জাতীয়

এস আলম গ্রুপের সম্পদ জব্দ করল সাইপ্রাস

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান একটি তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সাইপ্রাসে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে দেশটির আদালত।

 

ঢাকার উদ্যোগে শুরু হওয়া পারস্পরিক আইনি সহায়তা পদ্ধতির অধীনে সাইপ্রাসের অর্থ পাচার বিরোধী ইউনিট ‘মোকাস’-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ মে নিকোসিয়া জেলা আদালত জব্দের আদেশ জারি করেছে বলে জানায় সাইপ্রাস মেইল এবং সাইপ্রাস ইনফর্ম।

 

সম্পত্তিটি দেশটির পারেক্লিসিয়ায় অবস্থিত একটি দোতলা আবাসিক ভবন।

 

এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সাইফুল, ২০১৬ সালে দেশটির বর্তমানে বিলুপ্ত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

 

সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশি তদন্তকারীরা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একটি কোম্পানি নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেনের সাথে যুক্ত প্রতারণামূলক ঋণদান, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন।

 

সম্পদ জব্দের আদেশের একদিন পর, এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ইসলামী ব্যাংক থেকে দেওয়া প্রায় ৬০ লাখ ইউরোর একটি ঋণ সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশের একটি আদালত সাইফুল এবং তার দশজন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ৮০০ কোটি ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

 

ঢাকার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সাইফুলের সাথে যুক্ত কোম্পানিগুলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল, যার মধ্যে অনেকগুলোই পরে খেলাপি হয়ে যায়।

 

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং জার্সিতে নিবন্ধিত কোম্পানি ও ট্রাস্টের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এস আলম বিদেশে তহবিল স্থানান্তর করেছেন কিনা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
এস আলম গ্রুপের সম্পদ জব্দ করল সাইপ্রাস

ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান একটি তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সাইপ্রাসে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে দেশটির আদালত।   ঢাকার উদ্যোগে শুরু হওয়া পারস্পরিক আইনি সহায়তা পদ্ধতির অধীনে সাইপ্রাসের অর্থ পাচার বিরোধী ইউনিট ‘মোকাস’-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ মে নিকোসিয়া জেলা আদালত জব্দের আদেশ জারি করেছে বলে জানায় সাইপ্রাস মেইল এবং সাইপ্রাস ইনফর্ম।   সম্পত্তিটি দেশটির পারেক্লিসিয়ায় অবস্থিত একটি দোতলা আবাসিক ভবন।   এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সাইফুল, ২০১৬ সালে দেশটির বর্তমানে বিলুপ্ত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব লাভ করেন।   সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশি তদন্তকারীরা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একটি কোম্পানি নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেনের সাথে যুক্ত প্রতারণামূলক ঋণদান, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন।   সম্পদ জব্দের আদেশের একদিন পর, এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ইসলামী ব্যাংক থেকে দেওয়া প্রায় ৬০ লাখ ইউরোর একটি ঋণ সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশের একটি আদালত সাইফুল এবং তার দশজন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ৮০০ কোটি ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে।   ঢাকার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সাইফুলের সাথে যুক্ত কোম্পানিগুলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল, যার মধ্যে অনেকগুলোই পরে খেলাপি হয়ে যায়।   তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং জার্সিতে নিবন্ধিত কোম্পানি ও ট্রাস্টের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এস আলম বিদেশে তহবিল স্থানান্তর করেছেন কিনা।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৯, ২০২৬
বাস্তবায়নের আগ মুহূর্তে পে স্কেলের সুবিধায় যুক্ত হচ্ছেন যারা। সংগৃহীত ছবি

বাস্তবায়নের আগ মুহূর্তে পে স্কেলের সুবিধায় যুক্ত হচ্ছেন যারা

ছবি: সংগৃহীত

রাতের মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য সরানো সম্ভব হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মেনুতে মাছ-মাংস-ডিম, হোল্ডিং সেন্টারে ‘বিদেশি’ অতিথিদের জন্য এলাহি আয়োজন!

