সকাল থেকে আশেপাশের এলাকা থেকে এক-দুইটা করে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনে গুলশান ২ এলাকায় ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করেছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ী হালিম।
সকালে যে মাপের চামড়া ৯০০ টাকা করে বিক্রি করেছিলেন, বিকাল ৫টায় এসে তার দাম ৭০০ টাকা করে পেয়েছেন বলে দাবি তার।
দরদকষাকষি করে ৭০০ টাকা দরে চামাড় বিক্রি করে অসন্তোষই প্রকাশ করলেন হালিম। তিনি বলেন, “দাম নাই। দাম তো কমই।
“আমার চামড়া এখন নিল ৭০০ টাকা করে। সকালে এই চামড়া ৯০০ টাকা কইরা নিয়া গেছে।”
গুলশানের আশেপাশের এলাকা থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন তিনি
তবে দাম নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি উড়িয়ে দেন সেখানে চামড়া কেনার দায়িত্বে থাকা ইসলাম ট্রেডার্সের প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ।
সরাসরি হেমায়েতপুরে হরিণধরার চামড়া শিল্পনগরীতে এ চামড়া পাঠাবেন, এমন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “দাম কম তো বলবেই! কম হলে তো আর কেউ দিত না।”
তিনি কত টাকা করে কিনছেন, এমন প্রশ্নে রশিদ বলেন, “আমরা প্রতি ফুট চামড়ায় ৩৫-৪০ টাকা করে দিচ্ছি। এরপর লবণ ও শ্রমিক খরচ মিলে প্রতি চামড়ায় ৩০০ টাকা আছে।
“দর তো সরকার থেকে নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা সেভাবেই দাম দিচ্ছি। দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে তো আর কেউ দিত না।”
তিনি বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৫০০ এর মতো কোরবানির গরুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করার কথা বলেছেন।
“হাজার টাকা যায়নি কোনোটা। গড়ে ধরেন ৭৫০ টাকা করে কিনছি।”
গুলশান ২ সার্কেলে ঘুরে গুটিকয়েক ফড়িয়া পাওয়া যায়; হেমায়েতপুরে ট্যানারি মালিকদের কাছে কাছে যারা বিক্রি করবেন, তাদেরই প্রতিনিধি তারা। সে কারণে এখানে দাম তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
সায়েন্সল্যাব মোড়ে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের স্থান ও সবশেষ এক সময়কার কাঁচা চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় আড়ৎ রাজধানীর লালবাগের পোস্তা ঘুরেও বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমার বিষয়টি জানা যায়।
বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গড়ে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবার এক কোটির বেশি পশু কোরবানি হয়েছে।
এবার ঢাকার ভেতরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় ঢাকায় প্রতি বর্গফুটে গড়ে ২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে সমপরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া সারাদেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হবে ট্যানারিতে, যা গত বছর ছিল ২২ টাকা থেকে ২৭ টাকা, আর বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৫ টাকা, যা গতবার ছিল ২০ টাকা থেকে ২২ টাকা।
তবে দাম নিয়ে গতবছরের মতো এবারও হতাশা দেখা যায় বিক্রেতাদের মধ্যে; আড়তদার ও ফড়িয়ারা দায়ী করছেন ট্যানারি শিল্প মালিকদেরকে।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম নগরীতেও গরুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা অভিযোগ করেছেন আড়তদাররা ‘সিন্ডিকেট’ করে চামড়ার দাম কমিয়েছেন। তবে আড়তদাররা তাদের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
চট্টগ্রামে নগরীতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা গরুর কাঁচা চামড়া বিক্রির তথ্য মিলেছে।
গেল বছর চট্টগ্রামে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই সড়কে চামড়া ফেলে যান, তাতে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া সড়কেই নষ্ট হয়ে যায়। এর আগে ২০১৯ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল।
সরকার নির্ধারিত দাম নিয়ে ক্ষোভ
