প্রবাসী

ঐক্য-মানবিকতার বার্তা নিয়ে আমিরাতে এয়াছিন নগর প্রবাসী পরিষদের মিলনমেলা

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে মরুভূমির কর্মব্যস্ত জীবনেও নাড়ির টান ভোলেননি তারা। নিজ গ্রামের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার এয়াছিন নগর গ্রামের প্রবাসীরা।

 

এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও আবাসনসহ নানামুখী মানবিক সহায়তার অঙ্গীকার নিয়ে সম্প্রতি আমিরাতের আজমানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এয়াছিন নগর প্রবাসী পরিষদ ইউএই’-র বার্ষিক মিলনমেলা।

 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আজমানের ওয়াসিস হাউস ময়দানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমিরাতের সাতটি প্রদেশ থেকে কয়েক’শ প্রবাসী সপরিবার অংশ নেন। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম ও কর্মব্যস্ত প্রবাসীদের মাঝে নিজ সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাতে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করে সংগঠনটি।

 

অনুষ্ঠানে আগতদের আনন্দ দিতে শওকত জাহান কাউছারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াইসহ পাঁচ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এ ছাড়া শিশুদের জন্য ছিল নাত ও কিরাত প্রতিযোগিতা।

 

অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ মুহূর্ত ছিল সংবর্ধনা পর্ব। আমিরাতের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিশ্ব গণিত প্রতিযোগিতায় সেরা দশে স্থান করে নেওয়ায় এয়াছিন নগরের কৃতি সন্তান দিদারুল আলমের কন্যা মালিহা নুজাহাতকে বিশেষ প্রশংসা সনদ দেওয়া হয়।

 

প্রতিযোগিতা শেষে মুহাম্মদ মোরশেদ ও মুহাম্মদ জামাল উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ দিদারুল আলম এবং মূল বক্তব্য পেশ করেন উপদেষ্টা এইচ এম মাহাবুব।

 

বক্তারা বলেন, বিগত পাঁচ বছর ধরে এই সংগঠনটি এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা এবং দুস্থ মানুষের বাসস্থানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সেবার পরিধি আরও বাড়াতে এবং প্রবাসীদের পারস্পরিক সহযোগিতায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন– সিআইপি হাসান মোরশেদ, সিআইপি নজরুল ইসলাম, সিআইপি ওসমান আলী, উপদেষ্টা এজাহার সুলতান, রাশেদ মিয়া, এম জে আজগর, আমানত খান, শওকত জাহান কাউছার, গিয়াসউদ্দিন তালুকদার, মোহাম্মদ মোরশেদ, এইচ এম ফরহাদ, মোহাম্মদ এরশাদ, দিদারুল আলম, মোরশেদ আলম, মাসুদ করিম, ফোরকান আলী, মোজাম্মেল হোসাইন সুজন, আবদুর রহমান বাবু, মোরশেদুল আলম শেহেরু, মোহাম্মদ লোকমান ও তুষার ইমরান প্রমুখ।

 

সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। 

 

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে হজরত এয়াছিন শাহ (রহ.)-এর ফাতেহা উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী মেজবানি তবরুক বিতরণের মাধ্যমে মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্যারিসে শোক বই উন্মুক্ত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস ৬ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত শোক বই উন্মুক্ত করে।    এ উপলক্ষ্যে প্যারিসে অবস্থিত বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের রাষ্ট্রদূত, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা দূতাবাস প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে শোক বার্তা প্রদান করেন। এছাড়াও, ই-মেইলের মাধ্যমেও বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন থেকে শোক বার্তা প্রেরণ করা হয়।   শোক প্রকাশে অংশ নেন ফ্রান্স, মোনাকো ও আইভোরি কোস্টে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। তারা ডিজিটাল শোক বইয়ের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।   প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস, শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে এবং বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্যাডেট বিনিময় কর্মসূচি : মালদ্বীপ সফরে বিএনসিসি প্রতিনিধিদল

ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসে খালেদা জিয়ার শোকবইয়ে কূটনৈতিকদের শ্রদ্ধা