ছবি: সংগৃহীত
কাউন্টারে নয়, মাঝপথের যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে : সেতুমন্ত্রী

বুধবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীতে বিআরটিএ’র কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন শেষে এই কথা বলেন তিনি।   সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে কিছু চাপ রয়েছে, তবে ভালো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আবহাওয়ার জন্যও বেশ সমস্যা হচ্ছে। ৫৭ হাজারের বেশি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে গতকাল। এতেই বোঝা যায় গাড়ি চলাচল করতে পারছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘টিকিট কাউন্টারে বসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিয়েছে এরকম নজির আমি এখনো পর্যন্ত পাইনি। দু-এক জায়গায় আড়ালে করছে হয়তো। আমরা অভিযোগ পেলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’   রবিউল আলম বলেন, ‘যাত্রীদের একটা প্রবণতা রয়েছে, অনেকে আগে টিকিট করতে চান না। কখন ছুটি হবে তাও তিনি জানেন না। ছুটি হয়েছে মাত্র লাগেজ নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। যেকোনো বাস পেলেই ওঠার চেষ্টা করছেন। তখন কিছু মানুষ ভাড়া একটু বেশি নেয়ার চেষ্টা করে। তখন যাত্রীরা ভাবেন- ১০০ টাকা বেশি হোক সমস্যা নাই, আকাশের অবস্থা খারাপ, উঠে পড়লেই চলে, যাওয়া দরকার।’   নগরবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবহন খাত পর্যাপ্ত সক্ষম না। প্রয়োজনের তুলনায় গাড়ি কম। পরিবহন খাতকে মাল্টিমোডাল সিস্টেমে চালানো গেলে মানুষ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় একটা স্বস্তিদায়ক যাত্রা পেত। এজন্য মনোরেলের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মেট্রোস্টেশনকে আরও সম্প্রসারণ করছি এবং আরো কয়েকটা মেট্রোরেল যাতে চালু করা যায় সেই পদক্ষেপ সরকার এরইমধ্যে নিয়েছে। আমরা রুট ভিত্তিক কোম্পানি করে মানসম্মত বাস চালাবো।’   সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ৩৫ লাখের মতো শ্রমিকের ছুটি হয় ঈদের দুদিন আগে। ফলে বাড়ি যাওয়ার জন্য তারা একদিন সময় পায়। এরা যখন রাস্তায় এসে যেকোনো মূল্যে যেতে চায় তখন পরিবহন ব্যবস্থাপনা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। এরভেতর যদি বৈরী আবহাওয়া থাকে, তখন সবাই যেভাবে পারে গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করেন।’   তিনি বলেন, ‘বিগত সরকার একটা বিআরটি প্রকল্প নিয়েছিল। সেটা এখন অকেজো। চালুই করা যায়নি। কারণ সম্পূর্ণ ভুল ছিল। ফলে রাস্তার প্রশস্ততায় এবং যানবাহনের সমন্বয়ে এত লোককে দুই দিনে যাতায়াত সুযোগ দেয়া নিয়ে আমাদের অন্যভাবে ভাবতে হচ্ছে। আমরা সেভাবেই চেষ্টা করছি।’

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সেনাসদস্যদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগ করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের বর্জ্য অপসারণে তৎপর দুই সিটি করপোরেশন

ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূল উধাও, সক্রিয় পুলিশ! পালাবদলের পর বদলে গেছে সীমান্তের হাকিমপুর

