সারাদেশ

উখিয়ায় রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নারী-শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

 

এ ঘটনায় আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে ভেতরে থাকা পর্যটকেরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কয়েকজন দরজা-জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন।

 

ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রথম দফায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারও অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

একই পরিবারের ছয়জন নিহত

অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা রয়েছেন। নিহত হয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভীও।

 

নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ইসরাত জাহান মালিহা, নাফিসতা মীম, ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান আহমেদসহ অন্যরা।

 

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাফিজ তেহামী, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির ছিলেন নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফাইজান তার ভাগ্নে। তাদের পরিবারের ৯ সদস্য বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই রিসোর্টে। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

আশিকুল ইসলামের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগুন লাগার পর আশিকুল ইসলাম রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। তবে তার স্ত্রী, স্ত্রীর বোনসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন। ওই স্বজন কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানান। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

 

আহতদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক ও তার স্ত্রী

অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

 

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় পাঁচ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য একজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

উদ্ধারকাজে একাধিক বাহিনী

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

 

ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেন।

 

রিসোর্টটির ইনচার্জ মো. সুমন ইসলাম বলেন, আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে বলে তারা ধারণা করছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ঘুম থেকে উঠে তিনি রিসোর্টটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভবনটি আগুনে পুড়ে যায়।

 

একই এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার পর কয়েকজন পর্যটককে জীবন বাঁচাতে লাফ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

 

ইউনুস নামের এক স্থানীয় যুবক অভিযোগ করেন, রিসোর্টটিতে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া বলেন, পর্যটন এলাকায় প্রায়ই ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে উখিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে।

 

তদন্ত কমিটি গঠন

 

জেলা প্রশাসন গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা হবে।

 

কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে প্রায় ২৯ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে এর অবস্থান। আগুনে রিসোর্টটির পুরো স্থাপনা পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
দিনাজপুর-ঢাকা যাতায়াত সহজ করতে নতুন রেলপথ নির্মাণ

দিনাজপুর-ঢাকা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বল্প সময়ে অর্থাৎ ৪/৫ ঘন্টায় নিয়ে আসতে সরকারের রেল বিভাগ ৩১ হাজার ৫শ’ কোটি ব্যয়ে নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।   গতকাল শুক্রবার দিনাজপুর পার্বতীপুর রেলওয়ে বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ হাসানুজ্জামান এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন।    তিনি বলেন, গত ১৩ অক্টোবর দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত লোকোমোটিভ রেল কারখানা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় রেল বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সাথে বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছেন। রেল বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী দিনাজপুর-ঢাকা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন রেলপথ স্থাপনের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।   মন্ত্রী বলেন, দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে ৮০টি লোকোমোটিভ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরমধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয়ের প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে।    শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য বৈঠকে রেল বিভাগের কর্মকর্তা এবং প্রকৌশলীদের অবহিত করেন।   বিধি অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এসব লোকোমোটিভ ক্রয় করা হবে। এগুলো দেশে পৌঁছাতে আরও দু’বছর সময় লাগতে পারে।   শেখ রবিউল বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। দ্রুততম সময়ে এসব লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা গেলে রেলওয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।   বর্তমান রেল বিভাগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে সময় সংক্ষেপ করতে নতুন রেলপথ স্থাপনের কার্যক্রমের গতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঈদ যাত্রায় ২৪ ঘণ্টার জ্যাম এবং ট্রেনে ঈশ্বরদী হয়ে সারাদিনের দুর্বিষহ ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে। দ্রুতগামী ট্রেন সার্ভিসে ঢাকা থেকে দিনাজপুর পৌঁছানো যাবে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায়।   উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জনগণকে এতদিন যমুনা সেতু পার হয়ে হাটিকুমরুল,এলেঙ্গা কিংবা বগুড়া শহরের সরু রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকা পড়ে থাকতে হতো। ট্রেনের যাত্রীদের শান্তাহার-ঈশ্বরদী হয়ে শত কি.মি. ঘুরে ঢাকায় আসতে হতো। সেই অবর্ণনীয় ভোগান্তি দূর করতে সড়ক ও রেল যোগাযোগে প্রায় ৩১ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়িত হতে হচ্ছে।   মন্ত্রী বাসস’কে জানান, কিভাবে ঘুরছে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অগ্রগতির মোড়!   এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি ডুয়েলগেজ রেলওয়ের কর্ড লাইন পথ। এতে ব্যয় হচ্ছে ১২ হাজার ৪শ’ ৪২ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ট্রেনের দূরত্ব কমবে ১শ’ ১৪ কি.মি.। ফলে সান্তাহার ও ঈশ্বরদী যেতে সময় বাঁচবে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।   এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহসড়কে ১৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১শ’ ৯০ কি.মি. মহাসড়কের নির্মাণ কাজের ৯৫ শতাংশ’রও বেশি সম্পন্ন হয়েছে। এতে থাকছে সার্ভিস লেনসহ ৬ লেনের সুবিধা, ৯টি ফ্লাইওভার ও ২২টি ওভারপাস।    সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুলের ৭৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। হাটিকুমরুল আন্তর্জাতিক ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার গাড়ি কোনো সিগন্যাল ছাড়াই চোখের পলকে ঢাকা বা নিজ জেলায় চলে যাবে।   দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বাসস’কে বলেন, দিনাজপুর-ঢাকা রেল বিভাগের রেলপথ উন্নয়নের সাথে শহরের ভেতরে ৪ লেন, শহর কেন্দ্রিক যানজট দূর করতে খুব শিগগির কাজ শুরু হবে। দিনাজপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও শহরের সংযোগ সড়কগুলোকে ৪ লেনে রূপান্তরের কাজ খুব শিগগির শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   সৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, হিলি স্থল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং দিনাজপুরের বিখ্যাত কাটারি ভোগ চাল, লিচু ও আলু মাত্র কয়েক ঘণ্টায় দ্রুতগামী ট্রেনযোগে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছে যাবে। প্রায় ৩১ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুয়েলগেজ রেলপথও ৬ লেনের মহাসড়ক নির্মাণ দিনাজপুর তথা রংপুর বিভাগের সর্বস্তরের জনগণ যৌক্তিক বলে মনে করেন।   দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, রংপুর ও বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটের মানুষের জন্য এই ডুয়েলগেজ রেলপথ এবং ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৭, ২০২৬
মনপুরায় স্ত্রীকে দিয়ে যৌন ব্যবসায় আটক দম্পতি।

