বাংলা সিনেমার মেগাস্টার শাকিব খান আবারও আসছেন নতুন চমক নিয়ে। তার অভিনীত আসন্ন চলচ্চিত্র ‘সোলজার’ এখনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আড্ডা—সবখানেই চলছে ছবিটি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা। ছবিটি প্রযোজনা করছে সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড, আর পরিচালনায় আছেন সাকিব ফাহাদ।
ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ‘সোলজার’-এর শুটিং। নির্মাতা ও প্রযোজকরা জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে এই ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তাদের কথায়, ‘সোলজার’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি হবে একটি সৎ ও সাহসী উদ্যোগ, যেখানে বাস্তবতার সঙ্গে মিশে থাকবে আশা, লড়াই, এবং মানবিকতার গল্প।
গল্পের মূল সুর
নাম শুনে অনেকে ধরে নেবেন এটি যুদ্ধ বা দেশপ্রেমের গল্প। কিন্তু ‘সোলজার’ তার বাইরেও কিছু। নির্মাতার ভাষায়, এটি সেই নতুন প্রজন্মের গল্প—যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, অধিকার আদায়ে লড়ে, এবং দেশের জন্য কিছু করতে চায়। তাদের প্রত্যেকের ভেতরে থাকা ‘অদৃশ্য সৈনিক’-এর কথাই ছবিটি তুলে ধরবে।
‘সোলজার’ দেখাবে—সংকট যত গভীরই হোক, আশা কখনও নিভে যায় না। দিনশেষে এটি হবে আশাবাদ আর ইতিবাচকতার গল্প।
শাকিব খানের নতুন রূপ
এই ছবিতে শাকিব খানকে দেখা যাবে সম্পূর্ণ নতুন এক চরিত্রে ও ভিন্ন লুকে। এখানে তিনি কেবল একজন তারকা নন, বরং দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি—যে নিজের জায়গা থেকে লড়াই করে, প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের চেষ্টা করে।
শাকিব খান নিজেও চরিত্রটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন,
> “আগেভাগে কিছু বলতে চাই না, তবে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি দর্শক আমাকে একদম নতুনভাবে দেখবেন। এমন গল্পে আমি আগে কাজ করিনি। এই গল্প মানুষকে ভাবাবে, অনুপ্রেরণা দেবে, আর সাহস জোগাবে নিজের ভেতরের সোলজারকে খুঁজে পেতে।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দেশজুড়ে চলছে প্রচণ্ড দাবদাহ। এই গরমে শুধু তৃষ্ণা বা অস্বস্তি নয়, বরং ‘হিট স্ট্রোক’-এর মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড বা কিডনির বড় ক্ষতি করতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই এই সময়ে সচেতন থাকা জরুরি। হিট স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণগুলো: ১। শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যাওয়া। ২। প্রচণ্ড গরমেও ঘাম না হওয়া। ৩। মাথা ঘোরা, বমি ভাব এবং তীব্র মাথাব্যথা। ৪। কথা জড়িয়ে যাওয়া বা আচরণে অসংলগ্নতা। ৫। শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে যাওয়া। ৬। প্রস্রাব কমে যাওয়া, খিঁচুনি বা জ্ঞান হারিয়ে ফেলা। আক্রান্ত হলে দ্রুত করণীয়: ১।শীতল স্থানে নেওয়া: আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা ঠাণ্ডা জায়গায় নিয়ে যান। ২। শরীরের তাপমাত্রা কমানো: গায়ের অতিরিক্ত কাপড়, জুতা-মোজা খুলে ফেলুন। ঠাণ্ডা পানি বা বরফ-পানি দিয়ে শরীর মুছে দিন। বিশেষ করে বগল, ঘাড় ও কুঁচকিতে ভেজা তোয়ালে দিয়ে বারবার মুছুন। ৩। তরল খাবার: জ্ঞান থাকলে রোগীকে পানি, ডাবের পানি বা খাবার স্যালাইন খাওয়ান। ৪। অবস্থান: রোগীকে শুইয়ে দিয়ে পা সামান্য উঁচু করে রাখুন। ৫। হাসপাতালে নেওয়া: যদি রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে টিপস: দুপুরের প্রচণ্ড রোদে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে ছাতা, হ্যাট বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন। শরীরে পানিশূন্যতা হতে দেবেন না। প্রচুর পানি, শরবত ও ডাবের পানি পান করুন। বাইরে বেরোলে ঢিলেঢালা, হালকা রঙের সুতির কাপড় পরুন। দুপুরের রোদে কঠোর পরিশ্রম বা ব্যায়াম করবেন না। চা, কফি বা সিগারেট এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীরকে আরো পানিশূন্য করে দেয়। সহজপাচ্য ও শরীর ঠাণ্ডা রাখে এমন খাবার খান।