সরকার কাঁচা চামড়ার যে দাম বেঁধে দিয়েছে, তা নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়া উভয়ের মধ্যেই ক্ষোভ দেখা গেছে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, তা তারা পাচ্ছেন না। আর ফড়িয়ারা বলছেন, তারা বেশি দামে কিনেছেন, কিন্তু পরে ট্যানারি মালিকদের কাছে দাম পাবেন কিনা শঙ্কায় আছেন।
বিকাল সোয়া ৫টার দিকে গুলশান ২ গোলচত্ত্বরে দুটি চামড়া নিয়ে আসেন মহাখালী রেললাইন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক আবু ইউসুফ।
চামড়ার দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন “আমরা তো ছোটো ব্যবসায়ী। বাজার যাচাই করতে মাত্র দুইটা নিয়ে এসেছি। আরও ছয়টা সংগ্রহে আছে।
“কিন্তু দাম তো অনেক কম। দুইটা বলে ১ হাজার ১০০ টাকা। আমরা তো ভাবছি দুইটা হবে দুই হাজার টাকার ওপরে।”
২০১৬-১৭ এর দিকে এমন একেকটা চামড়া ৩ হাজার ২০০ টাকা করেও বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেন ইউসুফ।
তখন এক ফড়িয়া টিপ্পনি কেটে বলে উঠেন, “আমরাও ৫ হাজার টাকা করে কিনেছি।”
সন্ধ্যা ৬টার দিকে সায়েন্সল্যাব এলাকায় কথা হয় রামপুরার আফতাবনগর থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা মো. শিহাব উদ্দিনের সঙ্গে, তিনি দুটি মাদ্রাসার প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন।
শিহাব উদ্দিন বলেন, “দাম কম মানে, অনেক কম। দাম যেখানে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হওয়া উচিত ছিল। সেখানে দাম দিচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা।”
বিক্রির জন্য ১৩২টি চামড়া এনেছেন তারা। বিক্রি করেছেন গড়ে ৫৮০ টাকা করে।
সরকারি মূল্যে বিক্রি করতে না পারায় সরকারেরও সমালোচনা করে শিহাব উদ্দিন বলেন, “সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই সরকার দিয়ে আমরা কী করব?”
তিনি দাবি করেন, এই দামে গরুর চামড়া বিক্রি করে স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিকদের টাকা দিয়ে ‘আর কিছুই থাকবে না’।
সায়েন্সল্যাবে একসঙ্গে আড়াইশর মতো চামড়া কিনছিলেন নজির লেদার এক্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী মো. নজির।
তিনি বলেন, “আমিসহ এখানে সবাই গড়ে ৫০ টাকা করে বর্গফুট কিনতেছি। লবণ ছাড়াই।
“এরপর লবণ দিমু। প্রতি ফুটে খরচ পড়ে যাইব আরও ১০ টাকা। ৬০ টাকা তাইলে পড়েই গেল। কিন্তু পরে দাম আমরা পামু কিনা জানি না।
যাচাই-বাছাইতে অনেক বাদ পড়ে যায় দাবি করে নজির বলেন, “লবণ দেওয়ার পর আবার বাছাই করতে হবে। কাটা হলে বাদ। করোনা (চামড়ায় ছোপ ছোপ দাগ ভাইরাসের কারণে) হলে বাদ।
“কিন্তু আমরা তো কিনতেছি গড়ে। সবাই টিভি দেখে দাম দিতেছে। আমরাও দিতেছি। কিন্তু সরকারি রেট আমরা পামু কিনা জানি না।”
তিনি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭০০টির মতো চামড়া সংগ্রহ করেছেন সায়েন্সল্যাব থেকে।
ঢাকার আরও তিন জায়গা থেকে একই হারে চামড়া সংগ্রহ করার কথা বলেছেন নজির।
তিনি বলেন, এসব চামড়ার কিছু তিনি হেমায়েতপুরে বিক্রি করবেন, আর কিছু নিজে রপ্তানি করবেন।
নজিরের সঙ্গে থাকা তার ছেলে বলছিলেন, গড়ে ৫৫০ টাকা ও ৬০০ টাকা দরে চামড়া কিনেছেন তারা।
‘লাভের চিন্তা করছি না’
রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কাঁচাবাজার বাজারে আগের মতো সেই চাঙা ভাব না থাকলেও বেশকিছু দিন ধরেই ব্যস্ত যাচ্ছে সেখানকার আড়তদারদের। নানা টানাপড়নের মধ্যে হারানো সেই জৌলুস ফেরাতে চান তারা।
তবে পুরনো সুরেই কথা বলছিলেন তারা। ট্যানারি মালিকদের কাছে পুঁজি হারিয়ে আড়তদাররা প্রকাশ করেছেন নিজেদের বাড়তি মূল্যে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের অক্ষমতার কথা।
একই সঙ্গে তারা যে কেবল পুনোনো পৈত্রিক ব্যবসার ‘ঘানি টানছেন, লাভের আশা দেখছেন না’, তাও বললেন।
সন্ধ্যা ৭টায় পোস্তায় গিয়ে দেখা যায় ট্রাক, ভ্যান ও পিকআপে করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া নিয়ে আসছেন ফড়িয়া, মাদ্রাসার প্রতিনিধি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
