জাতীয়

জিএসএ ও ট্রাভেল এজেন্সির কবজায় টিকিটের বাজার

Admin অক্টোবর ০৪, ২০২৫

দেশের আকাশপথে চলছে ভাড়া নৈরাজ্য। ২৫-৩০ হাজার টাকার সাধারণ এয়ার টিকিট যাত্রীকে কিনতে হচ্ছে লাখ টাকায়। বছরের পর বছর একটি সিন্ডিকেট যাত্রীর পকেট থেকে ভাড়ার তিনগুণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ চক্রের কাছে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি কঠিনভাবে জিম্মি রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। যুগান্তরের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, এয়ারলাইন্স কোম্পানি, কিছু ট্রাভেল এজেন্সি এবং কিছু এয়ারলাইন্স কর্মকর্তার যোগসাজশে চলছে টিকিটের বাজারে এই ভাড়া নৈরাজ্য। বছরের পর বছর চলা এ নৈরাজ্য ও যাত্রী শোষণের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশনা জারি থাকলেও তা কেউ মানছে না। সিন্ডিকেট কীভাবে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করে, এর খোঁজ নিতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর বেশকিছু তথ্য। এতে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অন্তত ১১টি এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশি জিএসএ এজেন্ট (গ্লোবাল সেলস এজেন্ট) এবং ৩০টি ট্রাভেল এজেন্সি মালিকের যোগসাজশে চলছে অরাজকতা। তারা গ্রুপ টিকিটের নামে ভুয়া তথ্য দিয়ে একেকটি ফ্লাইটের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ টিকিট ব্লক করে রাখে। এভাবে টিকিট বা সিট ব্লক করে রাখলে ফ্লাইটে সিট স্বল্পতা দেখা দেয়। তখন টিকিটের দাম বেড়ে যায়। আর দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লক করে রাখা টিকিট বিক্রি শুরু করে সিন্ডিকেট। এভাবে কেনা দামের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে তারা টিকিট বিক্রি করে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এক অনুষ্ঠানে টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তার সেই বক্তব্যের সূত্র ধরে যুগান্তর এর পেছনের চক্রটিকে সামনে আনার চেষ্টা করে।

প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরে শেখ বশিরউদ্দীনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই গরিব শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা হোক। তাদের কষ্টার্জিত টাকাই দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। টিকিটের গায়ে মূল্য লেখার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে যুগান্তরের অনুসন্ধানে টিকিটের দাম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি ধাপে সিন্ডিকেটের কারসাজির তথ্য উঠে আসে। বড় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাদের পরিচিতি বা প্রভাব কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট রুটে (বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের বা উৎসবের সময়ের রুট) টিকিট ব্লক করে রাখে। চক্রটি এয়ারলাইন্সগুলোর গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস) ব্যবহার করে কারসাজি করে। তারা যাত্রীর নাম বা পাসপোর্ট নম্বর ছাড়াই বহুসংখ্যক টিকিট বুকিং সিস্টেমে হোল্ড করে। এর ফলে ওই সিটগুলো বাজার থেকে সাময়িকভাবে উধাও হয়ে যায়। অনলাইন বা সাধারণ ট্রাভেল এজেন্টের কাছে টিকিট ‘সোল্ড আউট’ দেখায়। অথচ বাস্তবে আসনগুলো খালি থাকে। এভাবে জোগান কম দেখিয়ে চাহিদা বাড়ানো হলে এয়ারলাইন্সের ডায়নামিক প্রাইসিং সিস্টেমে (চাহিদার ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এরপর সিন্ডিকেট নিজেদের হাতে থাকা ব্লক টিকিটগুলো চড়া দামে বাজারে ছাড়ে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বেশি দামে টিকিট কেনেন।