স্ত্রীকে দিয়ে যৌন ব্যবসা করানোর অভিযোগ, আটক স্বামী-স্ত্রী

রাজধানীর বিমানবন্দরের গোলচত্বরে বিস্ফোরিত ককটেল। ছবি: সংগৃহীত

বিমানবন্দর গোলচত্বরে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহত, আটক করে ভারতে নিয়ে গেল

ছবি: সংগৃহীত
চার বছরেও মেলেনি বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিনের মৃত্যুর রহস্য, আরও সময় চায় সিআইডি

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশের লাশ উদ্ধারের পর চার বছর কেটে গেলেও তদন্তের সুরাহা হয়নি।   গোয়েন্দা পুলিশ ফারদিনের ‘আত্মহত্যার’ কথা বললেও সেই প্রতিবেদনে নারাজি আবেদন দিয়েছিলেন তার বাবা। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল।   তবে আড়াই বছরের বেশি সময়েও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি সিআইডি। বাদী বলছেন, প্রতিবেদন জমার তারিখ পাল্টেছে ৪০ বার।   সবশেষ গত ১৪ অক্টোবর মামলার প্রতিবেদন জমার দিন ছিল। সেদিনও সিআইডি প্রতিবেদন না দেওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল বিরুনী মীর আগামী ১৭ নভেম্বর নতুন তারিখ রাখেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন।   চার বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন রানা বলছেন, “এ মামলাটা দেখলেই বাংলাদেশে বিচারহীনতার বাস্তবতা বোঝা যায়।”   ফারদিনের সঙ্গে কী ঘটেছিল তা বের করে আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “৪০টা ডেট পার হয়েছে। এখনও মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। সরকারের প্রতি আহ্বান, বিচারহীনতা থেকে বের হয়ে মামলার ঘটনার সত্যটা বের করে নিয়ে আসুন।”   ‘এখনও নতুন কিছু করতে পারিনি’ ফারদিন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২৪ বছরের এ তরুণের লাশ ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।   তার আগে তিন দিন ধরে ছেলের নিখোঁজের কথা তুলে ধরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বাবা কাজী নূর উদ্দিন। লাশ উদ্ধারের দুদিন পর ৯ নভেম্বর রাতে রামপুরা থানায় হত্যা মামলা করেন। গ্রেপ্তার হন ফারদিনের বান্ধবী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমাতুল্লাহ বুশরা, যিনি এখন জামিনে মুক্ত আছেন।   ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বুশরার অব্যাহতি চেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা ডিবি। সেই প্রতিবেদনের বিষয়ে ওই বছরের ১৬ এপ্রিল ফারদিনের বাবার নারাজির আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডি মামলা অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। তবে এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়নি সিআইডি। আরও সময় চায় সংস্থাটি।   মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো পূর্বের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার তানজিলা সিদ্দিকা বলেন, “এখনও নতুন কিছু করতে পারিনি। ভিকটিম আত্মহত্যা করেছে, না তাকে হত্যা করা হয়েছে- এ নিয়েই তো মামলা সিআইডিতে এসেছে। মামলাটির আরও তদন্ত করতে হবে।”   ‘কিছু একটা তো করেন’ লাশ উদ্ধার ও মামলার চার বছরও পরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন।   ছেলেকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “ভালো বিতার্কিক ছিল। ঘটনার মাস দেড়ের পর বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে স্পেন যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে অপহরণ করা হল। অপহরণ করে তিন দিন অত্যাচার করল, চতুর্থ দিন হত্যা করে লাশ ফেলে দিল। চারটা বছর হয়ে গেল।   পুলিশের তদন্ত নিয়ে তিনি বলেন, “ডিবি পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে- ‘পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক অনটন, মাদকে সম্পৃক্ত থাকায় ফারদিন আত্মহত্যা করেছে’। তাহলে সেটা বের করে আনুন তাকে হত্যা করা হয়নি, আত্মহত্যা করা হয়েছে। মামলা এভাবে ঝুলিয়ে রাখা বিচারহীনতা।   “আর বুশরা, যাকে আসামি করেছিলাম সেও তো ভুগছে। তার একটা জীবন আছে, সংসার আছে। সে যদি দোষী না হয় মুক্তি পাক, দোষী হলে শাস্তি পাবে। কিছু একটা তো করেন।”   বুয়েটের আরেক ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ফারদিনকে ‘হত্যা করেছে’ বলে অভিযোগ নূর উদ্দিনের।   “আবরার হত্যার পর বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলনে ফারদিন নেতৃত্ব দিয়েছিল। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে ঢুকতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তারাই ফারদিনকে সরিয়ে দিয়েছে। সরকারের কাছে দাবি জানাই, মামলাটার বিচার করেন,” বলেন তিনি।   ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ফারদিনের বাবার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা তানজিলা সিদ্দিকার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “শুধু বললেই তো হবে না। ক্লু পেতে হবে তো।”   বুশরার আইনজীবী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, “মামলাটা তো অনেক দিন হয়ে গিয়েছে। গত বছর আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছিলেন মামলা অগ্রগতি বিষয়ে জানতে। মামলায় তেমন অগ্রগতি নেই।”   ফারদিনের বান্ধবী বুশরাকে নিয়ে এ আইনজীবী বলেন, “মেয়েটা অনার্স শেষ করে মাস্টার্স করছে। বিয়ে হয়েছে। মামলার প্রভাবটা সংসারের ওপর পড়ছে। পরিবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে আছে।   “প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ড নিন্দনীয়। সে আত্মহত্যা না হত্যা করেছে, তদন্ত করে বের করে আনুক। ধোঁয়াশা বা অন্ধকারাচ্ছন্নের মধ্যে রাখা ঠিক হবে? বুশরার বিরুদ্ধে অভিযোগ না পেলে অব্যাহতি পাবে। আর জড়িত থাকলে বিচার ফেস করবে। একটা কিছু তো হোক।”   ‘হত্যার শিকার হয়েছিলেন ফারদিন’, বলেছিলেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বাবা-মার বড় ছেলে ফারদিন থাকতেন ঢাকার ডেমরার কোনাপাড়ায় পরিবারের সঙ্গে।   ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর দুপুরে কোনাপাড়ার বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন; বলে গিয়েছিলেন, পরদিন তার পরীক্ষা রয়েছে বলে রাতে বুয়েটের হলেই থাকবেন। পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরবেন।   কিন্তু পরদিন পরীক্ষায় তার অনুপস্থিত থাকার খবর জেনে খোঁজাখুঁজি করেও ছেলেকে না পেয়ে থানায় জিডি করেন ফারদিনের বাবা কাজী নূরউদ্দিন রানা। তিন দিন পর ৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে লাশ পাওয়া যায়।   ফারদিনের লাশ পাওয়া যায় গোদনাইলে বর্ণালী টেক্সটাইল মিলের ঘাট এলাকায়। উদ্ধারের সময় তার হাতে ঘড়ি পরা ছিল; জামা-প্যান্ট ছিল প্রায় অক্ষত। তার মানিব্যাগও সঙ্গে ছিল বলে পুলিশ জানায়।   তবে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসক শেখ ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নিখোঁজ হওয়ার দিনই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন ফারদিন। তার মাথা ও বুকে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে৷ মৃত্যুর আগে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ওই ছাত্র৷   ‘আত্মহত্যা করেছিলেন ফারদিন’, বলেছিল ডিবি   ফারদিনের মৃত্যু নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে ফারদিনের বাবা রামপুরা থানায় হত্যা মামলা করলে তার তদন্তভার দেওয়া হয় ডিবিকে। এরপর ফারদিনের বান্ধবী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমাতুল্লাহ বুশরাকে ডিবি গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।   যেদিন ফারদিন নিখোঁজ হয়েছিলেন, সেদিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বুশরার সঙ্গে ছিলেন তিনি। রাতে বুশরাকে রামপুরায় পৌঁছে দেওয়ার পর তাকে আর পরিচিতজনরা দেখেনি।   