বাজার কেমন যাচ্ছে, এমন প্রশ্নে শাহাদাত অ্যান্ড কোম্পানির পরিচালক আজীজ বলছেন, “দাম কমই। আমরা কত দাম পাব জানি না।
“লাভের চিন্তা তাই করছি না। এখন কিনতেছি শুধু। পরে কী দাম পাই আল্লাহ জানেন। পরে দেখা যাইব।”
তিনি বলেন, “এখন কিনে লবণ দিচ্ছি। আমরা তিন দিন ধরে সংগ্রহ করব। ট্যানাররা এক সপ্তাহ পর থেকে আসতে শুরু করবেন।”
কত করে কিনছেন জানতে চাইলে বলেন, ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা করে। পরে লবণ ও শ্রমিকদের খরচ মিলিয়ে প্রতি চামড়ায় ১৫০ টাকা করে পড়ে।
বৃষ্টির জন্য চামড়ার মান খারাপ হওয়ার শঙ্কা আছে? জবাবে আজীজ বলেন, “আজ তো কেবল কোরবানি হল। আগের বৃষ্টিতে কিছু হবে না। লবণ দিলেই সব ‘ওকে’।”
তখনও একের পর এক পিকআপ ভ্যানে করে চামড়া আসছিল তার আড়তে। বললেন, “লক্ষ্য হচ্ছে ৪০০০-৫০০০ পিস কেনা।”
দাম নিয়ে একই সুর ফড়িয়াদের সমিতির নেতা মো. শামীমের। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামেরও সমালোচনা করেন তিনি।
এর সঙ্গে ট্যানারি মালিকরা ‘টাকা মেরে দেন’ বলেও অভিযোগ তার। এছাড়াও সরকার থেকে লবণে ভর্তুকি দিলে বেশি দামে চামড়া কেনা যেত, বলেন তিনি।
চামড়া সংগ্রহকারীদের এ নেতা বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা হল কি জানেন, যে সরকার যে মাদ্রাসারে লবণটা দেয়, সে লবণটা আমাদেরকে দিক। মাদ্রাসাতো লবণ লাগায় না, মাল কিনে না, মাল মাগনা (বিনামূল্যে) পাইয়া মাগনা বেচে।
“তো তারে লবণটা কি দেওয়ার দরকার? লবণটা আমরা যদি মাগনা পাই, তাহলে আমরা ২০০ টাকা ১০০ টাকা বাড়ায়া চামড়াটা কিনতে পারবো। আমাদের কষ্ট কমবে, আমরা ওদেরকে দামটা দিতে পারব।”
লবণ ও শ্রমিক মিলে প্রতি চামড়ায় ৪০০ টাকা করে খরচ বলে দাবি তার।
শামীম বলেন, “১১০০ থেকে ১২০০ টাকা লবণের বস্তা। পাঁচটা থেকে ছয়টা মালে (চামড়া) এক বস্তা লবণ দিতে হয়। ২০০ তে ২২০ টাকা লবণ লাগে।
“এই একটা চামড়ায় লবণ দিতে ৬০ টাকা, মাল টানতে ১৫ টাকা, আড়তদারি ৫০ টাকা, আপনার মোট ৪০০ টাকা খরচ। মালটা কিনবেন কয় টাকা আপনি? এর মধ্যে বাদ আছে, কাটা আছে। আমরা যত বাইছা লই, তারপরও বাদ আছে।”
তিনি বলেন, “আমরা ট্যানারির মালিকদের কাছে বেচি। আমাদেরতো মনে করেন টাকা মাইর খেতে খেতে, কোম্পানির মালিকরা টাকা না দিতে দিতে আমাদের পুঁজি হয়া গেছে ছোট।
“আমরা ধার-কর্জ নিয়া কোরবানির কামটা করি। অর্থাৎ ২ লাখ, অর্থাৎ ৪ লাখ, অর্থাৎ ৫ লাখ নিয়া এটা করি। যেহেতু চামড়ার সাথে জড়িত একটা সিজন, না করলেও বাইধ্য। ঘুমায়ে থাকলেও ‘উস-পিস’ লাগবে। তাই এই কামটা আমাদের করতেই হইবো।
তিনি বলেন, ঈদের দিন ৪০০-৬০০ চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনি। আর ঈদের দ্বিতীয় ২০০-৩০০ এবং তৃতীয় দিন ২০০-৩০০টি চামড়া কেনার কথা বলেন শামীম।
শুধু কোরবানির সময় নয় পোস্তায় সারা বছর রাজধানীতে জবাই হওয়া পশুর চামড়া আসে। কাছের জেলা মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকেও চামড়া আসে দৈনিক।
কাঁচা চামড়ার এসব ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগই উত্তরাধিকার সূত্রে এ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের আবাসও পোস্তাসহ পুরান ঢাকার আশপাশের এলাকায়।
‘রপ্তানি বাজার মাথায় রেখে দাম’
ফড়িয়াদের নেতা মো. শামীম বলেন, “সরকার যে রেটটা দিছে, এই রেটটা আমাদের জনগণ বুঝতেছে আমাগোকে দিছে। কিন্তু সরকার এইটা ফরেন বাজার (রপ্তানি) ঠিক রাখবার জন্য দিছে।”
তার ভাষ্য, “চামড়া তো এইডি চলেনা। ভালো চামড়া চলে। কাটা চলবে না, দুই চারটা কাটা হলে চলবে। চারটা, পাঁচটা, ১০টা কাটা হইলে তো চলবে না।
“এখন সরকারেরটা (দাম) হইলো বিদেশি বাজারের হিসাব। যাতে বিদেশি বাজারে সমস্যা না হয়, এজন্য সরকার বাজারটা (চামড়ার দাম নির্ধারণ) দিছে।”
সরকার প্রকাশ্যে দাম কম বললে রপ্তানির বাজারে মুখ থুবড়ে পড়বে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমরা যদি কম দাম বলি, বিদেশের বাজারে সমস্যায় পড়ব।
“বিদেশি এরা, আমাদের গ্রাহকরা, আমাদের কম দাম লাগাবে। তখন চামড়ার বাজারে আরও ধস নামবে। এইটার জন্য সরকার, এইটারে বিদেশি বাজার ঠিক রাখার জন্য সরকার একটা নির্ধারণ করে দিছে। না হলে আসলে কিন্তু চামড়ার বাজারতো সেরকম না।”
