জাতীয়

ঢাকায় ২১ লাখ অবৈধ ভবন, নীতিমালা করছে রাজউক

Admin অক্টোবর ০৩, ২০২৫

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন ১,৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় ২১ লাখ ভবনের অনুমোদিত নকশা নেই। এর মধ্যে বহু বহুতল ভবনও রয়েছে, যা জলাশয়, কৃষিজমি ও বন্যাপ্রবাহ এলাকায় নির্মিত।

বাস্তবতার কারণে এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে পারছে না রাজউক। তাই এগুলোকে বৈধতা দেওয়ার জন্য একটি খসড়া নীতিমালা করা হয়েছে।

নীতিমালার প্রস্তাব

  • যেসব ভবন বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও রাজউকের মাস্টারপ্ল্যান মেনে তৈরি, সেগুলোকে বৈধতা দেওয়া হবে।

  • বিদ্যমান নকশা অনুমোদন ফি’র ওপর ৩ থেকে ৫ গুণ জরিমানা আরোপ করা হবে।

  • যেসব ভবন একেবারেই নির্মাণবিধি মানেনি, সেগুলো ভাঙার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

  • আবাসন প্রকল্পগুলোকে কেস টু কেস ভিত্তিতে বৈধতা দেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞ মত

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আকতার মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, “রাজউক যেন এই সুযোগে বাণিজ্য না করে এবং অনিরাপদ ভবনগুলো যেন বৈধতা না পায়—এটা নিশ্চিত করতে হবে।”

অবৈধ ভবনের ইতিহাস

  • ১৯৯৫ সালের ডিএমডিপি-তে দোতলা বা ছোট প্লটের স্থাপনায় কিছুটা ছাড়ের বিধান ছিল।

  • আগের নিয়মে তিন গুণ জরিমানা দিয়ে বৈধতা নেওয়া যেত।

  • ২০২২ সালের ড্যাপ-এ জরিমানার হার বাড়িয়ে ১০ গুণ করা হয়।

  • তাতেও অবৈধ নির্মাণ বন্ধ হয়নি।

  • ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ২০ লাখের বেশি অনুমোদনহীন ভবন তৈরি হয়েছে।

রাজউকের অবস্থান

রাজউকের বোর্ড সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) হারুন অর রশিদ বলেন, “অতীতে যা হয়েছে, হয়েছে। কিন্তু এখন থেকে আর একটি ভবনও যেন নকশাবহির্ভূতভাবে না গড়ে ওঠে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বাংলাদেশ কি পেতে যাচ্ছে প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি?

  মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে দায়িত্ব কতদিনের, কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপ্রধান—সবখানেই এখন সেই আলোচনা।   ৫৪ পেরোনো বাংলাদেশ এ পর্যন্ত পেয়েছে ২২ জন রাষ্ট্রপতি। তবে তাদের সবাই পুরুষ। রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন—এবার কি প্রথম নারী রাষ্ট্রপতির দেখা মিলছে?   তবে এই আলোচনায় মানবাধিকারকর্মী, আমলা, সাবেক উপদেষ্টার পাশাপাশি বরাবরের মতোই শীর্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ৪ সদস্যের নাম।   এ বিষয়ে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যাকে দিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ হবে, প্রধানমন্ত্রী তাকেই রাষ্ট্রপতি বানাবেন।   দলের জন্য নিবেদিত ও গ্রহণযোগ্য কেউই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসতে পারেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দলের সিনিয়র নেতারা ও প্রধানমন্ত্রী বসেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন কাকে রাষ্ট্রপতি বানানো যায়। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ হতে পারেন, একজন রেনাউনড মানুষ হতে পারেন, দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হতে পারেন, কিংবা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, সিনিয়র এবং সবার পছন্দের মানুষ হতে পারেন। এ নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করেই কেবল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   এদিকে দলের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হতে পারে—এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্পিকার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট থাকবেন আন্টিল ইলেকশন। নেক্সট পার্লামেন্ট, আমাদের সেপ্টেম্বরের সেই সময়ে, এটা পার্লামেন্টে ভোটে যাবে।   তাই জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরুর আগে স্থায়ী কমিটি ও মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের দিকেই থাকছে সবার চোখ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৬, ২০২৬

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মোহাম্মদ রাসেলকে সম্মাননা দিয়ে ‘বি-স্ক্যান চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর যাত্রা শুরু

গ্যাস সংকট: এবার দুঃখ প্রকাশ করলো তিতাস

ছবি: সংগৃহীত

একরামুল হত্যা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসিনাসহ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত ১১

ছবি: সংগৃহীত
আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, উঠবেন গুলশানের নিজ বাসভবনে

সদ্য পদত্যাগ করা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ (রোববার) বিকেলে বঙ্গভবন ত্যাগ করে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সপরিবারে উঠবেন। এ লক্ষ্যে তার বাসভবনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   বঙ্গভবনের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরেই তার ব্যক্তিগত মালপত্র ধাপে ধাপে গুলশানের বাসায় স্থানান্তর করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে বাসাটির পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজও শেষ হয়েছে।   গত শনিবার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি বাইপাস সার্জারির পর তিনি ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগে আক্রান্ত হন, যার কারণে মাঝে মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।   ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।   সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেই অনুযায়ী স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন।   তবে তিনি বঙ্গভবনে বসবাস করবেন না। তিনি স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করবেন এবং রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক কার্যক্রম বঙ্গভবন থেকেই পরিচালনা করবেন। এ কারণে তার সরকারি বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ফটিকছড়িতে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু, অচল সড়ক যোগাযোগ