রাত প্রায় ১১টা। উত্তর চব্বিশ পরগনার প্রান্তিকতম জনপদ স্বরূপনগরের রাস্তাঘাট শুনশান। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে যাওয়া রাস্তায় বাঁকের পর বাঁক থাকা সত্ত্বেও গাড়ি হু-হু করে ছোটানো যাচ্ছে। কিন্তু সীমান্তের এক-দেড় কিলোমিটার আগে বিএসএফ চেকপোস্টের কাছাকাছি অপেক্ষা করছিল বিস্ময়! রাস্তার ধারে সার সার পুলিশের গাড়ি। কনস্টেবল আর সিভিক ভলান্টিয়ারদের ছোট-বড় জটলা। ইতিউতি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের টহল। কী ব‍্যাপার! এক সাব ইনস্পেক্টর বললেন, “অ‍্যাডিশনাল সাহেব এসেছেন।” অর্থাৎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। এসেছেন এসডিপিও-ও।   কাঁধে কাঁধ ঘড়ির কাঁটা এখন ১১টার ঘর পার করছে। আর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষ এবং এসডিপিও আয়ুষ পাণ্ডে বার বার চেকপোস্টের গেট পারাপার করছেন। ব‍্যস্ত পদক্ষেপে এক বার বিএসএফ চৌকির দিকে যাচ্ছেন, আবার ফিরে আসছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে যখন এসেছিলাম হাকিমপুরে, পুলিশি তৎপরতার এই ছবি দেখিনি। বিএসএফ চেকপোস্টের বাইরে তখনও এ রকমই ভিড় ছিল। হয়তো বা খানিকটা বেশিই। এসআইআর আবহে তখন ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে ফেরার হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিল বিএসএফ। কিন্তু তাদের সাহায্য করার জন্য ত্রিসীমানার কোথাও মমতার পুলিশের দেখা মেলেনি। আর এ বার, রাজ্যে পালাবদলের পরে বিএসএফ-পুলিশ প্রায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। ক্ষমতার হাতবদল এ ভাবে ফারাক গড়ে দিয়েছে হাকিমপুর সীমান্তে।   পদ্ধতি বদল অনুপ্রবেশকারীদের ফেরানোর পদ্ধতিও বদলে গিয়েছে ছ’মাসের মধ্যে। আগে যাঁরা বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছিলেন, তাঁদের সীমান্ত পার করানোর পুরো প্রক্রিয়া বিএসএফ-এর হাত দিয়েই হচ্ছিল। তখন হাকিমপুর চেকপোস্টের বাইরে ভিড় জমানো অনুপ্রবেশকারীদের ভাগে ভাগে চেকপোস্টের ভিতরে ডাকা হচ্ছিল। তাঁদের বাংলাদেশি নথি পরীক্ষা করে নাম-ঠিকানা নথিভুক্ত করা হচ্ছিল। তার পরে একসঙ্গে ৫০-১০০ জনকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল সীমান্তের নিকটবর্তী বিএসএফ ক‍্যাম্পে। সেখানে তাঁদের নাম-ঠিকানা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-র হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল। তালিকা যাচাইয়ের পরে বিজিবি-র তরফে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হলে বিএসএফ ক‍্যাম্পে অপেক্ষারতদের তুলে দেওয়া হচ্ছিল বিজিবি-হাতে।   এ বার পদ্ধতি ভিন্ন। হাকিমপুর সীমান্তে যাঁরা ভিড় করেছেন, তাঁদের অনেকেরই প্রশ্ন, বিএসএফ চেকপোস্টে নাম নথিভুক্ত করার পরে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে? এ বার আর সরাসরি সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না শুনে তাঁদের আশঙ্কা, তবে কি গ্রেফতার করবে? তাঁদের জন্য আশ্বাস আসছে জমায়েতের মধ্যে থেকেই, “না না, গ্রেফতার করবে কেন? শুভেন্দু অধিকারী তো বলেছেন, কাউকে আটকাব না। যারা চলে যেতে চায়, তাদের চলে যেতে দেওয়া হবে।” তা হলে হোল্ডিং সেন্টার কেন? সেখানে ক’দিন থাকতে হবে? থাকা-খাওয়া ঠিকঠাক মিলছে তো? আমাদের নামে মামলা হবে না তো? চিন্তান্বিত মুখ নিয়ে এমন নানা প্রশ্ন নানা জনের।   