কীভাবে ঘণ্টায় ঘণ্টায় টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেয় সিন্ডিকেট, একজন যাত্রীর অভিজ্ঞতা থেকে সেই ধারণা পাওয়া যায়। কুয়েতগামী যাত্রী শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার আলী হোসেন। ৬ অক্টোবর তার ফ্লাইট। এর জন্য তিনি টিকিট কাটতে যান। বুধবার সকালের কথা। তার কাছে প্রথমে টিকিটের দাম ৬০ হাজার টাকা দাবি করে ট্রাভেল এজেন্সি। টাকা সংগ্রহ করার পর বিকালে তিনি টিকিট কাটতে যান। তখন তাকে বলা হয়, টিকিটের দাম বেড়ে গেছে। এখন ৭৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এ কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন আলী হোসেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, টিকিট না কিনলে চাকরিটা চলে যেত। ধারদেনা করে অতিরিক্ত টাকা দিতে হলো। বিদেশে যাওয়ার আগেই ঋণের বোঝা কয়েক গুণ বেড়ে গেল।

সরকারের নির্দেশনা ছিল-পাসপোর্ট নম্বর ছাড়া টিকিট বুকিং নয়। সিন্ডিকেট নতুন ফাঁদ পাতে। যেহেতু বুকিং করার সময় যাত্রীর পাসপোর্ট নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এ শর্ত পূরণের জন্য এজেন্সিগুলো এখন ভুয়া, বানানো বা ডামি পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করছে। সিস্টেম যেহেতু শুধু একটি বৈধ চেহারাযুক্ত (সঠিক ফরম্যাটের) নম্বর ইনপুট হিসাবে চায়, তাই এজেন্সিগুলো সেই ডামি নম্বর ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক সিট ব্লক বা হোল্ড করে রাখছে। এছাড়া একটি বৈধ পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে সেই যাত্রীর জন্য একই রুটের বা ভিন্ন ভিন্ন রুটের একাধিক তারিখে টিকিট বুকিং করা হয়।

বিমান ভ্রমণের নিয়ম অনুযায়ী একজন যাত্রী একই সময়ে একই রুটে কনফার্ম টিকিট নিতে পারেন না। সিস্টেমের এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে এজেন্সিগুলো একই নামে বারবার টিকিট বুকিং (রিপিটেড বুকিং) করে। এতে বাজারে কৃত্রিম সিট সংকট তৈরি হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই বাকি টিকিটের দাম বেড়ে যায়। এই রিপিটেড বুকিংয়ের বেশির ভাগ ডামি যাত্রী।

এদিকে টিকিটের দাম নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে নজর দিলে দেশের যাত্রীসাধারণ কতটা ঠকছেন, এর একটা ধারণা পাওয়া যায়।

যুগান্তরের হাতে আসা তথ্যে দেখা যায়, কলকাতা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইটের দূরত্ব ঢাকার সমপরিমাণ বা কিছু ক্ষেত্রে বেশি হলেও সে দেশের যাত্রীর টিকিটের দাম অর্ধেক বা তারও কম। ৮ অক্টোবর বিদেশি একটি এয়ারলাইন্সে যে যাত্রী ঢাকা থেকে রিয়াদ যাবেন, তার টিকিটের মূল্য ও সময় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশি যাত্রীকে ৯ ঘণ্টার ফ্লাইট যাত্রায় গুনতে হচ্ছে ৯৫ হাজার টাকা। একই দিনে কলকাতা থেকে রিয়াদগামী একই বিমানে যাত্রীর আকাশপথে ১১ ঘণ্টার জন্য দিতে হয় ৫৫ হাজার টাকা। ভাড়া কম। যাত্রার সময় বাংলাদেশ থেকে ২ ঘণ্টা বেশি। একইভাবে ঢাকা থেকে দুবাই পৌঁছার সময় ৫ ঘণ্টা। এই দূরত্বের জন্য একজন যাত্রী বাংলাদেশ থেকে ৭১ হাজার টাকায় টিকিট কিনছেন। অপরদিকে কলকাতা থেকে দুবাই রুটে ফ্লাইং সময় একই হলেও টিকিটের দাম মাত্র ৩৮ হাজার টাকা। এবার নজর দেওয়া যাক ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের ফ্লাইটের দিকে। বাংলাদেশ থেকে এই রুটে যাত্রা সময় (লে-ওভারসহ) সর্বোচ্চ ২৩ ঘণ্টা। এই রুটে একজন যাত্রীর খরচ পড়ছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অপরদিকে কলকাতা থেকে নিউইয়র্কের ফ্লায়িং দূরত্ব ও সময় ৪৫ ঘণ্টা (লে-ওভারসহ)। কিন্তু তাদের যাত্রীর টিকিটের দাম ৯৫ হাজার টাকা।

