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকও বৈধভাবে সেখানে অর্থ জমা রাখতে পারে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় হিসাব খুলে অর্থ জমা রাখেন।   তবে জমার পরিমাণ হঠাৎ এতটা বেড়ে যাওয়ায় অর্থ পাচার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম মনে করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থ পাচার কমবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সুইস ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি।   তিনি বলেন, শুধু সুইস ব্যাংক নয়, বিশ্বের আরও বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার হয়ে থাকে। তাই অর্থ পাচার বন্ধের পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও জোরদার করতে হবে।   ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের বাইরে চলে যাওয়া কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া আগের বছরগুলোতে দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তার একটি অংশও বিভিন্ন উপায়ে সুইস ব্যাংকে জমা হতে পারে।   একসময় সুইস ব্যাংককে গোপনে অর্থ রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তির কারণে এখন পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। বর্তমানে প্রয়োজন হলে সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারকে ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে থাকে।   তারপরও অর্থ পাচার ঠেকানো এবং বিদেশে থাকা অবৈধ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাহাজের লিজ ভাড়া পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো মালিকানা ফেরাতে ইতিবাচক বিএবি চেয়ারম্যান

সিটি গ্রুপকে রক্ষা: ২৬,৬০০ কোটি টাকা ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ ৩৬ ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে নতুন নির্দেশনা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালার আলোকে একটি সার্কুলারের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরাসরি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে তারা দেশে বা বিদেশে কোনো জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তবে ব্যক্তিগত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকবে।   এ ছাড়া ব্যাংকের কোনো কর্মী রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার বা রাজনৈতিক বিতর্ক ও দলীয় কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন না, যা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতাকে ব্যাহত করতে পারে।   নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কর্মীরা জনসমক্ষে কোনো রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করতে পারবেন না এবং কর্মস্থলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময়সূচি ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। অফিসে প্রবেশ ও বের হওয়ার তথ্য রেজিস্টারে নথিভুক্ত করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।   ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   শাখা ব্যবস্থাপক ও বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন দ্রুত সব কর্মীকে এ নির্দেশনা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তা মানবসম্পদ বিভাগে জানান।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে নতুন মডেলের আহ্বান তিতুমীরের

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থী ব্যাংক হিসাব বাড়ছে দ্রুত: শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক, দ্বিতীয় ডাচ্–বাংলা ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংককে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত
বেসরকারির চেয়ে সরকারি ব্যাংকে আমানত বাড়ছে বেশি, কারণ কী?