ছবি: সংগৃহীত
খালেদা জিয়ার স্মরণে আমিরাতে প্রবাসী বিএনপির দোয়া মাহফিল

সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।   সম্প্রতি দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল সিটির নাহিদ আল মদিনায় ‘আনোয়ারা-কর্ণফুলী জাতীয়তাবাদী দল’-এর উদ্যোগে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় খতমে কোরআন ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বিএনপি নেতা মোহাম্মদ কায়সারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ সরওয়ার জামাল নিজাম। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমিরাত শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউএই বিএনপি নেতা এস এম এরশাদুল আলম।   আলোচনা সভায় বক্তারা খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবিস্মরণীয় অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তারা বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীনতা, দেশপ্রেম ও সাহসিকতার প্রতীক। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ হবার নয়।’   অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– মোহাম্মদ শওকত হায়াত খান, মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ বাবুল উদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন রানা, মোহাম্মদ ইলিয়াস কাঞ্চন, মোহাম্মদ কামাল, আবু তাহের, কপিল, মোহাম্মদ ফারুক ও আসিফ। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মোহাম্মদ শরীফ আজাদ।   স্মরণ সভায় বক্তারা প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে ভোটকেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং তাদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে গ্রেটার শাহারপাড়া যুবসংঘের ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যালট পেপার হাতে উচ্ছ্বসিত

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ‘ওয়ার্ডপ্রেস ক্যাম্পাস কানেক্ট’, বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ব্যালট পেতে চরম ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করলেও বিদেশে তা সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তিতে এমন ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন প্রযুক্তি পেশাজীবী ও ইয়ুথ হাব মালয়েশিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল সারওয়ার। বুধবার তিনি জানান, প্রবাস থেকে দেশের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা ছিল অত্যন্ত আনন্দের; কিন্তু মালয়েশিয়ার পোস্টাল সার্ভিস পোস লাজু-এর ট্র্যাকিং জটিলতায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই হতাশায় রূপ নেয়। অ্যাপের ট্র্যাকিংয়ে তার ব্যালট পেপারটি ‘ডেলিভার্ড’ দেখালেও বাস্তবে তিনি তা পাননি। এমনকি তাকে কোনো ফোন কল বা নোটিশও দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিনি কুয়ালালামপুরে পোস লাজু-এর প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি বলে পার্সেলটি ‘রিটার্ন’ করা হয়েছে। তবে পাভেল সারওয়ারের দাবি, তাকে কোনো কলই করা হয়নি। সেখানে গিয়ে তিনি আরও লক্ষ্য করেন, একই অভিযোগ নিয়ে আরও চার থেকে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমার অধিকার; কিন্তু পোস্টাল সার্ভিসের এমন গাফিলতি দেখে আমি হতাশ। আমি নিজে অফিসে গিয়ে ব্যালট সংগ্রহ না করলে আমার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকত না। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে একই সমস্যায় পড়তে দেখেছি। আমরা চাই না, এমন অসতর্কতায় কারো নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হোক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো—ট্র্যাকিং নম্বর জানা থাকলে অন্য যে কেউ খুব সহজেই ব্যালট সংগ্রহ করে নিতে পারে। পোস লাজু অফিসে কোনো আইডি যাচাই ছাড়াই শুধু নাম ও পাসপোর্ট নম্বর লিখে সাইন করলেই পার্সেল দেওয়া হচ্ছে। এতে পার্সেল কে নিচ্ছে, তা কিভাবে যাচাই করা হচ্ছে? মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন, শুধুমাত্র অ্যাপের ট্র্যাকিংয়ের ওপর নির্ভর না করে পোস লাজু-এর ওয়েবসাইটে নিয়মিত ট্র্যাকিং নম্বর যাচাই করতে। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে কলের অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে ব্যালটটি বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করা যায়। এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও সফল করতে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তারা প্রবাসীদের নিয়মিত তথ্য প্রদান, দিকনির্দেশনা ও সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা কুয়েত প্রবাসীদের

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত থেকে ৪০ হাজার প্রবাসীকে বিতাড়িত করা হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

১১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

0 Comments