হঠাৎ করে গত কয়েক দিন ধরে ভারত থেকে ৪২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আদানি গ্রুপের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট মেরামতের জন্য বন্ধ রয়েছে। এর ওপর অর্থসংকটে পর্যাপ্ত ফার্নেস অয়েল মজুত না থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে কাটছাঁটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সারা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে।
শীতকাল হওয়া সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার সারা দেশে সান্ধ্যকালীন পিক আওয়ারে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। তবে বিশেষ বিবেচনায় রাজধানী ঢাকাকে লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদানি গ্রুপের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৮০০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত ১৬ জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে ভারত থেকে বেসরকারিভাবে আমদানিকৃত ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সরবরাহ গত চার দিন ধরে কমিয়ে মাত্র ৪৭৩ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে করে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ভারত মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ রপ্তানি কমিয়ে দেয়। বর্তমানে সম্ভবত সে কারণেই সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে।”
অন্যদিকে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ভারত কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে মাঘ মাস চললেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি। সান্ধ্যকালীন পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১১ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট হলেও সর্বোচ্চ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে ১১ হাজার থেকে ১১ হাজার ৬০০–১১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এতে করে আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবার গরমে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সবচেয়ে সস্তা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে। দেশে থাকা ৫০টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মোট ১২ হাজার ৯২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও পেট্রোবাংলা প্রয়োজনের অর্ধেক গ্যাসও সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে উৎপাদন সীমিত হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার চট্টগ্রামের মদুনাঘাট–করেরহাট গ্রিড লাইনে ট্রিপের ঘটনা ঘটে। এতে এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ৬৬০ মেগাওয়াট ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এসএস পাওয়ারের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন জানান, বুধবার রাতে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পিডিবি জানায়, ইউনিটটি চালু হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত শীতকালে সান্ধ্যকালীন পিক আওয়ারে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু সংকট মোকাবিলায় সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। তবে এসএস পাওয়ারের ইউনিট চালু হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৮৫ মেগাওয়াটে। পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, তেলের মজুতও সীমিত।
তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ অত্যন্ত বেশি। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয় ২২ থেকে ২৪ টাকা, অথচ পিডিবি তা বিক্রি করে মাত্র ৬ টাকা ৬৫ পয়সায়। ফলে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে সরকারের লোকসান বাড়ে। গত অর্থবছরে পিডিবি বিদ্যুৎ কিনে মোট ৫৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। সরকার ভর্তুকি দিয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা, বাকি ১৭ হাজার কোটি টাকার দায় থেকে গেছে পিডিবির ওপর।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই সময় তেলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাড়ালে গ্রীষ্ম মৌসুমে ব্যাপক লোডশেডিং দেখা দিতে পারে। কারণ তখন বাড়তি ভর্তুকি বা অর্থ বরাদ্দ পাওয়া অনিশ্চিত।
এদিকে ভারতের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রান্সফরমারে সমস্যার কারণে গত তিন দিন ধরে ভেড়ামারা দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হয়েছে। ভারতীয় সরকারি ও বেসরকারি তিনটি প্রতিষ্ঠান এই পথে মোট ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে সেখানে আসছে মাত্র ৪৭৩ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টরা জানান, সেমকন কোম্পানির একটি কেন্দ্রে ট্রান্সফরমার সমস্যার কারণে ৪২০ মেগাওয়াট সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ২৬ জানুয়ারির পর সমস্যা সমাধান হলে পূর্ণমাত্রায় সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
উল্লেখ্য, ভেড়ামারা দিয়ে আমদানিকৃত বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিট প্রায় সাড়ে ৮ টাকা। এ ছাড়া ত্রিপুরা হয়ে আরও ১১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে, যা বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। সব মিলিয়ে ভারত থেকে সরকার প্রায় ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে থাকে।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আদানি গ্রুপের ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি আগামী মাসের ৯ তারিখে পুনরায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে। সেটি সময়মতো চালু হলে এবং ভারত থেকে পূর্ণ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে খালাস করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে বহনকালে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিকস পণ্যসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পতেঙ্গা থানার ১০ নম্বর ঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার বিএন সুমন আল মুকিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, একটি অসাধু চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিকস সামগ্রী খালাস করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ১০ লাখ ৫২ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে একটি ফ্রিজ, একটি ডিপ ফ্রিজ, দুটি ওয়াশিং মেশিন, একটি পোর্টেবল এসি, চারটি ফুল ইউনিট এসি এবং একটি আউটডোর এসি। এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দকৃত আলামত ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের উপকূলীয় ও নদীবন্দর এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি, দুর্বল দলীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং নারীর সীমিত প্রতিনিধিত্ব—এই তিনটি প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করেছেন যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ফার্নান্দো ক্যাসাল বের্তোয়া। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থায়নের মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছেন। যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ফার্নান্দো ক্যাসাল বের্তোয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার তিনটি মূল সমস্যা হিসেবে দুর্নীতি, রাজনৈতিক দলের দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং নারীর সীমিত প্রতিনিধিত্বকে চিহ্নিত করেছেন। বুধবার ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে ‘মানি ইন পলিটিকস: পার্টি ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও দর্শন এবং রাজনীতি বিজ্ঞান ও সমাজতত্ত্ব বিভাগ। ফার্নান্দো বের্তোয়া বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো উচ্চমাত্রার দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি। তার মতে, রাজনৈতিক দুর্নীতি এখানে গভীরভাবে প্রোথিত এবং শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গেও যুক্ত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। ফলে নেতৃত্ব নির্বাচন, প্রার্থী বাছাই এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থায়ী ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি, যা গণতন্ত্রের জন্য বড় বাধা। নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে নারীর উপস্থিতি কম হওয়ায় নীতিনির্ধারণে বৈচিত্র্য ও গুণগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুশাসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই তিন সমস্যার সমাধানে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন চালুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার মাধ্যমে পাবলিক ফান্ডিং দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করতে পারে, দুর্নীতি কমাতে সাহায্য করে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ভারসাম্যপূর্ণ করে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন একমাত্র সমাধান নয়। এর সঙ্গে কঠোর তদারকি, স্বচ্ছ হিসাব-নিকাশ, ব্যয়ের সীমা এবং কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি ধীরে ধীরে জনসেবা থেকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তার মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের আগে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন ব্যবস্থায় গভীর সংস্কার প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত বক্তারা রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান। তিনি বলেন, ব্যাংক হিসাব খোলা ও ব্যবসায়িক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন। জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও ব্যবসা সহজীকরণের কথা বললেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু কর-সংক্রান্ত উদ্যোগ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের নিবন্ধনের জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে। তিনি এ বিষয়ে সরকারের পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে তিনি বাজেটের কয়েকটি উদ্যোগের প্রশংসাও করেন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিডডে মিল চালুর পরিকল্পনা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ এবং ফ্রিল্যান্সারদের আয় করমুক্ত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন দলের সদস্যরা রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। কেউ কেউ বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ভবিষ্যতমুখী বলে অভিহিত করলেও বিরোধী দলের সদস্যরা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, ব্যাংক খাতের আস্থা সংকট এবং মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এদিকে নারী উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও তরুণদের জন্য কর-সুবিধা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে তুলে ধরেন সরকারি দলের সদস্যরা। তারা বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।