অবশেষে রোববার সকালে সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতিশ্রুত দেড় কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অনিশ্চয়তা ও নানা আলোচনার পর মাঠের তারকারা অবশেষে তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পেলেন।
২০২২ সালে ইতিহাস গড়ে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নতুন মানচিত্র এঁকেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এরপর ২০২৪ সালেও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে তারা প্রমাণ করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব।
সাফ শিরোপা জয়ের পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল নারী ফুটবল দলকে দেড় কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণার কথা জানান। সেই ঘোষণা তখন প্রশংসাও কুড়ায়।
ঋতুপর্ণা চাকমা, সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্দারা মাঠে নিজেদের ঘাম, ক্লান্তি আর সীমাহীন পরিশ্রম দিয়ে দেশের পতাকা উঁচুতে তুলেছিলেন।তারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অস্বস্তিকর শূন্যতায়। শিরোপার গৌরব আর প্রাপ্য সম্মানের মাঝখানে তৈরি হয় দীর্ঘ প্রতীক্ষার এক কঠিন দেয়াল।
অবশেষে রোববার সকালে নারী ফুটবলারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতিশ্রুত দেড় কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। ২৩ জন খেলোয়াড়কে পাঁচ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। বাকি ৩৫ লাখ টাকা কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক সাবিনা খাতুন অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পুর্তি উপলক্ষে মালেতে চার জাতির টুর্নামেন্ট চলছে। ফাইনাল খেলতে হলে স্বাগতিক মালদ্বীপকে হারানোর বিকল্প ছিল না। এমন ম্যাচে বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। আজ দিনের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ২-০ গোলে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট পেয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করে। আফগানিস্তান ৪ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাংলাদেশ মালদ্বীপকে হারালে ৫ পয়েন্টে ফাইনাল খেলত। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ড্র করায় আফগানিস্তান পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে। ম্যাচের শুরু থেকে বাংলাদেশ জয়ের চেষ্টা করে। ১৩ মিনিটে মালদ্বীপ পেনাল্টি পায়। বক্সের মধ্যে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মালদ্বীপের ফরোয়ার্ডের পায়ে আঘাত করেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। বাংলাদেশের গোলরক্ষক শ্রাবণের পক্ষে পেনাল্টি সেভ করা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ সমতা আনে পেনাল্টিতেই। বাংলাদেশের সংঘবদ্ধ আক্রমণ বক্সের মধ্যে মালদ্বীপের ফুটবলারের হ্যান্ডবল হলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। মিরাজুল পেনাল্টি থেকে সমতা আনেন। ম্যাচের বাকি সময় বাংলাদেশ গোলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে মালের মাঠ কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয়। রেফারির সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ম্যাচের শুরু থেকেই অখুশি ছিল। একেবারে শেষ মিনিটে এক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ডাগ আউট ক্ষোভে ফেটে পড়ে। রেফারি বাংলাদেশের টেন্টে থাকা মিরাজুলকে লাল কার্ড দেখান। এতে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আরেকজন লাল কার্ড দেখেন। বাংলাদেশের কোচিং স্টাফ খেলোয়াড়দের শান্ত করে খেলায় ফিরিয়ে আনেন। এরপর বাংলাদেশের বক্সে মালদ্বীপের ফুটবলাররা অযথা শারীরিক আক্রমণ করেন। এতে দুই দলের ফুটবলাররা মারামারিতে লিপ্ত হয়। গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরাও এতে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। টুর্নামেন্টের অন্য তিন দল সিনিয়র জাতীয় দল খেলিয়েছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক দল পাঠিয়েছে। স্বল্প প্রস্তুতি ও অল্প অভিজ্ঞতার মধ্যেও বাংলাদেশের ফুটবলাররা