এতে দেখা যায়, ঢাকা থেকে রিয়াদ যেতে বাংলাদেশি যাত্রীকে কলকাতার যাত্রীর চেয়ে প্রায় ৭৩ শতাংশ ভাড়া বেশি গুনতে হয়। একইভাবে দুবাইগামী যাত্রীকে প্রায় ৮৭ শতাংশ এবং নিউইয়র্কগামী যাত্রীকে দিতে হয় অন্তত ৫৮ শতাংশ বেশি ভাড়া।

দূরত্ব প্রায় সমান বা কলকাতা থেকে কম হলেও ঢাকা ও কলকাতার টিকিট মূল্যের পার্থক্যের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন বিদেশি এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, বাংলাদেশে ট্যাক্স ও এয়ারপোর্ট চার্জ অতিরিক্ত। এর বাইরে ঢাকায় যাত্রীদের টিকিট ও এয়ারলাইন্সের সিটের কৃত্রিম সংকট ও সিট সংকট তৈরি করে কেউ কেউ বাড়তি অর্থ নেয়। এতে বেড়ে যায় টিকিটের দাম। বাড়তি টাকা গুনতে হয় যাত্রীকে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে বারবার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হলেও সিন্ডিকেট চক্র নতুন কৌশল অবলম্বন করে যাত্রীর পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা কেড়ে নিচ্ছে। সরকার এ বিষয়ে সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে সতর্কতা জারি করে। সরকারের নির্দেশনা ছিল, টিকিট বিক্রির সময় অবশ্যই যাত্রীর নাম ও পাসপোর্ট নম্বর যুক্ত থাকতে হবে। টিকিটে দাম উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া তা টিকিটের গায়েও ছাপা থাকতে হবে। যদিও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আকাশপথে যাত্রীসাধারণের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য গঠিত টাস্কফোর্সের কোনো কার্যকারিতা এখন নেই।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙা যাচ্ছে না, বরং প্রতিদিনই ভাড়া বাড়ছে। টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া নিছক বাজারের কারণে নয়। এটি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের প্রমাণ। এয়ারলাইন্স ও কিছু ট্রাভেল এজেন্সি মিলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তারা লোয়ার ক্লাস বন্ধ করে দেয় এবং ফ্লাইটের ক্লোজিং ডেট যত ঘনিয়ে আসে, দাম তত বাড়ায়। সিন্ডিকেট শুধু এজেন্সিগুলো একা করে না। এয়ারলাইন্সের সম্পৃক্ততা ছাড়া এটি সম্ভব নয়। বিশেষ করে গ্রুপ টিকিটের নামে বিপুলসংখ্যক টিকিট ব্লক করে রাখা, সেগুলো এয়ারলাইন্স থেকে নেওয়া ও বিক্রি নিয়ে কোনো মনিটরিং নেই।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সরকারি নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসাধু চক্র সাধারণ যাত্রীদের পকেট কেটে নিচ্ছে। এটি প্রকাশ্য লুটপাট এবং স্পষ্টতই দুর্নীতির প্রমাণ। কার্যকর মনিটরিং ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে এই অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব হবে না।

সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রুটের ইকোনমি ক্লাসের একমুখী ভাড়া যেখানে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সৌদি আরব ও দুবাই রুটে এই মূল্যবৃদ্ধি চরমে। এই অরাজকতার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) প্রশাসক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোতাকাব্বীর আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমি নতুন এসেছি। এমনকি প্রশাসক হিসাবে সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগে সরাসরি কোনো সদস্যের মেম্বারশিপ বাতিল করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আমাদের কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমরা তা সদস্যদের অবহিত করেছি। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় বেশকিছু এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলও করেছে।

এদিকে টিকিট সিন্ডিকেটে জড়িত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্রুপ বুকিংয়ের নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য চাহিদাসম্পন্ন রুটের এয়ার টিকিট ব্লক করে রাখে এমন ১৩টি এজেন্সিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড, সিটিকম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড, আরবিসি ইন্টারন্যাশনাল, মেঘা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার সার্ভিস, মাদার লাভ এয়ার সার্ভিস, জেএস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস, হাসেম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ফোর ট্রিপ লিমিটেড, কিং এয়ার এভিয়েশন, বিপ্লব ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্ট, সাদিয়া ট্রাভেলস, আত-তাইয়ারা ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল ও এনএমএসএস ইন্টারন্যাশনাল। এসব ট্রাভেল এজেন্সি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অস্বাভাবিক দামে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে টিকিটের মজুতদারি, কালোবাজারি ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তাতে উঠে আসে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, আমরা এসব চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি। এরই মধ্যে ৪৯টি এজেন্সিকে চিঠি দিয়েছি। ১৩টির লাইসেন্স বাতিল করেছি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
গরম বাড়লেই দেশে বেড়ে যায় নারী ও শিশু নির্যাতন, তাপমাত্রা বাড়লে সহিংসতা প্রায় ৪.৪৯% বৃদ্ধি পায়

বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধিতে সঙ্গীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা প্রায় ৪.৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়—২০২৩ সালের একটি বৈশ্বিক গবেষণার এই চাঞ্চল্যকর তথ্যই এখন বাংলাদেশের বাস্তবতায় এক নির্মম সত্য হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে।   বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ভ্যাপসা ও চরম গরম আবহাওয়া বিরাজ করে। এই সময়ে সাধারণ মানুষকে তীব্র দাবদাহ, নিরবচ্ছিন্ন লোডশেডিং, নির্ঘুম রাত এবং গণপরিবহনে অসহনীয় ভিড়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। তবে গরমের এই চাক্ষুষ অস্বস্তির আড়ালে দেশের অপরাধ চিত্রে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; পুলিশের নথিপত্র ও পরিসংখ্যান বলছে, গ্রীষ্মের এই সময়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা মৌসুমভিত্তিক (সিজনাল) হারে মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।   বাংলাদেশ পুলিশের ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদের মাসিক অপরাধের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পারিবারিক সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, নারী ও শিশু পাচার, যৌতুকের কারণে নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহের মতো গুরুতর অপরাধগুলো একটি নির্দিষ্ট ঋতুচক্রে আবর্তিত হয়। প্রতি বছর মার্চ বা এপ্রিল মাসের দিকে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মামলাগুলোর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যা পুরো গ্রীষ্ম ও বর্ষার মাসগুলোতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। পরবর্তীতে বছরের শেষ দিকে শীতের আমেজ শুরু হলে এবং তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের এই হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।   পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৯৭টি, যা জুনের তীব্র গরমে এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৬৮টিতে; অথচ ওই বছরেরই ডিসেম্বরে শীতের সময় তা কমে ১ হাজার ৪২৬টিতে নেমে আসে। ২০২২ সালেও একই ধারায় ফেব্রুয়ারির ১ হাজার ৪৫৪টি মামলা আগস্টের গরমে ২ হাজার ২১৫টিতে পৌঁছায়। ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও এই একই ধারা অব্যাহত ছিল।   চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসের প্রবণতাও আগের বছরগুলোর এই মৌসুমভিত্তিক হারবৃদ্ধির চিত্রকে আরও নিখুঁতভাবে প্রমাণ করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ২৮১টি মামলা রেকর্ড হওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতে তা সামান্য কমে ১ হাজার ১৮১টি হয়। কিন্তু মার্চে গরম পড়তে শুরু করলেই মামলা বেড়ে হয় ১ হাজার ৪৮৫টি এবং এপ্রিল মাসে তা এক লাফে ৩৫.৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১১টিতে পৌঁছায়, যা বছরের শুরুর দিকের মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, গত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ২৬৮টি মামলা রেকর্ড হয়েছিল ২০২১ সালের জুনে এবং সবচেয়ে কম ১ হাজার ৪৩টি মামলা হয়েছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে।   আমাদের দেশীয় এই অপরাধচিত্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৈশ্বিক গবেষণার হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণে মানুষের মানসিক চাপ, শারীরিক উত্তেজনা, খিটখিটে মেজাজ এবং নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বহুলাংশে কমে যায়, যা পারিবারিক ও আন্তব্যক্তিক সংঘাতের জন্ম দেয়। বিশেষ করে যেসব দরিদ্র পরিবারে ঘর ঠান্ডা রাখার পর্যাপ্ত যান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই, সেখানে এই প্রবণতা বেশি।   'জ্যামা সাইকিয়াট্রি' জার্নালে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ—ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার নারীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তীব্র তাপমাত্রার সময় নারীদের ওপর শারীরিক সহিংসতা ৮ শতাংশ এবং যৌন সহিংসতা ৭.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একইভাবে ২০২৪ সালের 'এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পার্সপেক্টিভস'-এ প্রকাশিত ৮৩টি গবেষণার একটি মেটা-অ্যানালিসিস জানায়, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে সাধারণত সহিংসতার সামগ্রিক ঝুঁকি ৯ শতাংশ বেড়ে যায়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন যে, তাপমাত্রাই সহিংসতার একমাত্র কারণ নয়, এটি মূলত সমাজে আগে থেকে বিদ্যমান সামাজিক ও আচরণগত সমস্যাগুলোকে আরও উসকে দেয়।   বাংলাদেশে গরমের সময় এই সংকট ঘনীভূত হওয়ার পেছনে মৌসুমভিত্তিক অর্থনৈতিক সংগ্রাম এবং চরম আবহাওয়ার কারণে তৈরি হওয়া মানসিক চাপকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনারারি অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ জানান, তীব্র গরমে দিনমজুর, কৃষক ও রিকশাচালকেরা ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। এই আকস্মিক অর্থনৈতিক টানাপোড়েন খুব দ্রুত মানসিক চাপে রূপ নেয়, যা পরিবারের সবচেয়ে দুর্বল সদস্য অর্থাৎ নারী ও শিশুদের ওপর এসে পড়ে। আর্থিক সংকট থেকে বাঁচতে অনেক পরিবার শিশুদের শিশুশ্রম বা বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া দাবদাহের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে।   সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু কাঠামোগত প্রভাবক। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের মতে, ফসল কাটার মূল মৌসুমের বাইরে কৃষি ও অন্যান্য কায়িক শ্রমে যুক্ত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং গ্রীষ্মকালে জীবনযাত্রার ব্যয়ও শীতকালের তুলনায় বৃদ্ধি পায়, যা পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, মামলার দীর্ঘ জট, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করার (ভিকটিম-ব্লেমিং) প্রথাগত মানসিকতা। অধ্যাপক মাহবুব আরও উল্লেখ করেন, গ্রাম থেকে শহরে দ্রুত স্থানান্তরের কারণে প্রথাগত অনানুষ্ঠানিক সামাজিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়েছে, যা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।   এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজবিজ্ঞানীরা জৈবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কিছু অভ্যাসে পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন, তীব্র গরমের সময় খিটখিটে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার ও রেড মিট পরিহার করা এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজের পরিবেশের পোশাক সংস্কার করা (যেমন আইনজীবীদের ভারী কালো কোট পরা পরিহার করা)। এদিকে, আবহাওয়া ও তাপমাত্রার সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের এই সংবেদনশীল সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিষয়টির তাৎপর্য স্বীকার করে জানিয়েছেন, পুলিশ আগে কখনো মৌসুমভিত্তিক আবহাওয়ার সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক গবেষণা না করলেও, এর একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গভীর মূল্যায়ন হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন এবং অদূর ভবিষ্যতে পুলিশ এই বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
জাতিসংঘে মোতায়েন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। ছবি : সংগৃহীত