সংগৃহীত ছবি

সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ব্যয় কমাতে ১৮ মন্ত্রীর নিরাপত্তা এসকর্ট প্রত্যাহার

বঙ্গভবন ছাড়লেও চুপ্পু এখনো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবলয়ে

বঙ্গভবনের দায়িত্ব ছাড়লেও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবলয় ছাড়ছেন না সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। গত শুক্রবার তার পদত্যাগের পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ওঠার আগেই সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে বিধান অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আজীবন পেনশনসহ একাধিক সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেও রাষ্ট্রের প্রটোকল ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো বহাল থাকছে।   ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (প্রটেকশন) নাসিরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় যা যা করা দরকার, সেসব করা হচ্ছে। নিরাপত্তার বিষয়টি সমন্বয় করবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুলশান-২-এর ১২৩ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর ‘গ্রিন ভিলা’ ভবনের পঞ্চমতলার নিজস্ব ফ্ল্যাটেই অবস্থান করবেন সাহাবুদ্দিন। বাসভবনকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।   ভবনের প্রবেশপথে পুলিশ মোতায়েন, আশপাশে সাদা পোশাকের সদস্যদের নজরদারি, প্রয়োজনীয় যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আজ রোববার গুলশানের বাসাটিতে ওঠার কথা রয়েছে চুপ্পুর।   বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পেনশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্তত ছয় মাস রাষ্ট্রপতির পদে দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলেও তিনি আজীবন নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ও প্রটোকল সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন। ২০২৩ সালে আওয়ামী সরকারের আমলে দায়িত্ব নেওয়া সাহাবুদ্দিন চুপ্পুও এ আইনি সুযোগ-সুবিধার আওতায় এসেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা চালু থাকছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছেÑনিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা, ভ্রমণ ও অবস্থান সুবিধা, আজীবন পেনশন ও ভাতা ইত্যাদি।   বর্তমান আইনে পেনশনের পরিমাণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ। চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি মাসিক পেনশনের পরিবর্তে এককালীন গ্র্যাচুইটিও গ্রহণ করতে পারেন। আইন অনুযায়ী, তিনি যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি পেনশন পান, তাহলে দুটি পেনশন একসঙ্গে গ্রহণ করতে পারবেন না, একটি বেছে নিতে হবে। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী নির্ধারিত হারে পারিবারিক পেনশন পাওয়ার বিধানও রয়েছে।   এছাড়া একটি কূটনৈতিক (ডিপ্লোম্যাটিক) পাসপোর্ট, ব্যক্তিগত সহকারী, একজন পরিচারক, সরকারি কাজে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক ভাতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রাখেন। এসব সুবিধা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন-পরবর্তী মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম বিবেচনায় দেওয়া হয়।   সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কত বছর বা কত দিন সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া হবেÑএমন নির্দিষ্ট সময়সীমা বাংলাদেশের কোনো আইনে উল্লেখ নেই। নিরাপত্তার বিষয়টি নির্ভর করে সরকারের নিরাপত্তা মূল্যায়ন, গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর। অর্থাৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার ধরন ও মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।   অবশ্য আইনে স্পষ্ট বলা আছে, ভবিষ্যতে যদি কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধে দণ্ডিত হন অথবা অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের অপরাধে অভিযুক্ত হন, তবে এসব সরকারি সুবিধা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে যাবে। নিজের শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজে থেকে পদত্যাগ করার কারণে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী গুলশানের নিজস্ব বাসায় এখন প্রটোকল সুবিধাসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাবেন মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোসর এ সাবেক রাষ্ট্রপতি।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গুলশানের বাসায় নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি গত শনিবারই শেষ করেছে তারা। বাসার চারদিকের নিরাপত্তায় পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। ইতোমধ্যে বাসার টেলিফোন লাইন সংযোগ করা হয়েছে। বাসায় যাতায়াতের পথে এবং আশপাশের সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।   গুলশানের বাসাটি চুপ্পুর নিজের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। বাসার আশপাশের সড়কগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়মতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন আজ থেকে। নিয়মিত ওই এলাকায় পুলিশের টহল টিম দায়িত্ব পালন করবে। গুলশান থানা পুলিশ বিশেষ নজর রাখবে গ্রিন ভিলার দিকে। র‌্যাবের টিমও মাঝেমধ্যে টহল দেবে। চুপ্পুর বাসায় কারা যাতায়াত করছেÑএগুলো মনিটরিং করা হবে বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে সবার গতিবিধি নজরদারি করা হবে। নজরদারির বাইরে থাকছেন না চুপ্পুও।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারী গোষ্ঠী তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। এর মধ্যেই গত শুক্রবার তিনি স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তর জানিয়েছে, গুরুতর স্নায়বিক জটিলতার কারণে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছিল। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভিসা ছাড়াই এশিয়ার ৬ দেশে ভ্রমণের সুযোগ বাংলাদেশিদের

শিক্ষাধারায় বৈষম্য দূর করতে হবে, যানজট নিরসনে নতুন সড়ক হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

এআই দ্বারা নির্মিত প্রতীকী ছবি

গ্যাসসংকটে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে কারখানা

0 Comments