বিশ্ব

অস্ট্রেলিয়ায় গোলাগুলিতে নিহত ৩, হামলাকারী পলাতক

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২২, ২০২৬


অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের একটি ছোট শহরে গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারী পলাতক রয়েছে। খবর বিবিসির।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে লেক কারজেলিগো শহরের একটি আবাসিক এলাকায় জরুরি সেবাদানকারী দলকে ডাকা হয়।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে এক পুরুষ ও এক নারীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় আরেকটি গোলাগুলির ঘটনায় এক নারী নিহত হন এবং এক পুরুষ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ নিশ্চিত করেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে এবং তাকে ধরতে অভিযান চলছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অপরাধস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঘটনাটিকে সম্ভাব্য পারিবারিক সহিংসতা থেকে সংঘটিত হামলা বলে সন্দেহ করছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড। তবে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সহকারী কমিশনার অ্যান্ড্রু হল্যান্ড হামলাকারী ও নিহতদের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। তার ভাষায়, ছোট একটি শহরে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

অ্যান্ড্রু হল্যান্ড আরও বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মানুষকে গুলি করার মতো ঘটনা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে। জরুরি সেবাদানকারী সদস্যরা ঘটনাস্থলে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আর্সেনাল পাঞ্জাবিতে ঈদের নামাজ মামদানির, ব্রঙ্কসে বাংলাদেশিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ব্রিটিশ ফুটবল ক্লাব আর্সেনালের থিমে তৈরি পাঞ্জাবি পরে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটিতে এই নামাজের পর স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে তিনি যেসব ছবি প্রকাশ করেন, তা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক সিটির অধীনস্থ পাঁচটি বোরো বা পৌরসভার মধ্যে ব্রঙ্কসে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অভিবাসীরা বসবাস করেন।   যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। মামদানি নামাজ পড়েন ব্রঙ্কসের একটি ঈদগাহে।   নামাজ শেষে সেখানকার মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মামদানি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের এমপি আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্টেজ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।   নিজের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঈদের জামাত এবং পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি প্রকাশ করে মামদানি বলেন, “আজ, আমরা যারা নবী (হযরত) ইব্রাহিম (আ.)-কে শ্রদ্ধা জানাই, ঈদুল আজহা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে কোরবানি কোনো বোঝা নয়। এটি আমাদের অনেক বড় কিছুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। যাদের সাহায্য দরকার, তাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা দেয়।”   “নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করি এবং আমি সবসময় সবার সঙ্গে সংহতির ভিত্তিতে নিউইয়র্ক সিটিকে নেতৃত্ব দিতে চাই। নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বাসস্থান, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে আমরা সবাই কাজ করছি।”

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৮, ২০২৬

লন্ডনে ক্রয়ডনের নতুন সিভিক মেয়র: ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মুহাম্মদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানালেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
কেনিয়ার স্কুলে আগুন, বিপুল শিক্ষার্থীর প্রাণহানির আশঙ্কা

কেনিয়ার একটি স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   স্থানীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।   স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টার দিকে নাকুরু কাউন্টির উতুমিশি গার্লস একাডেমিতে আগুন লাগে।    তবে কেনিয়ান রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাটি জানানো হয়।   নাইরোবি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।    সিটিজেন টিভি জানায়, ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ৭৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  তবে পুলিশ এখনও এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।   কেনিয়ান রেডক্রসের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘উদ্ধারকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স দল ও আমাদের সহায়ক কর্মীরা বর্তমানে ঘটনাস্থলে কাজ করছে।’    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের স্কুল ভবনের বাইরে আটকে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: আতঙ্ক, অবিশ্বাস ও মৃত্যুর ছায়া

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনের ইহুদি অধ্যুষিত গোল্ডার্স গ্রিনে অগ্নিকাণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে নতুন গোয়েন্দা কাউন্সিল গঠনের আইন পাস

ছবি: সংগৃহীত
লাওসের গুহায় আটকে পড়া ৭ জনকে উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন ডুবুরিরা

লাওসের একটি প্লাবিত গুহায় এক সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা সাত জনকে উদ্ধার করতে ডুবুরিরা ‘সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে’ প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।    এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এক বিশেষজ্ঞ ডুবুরি এ তথ্য জানিয়েছেন।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফিনল্যান্ডের ডুবুরি মিকো পাসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যদি আজ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, তাহলে আমরা গুহার সবচেয়ে ভেতরের অংশে পৌঁছে নিখোঁজ সাত জনকে খুঁজে বের করার জন্য একটি চূড়ান্ত অনুসন্ধানমূলক ডুব দেওয়ার কথা বিবেচনা করছি।   তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সময়ের সাথে পাল্লা দিচ্ছি। কারণ আজ সপ্তম দিন চলছে এবং ভেতরে যাওয়ার পথটি নানা প্রতিবন্ধকতায় ভরা।’   তিনি ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের একটি জলমগ্ন গুহা থেকে নাটকীয়ভাবে একটি যুব ফুটবল দলকে উদ্ধারে সহায়তা করেছিলেন।   লাওসের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই সপ্তাহে জানিয়েছে, গত ২০ মে রাজধানী ভিয়েনতিয়েন থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার (৭৮ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মধ্যাঞ্চলীয় জাইসোমবুন প্রদেশের একটি গুহায় লাওসের সাত জন গ্রামবাসী প্রবেশ করেন।   তারা স্বর্ণের সন্ধানে গুহায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে, গুহার ভেতরেই আটকে পড়েন এবং তাদের বাইরে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।   সোমবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা পাম্পের সাহায্যে পানি বাইরে বের করার চেষ্টা চালালেও উদ্ধারকারী দল তখনও তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।   রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাও ইকোনমিক ডেইলি বুধবার জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা পানি অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৭, ২০২৬
হামাসের আল কাশেম ব্রিগেড প্রধান মোহাম্মএদ ওদেহ। ছবি: সংগৃহীত

সদ্য নিয়োগ পাওয়া হামাস প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ছবি : সংগৃহীত

আব্রাহাম চুক্তি : ট্রাম্পের আহ্বান নাকচ করল সৌদি আরব ও পাকিস্তান

ছবি : সংগৃহীত

সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ১৪, বেশিরভাগই নারী

0 Comments