আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে বাড়ছে ইসরায়েলিদের দেশত্যাগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬

ইসরায়েল থেকে নাগরিকদের দেশত্যাগের প্রবণতা ২০২৫ সালেও অব্যাহত রয়েছে। টানা তৃতীয় বছরের মতো প্রায় ৫০ হাজার ইসরায়েলি এক বছরের বেশি সময়ের জন্য দেশ ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএইউ) এক গবেষণা। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রায় ৪৯ হাজার করে ইসরায়েলি এক বছরের বেশি সময়ের জন্য দেশ ছেড়েছিলেন। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (সিবিএস) ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা মনে করছেন, ২০২৫ সালেও একই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইতাই আতের, স্কুল অব ইকোনমিকসের প্রধান নিত্তাই বার্গম্যান এবং গবেষক ডরন জামির। গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও টিএইউর কলার স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ইতাই আতের বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা দেশত্যাগের হার বাড়িয়ে দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

 

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধীদলীয় রাজনীতিকরা এটিকে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিবিএস ২০২৫ সালের দেশত্যাগসংক্রান্ত প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করলেও তাদের পদ্ধতিতে একজনকে অভিবাসী হিসেবে গণ্য করা হয় তখনই, যখন তিনি বছরের অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে কাটান। ফলে ২০২৫ সালের হিসেবে অন্তর্ভুক্ত অনেকেই বাস্তবে ২০২৪ সালে দেশ ছেড়েছেন। এ কারণে ২০২৫ সালের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান ২০২৭ সালের শুরুতে প্রকাশিত হবে।

এর আগে প্রবণতা বোঝার জন্য গবেষকরা তিন মাসের বেশি সময় বিদেশে অবস্থানকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন মাসের বেশি সময় বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং শেষ পর্যন্ত এক বছরের বেশি সময় বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যার মধ্যে ০.৯৬ মাত্রার উচ্চ পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই ২০২৫ সালের সম্ভাব্য দেশত্যাগের হিসাব করা হয়েছে।

 

গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত তিন মাসের জন্য দেশের বাইরে ছিলেন ৯০ হাজার ৯২২ জন ইসরায়েলি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ৪৯৯ এবং ২০২৩ সালে ৮৬ হাজার ৫০৯ জন। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৯ জন ইসরায়েলি অন্তত তিন মাসের জন্য দেশ ছেড়েছেন।

 

এর বিপরীতে ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ একই ধরনের সময়ের জন্য দেশ ছাড়তেন। আর ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের পুরো তিন বছরে এমন মানুষের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালে এক বছরের বেশি সময়ের জন্য দেশত্যাগকারীর সংখ্যা ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে থাকবে।

 

গবেষক ইতাই আতের বলেন, এই সংখ্যা সিবিএসের আগে প্রকাশিত ৬৯ হাজারের হিসাবের চেয়ে কম। কারণ তাদের বিশ্লেষণে গত তিন বছরে আসা নতুন অভিবাসীদের, বিশেষ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আসা ব্যক্তিদের, অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

তিনি বলেন, সরকারপক্ষের দাবি ছিল দেশত্যাগকারীদের বড় অংশই নতুন আগত অভিবাসী। তাই দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রকৃত দেশত্যাগের চিত্র তুলে ধরতেই এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল বিরল এক নিট অভিবাসন ঘাটতির মুখে পড়েছে। অর্থাৎ দেশে আসার চেয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়ার সংখ্যা বেশি।

 

ইহুদি জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জিও ডেলা পেরগোলার মতে, ১৯৫০ ও ১৯৮০-এর দশকের কিছু সময় ছাড়া ইসরায়েলের ইতিহাসে সাধারণত দেশত্যাগের তুলনায় দেশটিতে ইহুদি অভিবাসনের সংখ্যাই বেশি ছিল।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অতীতে অর্থনৈতিক সুযোগের খোঁজে অনেকেই ইসরায়েল ছেড়ে গেলেও বর্তমানে দেশত্যাগের পেছনে সরকারের নীতি, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে। এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী লিলাচ লেভ আরির সাম্প্রতিক গবেষণারও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ইতাই আতের বলেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো ২০২৫ সালেও উদ্বেগজনক হারে মানুষ দেশ ছাড়ছে। এখনই এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি নয়। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দেশত্যাগের হার এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

 

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক সংকট তৈরি না করলেও দেশকে একটি সম্ভাব্য ‘টার্নিং পয়েন্ট’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

 

এতে বলা হয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত নতুন কোনো নেতিবাচক ধাক্কা দেশত্যাগের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর একবার নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে সেই প্রবণতা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হবে এবং এর বড় ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে।

 

প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডেমোক্র্যাটস পার্টির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভ বলেন, রেকর্ডসংখ্যক দেশত্যাগের বিষয়টি মোকাবিলায় সরকারকে বারবার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

 

এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, এটি ইসরায়েলের ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত হুমকি এবং এর সঙ্গে সরকারের আচরণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

