সারাদেশ

সরকারি দর কাগজে, বাজারে ধস: কোরবানির চামড়ায় বঞ্চিত গরিব-এতিমরা

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৯, ২০২৬

সরকার কাগজে-কলমে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তব বাজারে তার প্রতিফলন ঘটেনি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানির দামে বিক্রি হয়েছে কাঁচা চামড়া। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এতিমখানা, মাদ্রাসা ও গরিব মানুষ। কারণ প্রতি বছর কোরবানির চামড়ার টাকাই হয়ে ওঠে বহু এতিম শিক্ষার্থীর খাবার, শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অন্যতম ভরসা। কিন্তু এবার কম দামে চামড়া বিক্রি হওয়ায় সেই অর্থও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের লোকসানের পাশাপাশি বঞ্চিত হয়েছেন গরিব ও এতিমরাও।

 

ঈদুল আজহা এলেই কোরবানির পশুর চামড়া ঘিরে নতুন আশায় বুক বাঁধেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা ও এতিমখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। বছরের এই একটি সময়েই কিছু বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয় তাদের জন্য। কিন্তু এবারও সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে। সরকার মূল্য নির্ধারণ করলেও বাজারে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি।

 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কমে বিক্রি হয়েছে কাঁচা চামড়া। ফলে চামড়া সংগ্রহ করে বড় আড়ত ও ট্যানারিতে বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

 

একই সঙ্গে প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে হতাশ মাদ্রাসা ও এতিমখানার কর্তৃপক্ষও। কোথাও কোথাও কম দামে বিক্রি করতে না পেরে কাঁচা চামড়া ফেলে দিতেও দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ডাস্টবিন ও নর্দমায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া।

 

কোরবানির পশুর চামড়া শুধু একটি পণ্যের নাম নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরে গরিব, এতিম ও মাদ্রাসাভিত্তিক সামাজিক সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রতি বছর কোরবানিদাতাদের বড় একটি অংশ পশুর চামড়া মাদ্রাসা, এতিমখানা কিংবা অসচ্ছল মানুষের কল্যাণে দান করেন। সেই চামড়া বিক্রির টাকায় বছরের বিভিন্ন সময় এতিমদের খাবার, শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার খরচের একটি অংশ জোগাড় হয়। ফলে চামড়ার দাম যত কমে, সরাসরি ততটাই কমে যায় গরিব ও এতিমদের প্রাপ্য অর্থ। বাজারে চামড়ার দরপতন মানে শুধু একটি শিল্পখাতের সংকট নয়, এর প্রভাব গিয়ে পড়ে সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষের ওপর।

 

এদিকে কোরবানির সময় কাঁচা চামড়ার দাম ঠিক রাখতে এবারও সরকার দাম নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু নির্ধারিত দামের প্রতিফলন বাজারে দেখা যায়নি। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলো।

 

অনেক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশার তুলনায় অর্ধেকেরও কম অর্থ পেয়েছে, কোথাও কোথাও চামড়া বিক্রি করতেই পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

 

রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা হাসানুর রহমান বলেন, কেউ কিনতে আসেনি, আমরা চামড়া মাদ্রাসায় দিয়ে দিয়েছি। আমার মামার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার গরুর চামড়াও গতকাল রাত পর্যন্ত কেউ নেয়নি। পরে সেটাও মাদ্রাসায় দেওয়া হয়েছে। আর পুরান ঢাকায় আমার ভাই ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকার গরুর চামড়া মাত্র ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছে।

 

সরকার এবার ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করে দেয়, যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি। কিন্তু বাস্তবে সেই দাম কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। শুধু তাই নয়, গত বছরের চেয়েও এবার কম দামে বিক্রি হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া।

 

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে গত বছরের তুলনায় প্রতি পিস গরুর চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া এবারও ছাগলের চামড়া কিনতে তেমন আগ্রহ দেখাননি ব্যবসায়ীরা।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচা চামড়ার বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে ট্যানারি মালিক ও বড় আড়তদারদের একটি শক্তিশালী চক্র। মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাধ্য হয়েই কম দামে চামড়া কিনছেন এবং পরে আরও কম দামে বিক্রি করছেন।

 

রাজধানীর মুগদা এলাকার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, দাম কম পাওয়া যায় এই জন্য এবার কম দামে চামড়া কিনেছি। তারপরেও দাম পাইনি। ছোট গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়, মাঝারি ৩০০ থেকে ৫০০ আর বড় গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় কিনেছি। কিন্তু বিক্রি করেছি গড়ে ৪৫০ টাকায়। কম দামে কিনেও লোকসান করেছি।

 

তিনি বলেন, অনেকে কালকে ফোন দিয়েছিল চামড়া নেওয়ার জন্য। দাম না পাওয়ায় তাদের চামড়াও আনিনি। এনে লোকসান করার কোনো মানে আছে?

