ভালোবাসা এক ধরনের অনুভূতি, যা প্রকাশের চেয়ে অনুভবেই বেশি গভীর। সব কথা সবসময় ভাষায় বলা যায় না, তবুও মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে সুন্দর আবেগ হলো ভালোবাসা। রোমিও-জুলিয়েট কিংবা লায়লা-মজনুর মতো চিরন্তন প্রেমের গল্পগুলো আমাদের শিখিয়েছে ভালোবাসা মানেই দু’জন মানুষের অন্তরের বন্ধন।
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বজুড়ে ভালোবাসার সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ প্রপোজ ডে। এই দিনে প্রিয় মানুষের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে অনেকেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করেন। যারা তাদের সম্পর্ককে নতুন নাম দিতে চান কিংবা দীর্ঘদিনের না বলা কথাগুলো জানাতে চান, তাদের জন্য প্রপোজ ডে একটি বিশেষ সুযোগ।
তবে মনের ভেতর ভালোবাসা থাকলেও অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন- কীভাবে বলবেন, কোন উপায়ে প্রস্তাব দেবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রিয় মানুষটির কাছে মনের কথা জানানোর কিছু সৃজনশীল ও সহজ উপায়-
চিঠি কিংবা কবিতা
নিজের মনের ভাবগুলো লিখে প্রিয় মানুষটিকে দিন। লেখার সময় নিজে যা ভাবেন, তাই লিখুন। খুব বেশি লিখতে না পারলে ৪ লাইনের ভালোবাসার একটি কবিতা তাকে উপহার দিতে পারেন। এতে আপনার প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসার কথাও বলা হয়ে যাবে।
স্মৃতিচারণের মাঝে প্রপোজ
আপনাদের নিজেদের স্মৃতিগুলোকে সংগ্রহ করুন। তা হতে পারে কোনো ছবি বা অন্য যেকোনো স্মৃতি। এরপর তা সুন্দরভাবে একটি বাক্সের ভিতরে রাখুন। প্রতিটি ছবির পিছনে একটি নোট লিখুন এবং সর্বশেষ নোটটিতে তাকে প্রপোজ করে ফেলুন।
অনলাইন প্রপোজ
আপনার প্রিয় মানুষটি যদি টেক নির্ভরশীল হয়ে থাকে, তাহলে সে উপায়েই প্রপোজ করুন। তিনি পছন্দ না করে থাকতে পারবে না। নিজেদের জন্য একটি ইন্টারেক্টিভ ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন। এতে আপনাদের মধ্যে কথা বলা আরও সহজ হয়ে যাবে।
আংটি
যদি আপনি অনেকদিন সময় নিয়ে থাকেন, তবে আজ একটি আংটি নিয়ে গিয়ে সাহস করে বলেই ফেলুন ভালোবাসার কথা। সুন্দর একটি আংটি নির্বাচন করে প্রিয়জনকে প্রশ্ন করতে পারেন, সে আংটি-টি পরতে রাজি আছে কি-না?
গান গেয়ে প্রপোজ
মনের ভাব সহজেই প্রকাশ করা যায় গানের মাধ্যমে। আর আপনি যখন প্রিয় মানুষটির সাথে কথা বলতে চাইছেন সেক্ষেত্রে গান উত্তম উপায়। এতে আপনার সঙ্গী সহজেই আপনার কথা বুঝে যাবে। আর গানটি যদি আপনি নিজে লিখে শোনান তাহলে-তো কথায় নেই। এক কথায় গানের মাধ্যমে প্রিয় মানুষটিকে স্পেশাল ফিল করাতে পারলেই আপনার কাজ হয়ে যাবে।
বইয়ের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ
আপনার সেই মানুষটি সাহিত্যপ্রেমী হয়ে থাকে তাহলে কোনো একটি ভালোবাসার বই উপহার দিন, তবে বইয়ে নিজ হাতে দুই লাইনে আবেগের কথাগুলো লিখে দেন। অথবা চিরকুটে ভালবাসা বা বিয়ের প্রস্তাবটি লিখে ভিতরে রেখে দিন এবং তাকে বইটি থেকে একটি নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা পড়তে বলুন। এতে সে প্রচণ্ড অবাক ও খুশি হয়ে উঠবে।
প্রপোজ ডে-র ইতিহাস সরাসরি ভ্যালেন্টাইন্স সপ্তাহের সঙ্গে যুক্ত, যা প্রেম এবং রোমান্স উদ্যাপনের জন্য পরিচিত। ১৮শ এবং ১৯শ শতাব্দীতে ইউরোপ এবং আমেরিকায় পুরুষরা আনুষ্ঠানিকভাবে আংটি দিয়ে তাদের প্রেমিকাকে এই দিনটিতে বিয়ের প্রস্তাব দিত। এটা বিশ্বাস করা হয় যে বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ভ্যালেন্টাইন্স সপ্তাহের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রপোজ ডেও বিশেষ গুরুত্ব পেতে শুরু করে। প্রাচীনকালে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে পুরুষরা হাঁটু গেড়ে বসে তাদের বান্ধবীদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিত।
তবে, এই ঐতিহ্য আজও পালন করা হয়, যা যুগলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বৃদ্ধি করে। তবে সারা বিশ্বের মতো ভারতেও, গত কয়েক দশকে ভ্যালেন্টাইন্স সপ্তাহের সঙ্গে প্রপোজ ডে-র প্রবণতা অনেক বেড়েছে। এই দিনটি পছন্দের মানুষের কাছে ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়।