আগামী ৩০ জুন শেষ হতে চলা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) চামড়া রপ্তানি খাত থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। সবশেষ এপ্রিল মাসে বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়েছিল ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ।
তার আগের দুই বছরে ধস নেমেছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমেছিল ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছিল ২০২২-২৩ অর্থবছরে।
ট্যানারি মালিকরা ইচ্ছেমত দাম দেয়’
হাজী আব্দুর রাজ্জাক অ্যান্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শাহাব উদ্দীন অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিকরা ‘ইচ্ছেমত’ দাম দেন।
একই সঙ্গে কাঁচা চামড়া কেনার পর বাছাইয়ে অনেক বাদ দেওয়ার কারণে দাম কমে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
শাহাব উদ্দীন বলেন, “মূল কথা হইল গিয়ে, মালের মধ্যে বাদ হয়ে যায় অনেক। এই যে লুকানো বাদ দেওয়ার ব্যাপার যেটা, এটা চামড়া কিনতে গিয়ে বুঝতে পারি না।
“যেগুলি বুঝি, চামড়াওয়ালারা যারা নিয়ে আসে, এরা বোঝে না। এইখানে সমস্যাটা হয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, বাজারে ৫০০ থেকে ৭০০, ৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে চামড়া কিনছে। ৫০০ টাকার চামড়া তারা নেন না। ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে নিচ্ছেন।
চামড়ায় ছোপ ছোপ দাগ থাকার সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ট্যানারি শিল্প মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে শাহাব উদ্দীন বলেন, “ওরা তো কোনো দাম বলে না। ওরা আমাদেরকে বিগত কয়েক বছর যাবৎ কোনোই দাম বলে না। ওদের ‘ইচ্ছামত’ দাম দেয়। এটা আমরা কোনো কিছু করেও পারিনি।
“আমাদের বলে একটা- এত পর্যন্ত। কিন্তু কেনার সময় দেখা যায়- যে আরও ১০ টাকা ২০ টাকা করে কম দাম দেয়। আর তো আপনার খরচ বেশি, কারণ একটা মালের মধ্যে ৪০০, ৪৫০ টাকা খরচ। তারপর বাদ দিলে গড়ে ৬০০ টাকার মত খরচ হয়ে যায়। কারণ ২০-৩০ শতাংশ বাদ দিয়ে দেয়।”
এরপর আর ‘লবণের টাকা ওঠে আসে না’ দাবি করে তিনি বলেন, “এক্কেবারে লবণের টাকা উঠে না।”
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতানও বললেন একই কথা।
নতুন মৌসুমি ব্যবসায়ী আসায় কাঁচা চামড়ার মান ও দাম দুই-ই সংকটে পড়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে এ ব্যবসা ‘পুরনোদের’ কাছে রাখার দাবি জানান তিনি।
সেক্ষেত্রে সহজে লবণপ্রাপ্তি, পুঁজির জন্য ঋণ সহায়তা এবং ট্যানারি মালিকদের কাছে যে পাওনা আছে তা পেতে সরকারকে এগিয়ে আসার কথা বলেন টিপুর সুলতান।
তার ভাষ্য, “শুধুমাত্র পুরনো ব্যবসায়ীদের কাছে এ ব্যবসাটা না থাকলে এ খাত ধ্বংস হবে।”
কারো থেকে অর্থ সহায়তা না পেয়ে নিজেদের পুঁজিতে এ ব্যবসা করতে হচ্ছে এবং সেক্ষেত্রে ধার-কর্জ করে এ ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছেন বলে দাবি করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
তিনি বলেন, “সেই পুঁজিও ট্যানারি মালিকদের কাছে আটকে আছে। এজন্য লবণ কিনে যে চামড়া সংরক্ষণ করব, বেশি দামে বেচব, রপ্তানি করব এটিও ‘চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে’।
পোস্তায় ঘুরে আড়তদাররা বেশিরভাগ চামড়া সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মূল্যে গড়ে কিনতে দেখা যায়। সর্বোচ্চ দাম ৮০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন দাম ৪০০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।
বিটিএ নেতা যা বললেন
সাধারণত বড় আকারের গরুর চামড়া ৩১ থেকে ৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ২১ থেকে ৩০ এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া ১৬ থেকে ২০ বর্গফুটের হয়।