মামলার তদন্তে নেমে ডিবি ফারদিনের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে ওই সময়ের পর ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের উল্টো দিকে কেরাণীগঞ্জে, সদরঘাটে, গুলিস্তানে এবং সর্বশেষ যাত্রাবাড়ীতে তার অবস্থান শনাক্ত করে।   ওই বছরের ১৭ নভেম্বর তখনকার ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেছিলেন, একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে ফারদিনকে রাত ২টায় যাত্রাবাড়ী থেকে রূপগঞ্জের তারাবগামী একটি লেগুনায় উঠতে দেখা গিয়েছিল।   এরপর ১৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বুশরাকে নামিয়ে দিয়ে রাত ৯টার পরে কেরাণীগঞ্জের একটি ব্রিজের কাছে গিয়েছিল, এরপর সেখান থেকে জনসন রোডে যায়, এরপর গুলিস্তান হয়ে যাত্রাবাড়ীতে যায়। রাত ২টা ৭ মিনিটে লেগুনাতে উঠে। পরে ২টা ৩৪ মিনিটে সুলতানা কামাল ব্রিজে যায়।   “যে সমস্ত জায়গায় ঘোরাঘুরি করছে, এগুলো পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি সে একাই ছিল, তার সঙ্গে কেউ ছিল না। এছাড়া সে যার যার সাথে কথা বলেছে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।   ডেমরার সুলতানা কামাল সেতুর উপর থেকে ফারদিন রাতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলার পক্ষে প্রমাণ মেলার কথা বলেন ডিবি কর্মকর্তা হারুন।   তিনি বলেছিলেন, “২টা ৩৪ এর দিকে আমরা দেখেছি, সেখান থেকে একটা শব্দ পানিতে পড়েছে এবং ওই সময়ই আমরা যে মোবাইল পর্যালোচনা করেছি, তাতে ওই সময়ে তার সেখানেই থাকার কথা।”   ওই রাতে সেই শব্দ কীভাবে শনাক্ত করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি ডিবির তখনকার ওই কর্মকর্তা।   বলেছিলেন, “আমরা তার মানসিক অবস্থা, তার বিভিন্ন জায়গায় চলাচল এবং ব্রিজের কাছে গিয়ে আমরা যে সেলটা দেখলাম, সেখানে ব্রিজের মাঝামাঝি জায়গায় সে ছিল সর্বশেষ এবং সেখান থেকে আমরা আবছাভাবে যে পানির মধ্যে একটা শব্দ হয়েছে, সেটা আমরা ব্রিজ থেকেও পেয়েছি।   “এই সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে, এইটা একটা সুইসাইডাল ঘটনা।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আদাবর থানার পাশে পরপর দুই হাতবোমা বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

লাগাতার অবরোধে বিপর্যস্ত সাজেকের জনজীবন

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে বাসে আগুন

হবিগঞ্জে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

হবিগঞ্জে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদেরকে উদ্ধার করে সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পুলিশ।   শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের জয়রামপুর ও নিজামপুর ইউনিয়নের নিতাইরচক গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।    সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সদর উপজেলার দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমিসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আমরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।    স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি এলাকায় কিছু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজন একপক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করেন। এ নিয়ে প্রথমে তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়রা একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যশোরে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

আলীকদমে ৩২টি দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত

অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পুলিশের হামলার তদন্তে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

0 Comments