জাতীয়

পলাতক ৮১ কর্মকর্তাকে ফেরাতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ পুলিশ

Admin অক্টোবর ০৩, ২০২৫

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের পুলিশ বাহিনীতে অস্থিরতা দেখা দেয়। অনেক কর্মকর্তা, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠরা, কর্মস্থল ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮১ জন পুলিশ সদস্য এখনও পলাতক। এই তালিকায় রয়েছে ডিআইজি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সব স্তরের কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে মাত্র ১৫ জনের অবস্থান জানা গেছে। বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে, তবে এখনও কোনো সাড়া মেলেনি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অবস্থান জানা ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি (বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলাম, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হারুন অর রশীদের যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উডল্যান্ড শহরে তোলা একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হারুন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, একই দেশে অবস্থান করছেন মনিরুল ইসলাম। সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান যুক্তরাজ্যে, আর প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম ভারতের কোনও স্থানে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. বাহারুল আলম জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি জড়িত অনেক পুলিশ সদস্য বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন। দেশে যারা আছেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিদেশে থাকা কয়েকজনের অবস্থানও শনাক্ত হয়েছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে এবং শনাক্ত করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। একটি পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই কর্মকর্তারা দলের স্বার্থে কাজ করতেন। এখন বিদেশে থাকা অবস্থাতেও তারা পতিত নেতাদের সহযোগিতায় দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন, যাতে সরকারের পতনের পর আবার দেশে ফিরে আসার সুযোগ পায়। অভ্যুত্থানের পর পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা সংখ্যা ১ হাজার ৪৯০। সারা দেশে অন্তত ১৩৭ জন পুলিশ সদস্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এর মধ্যে ৫৬ জন ইতিমধ্যে ফিরে এসেছেন, কিন্তু ৮১ জন এখনো পলাতক। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন ডিআইজি, ১০ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ১১ জন পুলিশ সুপার, ৯ জন অতিরিক্ত এসপি, ৫ জন এএসপি, ২৭ জন পরিদর্শক, ৮ জন এসআই, ৩ জন এএসআই এবং ৫ জন কনস্টেবল। গত ৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ৪০ জন ডিআইজি থেকে পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তাদের অনুকূলে দেওয়া পদকও প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘পলায়ন’ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইতিমধ্যে অনেক পলাতক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত এক বছরে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ৮৬ জনকে অন্য ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে, ৮২ জনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে এবং ৫৫ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পলাতক কর্মকর্তাদের শনাক্তকরণ ও দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে। তবে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক মন্তব্য করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বিরুদ্ধে করা অনেক মামলা ঢালাও। এতে নিরপরাধ কর্মকর্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং বাহিনীর মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
আদ-দ্বীনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জবাব পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শোকজের লিখিত জবাব জমা দেয়। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নোটিশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চাইলে তা মঞ্জুর করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আজ লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছে। আগামীকাল জবাব পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে নোটিশে উল্লেখিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত হতে পারে। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা, দায়িত্বরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, নার্স ও স্টাফদের দায়িত্বে অবহেলা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির তথ্য উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৪ জুন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ হবে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, “ ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ অনুযায়ী বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীর অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন ও শোকজের জবাব পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” গত ৭ জুন সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না এই মর্মে ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইন অনুযায়ী হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, হাসপাতাল স্থাপনাসংক্রান্ত বিধিমালা, আইনের বিভিন্ন ধারা এবং প্রাসঙ্গিক বিধিবিধান পর্যালোচনা করে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। হাসপাতালটির জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল তিন বছর ধরে অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজ নিজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এদিন দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী শিশির মনির এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দিলে লাইসেন্স বাতিলের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা বেআইনি। এ দাবির জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতালকে দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ আইন অনুসারেই জারি করা হয়েছে। কোনো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে লাভ নেই। নোটিশটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে। ৬ নবজাতকের মৃত্যু একটি গুরুতর ঘটনা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।”

