পূর্বাচলে চালু হতে যাচ্ছে কৃষকের বাজার। এই বাজারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাজারে দাপট দেখানো সিন্ডিকেট ভাঙা এবং সাধারণ ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, কৃষকের বাজারে মাঠ থেকে সরাসরি কৃষকরা শাকসবজি, চাল, ডাল ও ফল নিয়ে আসবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে এবং দামের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
সরকারি উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে প্রথমে সপ্তাহে কয়েক দিন বাজার বসবে। পরে ক্রেতাদের চাহিদা ও অংশগ্রহণ অনুযায়ী সময়সূচি ও পণ্যের পরিধি বাড়ানো হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সিন্ডিকেটের প্রভাব কাটাতে এ উদ্যোগ কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে হলে নিয়মিত নজরদারি, কৃষকদের সম্পৃক্ততা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
এবি ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মুহম্মদ নজরুল ইসলাম। পদোন্নতির আগে তিনি ব্যাংকটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তিনি ব্যাংকের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা (চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ ব্যাংকিং ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি দেশের ব্যাংকিং খাতে একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। মুহম্মদ নজরুল ইসলাম ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের আজীবন ফেলো ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এইচআর ক্লাব বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক সভাপতিও ছিলেন। পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে ওয়ার্ল্ড এইচআরডি কংগ্রেস তাকে বিশ্বের ১০০ জন মেধাবী মানবসম্পদ নেতার অন্যতম হিসেবে সম্মাননা প্রদান করে। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক্সিকিউটিভ মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইএমবিএ) ডিগ্রি লাভ করেন। ব্যাংকিং ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি হিসেবেই এবি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে এই পদোন্নতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একদিকে যেমন দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহ দিতে ব্যাপক করছাড় ও ভ্যাট অব্যাহতির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, অপরদিকে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর ও বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে নতুন অর্থবছরে বাজারে কিছু পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নতুন করনীতির মূল লক্ষ্য হলো দেশে উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা। এই কারণে কয়েকটি পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ বা বিদ্যমান করহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাজু বাদামে বাড়তি শুল্ক দেশে বাণিজ্যিকভাবে কাজু বাদামের চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দিতে আমদানি করা কাজু বাদামের ওপর শুল্ক পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে আমদানি করা কাজু বাদামের দাম বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে উৎপাদিত কাজুবাদামের বাজার তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দাম বাড়বে আমদানি করা মাছের দেশীয় মৎস্য খাতকে সুরক্ষা দিতে বিদেশ থেকে আমদানি করা কিছু মাছের ওপর কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাঙাস মাছের ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। এর ফলে আমদানি করা সামুদ্রিক ও প্রিমিয়াম শ্রেণির মাছের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে নতুন চাপ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে তামাকজাত পণ্যের ওপর করের বোঝা আরও বাড়ানো হচ্ছে। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী সিগারেটের দাম প্রতি প্যাকেটে পাঁচ থেকে সাত টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত ফিল্টার পেপার আমদানিতে ৩০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং নিকোটিন আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। নিকোটিন পাউচের ওপরও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হতে পারে। কর বৃদ্ধির ফলে শুধু সিগারেট নয়, অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিদেশি মদের দাম আরও বাড়তে পারে বিদেশি মদের ওপর আগে থেকেই উচ্চহারে শুল্ক-কর রয়েছে। নতুন বাজেটে এই খাতে করের চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপরও প্রতি লিটারে নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের চিন্তা করছে সরকার। ফলে দেশি-বিদেশি উভয় ধরনের মদের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্মাণ খাতে বাড়তে পারে ব্যয় নির্মাণ খাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ এমএস রডের ওপর কর ও ভ্যাট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর এবং ভ্যাট মিলিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত কর আরোপ হতে পারে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রডের দাম বাড়বে এবং এর প্রভাব আবাসন, অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতের ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে। বিদেশি প্রসাধনী হবে আরও ব্যয়বহুল দেশীয় প্রসাধনী শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ও বিলাসী সৌন্দর্যপণ্যের ওপর করের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। আমদানি পর্যায়ে অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের কারণে বিদেশি প্রসাধনীর দাম বাড়তে পারে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের স্কিনকেয়ার, কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিলাসী খাদ্যপণ্যেও বাড়তি খরচ আমদানিনির্ভর বিভিন্ন উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং প্রিমিয়াম ভোগ্যপণ্যের ওপরও অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এসব পণ্য কিনতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। কেন বাড়ানো হচ্ছে কর? অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব বৃদ্ধি নয়, বরং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যেই