সে হিসাবে লবণযুক্ত ছোট আকারের একটি চামড়ার দাম ৯৯০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর মাঝারি আকারের লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং বড় আকারের লবণযুক্ত গরুর চামড়া ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এবার চামড়ার দাম কম কেন, এ প্রশ্নে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অবস্থা—এ সবকিছুই কিন্তু যে কোনো বাজার দরের উপর নির্ভর করে। যুদ্ধের কারণে গোটা বিশ্বই এখন টালমাটাল; থামবে থামবে বলেও থামছে না। এ অবস্থায় আমাদের রপ্তানি বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।”
তার দাবি, দেশে মূল্যস্ফীতি বেশি; ৯ শতাংশের ওপরে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।
“এবার কিন্তু দেখবেন, প্রচুর গরু বিক্রি না হয়ে ফেরত গেছে; ব্যবসায়ীরা হা-হুতাশ করছেন। তাদের নাকি অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমার মনে হয়, এবার মানুষ আগের চেয়ে কম পশু কোরবানি দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য খারাপ। নতুন সরকার আসলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।”
বিনিয়োগের খারাপ অবস্থা তুলে ধরে শাহীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর আগে কখনও এত কম প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি।”
“এ সবের প্রভাব চামড়ার দামের ক্ষেত্রেও পড়েছে বলে আমার মনে হয়।”
“আরেকটি কারণ আছে—সেটি হচ্ছে, রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগের লোকজনও (নেতা) কিন্তু এবারও কোরবানি দিতে পারেনি। এটাও কোরবানি কম হওয়ার কারণ বলে আমার মনে হয়,” বলেন শাহীন আহমেদ।
সতর্ক রয়েছে সরকার’
কোরবানির ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ঢাকার আমিন বাজারের চামড়া বিক্রয় কেন্দ্র আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রণালয়ে সংবাদিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা, ‘সিন্ডিকেট’ বা চামড়ার অপচয় না ঘটে সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে মন্ত্রী বলেছেন।
মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথাও বলেছেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী কাঁচা চামড়ার ক্রেতা ও বিক্রেতা, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাজার পরিস্থিতি, মূল্য, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ রয়েছেন নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাদের বুকিং ছিল। অথচ হাসপাতাল, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পরিবারের সবার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিহত ও আহতদের তালিকায়ও তাদের নাম পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। বুকিংয়ের নথি থাকার পরও পরিবারের সদস্যদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগে রয়েছেন তারা। নাহিদুর রহমান যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা এবং সাত বছর বয়সি মেয়ে রোবাইনা ও তিন বছর বয়সি মেয়ে সুনাইনাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। রিসোর্টের বুকিং নথি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই রাতের জন্য নাহিদুর রহমানের নামে ২০২ নম্বর সুপার ডিলাক্স কক্ষটি দুই অতিথির জন্য বুক করা হয়েছিল। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। বুকিংয়ের বিলের একটি কপি সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তার ভাই শুক্রবার কক্সবাজার যাবেন বলে জানিয়েছিলেন। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তিনি নাহিদুরকে ফোন করেন। কিন্তু নাহিদুর বা তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। নাহিদুরের কর্মস্থল গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা রকিবুজ্জামান জানান, তিনি চীনে রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর শোনার পর তিনি ও প্রতিষ্ঠানের অন্যরা নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। নাহিদুরকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর থেকে তিনি অসহায় বোধ করছেন। নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহিরা সিদ্দিকা সূচি জানান, নাহিদুরের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বাড়িতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা আছেন; তারাও যোগাযোগ করতে পারছেন না। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নাহিদ নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ জেনেছে। পরে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। সেগুলো উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে; পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ছয়জন আহত হন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিহতদের তালিকায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ, নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম। আহত ছয়জন হলেন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর প্রায় ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা প্রশাসক আ. মো. মান্নান জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, টুপটুপ রিসোর্টের কউকের অনুমোদন ছিল না। এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান থাকায় অনুমোদন যাচাইয়ে সময় লাগছে। ইতিমধ্যে যাচাই করা আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা নিশ্চিত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জানান, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। আগে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেয়নি। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রিসোর্টটি ছাড়াও দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স না থাকায় নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা শনিবার ঢাকায় থেকে এসেছে।
রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামার যুক্তি হিসেবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘সামাজিক প্রতিরোধের’ কথা বলছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, “বিগত সময়ে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অন্তত ছয়জন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যে কারণে আজকে আমি সতর্কতা অবলম্বন করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছি।” শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেওয়া এ ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রতিমন্ত্রী গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়লে কী হতো সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে প্রতিমন্ত্রী বলছেন, “আমাদের সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার, আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। যে কারণে আমরা শুধু পুলিশের উপর নির্ভর করে চলছি না।” এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলছেন, “এখানে আইনের কোনো বাত্যয় নেই। তবে এটা না করলেই পারতেন। একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন।“ তিনি বলেন, “ওনার প্রটেকশনের জন্যতো ঢাকা মেট্রোপলিটনের অফিসাররা আছেন। তাদের নিয়ে সেটা করলেই ভালো হতো।” এদিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই একদল লোককে তাড়া শুরু করলেন ইশরাক। পিস্তলের স্লাইড টেনে সেটিকে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে “অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া” বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওর ক্যাপশন লেখা, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। ঘটনাটি গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকার বলে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে। ভিডিওতে ইশরাক ছাড়াও আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কিছু