মারিয়া রহমান জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

গরম বাড়লেই দেশে বেড়ে যায় নারী ও শিশু নির্যাতন, তাপমাত্রা বাড়লে সহিংসতা প্রায় ৪.৪৯% বৃদ্ধি পায়

জাতিসংঘে মোতায়েন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। ছবি : সংগৃহীত

আজ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

টাকা, সরকারের লোগো ও অর্থমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

জুনেই পে-স্কেল ও গ্রেড-পেনশনে বড় চমক

ইসলামী ব্যাংকের লোগো ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কার হাতে, তথ্য প্রকাশের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী ব্যাংকের চেয়ারম্যান থেকে পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত অপসারণের ক্ষমতা রাখে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইবনে সিনার দুই পারসেন্ট শেয়ার ছিল, ব্লক মার্কেটে তারা তিন গুণ দামে শেয়ার বিক্রি করেছে। এটা তো রেকর্ড, পাবলিক লিস্টেড কোম্পানির শেয়ার ব্লক মার্কেটে তিন গুণ দামে বিক্রি করা হয়েছে।   তিনি জানান, বিরোধী দলের নোটিসে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা প্রকাশের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারা কত শতাংশ শেয়ারের মালিক, তা প্রকাশ করা হোক।   শেয়ার কেনার উৎস নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা তারা কীভাবে খরিদ করেছেন সেটা ভিন্ন বিতর্ক, সেটা দুদকের তদন্ত হতে পারে, মামলা হতে পারে। কিন্তু শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ারহোল্ডারই।   ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ব্যাংক কোম্পানি আইনে দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও ৪৯ ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে জনস্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে চেয়ারম্যান থেকে পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত অপসারণ এবং পর্ষদ বাতিলের ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারে।   জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আগে আইন পরিবর্তন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তন করে তারপর আপনারা এই আলোচনায় আসেন। অন্যথায় রেগুলেটরি অথরিটি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে দেশের স্বার্থে, ব্যাংককে রক্ষা করার স্বার্থে কার্যক্রম চালু করবে।   এদিকে ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এই প্রকল্পে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়, যেখানে নারী গ্রাহকের সংখ্যা বেশি।   তার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে অনেক নারীকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও টাকা পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।   তিনি আরও জানান, ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে একটি গ্রুপকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।   সিএসআর ব্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল করপোরেট রেসপন্সিবিলিটির (সিএসআর) নাম দিয়ে যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানের টিকিট পর্যন্ত ব্যাংক থেকে করিয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত হবে।   ইসলামী ব্যাংকে হওয়া বিভিন্ন অনিয়মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো ইসলামের নামেই তো হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এগুলো তদন্ত হলে হয়তোবা আমাদের কারও কারও নাম ওখানে চলে আসতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদলীয় উপনেতার

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়

ছবি: সংগৃহীত

সাভারে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য

ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়া সক্ষমতা তুলে ধরা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। মঙ্গলবার ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একাদশ এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের সমন্বয়ে গঠিত ডিপ্লোম্যাটিক কোর টিমের মধ্যে এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।   প্রীতি ম্যাচে অংশ নেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। খেলা শেষে তিনি বলেন, ক্রীড়া শুধু বিনোদন বা প্রতিযোগিতার মাধ্যম নয়, এটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিরও কার্যকর উপায়। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চায়।   তিনি বলেন, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করলেও দেশের মানুষের ফুটবলপ্রেম ও আগ্রহ বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সচেতনতা গড়ে তুলতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   প্রতিমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি উইং’ গঠন করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ক্রীড়া বিনিময় কর্মসূচি ও পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হবে।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন। তাদের বিপক্ষে মাঠে খেলেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।   আয়োজকরা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রীড়া কূটনীতিকে নতুন মাত্রা দেবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সম্পর্ক জোরদারে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম চূড়ান্তে জুরিবোর্ডের সভা

ছবি: সংগৃহীত

২ দিনেও সন্ধান মেলেনি স্বপনের, ছেলের লাশ ফেরতের আকুতি বাবার

0 Comments