আজ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

টাকা, সরকারের লোগো ও অর্থমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

জুনেই পে-স্কেল ও গ্রেড-পেনশনে বড় চমক

ইসলামী ব্যাংকের লোগো ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কার হাতে, তথ্য প্রকাশের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত
সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদলীয় উপনেতার

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের বক্তব্যের ক্রম এবং সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে স্পিকার ও বিরোধীদলীয় উপনেতার মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বনির্ধারিত নামের তালিকায় আকস্মিক পরিবর্তনের অভিযোগ এনে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবু তাহের। একপর্যায়ে তিনি ক্ষোভে বক্তব্য বর্জন করারও ঘোষণা দেন।   অন্যদিকে, সংসদীয় রীতিনীতি ও উভয় পক্ষের চিফ হুইপদের বিশেষ অধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করে স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং ছোটোখাটো কার্যপ্রণালীগত বিতর্ক এড়িয়ে দেশের চলমান ব্যাংকিং খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ মূল আলোচনায় নিবিড় মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংসদকে তাগিদ দেন।   মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ৬৮ বিধিতে আলোচনার সময় স্পিকার ও বিরোধীদলীয় উপনেতার মধ্যে এমন পাল্টাপাল্টি আলোচনা হয়। এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।   সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সরকারি দলের আসন থেকে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রী এখন বলবেন না, অর্থমন্ত্রী বলবেন সবার শেষে। হি ইজ দ্য লাস্ট বক্তা, উনি পুরো বিষয়টি সাম আপ (উপসংহার) করবেন। এরপর স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নাম ঘোষণা করেন এবং তার জন্য সাত মিনিট সময় নির্ধারণ করে দেন।   অসুস্থতার কারণে স্পিকার তাকে বসে বলার অনুমতি দিলে বিরোধী দলের উপনেতা মাইক পেয়ে নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। মাননীয় স্পিকার, আপনি তো এই সংসদের জন্য একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। কিন্তু আনফরচুনেটলি (দুর্ভাগ্যবশত) একটু আগে যে সিচুয়েশনটা ক্রিয়েট (পরিস্থিতি তৈরি) হয়েছে, সেটা খুবই আনফরচুনেট। কারণ স্পিকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়ার পরে, সিট থেকে দাঁড়িয়ে আবার নতুন করে ডিজাইন ও পরিবর্তন করা অসম্ভব একটা বিষয়। এর প্রতিবাদে আমি আজকে কোনো বক্তব্য রাখব না, ধন্যবাদ।   বিরোধী দলের উপনেতার এমন বক্তব্যের পর স্পিকার সংসদীয় রীতিনীতি ব্যাখ্যা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। স্পিকার বলেন, মাননীয় বিরোধী দলের উপনেতা, বক্তব্য রাখা বা না রাখার ইচ্ছা-অনিচ্ছা সেটা আপনার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সাধারণত প্র্যাকটিস (রেওয়াজ) হলো, যদি সরকারি দলের নেতারা বক্তব্য দেন, সেখানে চিফ হুইপ নাম উপরে-নিচে করতে পারেন কিছু। আবার বিরোধী দলের তরফ থেকেও যখন কথাবার্তা বলবেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপও বক্তাকে উপরে-নিচে দিতে পারেন। এখন আপনি যদি না বলেন, মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, আপনি কি উনার পরিবর্তে অন্য কাউকে দিতে বলবেন? আপনাদের ৩০ মিনিট সময় আছে, আপনারা বক্তব্য রাখতে পারবেন। মাইক দেন, বিরোধী দলের উপনেতাকে মাইক দেন।   