আসলে অনুপ্রবেশকারী বলে কেউ চিহ্নিত হলেই তাঁকে হোল্ডিং সেন্টারে (আটক শিবির) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ‍্য সরকার। সে জন‍্য জেলায় জেলায় অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারও খুলে গিয়েছে রাতারাতি। অতএব গত চার-পাঁচ দিন ধরে যাঁরা হাকিমপুর চেকপোস্টের বাইরে এসে জড়ো হচ্ছেন, তাঁদের বাংলাদেশি নথি বিএসএফ-এর পাশাপাশি পুলিশও পরীক্ষা করে দেখছে। তাঁদের নাম নথিভুক্ত করার পরে ১০০ থেকে ১৫০ অনুপ্রবেশকারীর এক একটি দলকে বাসে চাপিয়ে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে হোল্ডিং সেন্টারে। সেখানে আটকদের থাকাখাওয়ার বন্দোবস্ত করছে স্থানীয় প্রশাসন। তার পরে বাংলাদেশ থেকে বিএসএফের কাছে বার্তা এলে হোল্ডিং সেন্টার থেকে আটকদের ফের সীমান্তে আনছে পুলিশ। তাঁদের সীমান্ত পার করিয়ে বিজিবি-র হাতে তুলে দিচ্ছে বিএসএফ।   স্বরূপনগরে তিনটি হোল্ডিং সেন্টার আপাতত চলছে। একটি তেঁতুলিয়ায় ‘পথের সাথী’ অতিথিশালায়। পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার সুবিধার জন্য রাজ্য জুড়ে এমন বহু অতিথিশালা তৈরি হয়েছিল তৃণমূল আমলে। দ্বিতীয় হোল্ডিং সেন্টারটি চলছে চারঘাট হাইস্কুল সংলগ্ন ফ্লাড শেল্টারে। তৃতীয়টি মেদিয়ার একটি স্কুলে। সর্বত্রই পুলিশ মোতায়েন। আটকদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় দেখভালের জন‍্য আশা কর্মীরা যাতায়াত করছেন। মাঝেমধ্যে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন স্থানীয় মেডিক্যাল অফিসার সৌরভ আচার্যও। বুধবার তেঁতুলিয়ার হোল্ডিং সেন্টারে আটক অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ছিল ১১৬। তাঁদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বিডিও অফিসের পক্ষ থেকে। অন্য দিকে, চারঘাট হাইস্কুলে আটক ৬৩ জন এবং মেদিয়ার স্কুলের হোল্ডিং সেন্টারে আটক ৫২ জনের জন্য রান্নার দায়িত্ব পড়েছে স্কুলেরই মিড ডে মিল কর্মীদের উপর। তাঁদের গরমের ছুটি আপাতত বাতিল। দুপুরে এবং সন্ধ্যায় স্কুলে গিয়ে রান্না করছেন মিড ডে মিল কর্মীরা। আর জলখাবারের জন‍্য স্বরূপনগর বিডিও অফিস থেকে নানা রকম শুকনো খাবার পাঠানো হচ্ছে। বুধবার দুপুরে চারঘাট হাইস্কুল চত্বরে যখন দাঁড়িয়ে আছি, তখনই খবর এল, আরও ৭০ জন অনুপ্রবেশকারীকে আনা হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টারে। ফলে তৎপরতা বাড়ল। হোল্ডিং সেন্টারগুলির পরিচ্ছন্নতা এবং অন‍্যান‍্য ব‍্যবস্থাপনা দেখভাল করতে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরাও সক্রিয়। চারঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য রাজেশ মণ্ডল এবং বিজেপি সমর্থিত নির্দল সদস্য মানস বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, মঙ্গলবার রাতে বিডিও-র তরফ থেকে তাঁদের হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করার কথা জানানো হয়। মধ্যরাত থেকেই পঞ্চায়েত সদস্যরা সক্রিয় হন। কেউ কেউ বুধবার ভোর পর্যন্ত স্কুলে দাঁড়িয়ে থেকে সব বন্দোবস্ত সুনিশ্চিত করে তার পর ঘরে ফিরেছেন।   