জাতীয়

প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন ঘিরে সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২২, ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। তবে এই প্রচার ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের শঙ্কা, সামনের দিনগুলোতে সংঘাত ও সহিংসতা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে অতীতে লুণ্ঠিত পুলিশের অস্ত্র এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

 

তবে পুলিশ বলছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে দেড় লাখের বেশি পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন, সিসিটিভি, ডগ স্কোয়াড ও বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার শুরু করেছে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী।

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনই পৃথক অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর শ্যামপুর এলাকা থেকে দুইটি অবৈধ পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও ২১ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আজগর আলী ভোলাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভোলা জানায়, এসব অস্ত্র ঢাকার বাইরে থেকে এনে একটি রাজনৈতিক দলের এক নেতার কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। একই দিনে কুমিল্লা থেকে একটি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ কে আই এম মাসুদুল হক মাসুম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুনের ছোট ভাই।

নির্বাচনি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। তিনি জানান, প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে দুই ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে—প্রথম ধাপে চলমান মোতায়েন অব্যাহত থাকবে এবং দ্বিতীয় ধাপে ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন সদস্যরা, যা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, প্রত্যাশিত মাত্রায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি না থাকায় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করেও সংঘাত-সহিংসতা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আবরণে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে আইজিপি বাহারুল আলম দাবি করেন, নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হবে। বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ঘটনাস্থলের সবকিছু রেকর্ড করা হচ্ছে—ফলে মিথ্যা অভিযোগ কিংবা অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক ডিআইজি জানান, সম্প্রতি সারা দেশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আইজিপি নির্দেশ দিয়েছেন—নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। সব প্রার্থীর সঙ্গে সমান আচরণ করতে হবে এবং যেসব প্রার্থীর নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও গানম্যান দিতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানান, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে স্ট্যান্ড রিলিজসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ৯০ হাজারের বেশি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে ১৩ লাখের বেশি যানবাহন তল্লাশি করে প্রায় ৫৮ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পাঁচ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ লুণ্ঠিত হয়। এর একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন জানান, এসব অস্ত্র নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা মাথায় রেখেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও তীব্র করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সিগারেটের টাকা নিয়ে ইবি শিক্ষার্থীকে মারধর, পরে দোকানির ক্ষমা চেয়েছেন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থীকে সিগারেটের মূল্য পরিশোধ নিয়ে মারধরের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত মুদি দোকানি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও বাজার কমিটির উপস্থিতিতে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পকেট গেটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত দোকানি ইলিয়াস হোসেন ওই এলাকার ‘খান স্টোর’-এর মালিক।   জানা যায়, বিকেলে শেখপাড়া বাজারে যাওয়ার সময় জাহিদ দোকানটি থেকে ১০ টাকার একটি সিগারেট কেনেন। সঙ্গে নগদ টাকা না থাকায় তিনি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন। তবে দোকানির এ ধরনের কোনো অ্যাকাউন্ট না থাকায় তিনি সেখান থেকে চলে যান।   এরপর দোকানি শিক্ষার্থীর পিছু নিয়ে ইবি মার্টের কাছে গেলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।   ঘটনাটি জানাজানি হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আজিজুর রহমান হলের পকেট গেটে অবস্থান নেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা ঘটনার বিচার দাবি করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবস্থান প্রত্যাহার করেন।   রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, অভিযুক্ত দোকানি ও বাজার কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে দোকানি ইলিয়াস হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে শিক্ষার্থীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তির সঙ্গে এমন আচরণ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেন। বাজার কমিটির পক্ষ থেকেও দুঃখ প্রকাশ করা হয়।   দোকানি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমার এমন করা উচিত হয়নি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। লিখিত মুচলেকা দিয়েছি এবং বিষয়টি সমাধান হয়েছে।’   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দোকানিকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন। দোকানিও মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার করেছেন। একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশেও কমবে : প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের মধ্যেই গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি
রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম ঢাকায় পৌঁছায়নি, জানা গেল কারণ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালান বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা আসেনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও এদিন ইউরেনিয়াম গ্রহণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। আমরা এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছিলাম। ইউরেনিয়াম নিয়ে রাশিয়া থেকে কার্গো বিমান না আসায় আমরা রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের জানান যে, এয়ার স্পেস ক্লিয়ার নেই। কার্গো বিমান আসেনি।’ আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি কেন মেলেনি, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি। রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কমিশন রোসাটমের সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ইউরেনিয়ামের চালান না আসার কারণ জানতে রোসাটমের এক প্রতিনিধির কাছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে ই-মেইল করা হলেও বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর গ্রামে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালান দেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করে। ওই সময়ে রোসাটমের প্লান্টে তৈরি জ্বালানি কড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অধীনে একটি ভারী রাশিয়ান কার্গো বিমানযোগে সরাসরি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে। রাজধানী থেকে বিকিরণ সুরক্ষিত কনটেইনারগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় দীর্ঘ একটি গ্রিন করিডোর দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানও হয়েছিল।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা থেকে কোন জেলায় যেতে কত বাসভাড়া, নতুন তালিকা প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত।

সাইবার অপরাধ দমনে আসছে স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’

ছবি: সংগৃহীত

নারীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা ঠেকাতে বৈশ্বিক পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ‘দূরদর্শী ও দিকনির্দেশনামূলক’: রাষ্ট্রপতি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণের জন্য তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি। এর আগে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় প্রথম ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  ভাষণে তিনি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ।  তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়েই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

একাধিক মামলার সাজা একসঙ্গে ভোগ করা যাবে না: হাইকোর্ট

সংগৃহীত ছবি

৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ

ছবি- সংগৃহীত

অক্টোবরে টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ, যেভাবে মিলবে

0 Comments