ঈদুল ফিতরে দেশের মাল্টিপ্লেক্স ও বিদেশের মাটি কাঁপিয়ে এবার সারা দেশ কাঁপাতে আসছে বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা ‘দম’। এক অভাবনীয় জোয়ার তুলে মাল্টিপ্লেক্সের আভিজাত্য জয় করার পর, এবার দেশের প্রতিটি প্রান্তের সিঙ্গেল স্ক্রিনে ঝড় তুলতে প্রস্তুত এই চলচ্চিত্র। আগামী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) থেকে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে শুরু হতে চলছে ‘দম’-এর মহাগর্জন, যেখানে সাধারণ দর্শকের উন্মাদনায় লেখা হতে যাচ্ছে ঢাকাই সিনেমার নতুন এক ইতিহাস। ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড ও চরকি নিশ্চিত করেছে যে, ২৪ এপ্রিল থেকে ৫০টিরও বেশি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে প্রদর্শিত হবে রেদওয়ান রনি পরিচালিত এই চলচ্চিত্র। ফলে সিনেপ্রেমীরা সহজেই এটি দেখার সুযোগ পাবেন। জানা যায়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রথমদিকেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল, যে কারণে ঈদুল ফিতরে মুক্তির অনেক দিন পর এসে দম মুক্তি পাচ্ছে সিঙ্গেল স্ক্রিনে। এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার শাকিল আগেই জানিয়েছিলেন, পাইরেসির ঝুঁকি এড়াতেই প্রথমদিকে সিনেমাটি শুধু মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি দেওয়া হয়। এবার সিনেপ্রেমীদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। শাহরিয়ার শাকিল বলেন, ‘অভিনেতা আফরান নিশোর ভক্তরা এবং সাধারণ দর্শকরা যারা এতদিন সিনেমাটি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা এবার নিরাশ হবেন না। আন্তর্জাতিক মানের দৃশ্যায়ন এবং সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই মৌলিক গল্পটি দেশের দর্শকদের জন্য এক সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের উৎকর্ষতার ধারাবাহিকতায় দমের গল্প ও দৃশ্যায়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মন্তব্য করছেন দর্শকরা, এটাই আমাদের প্রাপ্তি।’ শাহরিয়ার শাকিল আরও জানান, দমের সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তির প্রস্তুতি একদম শেষদিকে। নতুন পোস্টার ডিজাইন করা হয়েছে, এখন সেগুলো সিনেমা হলে পাঠানোর কাজ চলছে। সিঙ্গেল স্ক্রিনের তালিকায় রয়েছে ঢাকার মধুমিতা, শ্যামলী সিনেমা হল, সাভারের সেনা অডিটরিয়াম, রংপুরের শাপলা, ময়মনসিংহের ছায়াবাণী, পাবনার রূপকথা, বরিশালের অভিরুচি, জয়দেবপুরের বর্ষা, সিলেটের নন্দীতা ও যশোরের মণিহার। সিনেমাটি এবার বড় পরিসরের মুক্তি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেশ উচ্ছ্বসিত পরিচালক রেদওয়ান রনি। তিনি বলেন, ‘দম আমার কাছে শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশির বিজয়ের গল্প। দেশের মানুষের কাছে এমন একটি অদম্য সাহসিকতার গল্প নিয়ে যেতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। শুরু থেকেই চলচ্চিত্রটি নিয়ে দর্শকদের ভালোবাসা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।’ সিনেমা প্রসঙ্গে আফরান নিশো বলেন, ‘আমার মনে আছে একদম প্রথম যখন রনি (রেদওয়ান রনি) আমাকে গল্পের ভাবনাটা বলে, তখনই সোল্ড আউট হয়ে গেছি। একটা জিনিস পেলাম আর করে ফেললাম, এ রকম না আমি। আমি ধন্য যে আমি স্থির হয়ে চিন্তা করতে পারি, আমি যে ধরণের ভিশন ভিজ্যুয়ালাইজ করি বা পারফর্মার হিসেবে নিজের উন্নতি চাই, সেজন্য আমার গল্পটা খুব দরকার। এই জায়গা থেকে দম খুব পারফেক্টলি ফিট করে। আর এ জন্য হয়তো দর্শকরাও কাজগুলো পছন্দ করে।’ এদিকে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দম নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। এরইমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও কানাডায় সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। সেখানেও দর্শকদের অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছে। উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির জনপ্রিয়তা এতই তুঙ্গে যে, মাত্র এক সপ্তাহেই সেখানে হলের সংখ্যা ৭টি থেকে বাড়িয়ে ৫০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে কানাডাতেও প্রথম সপ্তাহে ৮টি হলে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। প্রযোজনা সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা অপেক্ষা করছে দমের জন্য। একে একে বিভিন্ন দেশে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। দমে আফরান নিশো ছাড়াও অভিনয় করেছেন পূজা চেরী, চঞ্চল চৌধুরী, আবুল হায়াত, ডলি জহুর ও জাহিদ হাসান।
বলিউড থেকে দক্ষিণী সিনে-ইন্ডাস্ট্রি সবখানেই এখন সোরগোল। দীর্ঘ ২২ বছরের সাজানো সংসার কি তবে এক ঝটকায় ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে? তামিল মেগাস্টার থালাপতি বিজয় ও সঙ্গীতা স্বর্ণালিঙ্গমের বিচ্ছেদের গুঞ্জন এবার কেবল গুঞ্জন নয়, বরং রূপ নিচ্ছে এক বিশাল আর্থিক যুদ্ধের মহাকাব্যে। শোনা যাচ্ছে, এই বিচ্ছেদের সমঝোতায় খোরপোশ বাবদ সঙ্গীতাকে দিতে হতে পারে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা যা ভারতীয় মুদ্রায় ২৫০ কোটি রুপি। টাকার এই পাহাড়সম অঙ্ক আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার চরম সমঝোতাহীনতা যেন কোনো টানটান উত্তেজনাপূর্ণ সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেতা বিজয়। নির্বাচনের অন্যতম প্রার্থী হওয়ায় ব্যক্তিগত কারণে ২০ এপ্রিলের নির্ধারিত শুনানিটি স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। এর ফলে আপাতত থালাপতি ও সঙ্গীতার আইনি বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া দুই মাস পিছিয়ে গেল। এদিকে মামলা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ডিভোর্সের বিনিময়ে সঙ্গীতা ২৫০ কোটি ভারতীয় রুপি এবং চেন্নাইয়ের একটি সমুদ্রমুখী বাড়ি দাবি করেছেন। তবে অভিনেতা বিজয় বিষয়টি আদালতের বাইরে মিটিয়ে নিতে চাইছেন। তিনি খোরপোশ বাবদ সর্বোচ্চ ৩৫ কোটি রুপি দিতে রাজি হলেও সঙ্গীতা নিজের দাবিতে অনড় রয়েছেন। বর্তমানে খোরপোশের এই বড় ব্যবধান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দরাদরি ও আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে স্ত্রী সঙ্গীতা অভিনেতার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে দাবি করেন, বিজয়ের অন্য এক অভিনেত্রীর সঙ্গে মেলামেশার কারণে তাদের দাম্পত্যে ফাটল ধরে। আরও জানা যায়, ২০২১ সাল থেকে এই দম্পতির মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে বিজয় তার স্ত্রীকে ত্যাগ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। বিজয়ের পুত্র জেসন সঞ্জয়ও এই পরিস্থিতিতে বাবার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক মাধ্যমে তাকে আনফলো করেছেন ।