যাইহোক, যারা দীর্ঘদিন ধরে কাউকে পছন্দ করেন কিন্তু তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে অক্ষম, তাদের জন্য এই দিনটি উপযুক্ত সুযোগ। যদি দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে চান, তাহলে সঙ্গী বা পছন্দের মানুষটিকে ওপরে দেওয়া সাজেশন অনুযায়ী প্রস্তাব দিতে পারেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। বুধবার (০৩ জুন) রাত দুইটার দিকে সীমান্তসংলগ্ন কালিন্দী নদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজন হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর গ্রামের মো. গোলাম রাব্বানীর ছেলে মো. মহিউদ্দিন (৪২) এবং মৃত খাজের আলী সরদারের ছেলে মো. শাহীন (২৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে ওই দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান। পরে কলকাতার হাওড়া হয়ে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থান করে রাজমিস্ত্রি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। বুধবার রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তাঁরা অবৈধভাবে দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বসন্তপুর সীমান্তসংলগ্ন বাশঝাড়িয়া এলাকা দিয়ে কালিন্দী নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাত সোয়া তিনটার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠান। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন এবং একইভাবে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিএসএফের গুলির শিকার হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত দুজনের অবস্থাই গুরুতর হওয়ায় তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই বাংলাদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।
রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর অন্তত সাত থেকে আট দিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্ল্যাটের পরিবেশ ও পরিস্থিতি দেখে বৃদ্ধার শেষ জীবন চরম অবহেলা ও অযত্নে কেটেছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার (৩১ মে) রাতে জাতীয় জরুরি সেবায় (৯৯৯) ফোন পেয়ে মিরপুর-৬ এর সি ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখান থেকে নুরজাহান বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও আলাদা কক্ষে থাকতেন। কয়েকদিন ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে রোববার একজন নার্সকে ডেকে আনেন তার মেয়ে। পরে ওই কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান নার্স। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ওসি বলেন, বৃদ্ধার মেয়ের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি মায়ের মৃত্যুর সঠিক সময়ও বলতে পারেননি। এ কারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, যে কক্ষে নুরজাহান বেগম বসবাস করতেন সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো। কক্ষজুড়ে ছিল আবর্জনা। এমন পরিবেশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও যত্ন থেকে বঞ্চিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের সন্তানরা সবাই উচ্চশিক্ষিত ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে । বড় ছেলে আনিসুর রহমান খুলনা সমুদ্র বন্দরের যুগ্ম সচিব, মেজো ছেলে আশিকুর রহমান বুয়েটের শিক্ষক ও ছোট ছেলে আতিকুর রহমান কানাডা প্রবাসি। তার মেয়ের নাম ফাতিমা নাসরিন সুলতানা। ফাতিমার স্বামীর নাম গোলাম সাকলাইন সাকি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ছিলেন। ৫ বছর আগে তার স্বামী মারা গেলে তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তাদের কোন সন্তান নেই। মঙ্গলবার (২ জুন) সরেজমিনে মিরপুর ৬ নম্বরের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মেইন গেট ভেতর থেকে আটকানো। চারদিকে সুনশান নীরবতা। গেট নক করলে ভেতর থেকে জহির নামে এক ব্যক্তি বের হয়ে জানান, তিনি ৪ বছর এই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। নুরজাহান বেগম এই বাড়ির ৪ তলায় তার মেয়ের সঙ্গে থাকতো। ৩১ মে সন্ধ্যায় জানতে পারেন ৪ তলার বৃদ্ধা ওই নারী (নুরজাহান) মারা গেছেন। তিনি বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে নুরজাহান তার মেয়ের বাসায় আসেন। সেই থেকে মা-মেয়ে এক সঙ্গে থাকতো। নুরজাহানের ৩ ছেলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলেও কখনো মায়ের খবর নিতে আসেনি। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েট শিক্ষক ছেলে আসলেও আসেননি সচিব ছেলে। আরও পড়ুন সড়কবাতি তৈরি দেখতে ফ্রান্স যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক সড়কবাতি তৈরি দেখতে ফ্রান্স যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক সরেজমিনে আরও জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে নুরজহান বেগম তার মেজো ছেলে বুয়েটের শিক্ষক আশিকুরের আজিমপুরের পলাশি এলাকার বাসায় ছিলেন। সেখানে লোকজনের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার মিরপুরে এসে তার মেয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। এদিকে ঘটনার পর সোমবার (১ জুন) রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন নিহতের মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানা। মামলায় ফাতিমা উল্লেখ করেন, ৩১ মে সন্ধ্যায় তার মা নুরজাহান বেগম বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার মায়ের মৃত্যুর ব্যাপারে পরিবারের কারো প্রতি কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নাই বলে মামলায় উল্লেখ করেন ফাতিমা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এস আই শামছুর রহমান এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, নুরজাহান বেগমের ৩ ছেলের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব, একজন বুয়েটের শিক্ষক ও একজন প্রবাসি। প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের গর্ভধারিণী মায়ের কেন এতো অবহেলা হলো বিষয়টি দুঃখজনক।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফেরি ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার রাতে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেল সোয়া ৪টায় হরণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছেড়ে এসে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে পৌঁছায় ফেরি মহানন্দা। নিয়ম অনুযায়ী, ফেরিতে যাত্রী, যানবাহন ও পণ্য উঠানামায় সর্বোচ্চ সোয়া এক ঘণ্টা সময় লাগে। সেই হিসাবে সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফেরিটি পুনরায় চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, তবে ফেরিটি ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে। যাত্রীদের অভিযোগ, বিকেল থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন গাড়ি পারাপারের জন্য বুকিং নেওয়া হয়। তবে ঘাটে পৌঁছে ফেরিটি খালি করার পর সেটিতে বুকিং নেওয়া যানবাহন উঠতে দেওয়া হচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে না ছাড়ার কারণে ফেরিতে থাকা মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে ভ্যাপসা গরমের কারণে নারী ও শিশুদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জসিম উদ্দিন নামে ফেরির এক যাত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর কেন ফেরি ছাড়া হচ্ছে না, তা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। তারা তখন জানায়, এমপি সাহেব আসবেন, তারপর ফেরি ছাড়া হবে। এ সময় ফেরিতে কয়েক শ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।’ যাত্রীদের কয়েকজনের অভিযোগ, যথাসময়ে ফেরি না ছাড়ার কারণে তাঁরা চেয়ারম্যান ঘাট, সোনাপুর বা জেলা শহর মাইজদী গিয়ে ঢাকাগামী রাতের বাস ধরতে পারেননি। ফলে অনেককেই সারা রাত বাস কাউন্টারে বসে সময় কাটাতে হয়েছে। ফেরির মাস্টার মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ফেরিটি নলচিরা ঘাটে পৌঁছায়। আনলোড ও লোডে সাধারণত ৪০ মিনিট করে সময় লাগে। কিন্তু আমাদের আগেভাগেই জানানো হয়েছিল, এমপি সাহেব আসবেন, তাই ফেরি ছাড়তে একটু দেরি হবে। এই কারণে আমরা শুরুতে গাড়িগুলো ওঠাতে দিইনি। এতে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে রাত আটটার পর আমরা চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে রওনা দিই।’ ফেরি ছাড়তে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পৌনে এক ঘণ্টার মতো দেরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ প্রথম আলোকে জানান, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে ঘাটে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ওই চক্রটি মোটরসাইকেল, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন ফেরিতে না তুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখে। এর ফলে ঘাটসংলগ্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকালও এক ভাবে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় এবং ব্যর্থ প্রমাণ করা।’ আবদুল হান্নান মাসউদ আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময়েই তিনি ফেরিঘাটে পৌঁছেছেন। তাঁকেও ঘাটে পৌঁছানোর পর প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।