তিন ম্যাচে এক পয়েন্ট করে আদায় করেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন ও ১৭তম সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। রোববার (৭ জুন) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে বোর্ড পরিচালক এবং সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে গত দুই মাস অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের পর, আজ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে বিসিবির নতুন সভাপতি (নির্বাচিত হিসেবে ষষ্ঠ) নির্বাচিত হন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক ও জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে এক বিশাল বড় ও সাহসী ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখন থেকে দেশের ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো ধরনের আপস বা স্যাক্রিফাইস করা হবে না। একই সঙ্গে বিগত এক-দেড় বছরে দেশের ক্রিকেটারসহ ক্রিকেটের সাথে জড়িত স্টেকহোল্ডারদের সম্মানের জায়গায় যে তীব্র ঘাটতি ও অবমাননাকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন নতুন এই বোর্ড সভাপতি। সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল ক্রিকেটারদের মানবিক মর্যাদা, অধিকার ও খেলার মান উন্নয়নের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের ওপরে কোনো ধরনের কোনো আপস করা হবে না। আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের যতটুক রেসপেক্ট বা সম্মান করা দরকার, তা নিশ্চিত করা হবে। এটা কেবল বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য নয়, বরং সাবেক ও উদীয়মান সকল ক্রিকেটার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতিটি স্টেকহোল্ডার যেন পূর্ণ সম্মান পান, তা আমরা নিশ্চিত করব। বিগত এক-দেড় বছরে এখানে যে বড় ধরণের ঘাটতি ছিল, সেই ট্র্যাডিশন আমাদের অনতিবিলম্বে ঠিক করতে হবে।’ একই সাথে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ক্রিকেটের ক্ষুণ্ন হওয়া ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নানামুখী বিতর্কের কারণে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে রেপুটেশন ড্যামেজ বা সুনাম নষ্ট হয়েছে, এই জিনিসটা আমাদের সম্মিলিতভাবে ঠিকঠাক করতে হবে। এটা আমি একা কোনোভাবেই পারব না, এখানে দেশের সংবাদমাধ্যমসহ ক্রিকেটপ্রেমী সবার নিঃশর্ত সাপোর্ট দরকার।’ বিসিবি সভাপতি হওয়াকে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন উল্লেখ করে তামিম ইকবাল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার এই স্বপ্নটা অনেক বছর ধরেই ছিল, এমনকি যখন আমি মাঠে খেলতাম তখনও। ওই সময় ক্রিকেটীয় নানা অসঙ্গতি দেখে আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, হয়তোবা আমি কোনোদিন এই নীতিনির্ধারণী জায়গায় আসতে পারলে একটা পজিটিভ ডিফারেন্স বা পরিবর্তন আনতে পারব। যেটা এখন আমাকে মাঠের বাইরে কাজ করে প্রমাণ করতে হবে। এটা নিঃসন্দেহে একটি ম্যাসিভ রেসপন্সিবিলিটি বা বিরাট বড় জাতীয় দায়িত্ব। যেহেতু টাইম টু টাইম এসব সংস্কার নিয়ে আমি অতীতে অনেক কথা বলেছি, আমি বলেছি যে আমি এটা করতে চাই, ওটা করতে চাই; নাও ইটস টাইম আই আস্ক মাইসেলফ টু ডেলিভার অর্থাৎ এখন আমার নিজের কাজ করে দেখানোর আসল সময়।’ বোর্ডে সুস্থ নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নতুন সভাপতি বলেন, ‘আমি যে ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক পদে নির্বাচন করেছি, সেখানে প্রচণ্ড পরিমাণ কনটেস্ট বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। অনেকে আমাকে আগেই প্যানেল ডিক্লেয়ার করতে বলেছিল। কিন্তু আমি প্যানেল দিলে নির্বাচনটা ওয়ান সাইডেড বা একতরফা হয়ে যেত। প্যানেল না করার সবচেয়ে বড় রিজন ছিল যাতে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পায় এবং নির্বাচনটা খুব নাইস ও স্মুথ হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, নবনির্বাচিত ২৫ জন পরিচালকের ব্যক্তিগত আইডেন্টিটি বা রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক না কেন, সবার ইনটেনশন বা উদ্দেশ্য যদি ঠিক থাকে, তবেই দেশের ক্রিকেটকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। বোর্ডে