একসময় আধুনিক ব্যাংকিং সেবা ও সুদের হার বেশি হওয়ার কারণে বেসরকারি ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীদের আগ্রহ ছিল বেশি। এখন সেই আমানতকারীদের একটি বড় অংশ আবার সরকারি ব্যাংকে ফিরতে শুরু করেছেন। এর ফলে আমানত প্রবৃদ্ধিতে বেসরকারি ব্যাংককে ছাড়িয়ে গেছে সরকারি ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত এক বছরে বেসরকারি খাতের ব্যাংকের চেয়ে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে আমানতে প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। তবে টাকার অঙ্কে আমানতের বেশির ভাগই এখনো বেসরকারি ব্যাংকের দখলে রয়েছে।   খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের বেসরকারি খাতে এক ডজনের বেশি ব্যাংকের দুরবস্থা এবং অনেক ব্যাংক থেকে আমানত ফেরত না পাওয়ায় বেসরকারি ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীদের আস্থায় চিড় ধরেছে। আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে অনেকে এখন সরকারি ব্যাংকে ঝুঁকছেন। এর প্রভাবই পড়েছে এই খাতের ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধিতে।   গত বছরের জানুয়ারি–মার্চের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সোয়া ১৩ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানতে প্রবৃদ্ধি হয় সাড়ে ১২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত ব্যাংকভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫ কোটি টাকায়। গত বছরের একই প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। পুরো ব্যাংক খাতে এক বছরে আমানত প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১২ দশমিক ১৯ শতাংশ। ব্যাংক খাতে গড়ে আমানতের সুদহার ৬–৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। প্রকৃত আমানত বৃদ্ধির হার অবশ্য আরও কম।   আমানতসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চের তুলনায় চলতি বছরের মার্চের শেষে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের (শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকসহ) আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ১২ দশমিক ৫১ শতাংশ। গত মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯১ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। একই সময়ে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানত ৬০ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা বেড়ে ৫ লাখ ১৬ হাজার ১১৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তাদের আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ২০ তাংশ।   রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। উদাহরণ হিসেবে সোনালী ব্যাংকের কথাই ধরা যাক। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ২০ কোটি টাকা। গত বছর শেষে তা ১৪ হাজার ৬০১ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬২১ কোটি টাকায়। এক বছরে ব্যাংকটির আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ শতাংশ।   আমানতে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়েও এগিয়ে আছে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক—এই তিন বিশেষায়িত ব্যাংকে গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছরের মার্চে আমানত বেড়েছে ৭ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত মার্চ শেষে বিশেষায়িত ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা।   ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এক বছর ধরে বেসরকারি বেশ কিছু ব্যাংক থেকে আমানত ফেরত পাচ্ছেন না আমানতকারীরা। আবার বেসরকারি খাতের শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামে একটি ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে ওই পাঁচ ব্যাংকের প্রতিও আমানতকারীদের আগ্রহ বা আস্থার সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় তাঁরা সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। যার প্রভাব এসব ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধিতে পড়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের যেসব ব্যাংক ভালো অবস্থায় রয়েছে সেগুলোতেও আমানত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে বেসরকারি খাতের ব্যাংকের বড় একটি অংশের প্রতি আমানতকারীদের আস্থার সংকটের কারণে সার্বিকভাবে এই খাতে আমানত প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।   জানতে চাইলে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন বলেন, বেসরকারি খাতের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে আমানতের প্রবৃদ্ধি শূন্যের কোটায় নেমে গেছে। এ ছাড়া প্রচলিত ধারার কিছু বেসরকারি ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এর বিপরীতে ভালো মানের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের আমানত অনেক বেড়েছে। তারপরও বেশিসংখ্যক বেসরকারি ব্যাংকের আমানত কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে এই খাতের আমানতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। পাশাপাশি এ কথাও সত্য, সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে সরকারি কিছু ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীদের আস্থা বেড়েছে। ফলে সরকারি ব্যাংকের আমানতে বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের মধ্যে ৬৯ শতাংশই রয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর দখলে। আর ব্যাংক খাতের মোট আমানতের প্রায় ২৪ শতাংশ এখন রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের হাতে। সরকারি মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে মোট আমানতের প্রায় ৩ শতাংশ। এ ছাড়া মোট আমানতের ৪ দশমিক ১২ শতাংশ আছে বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকের হাতে।   ব্যাংক খাতে গত এক বছরে আমানত যতটা বেড়েছে তার মধ্যে শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে আমানতের প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। গত বছরের মার্চের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ শেষে গ্রামাঞ্চলে ব্যাংক আমানত বেড়েছে ৪২ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা, এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আর শহরাঞ্চলে উল্লিখিত সময়ে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৪১ কোটি টাকা, এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।   গত মার্চের শেষে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের মধ্যে শহরাঞ্চলের আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখ ১৪ হাজার ১৯৮ কোটি টাকায়, যা মোট আমানতের ৮৪ শতাংশ। আর গ্রামাঞ্চলের আমানতের পরিমাণ ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট আমানতের প্রায় ১৬ শতাংশ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক সংস্কারে ৭ দাবিতে গভর্নরের সমর্থন

শেয়ারবাজারে লেনদেনের সময় দশ মিনিট বাড়লো

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ৭ দফা দাবিতে গভর্নরের ইতিবাচক সাড়া: সচেতন গ্রাহক ফোরাম

0 Comments