এরপর পুনরায় মাইক পেয়ে বিরোধী দলের উপনেতা স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, এই চেয়ারটা মাননীয় স্পিকারের। আসলে এখানে আমাদের যে সিরিয়ালটা দেওয়া হয়েছে এবং আপনি যেটা করেছেন, এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কিন্তু আপনার। বাকিরা বলতে পারে, আপত্তি করতে পারে। এখানে যদি কোনো কিছুই ঘোষণা না হতো এবং এরপরে আপনি আমাকে সময় দিতেন বা এরপরে মাননীয় নেতাকে সময় দিতেন, তাতে কোনো আপত্তি ছিল না। কারণ আমাদের দিক থেকে তিনজন বক্তব্য রাখার পরে, আপনি সরকারের পক্ষ থেকে একজনকেও বক্তব্য দিতে দেবেন না, এটা তো ঠিক না। তারা বক্তব্য দিলে আমরা তাদের মাইন্ড (মনোভাব) বুঝতে পারতাম, তারা কী করতে চাচ্ছে। যেহেতু একটা আনপ্লিজেন্ট এনভায়রনমেন্ট (অপ্রীতিকর পরিবেশ) এখানে তৈরি হয়েছে এবং সেটা আপনি অ্যালাউ (অনুমতি) করেছেন; আপনি এটা অ্যালাউ করে আপনার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।   বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় বিরোধী দলের উপনেতা ভারতের পার্লামেন্টের একটি উদাহরণ টেনে স্পিকারের ভূমিকা ও স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আপনাকে ভারতের পার্লামেন্টের একটি আলোচনার উদাহরণ দিতে চাই। পার্লামেন্টে ঢোকার সময়ে স্পিকারও ছিলেন, তারপর সেখানে কংগ্রেসের যিনি প্রধান তিনি ছিলেন এবং বর্তমান প্রাইম মিনিস্টার (প্রধানমন্ত্রী) যিনি, তিনিও ছিলেন। তো প্রাইম মিনিস্টার যখন এসেছেন, তখন স্পিকার তাকে একটু অধিকতর সম্মান দেখিয়ে ট্রিটমেন্ট (আচরণ) দিয়েছেন এবং তার প্রতিবাদে সেখানে রাহুল গান্ধী দাঁড়িয়ে স্পিকারের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছিলেন; স্পিকার সেটাকে পরে এন্ডোর্স (স্বীকার) করেছেন। এটা হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড অব পার্লামেন্ট অ্যান্ড রোল অব স্পিকার (সংসদের মানদণ্ড ও স্পিকারের ভূমিকা)। কিন্তু আজকে সেটার ব্যত্যয় ঘটে গেছে। এটা আপনাকে ব্যাখ্যা করতে হবে যে, একজনের নাম ঘোষণার পরে উনি সেটাকে চেঞ্জ (পরিবর্তন) করে আবার অপজিশনের (বিরোধী দলের) একজন বক্তাকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন, এটার কারণটা কী, এটা আমরা একটু জানতে চাই।   বিরোধী দলের উপনেতার এই গুরুতর অভিযোগের জবাবে স্পিকার অত্যন্ত ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং সংসদীয় বিধি মনে করিয়ে দেন। স্পিকার বলেন, মাননীয় বিরোধী দলের উপনেতা, সংসদের বক্তাদের ক্রম নির্ধারণ করে স্পিকার, স্পিকারের সেই অথরিটি (কর্তৃত্ব) আছে। তারপরও এখানে তেমন কোনো খারাপ পরিবেশ তো আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমি তো উভয় দলের মধ্যে সহযোগিতার পরিবেশ এখনো দেখতে পাচ্ছি। তারা তাদের আধা ঘণ্টা সময়ের মধ্যে টাইমটা নির্ধারণ করেছে। সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দুজন