বুলডোজ়ারের ভয়! ছ’মাস আগের আর এখনকার পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক আরও এক জায়গায়। গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে যাঁরা বাংলাদেশে ফিরছিলেন তাদের বক্তব্য ছিল, “এসআইআর হচ্ছে, আমাদের তো আর থাকতে দেবে না, তাই চলে যাচ্ছি।’’ অর্থাৎ, সে বার নিজেদের ইচ্ছায় স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অনুপ্রবেশকারীরা। সে দফায় মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকারা এ বার ফিরে যাচ্ছেন বাধ্য হয়ে। নিউটাউন সংলগ্ন ঘুনি বস্তি হোক বা এয়ারপোর্টের কাছে বাঁকড়া, হাওড়ার কোনও বস্তি থেকে আসা পরিবার হোক বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার দক্ষিণ বারাসত থেকে আসা মহিলা, সবার মুখে একই কথা। “যাদের বাড়িতে ভাড়া থাকতাম, তারা আর থাকতে দিচ্ছে না। বলছে, তোমরা থাকলে আমাদের বিপদ হবে। পুলিশ এসে আমাদের ধরে নিয়ে যাবে। আমাদের বাড়ি বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে দেবে। তোমরা চলে যাও।’’   ঘুনি বস্তি থেকে সীমান্তে পৌঁছোনো মফিজুল মোল্লা পুলিশি হানার কথাও শোনাচ্ছেন। বলছেন, ‘’আগের বারই পুরো বস্তি প্রায় খালি হয়ে গিয়েছিল। শুধু আমরা ২০-২২ ঘর রয়ে গিয়েছিলাম। তার পরে আগুন লেগে পুরো বস্তি পুড়ে গেল। পাশের পাড়াগুলোয় ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করলাম। কিন্তু সরকার বদলে যাওয়ার পরে মাঝেমধ্যেই পুলিশ আসছিল। ভয়ে রাতে বাড়িতে থাকতে পারছিলাম না। বাড়িওয়ালাও বলল, আর এক দিনও থাকা যাবে না। এখনই চলে যাও।’’   উধাও তৃণমূল ফারাক আরও একটা চোখে পড়ছে হাকিমপুরে। গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে চেকপোস্টের বাইরের জমায়েতকে ঘিরে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশমুখী অনুপ্রবেশকারীরা কী খাবেন, তাঁদের মাথার উপরে কী রকম ছাউনি দিতে হবে, সমস্ত দেখভালের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। এমনকি এই অনুপ্রবেশকারীরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন কি না, বললে ক’জনের সঙ্গে বলবেন, কতটুকু বলবেন, কী প্রশ্ন করা যাবে আর কী যাবে না, সে সবের নিয়ন্ত্রণও ছিল তৃণমূলের হাতে। সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন প্রতিনিধির উপরে সে বার হামলাও হয়েছিল। এ বার সে সব ছবি উধাাও। সেই থমথমে আবহ এ বার নেই। হাকিমপুর চেকপোস্টের ত্রিসীমানায় আর কোনও তৃণমূল নেতাকে দেখা যাচ্ছে না। শাসানি, চোখরাঙানি অতীত। অথচ স্থানীয় পঞ্চায়েতের বোর্ড ছ’মাস আগে যাদের দখলে ছিল, এখনও তাদের দখলেই রয়েছে। প্রধান, উপ-প্রধান তখন যাঁরা ছিলেন, এখনও তাঁরাই রয়েছেন। শুধু ছ’মাস আগের স্বঘোষিত ‘দায়দায়িত্ব বোধ’ গায়েব হয়ে গিয়েছে।   এক বদলেই বেমালুম বদলে গিয়েছে হাকিমপুর সীমান্ত!

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬
চামড়া বিক্রয় কেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি : সংগৃহীত

চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজে আটকে জাহাজ, সাগরেই ঈদ কাটালেন ৩১ বাংলাদেশি নাবিক

ছবি : সংগৃহীত

ঈদের দিন রাজধানীতে জমে উঠেছে কম দামের মাংসের বাজার

0 Comments