একাধিক সহ-সভাপতি রাখার পুরোনো প্রথা ভেঙে এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির একমাত্র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম সিনহা। বোর্ডে কেবল একজন সহ-সভাপতি রাখার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তামিম ব্যাখ্যা দেন, ‘আমি নিজে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে বোর্ডে এখন একজনই ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকবেন। পাস্টের যে এক্সপেরিয়েন্স বা অতীত অভিজ্ঞতা, তাতে একাধিক ব্যক্তি থাকলে অনেক সময় নিজেদের মধ্যে একটা ইগো চলে আসে বা একটা ফাইট চলে আসে। সো আমি চাই না যে বোর্ডে এই ধরনের কোনো নেতিবাচক জিনিস হোক। পুরো বোর্ড আমার এই সংস্কার প্রস্তাবে একমত পোষণ করেছে এবং সবাই হাত তুলে সমর্থন দিয়েছে।’ অন্যদিকে বিসিবি টিভি চালু করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে তা নাকচ করে বলেন, ‘ভাইয়া, আমার মনে হয় বিসিবি টিভির আগে আমার আরও অনেক বেশি ইম্পর্টেন্ট কাজ আছে।’ পূর্বাচলের নতুন স্টেডিয়াম ও হাই পারফরম্যান্স সেন্টার নিয়ে নিজের বড় স্বপ্নের কথা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘হাই পারফরম্যান্স সেন্টার গড়ে তোলা প্রবাবলি আমার বিগেস্ট ড্রিম। পপুলারস নামের একটা কোম্পানি এটাকে আগে ডিজাইন করেছিল। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর ডিজাইনটা দেখে খুব বেশি পছন্দ হয়নি। তাই উনাদেরকে ইনভাইট করেছি, নতুন করে বিশ্বমানের ডিজাইন করা যায় কিনা দেখছি। দ্রুত এই ডিজাইন নিয়ে কাজ করে আমরা আশা করি পূর্বাচলে মূল কাজ স্টার্ট করে দিতে পারব। ইনিশিয়ালি হয়তোবা বিসিবি নিজস্ব ফান্ডিং করে কাজ স্টার্ট করতে পারে, তবে সরকারের সাপোর্টও দরকার।’ বোর্ডের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের মঙ্গলের জন্য যা যা করা দরকার, যদি কোনো গঠনতন্ত্রের চেঞ্জ আনতে হয়, তবে অবশ্যই আমরা তা নিয়ে বোর্ড সভায় আলোচনা করব। আমরা যতটুক বেশি পারি ট্রান্সপারেন্ট বা স্বচ্ছ থাকতে চাই। আমি বা আমার বোর্ড মেম্বাররা এমন কোনো কাজ করুক যেটার জন্য আমরা বিতর্কিত হই, এটা আমি অবশ্যই চাবো না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। আগেও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ছিল বিসিবিতে। তবে এবার যেন অতীতের সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় সংসদেও বিসিবিকে বলা হয়েছে ‘বাপের দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ড। সব সমালোচনা ঝেড়ে ফেলে তামিম এখন দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। প্রশ্নবিদ্ধ, বিতর্কিত নির্বাচন বিসিবিতে নতুন কিছু নয়। আজ অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনও একই রকম। এবার তামিম ৭৪ ভোটের মধ্যে ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক হয়েছেন। পরিচালকদের ভোটে বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৭তম বিসিবি সভাপতি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আজ তামিম বলেন, ‘অনেকে অনেক রকম ট্যাগ দিচ্ছেন। দেখি বাপের দোয়া থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি না।’ সবশেষ গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে সভাপতি হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সহ-সভাপতি হয়েছিলেন শাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ। আট মাস পর আজ অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে সহ-সভাপতি হয়েছেন ফাহিম সিনহা। কেন একজন সহ সভাপতি এবারের বিসিবি নির্বাচনে—এর ব্যাখ্যায় তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রে দুই জন সহ-সভাপতি দিতে পারি আমরা। কিন্তু এটাতে অতীতের যে অভিজ্ঞতা, তাতে অনেকের মধ্যে ইগো চলে আসে। যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব দেখা যায়।’ বিসিবি নির্বাচন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় কেটেছে তামিমের। স্বাভাবিকভাবেই তিনি অনেক ক্লান্ত। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর কী কী করবেন, তা ধাপে ধাপে সবাইকে জানানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তামিম। নবনির্বাচিত বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমার কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে আপনাদের জানাব। অ্যাডহক কমিটিতে থাকা অবস্থাতেই কিছু কিছু জিনিসের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আশা করি, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে পারব। আজ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এখানে আছি। খুবই ক্লান্ত। আমার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করতে চাই আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। তবে যা-ই করি, সব আপনারা জানতে পারবেন। আমি আপনাদের ক্রিকেটের এই ইকোসিস্টেমের বড় অংশ মনে করি।’ ২৫ জন পরিচালকের মধ্যে ১২ জন আজ ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তামিম নিজেই ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের কাউন্সিলর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ক্লাব ক্যাটাগরিতে ১৬ জন থেকে ১২ জন নির্বাচিত হয়েছেন। যাঁদের মধ্যে আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহীম, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরুর ছেলে ইসরাফিল খসরু ও মন্ত্রী পদমর্যাদায় রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির। যে ক্যাটাগরি থেকে তামিম নির্বাচন করেছেন, তা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল বলে দাবি তার। নতুন বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি যে ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচন করেছি, অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। একজন মাত্র এক ভোটের জন্য পরিচালক হতে পারেননি। আমাকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন সময়ে বলেছেন যেন একটা প্যানেল ঘোষণা করা হয়। প্যানেল ঘোষণা করলে এক তরফা নির্বাচন হয়ে যেত। আমি এ কারণেই প্যানেল ঘোষণা করতে চাইনি। এখানে ১৬ প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সবাইকে সমান সুযোগ দিতে চেয়েছি।’ গত এক-দেড় বছরে ক্রিকেটের যা দুর্নাম হয়েছে, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হবে না বলে মনে করেন তামিম। সে লক্ষ্যে সবার সহায়তা কামনা করেছেন তিনি। আজ সাংবাদিকদের বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সামনে অনেক কঠিন পথ আসবে। আমরা ভুল করব। ভুল থেকে শিখে সঠিক কাজ করব। এটাই আমাদের করা উচিত। আমরা তাই করব। কিন্তু ক্রিকেটের ওপরে কোনো কিছু ত্যাগ করব না। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত সবাইকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে। গত এক-দেড় বছরে এখানে ঘাটতি ছিল। আমি আপনাদের অনুরোধ করব। অনেক ধরনের আলোচনা হয়েছে। অনেক কথা বলা হয়। আমাদের কোনো ভুল হলে অবশ্যই সমালোচনা করবেন। তবে আমাদের একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে ক্রিকেটের অনেক দুর্নাম হয়েছে। এটা আমি একা ঠিক করতে পারব না। আপনাদের প্রত্যেকের সমর্থন দরকার হবে।’ নির্দিষ্ট কারও দিকে অভিযোগের আঙুল না তুললেও তামিম স্বীকার করছেন, সম্প্রতি অনেক কিছু হয়েছে যা দেশের ক্রিকেটের জন্য কল্যাণকর নয়। নবনির্বাচিত বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস এই রুমে প্রত্যেকেই চান যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বিশ্ববাসী ইতিবাচক চোখে দেখেন। সাংবাদিক, পরিচালক থেকে শুরু করে বিসিবিতে যারা কাজ করেন, প্রত্যেকেই এর অংশ। গত এক-দেড় বছরে যা হয়েছে, তার জন্য আমি কাউকে দোষারোপ করব না। কারও দিকে অভিযোগের আঙুল তুলব না। তবে যা হয়েছে, সেটা স্বীকার করতেই হবে।’ আট মাসের মধ্যে দুবার হয়েছে বিসিবি নির্বাচন। গত বছরের অক্টোবরে আমিনুল ইসলাম বুলবুল হয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। সহসভাপতি হয়েছিলেন ফারুক আহমেদ ও শাখাওয়াত হোসেন। গত ৭ এপ্রিল বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর তামিমকে করা হয়েছিল অ্যাডহক কমিটির প্রধান। এবার তিনিই হলেন ১৭তম বিসিবি সভাপতি। চার বছরের জন্য বিসিবি সভাপতি হয়ে কী করতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়।