ব্যক্তি হলেন সংসদ নেতা এবং বিরোধী দলের নেতা; তাদের যে সিরিয়াল, এটা ব্রেক (ভঙ্গ) করা হয় না। তার মধ্যে যদি আপনি মনে করেন যে উপনেতাকে একটু সুযোগ দেওয়া হয় নাই বা কিছু, সেটা আপনি ভাবতে পারেন, কিন্তু এটাতে সিরিয়ালে কোনো ব্যত্যয় ঘটানো হয়নি। দ্বিতীয়ত, ভারতের যে উদাহরণ আপনি দিলেন, সংসদ নেতার অনেক প্রিভিলেজ (বিশেষাধিকার) থাকে। সুতরাং প্রাইম মিনিস্টারকে যদি একটু টাইম বেশি দিয়ে থাকেন স্পিকার, তিনি সংসদ নেতাকে দিয়েছেন, প্রাইম মিনিস্টারকে দেন নাই, সংসদ নেতা হিসেবে দিয়েছেন। সুতরাং কিছু এমন হতেই পারে।   স্পিকার আরও যোগ করে বলেন, যাই হোক, এটা অত্যন্ত তুচ্ছ বিষয়। আপনারা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। এখানে আমার মনে হয়, আমার ব্যক্তিগত মত, এই ছোটোখাটো বিষয় উপেক্ষা করে মূল বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে এটার ওপরেই যদি আপনারা মনোযোগ অধিকতর নিবদ্ধ করেন, তবে জাতি উপকৃত হবে। ধন্যবাদ, প্লিজ গো অ্যাহেড (শুরু করুন)।   স্পিকারের এই আন্তরিক অনুরোধ ও ব্যাখ্যার পর বিরোধী দলের উপনেতা পুনরায় কথা বলতে রাজি হন, তবে তার মানসিক অবস্থা পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জি মাননীয় স্পিকার, আপনি যেহেতু পরে আবার অনুরোধ করেছেন, আমি আপনার অনুরোধ রক্ষা করব। তবে আলোচনা করার যে মুড (মানসিকতা) আমার ছিল, ফ্রাঙ্কলি স্পিকিং (সত্যি বলতে), আই লস্ট ইট (আমি তা হারিয়েছি)।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়

ছবি: সংগৃহীত

সাভারে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য

ছবি: সংগৃহীত

ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সম্পর্ক জোরদারে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক সম্পদ, তৈরি পোশাক শিল্প এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।   নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে খাদ্য সংরক্ষণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তুলে ধরে তারা।   বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে অগ্রগতি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করা হয়। এছাড়া ক্রীড়া অঙ্গনে নারীদের সাফল্য, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে মেয়েদের অংশগ্রহণকেও ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়।   জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নদী ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটি।   মাহদী আমিন বৈঠকে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, ই-কমার্স এবং উদ্ভাবনী শিল্প খাতের উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও অবহিত করেন।   বৈঠকের শেষে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বিনিময় বাড়ানো এবং যৌথ ব্যবসায়িক উদ্যোগ সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম চূড়ান্তে জুরিবোর্ডের সভা

ছবি: সংগৃহীত

২ দিনেও সন্ধান মেলেনি স্বপনের, ছেলের লাশ ফেরতের আকুতি বাবার

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বিতর্কে সংসদ সরগরম, তদন্ত ও সংস্কারের আশ্বাস

0 Comments