 

ইয়েশ আতিদ দলের এমপি মেইরাভ কোহেন ব্যঙ্গ করে বলেন, যে সরকার গাজার বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার কথা বলেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই ৭ অক্টোবরের সরকারই ইসরাইলিদের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহিত করেছে।

 

একই দলের আরেক এমপি কারিন এলহারার বলেন, সরকারের বড় ধরনের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি দেখে প্রতিদিন আরও বেশি ইসরায়েলি হতাশ হয়ে দেশ ছাড়ছেন।

 

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
হোয়াইট হাউসে সিএনএনসহ তিন গণমাধ্যমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান তিনটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প এ–সংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।   ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় পড়া তিনটি সংবাদমাধ্যম হলো—সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও।   হোয়াইট হাউসের এ নিষেধাজ্ঞাকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের আঘাতের সর্বশেষ নজির বলে মনে করছেন অনেকেই।   এ তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে লেখা বা প্রতিবেদন করার সময় তাদের ক্রমাগত মিথ্যা ও মনগড়া লেখার সুযোগ থাকা উচিত নয়।’   ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘ভুয়া খবর প্রচার করা অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তালিকাও আসছে।’   ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প জানান, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়; বরং গত কয়েক বছরে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলোর কারণে তিনি তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘জনগণের বাড়িতে তাদের (ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে) ঢুকতে দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’   এ সময় ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভুয়া খবর প্রচার করা অন্যান্য সংবাদমাধ্যম কোনগুলো। তখন ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্ট আর নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।   ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, সেটা প্রায় নিশ্চিত। কেননা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ওই সংশোধনী নাগরিকদের মতপ্রকাশের এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অধিকার নিশ্চিত করেছে।   কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অসাংবিধানিক। কেননা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীন হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল একটি ‘পাবলিক ফোরাম’ হিসেবে বিবেচিত। তাই কোনো সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে সেখান থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।   ট্রাম্পের এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও গতকাল বিকেলে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউস থেকে দায়িত্ব পালন করে যেতে দেখা গেছে। এক বিবৃতিতে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে তারা।   সংবাদমাধ্যটি বিবৃতিতে আরও জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের অধিকার আমাদের আছে। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন, তা কার্যকর করা হলে সেটি হবে এ মৌলিক ও সংবিধানে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত।’   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে পলিটিকো বলেছে, তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতাধীন অধিকার জোরালোভাবে রক্ষায় লড়াই করবে।   সংবাদমাধ্যমটি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এবং ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসনের বিষয়ে এখনকার মতো নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।   ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর এমএস নাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের দুই অবস্থান পুনর্দখলের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর

সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, রহস্যজনক আঘাত

সংগৃহীত ছবি

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান হামলার দাবি হুথিদের

সংগৃহীত ছবি
সমুদ্রের নিচে ড্রোন সাবমেরিন চালাতে চীনের ‘মাদারশিপ’ নির্মাণ

সমুদ্রের নিচে ড্রোন বা মানুষবিহীন ডুবোযান পরিচালনায় বিশ্বে প্রথম বিশালাকৃতির জাহাজ নির্মান করছে চীন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই জলযানটিকে বিশ্বের প্রথম এ ধরনের ‘মাদারশিপ’ বা ড্রোনবহনকারী বড় জাহাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে শুক্রবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, চীনের সবচেয়ে বড় উপকূলীয় শহর সাংহাইয়ে অবস্থিত হুদং-ঝংউয়া শিপ ইয়ার্ডে জাহাজটি দেখা গেছে। এ শিপ ইয়ার্ডটিতেই আগে চীনের বিশাল উভচর আক্রমণাত্মক যুদ্ধজাহাজগুলো নির্মিত হয়েছিল।   ইন্ডিপেন্ডেন্টের মতে ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য জোরাল করার উদ্দেশ্যে বেইজিং যে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, এ মাদারশিপ নির্মান তারই অংশ।   খবরে বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে এ মাদারশিপ হবে উভচর; যা চীনের অত্যন্ত গোপনীয় ‘এক্সট্রা-এক্সট্রা-লার্জ’ ড্রোন সাবমেরিনের (এক্সএলইউইউভি) অন্তত চারটি বহন করতে সক্ষম। এক্সএলইউইউভি মডেলের এই ডুবোযানগুলোর অন্তত দুটির কথা জানা যায়। এর মধ্যে একটির দৈর্ঘ্য ১১৫ ফুট; যা মার্কিন নৌবাহিনীর ‘অরকা’ ড্রোনের চেয়ে দ্বিগুণ বড়। অন্যটির দৈর্ঘ্য ১৪৮ ফুট।   নৌ বিশ্লেষক এইচ আই সাটন সম্প্রতি নেভাল নিউজে লিখেছেন, “এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হল, এটি বিশেষ কোনো ড্রোন সাবমেরিন মাদারশিপ। এই জাহাজের সম্ভাব্য ভূমিকা মূল্যায়নে বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।”   বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশালাকৃতির এই উভচর জাহাজের মূল বডি প্রায় ৬৭০ ফুট লম্বা এবং ৮৮.৫ ফুট চওড়া। এর পেছনের অংশে একটি ‘ওয়েট ওয়েল ডেক’ (আধুনিক উভচর যুদ্ধজাহাজের পেছনের অংশে পানির সমতলে অবস্থিত হ্যাঙ্গার বা বড় কক্ষের মত ডেক) এবং একটি ক্রেডল (বিশেষ কাঠামো বা ফ্রেম, যা জাহাজ, নৌকাকে শুকনো ভূমিতে সোজা ও নিরাপদে ধরে রাখতে, পানিতে নামাতে বা জলপথে পরিবহন করতে ব্যবহার করা হয়) রয়েছে, যা ১২টি উল্লম্ব জ্যাক আপ আর্মসের সাহায্যে পানির নিচে নামানো সম্ভব।   জাহাজটির আকার বিবেচনা করে নেভাল নিউজের অনুমান, এটি তার ভেতরের হ্যাঙ্গারে অত্যন্ত গোপনীয় অন্তত চারটি ড্রোন সাবমেরিন বহনে সক্ষম। ফলে এটি বেসামরিক বা গবেষণার কাজে ব্যবহৃত কোন জাহাজ বলে ব্যাখা এলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।   প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাটেলাইট চিত্র থেকে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তি শক্ত হলেও তা চূড়ান্ত নয়। ব্রিটিশ রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সহযোগী সদস্য আলেসান্দ্রো আরদুয়িনো বলেন, “স্যাটেলাইট চিত্রগুলো এটি প্রমাণ করে না যে চীন বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযানের জন্য মাদারশিপ তৈরি করছে। নতুন এই জাহাজটি অটোমেটেড বা স্বায়ত্তশাসিত প্রযুক্তিতে চীনের বিপুল বিনিয়োগেরই প্রতিফলন। এই বিনিয়োগের উদ্দেশ্য কেবল প্রথাগত নৌশক্তি বৃদ্ধি করা নয়, বরং সেই শক্তি কীভাবে বজায় রাখা হবে তার কৌশল পুরোপুরি বদলে দেওয়া।”   ভারতের তক্ষশীলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক আদিত্য রমানাথন চীনের এই জাহাজটি সম্পর্কে বলেন, “এটি একেবারেই নতুন ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম। এ ধরনের কোনো সাবমেরিনবাহী জাহাজ অন্য কোনো দেশের আছে বলে আমার জানা নেই।”

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। সংগৃহীত ছবি

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের ঐতিহাসিক চুক্তি, সই হবে জাতিসংঘে

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার ইউরোপমুখী যাত্রা ‘বড় ভুল’: ওয়াশিংটন পোস্ট

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি-হুতির পাল্টাপাল্টি হামলা, প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছেন ইয়েমেনিরা

ছবি: সংগৃহীত
দলের নাম-প্রতীক হারানোর পর মুখ খুললেন মমতা

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণের পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, কমিশনের এই পদক্ষেপ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায় এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত কোনও গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।    শুক্রবার কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর জন্য ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক বরাদ্দ করেছে। বিরোধী গোষ্ঠীর জন্য দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম প্রতীক। এই ব্যবস্থা আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে।   এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, উপনির্বাচনের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার দাবি, এইভাবে একটি ২৮ বছরের পুরনো দলের নাম ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া যায় না।   মমতার কথায়, ‘আজ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়। অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এটা অন্তর্বর্তী নির্দেশ হলেও আমরা মাথানত করব না।’ তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন হয়েছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচনের যাবতীয় নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তারপরও এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী।মমতার আরও অভিযোগ, ‘মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে।’ তার দাবি, দেশে বহু নামহীন রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, তৃণমূলের ক্ষেত্রে কেন তা নেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই কমিশন এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করছে। ফলে দলীয় নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই পক্ষকে সমান সুযোগ দিতে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী প্রতীক বিধির অধীনে বিস্তারিত প্রক্রিয়া শেষে।   এদিকে মমতা বিরোধী শিবিরকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তার অভিযোগ, যারা তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই করছে, তারা দলের স্বার্থের কথা ভাবছে না।    তার দাবি, প্রকৃত তৃণমূল কে এবং কারা অন্য পরিচয়ে দলকে দখল করতে চাইছে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হয়ে যাবে।তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে আপাতত তৃণমূলের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা শিবিরকে পুরনো নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই ভোটের মাঠে নামতে হবে। মমতা জানিয়েছেন, এই লড়াই এখানেই শেষ নয়। উপনির্বাচন শেষ হওয়ার পর দলীয় নাম ও প্রতীকের বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথাও তিনি জানিয়েছেন। রেজিনগর নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ায় ফিজিতে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় মসজিদের বাইরে বিস্ফোরণ, নিহত ১৬

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। ছবি: সংগৃহীত

ফের প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ঘোষণা এরদোগানের

0 Comments