লোককে তাড়া করতে দেখা যায়। এ ঘটনার বিষয়ে গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "উনারা ছয়জনকে ধরে মাদকসেবী বলে জানালে আমরা গিয়ে নিয়ে আসি। তাদের কাছে কিছু পাউডার পাওয়া গেছে, সেগুলো কী, তা পরীক্ষায় জানা যাবে।” তারা এ ধরনের 'অভিযান' চালানোর সময় পুলিশকে জানিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি ওসি। পিস্তল হাতে ‘অ্যাকশনের’ বিষয়ে জানতে চাইলে রাত ৮টার দিকে ইশরাক হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকের ঘটনার বিষয়ে বলতে হলে লম্বা প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে হবে। আপনারা জানেন, ঢাকা ৬ নম্বর আসনের গেন্ডারিয়া এলাকার ঘুণ্টিঘর, মুন্সিরটেক এলাকার অবস্থা সস্পর্কে… বিগত ছয় মাসে মাদকের বিস্তার যেভাবে এলাকাটিকে গ্রাস করেছে। আপনারা ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই ভিডিওতে দেখেছেন দিনেদুপুরে সেখানে মাদক কেনাবেচা, সেবন চলছে। বাসাবাড়ি থেকে রশিতে করে মাদক বিক্রি হচ্ছে। বাড়ির ভেতরে অবৈধ মদ, ইয়াবাসহ আরো বিভিন্ন রকমের মাদক পাওয়া গেছে। “আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে গেন্ডারিয়া থানা, ওয়ারি অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে মিটিং করেছি, তারা বিভিন্ন বাস্তবতা ও কারণে অসহায়; তাদের ওখানে একটা ফাঁড়ি দরকার, আমার পক্ষ থেকেও সহযোগিতা ছিলো, কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় ফাঁড়ি হয়নি এখনো।" তিনি বলেন, " যে কারণে এই এলাকায়, স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও মাদকের বিস্তার ঘটেছে, ছড়িয়ে পড়েছে কলেজ, স্কুলগুলোয়। যে কারণে এলাকার মানুষ আসে আমার কাছে। এখন বলুন, আমরা কতক্ষণ অসহায়ত্ব দেখাবো? "আমাদের সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার, আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। যে কারণে আমরা শুধু পুলিশের উপর নির্ভর করেই চলছি না। আমি নির্বাচিত হওয়ার আগে বারবার জনগণের সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ওয়াদা করেছি মাদক বন্ধ করবো, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।" প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, “এই পরিপ্রেক্ষিতেই আমি আজকে গিয়েছিলাম। যে আগ্নেয়াস্ত্রটি আমার হাতে দেখা গেছে, সেটি বৈধ অস্ত্র, আমার কোমরেই থাকে। বিগত সময়ে সেখানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অন্তত ছয়জন সদস্য সেখানে অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যে কারণে আজকে আমি সতর্কতা অবলম্বন করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছি।" তিনি বলেন, “এলাকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমি এটা করেছি সামাজিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে। স্থানীয় পুলিশও নানা সীমাবদ্ধতার জন্য তাৎপর্যমন্ডিত ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আমি নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অবহিত করেছি এলাকার বিষয়ে, উনিও কী করবেন, সারাদেশে মাদকের বিস্তার। তাই আমরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলবো।" ইশরাক হোসেন বলেন, " আমি সেখানে আজকে যাওয়ার ১০ মিনিট পরই পুলিশকে অবহিত করেছি, 'আপনারা আসেন'। তারপর তারা ব্যবস্থা নিয়েছে।" ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ওয়ারি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, ছয়-সাতজনকে ধরে তিনি থানায় দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় (অভিযানের বিষয়ে) পুলিশকে আগে থেকে জানাননি, আমরা পরে বিষয়টি জেনেছি।” পিস্তল হাতে একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এরকম অভিযানের ঘটনায় নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইশরাকের ভিডিওর নিচে সাখাওয়াত হোসেন খান নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, “এভাবে ওপেন কেউ পিস্তল