বিদেশি ও বিলাসী পণ্যের ওপর কর বাড়িয়ে দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের জন্য বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোক্তার জন্য কী বার্তা? নতুন বাজেট কার্যকর হলে বাজারে দুই ধরনের চিত্র দেখা যেতে পারে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অনেক পণ্যের দাম কমতে পারে, আবার আমদানিনির্ভর ও বিলাসী পণ্যের দাম বাড়তে পারে। ফলে যারা বিদেশি প্রসাধনী, আমদানি করা খাদ্যপণ্য, কাজু বাদাম, সিগারেট, মদ কিংবা প্রিমিয়াম মাছ ব্যবহার করেন, তাদের ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংক কোনো রাজনৈতিক দলের হবে না। তবে ব্যাংকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং তা দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে অর্থঋণ আদালত আইনের সংস্কার এবং আদায় অযোগ্য ঋণ নিষ্পত্তির জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। গভর্নর বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারি, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আজ সোমবার জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’–এর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকারে গভর্নর এ কথা বলেন। আলোচনায় সম্পাদকদের পক্ষ থেকে অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের বিভিন্ন বিষয়ে গভর্নরের কাছে জানতে চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সম্পাদকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সবাই স্বায়ত্তশাসন চায়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্পাদকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে সম্পাদকদের অবহিত করেন গভর্নর। এ সময় গভর্নর জানান, এ প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনামূলক পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার পর পুনর্গঠন কার্যক্রম আরও গতি পাবে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বৃহৎ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বৈঠকে তুলে ধরেন গভর্নর। ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল রূপান্তর ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে, যার আওতায় ডিজিটাল ন্যানো ঋণব্যবস্থা, এআইভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরোর অনুমোদন বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। গভর্নর বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরব্যবস্থা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া বাংলাকিউআরের মাধ্যমে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকের লেনদেন রিপোর্টিং সিস্টেমে আনার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা সম্ভব। দেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনুমোদিত পরিমাণের অধিক ডলারের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিচ্ছে বলেও সম্পাদকদের বৈঠকে জানান গভর্নর। পাশাপাশি ইউপাসের ক্ষেত্রে বিল ডিসকাউন্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ফান্ডের সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে, যা আমদানি করা পণ্যের মূল্যহ্রাসে সহায়ক হবে। সভা সূত্রে জানা যায়, গভর্নর বলেন, ব্যাংক একীভূত কার্যক্রম চলবে। রাজনৈতিক চাপ এলে তা মোকাবিলা করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্ধ কারখানা চালুর জন্য ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে আগে ভালো গ্রাহকেরা ঋণ পাবেন। ব্যাংক খাতে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানোরও চেষ্টা চলছে। সভায় গভর্নর আরও বলেন, ব্যাংকের সুদহার হঠাৎ করে কমানো যাবে না। এ জন্য সময় লাগবে। এ ছাড়া ডলারের দাম নির্ধারণ হবে বাজারের মাধ্যমে। সভায় সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা ব্যাংকিং খাতের টেকসই উন্নয়নে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত দেন। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বলে জানানো হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। আলোচনা শেষে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, ‘বাজেটের আগে আমরা দেশের অর্থনীতির সর্বশেষ অবস্থা জানতে এসেছিলাম। মানুষের মধ্যে অনেক দুশ্চিন্তা আছে। কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে। আবার আন্দোলন–সংগ্রামের মধ্যে আছে কিছু বিষয়। খেলাপি ঋণগুলোর কী অবস্থা। এসব তাঁরা জানিয়েছেন, আমরাও কিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। সম্পাদকেরা কিছু বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সম্পাদকদের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ চেয়েছে। মূলত পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ব্যাংক খাত কীভাবে চলছে, তা বোঝা এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগগুলো তুলে ধরায় ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।’ ব্যাংক খাত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কী কী ছিল—জানতে চাইলে নূরুল কবীর বলেন, ‘আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাওয়ার কী হবে, ব্যাংক একীভূতকরণের কী হবে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা জানতে চেয়েছিলাম আমরা। ইসলামী ব্যাংককে আরও কীভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।’ বৈঠক শেষে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কিছু বিষয়ে বলেছি, ওনারা কিছু বিষয় জানিয়েছেন। এটা একধরনের তথ্য বিনিময়ের মতো। ব্যাংক হলো এমন একটি খাত, যা দেশের অর্থনীতির একটা বার্তা দেয়। এটা দেশে–বিদেশে সবখানেই। আস্থা তৈরি, বেসরকারি খাত ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাংক খাত একটা বড় বার্তা দেয়। ব্যাংক কোম্পানি আইন যেটা পাস হয়েছে, সেটা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। পুরোনোদের কাছে ব্যাংক ফেরত যাবে কি না—জানতে চেয়েছিলাম। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে তাদের অবস্থানের কথা আমাদের জানিয়েছে।’ বৈঠকে সম্পাদকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, মানবজমিন–এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী ও আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে বৈঠকে গভর্নর ছাড়াও ডেপুটি গভর্নররাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক চলে।