 

চামড়ার বাজার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুরোনো ব্যবসায়ী আবুল হাসান। তিনি বলেন, ২৫-৩০ বছর আগে একটা চামড়া বিক্রি করেছি ২৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। ওই সাইজের গরুর চামড়া এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ৪০০ টাকার চামড়া কিনে শ্রমিকের খরচও ওঠে না। এই ব্যবসা করবে কে? এই খাত ধ্বংস করা হচ্ছে।

 

পাশেই থাকা আরেক মৌসুমি ব্যবসায়ী প্রশ্ন তুলে বলেন, চামড়ার জুতার দাম কি কমেছে? কমেনি। তাহলে গরুর চামড়ার দাম এত কম কেন? এখানে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে, অথবা এই শিল্পটা ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে।

 

কম দামের প্রভাব পড়েছে মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোতেও। রাজধানীর জামিয়া কোরআনিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক হাফেজ ফয়জুল্লাহ বলেন, এতিমখানার জন্য ২০ জন মাদ্রাসার ছাত্র বিভিন্ন এলাকায় বাসায় ঘুরে ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করেছে। প্রায় ৮০টি চামড়া সংগ্রহ হয়েছিল। বিক্রি করেছি মাত্র ৩২ হাজার টাকায়। পুরো দিনের কষ্টটাই বৃথা গেছে। তাই আজ আর চামড়া আনতে যাইনি।

রাজধানীর লালবাগ পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার আগে যারা চামড়া নিয়ে এসেছেন তাদের কাছ থেকে গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় চামড়া কেনা হয়েছে। তবে রাতে চামড়ার মান নষ্ট হতে শুরু করায় দামও অর্ধেকে নেমে আসে। ফলে পরে যারা চামড়া নিয়ে এসেছেন, তাদের কাছ থেকে মান অনুযায়ী কম দামে কিনতে হয়েছে।

 

যদিও ট্যানারি মালিকরা বলছেন, বাজারে খুব বেশি সমস্যা হয়নি। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত যতটুকু চামড়া সংগ্রহ হয়েছে, তাতে আমরা মনে করি গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। গতকাল পর্যন্ত ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় চামড়া কেনা হয়েছে। এর সঙ্গে লবণ ও আড়তের খরচ যোগ করলে সরকার নির্ধারিত দামের মধ্যেই পড়ে।

 

তবে মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরছে। তাদের দাবি, সরকার প্রতিবছর দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তব বাজারে সেই দামের কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন নেই। ফলে কোরবানির চামড়া ঘিরে যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা বরাবরের মতোই চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। আর এর সবচেয়ে বড় খেসারত দিতে হচ্ছে গরিব, এতিম ও ছোট ব্যবসায়ীদের।

Tags

eid waste
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চিড়িয়াখানা ছেড়ে সাভারে যাচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষিত বিরল প্রজাতির সাদা মহিষটিকে সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত ঈদুল আজহায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে পরিচিতি পাওয়া অ্যালবিনো মহিষটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।   সোমবার (২২ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক জানান, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে চিড়িয়াখানায় থাকা সাদা মহিষটি সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পুরো স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা মহিষটি বিরল সাদা বর্ণের হওয়ায় দ্রুতই মানুষের নজর কাড়ে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণিটির নাম দেওয়া হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে কোরবানি না দিয়ে প্রাণিটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়। বিরল অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্যের কারণে সাদা মহিষটি জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাণীতে পরিণত হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গবেষণার জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ফলে প্রাণিটির জিনগত বৈশিষ্ট্য ও সংরক্ষণ নিয়ে আরও কার্যকর কাজ করা সম্ভব হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন স্থানে

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে এপেক্স হোল্ডিংসের ৪ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

২৫-৩০ জুন রাতে কর্ণফুলী টানেলে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা

ছবি: হাসানুল হক ইনু (সংগৃহীত)
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা মামলা: হাসানুল হক ইনুর রায় ৩০ জুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় জানা যাবে ৩০ জুন। সোমবার (২২ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ঠিক করে দেন। চব্বিশের অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় সাতজনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ১৪ মে ইনুর বিরুদ্ধে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। পরে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনু। বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

মারিয়া রহমান জুন ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রামে ৬ ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ

ছবি : সংগৃহীত

২৭ বছর পর রায়: তার ও টেলিফোন বোর্ডের ৩ কর্মকর্তার ৪৪ বছরের কারাদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত

ইলিয়াস আলী ‘গুম’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য, ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি

ছবি: সংগৃহীত
১৯ দিনেও খাবার ছোঁয়নি মাজারের দিঘির সেই কুমির

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে আনা সেই কুমির এখনো খাবার মুখে তোলেনি। খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনার পর কেটে গেছে ১৯ দিন। মাছ, মুরগি কিছুই খাচ্ছে না প্রায় ৪৫ বছর বয়সী মাদি কুমিরটি। এমনকি সহজ শিকারের জন্য জীবন্ত হাঁস বেঁধে রাখা হলেও সেটিও খায়নি। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরীসৃপ প্রাণী দীর্ঘ সময় না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে। কুমিরটির শারীরিক অবস্থার আপাতত উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। ১ জুন বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায় কুমিরটি। ওই ঘটনায় শিশুটির মৃত্যুর পর জননিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। পরদিন রাতে প্রাণীটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ৩ জুন প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগ দিঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এর পর থেকে সেটি বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আছে। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনা কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল বলেন, বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের অনুরোধেই কুমিরটিকে উদ্ধার করে আনা হয়েছিল। ৩ জুন সকালে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুপুরের মধ্যে কুমিরটিকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। আপাতত আরও প্রায় এক মাস এটি সেখানে রাখা হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বন বিভাগের তত্ত্বাবধানেই থাকবে প্রাণীটি। কুমিরটিকে আবার মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নির্মল কুমার পাল বলেন, মাজার কর্তৃপক্ষ যদি কুমিরের নিরাপত্তা এবং সেখানে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা উভয়ই নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে মানুষের পাশাপাশি কুমিরটির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘কুমিরটি মাঝেমধ্যে দিঘি ছেড়ে লোকালয়ে চলে যেত। বাইরে গেলে কেউ তাকে আঘাত করতে পারে, আবার সেটি কাউকে আক্রমণও করতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সেটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর যদি তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে এবং তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে কুমিরটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, এটি মিঠাপানির কুমির। লোনাপানির সুন্দরবনে ছেড়ে দিলে সেটি টিকে থাকতে পারবে না। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। নির্মল কুমার পাল আরও বলেন, কুমিরটি তুলনামূলক বড় পরিসরে বিচরণ করার চেষ্টা করছে। পানির বাইরে উঠে এটি প্রায়ই গেটের কাছে গিয়ে ধাক্কা দেয়। অর্থাৎ বৃহত্তর পরিবেশে যাওয়ার প্রবণতা তার মধ্যে রয়েছে। খাবার গ্রহণ না করা প্রসঙ্গে বন বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সরীসৃপ প্রাণী দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে এটি যেহেতু চর্বিবহুল, তাই ৭ থেকে ১০ দিন বা তারও বেশি সময় না খেয়ে থাকতে পারে। আমরা মুরগি দিয়েছি, মাছ দিয়েছি, এমনকি জীবন্ত হাঁসও বেঁধে রেখেছি, যেন সহজে শিকার করতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে কিছুই খায়নি। তবে কুমিরটির মধ্যে শিকারের প্রবৃত্তি রয়েছে। আমাদের দেওয়া একটি মুরগি কুমিরটি ধরে মেরে ফেললেও সেটি খায়নি।’ বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কুমিরটি আকারে বেশ বড় এবং অতিরিক্ত স্থূল হয়ে পড়েছে। এর দৈর্ঘ্য ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি। এটি একটি মাদি কুমির। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমেছে। পুনর্বাসন কেন্দ্রে দেখা গেছে, কয়েক কদম হাঁটার পরই এটি অলস হয়ে পড়ে। তবে পানিতে চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কুমিরটির পরিচর্যায় কোনো ঘাটতি নেই বলেও দাবি বন বিভাগের। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অ্যানিমেল কিপার ও ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ টিম নিয়মিত দেখভাল করছে। এখানে আগে সুন্দরবন থেকে উদ্ধার হওয়া বেঙ্গল টাইগারেরও সেবা করা হয়েছে। কুমিরটির জন্য প্রতিদিন পানি পরিবর্তন করা হচ্ছে। ওপরে উঠলে পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তার স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি। বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাইরে কাউকে যেতে দেওয়া হয় না।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মিঠাপানির কুমির সংরক্ষণের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিল, বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে মিঠাপানির কুমির বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে কয়েকটি মিঠাপানির কুমির উদ্ধার হয়েছে। বন বিভাগের তথ্যমতে, গত পাঁচ থেকে সাত বছরে পাবনা, রাজশাহী, মাগুরা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চল থেকে কয়েকটি মিঠাপানির কুমির পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু তাদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্রে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু সাফারি পার্কে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঘুস নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা অডিটর

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে কাজাখস্তানে নির্যাতন, বেঁচে ফিরলেন সোহেল

ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির মামলায় ঝিনাইদহ ভূমি অফিসের কর্মচারীর ২৭ বছরের কারাদণ্ড

0 Comments