ব্যবহার করতে পারে!” তার মন্তব্যের নিচে ৪৫টি মন্তব্য পড়েছে। বেশির ভাগ উত্তরে বলা হয়েছে, পিস্তলের লাইসেন্স থাকলে এভাবে ব্যবহার করতে পারে। মো. হোসেইন আক্তার তানজিন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “গরীবের ফাটাকেষ্ট।” মো. মাসুম নামে একজন লিখেছেন, “প্রথমে ভাবছিলাম কোনো ছবির শ্যুটিংয়ের দৃশ্য,পরে দেখি বাস্তব ঘটনা।” মোহাম্মদ হোসেইন লিখেছেন, “দেশে পুলিশের অভাব পড়ছে?” সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ইশরাকের ভিডিওতে পাঁচ হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন। পরে সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে আরেকটি পোস্টে আসে। সেখানে বলা হয়, “ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।” তিনি বলেছেন, “মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।” পোস্টে বলা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেডের সঙ্গে ফাইব্রোস্ক্যান সংক্রান্ত সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কেএনএস কানাডা (বিডি)। আজ শুক্রবার থেকেই এই সেবা বন্ধের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে দেশের অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই সেবা অব্যাহত থাকবে। আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে কেএনএস কানাডা (বিডি)-এর পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেএনএস'র কাছে থাকা তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কয়েকটি শাখায় অননুমোদিত ফাইব্রোস্ক্যান মেশিন, যথাযথভাবে ক্যালিব্রেশন (পরিমাপক যন্ত্রের মান নির্ধারণ) না করা এবং সনদবিহীন অপারেটরের মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফাইব্রোস্ক্যান লিভারের অবস্থা মূল্যায়নে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রযুক্তি। এই পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে অনুমোদিত যন্ত্র, উপযুক্ত কারিগরি ব্যবস্থা, যন্ত্রের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যালিব্রেশন এবং প্রশিক্ষিত ও যোগ্য অপারেটর থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কেএনএস কানাডা জানিয়েছে, বাংলাদেশে ফাইব্রোস্ক্যান প্রযুক্তির একমাত্র অনুমোদিত ও এক্সক্লুসিভ পরিবেশক হিসেবে ২০০৮ সাল থেকে তারা এই প্রযুক্তির সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। প্রযুক্তিটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের ইকোসেন্স'র সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত মান ও পেশাগত সুনাম বজায় রাখাকে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এ অবস্থায় ফাইব্রোস্ক্যান প্রযুক্তির অনুমোদিত ব্যবহার, পরীক্ষার মান এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি মানদণ্ড নিয়ে উদ্বেগের কারণে পপুলারের সঙ্গে সেবা বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলছে, আজ থেকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষার ক্ষেত্রে কেএনএস কানাডা (বিডি)-এর অনুমোদন, কারিগরি তত্ত্বাবধান কিংবা সেবাসংশ্লিষ্ট কোনো সমর্থন থাকছে না। এ ছাড়া পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে পরিচালিত ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষার রিপোর্টে কোনো ত্রুটি, অসংগতি বা কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা ও রিপোর্টের দায়ভার কেএনএস কানাডা (বিডি) ও ইকোসেন্স নেবে না। রোগীদের নিরাপত্তা এবং পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতার স্বার্থে কেএনএস কানাডা (বিডি) সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সেবাগ্রহীতাদের ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষা করানোর আগে ব্যবহৃত যন্ত্রের অনুমোদন, প্রোবের ক্যালিব্রেশন এবং অপারেটরের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতার বিষয়টি যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।