রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৭৯৯টি মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৫টি বাস, ৭টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ৩৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১২৮টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৫টি বাস, ১২টি ট্রাক, একটি ক্যার্ভাডভ্যান, ১৪টি সিএনজি ও ৮৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬৫টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ১৫টি বাস, দুইটি ট্রাক, ২৬টি কাভার্ডভ্যান, ৬০টি সিএনজি ও ১৯২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৬৪টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩৩টি বাস, ২৬টি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ডভ্যান, ৬৩টি সিএনজি ও ১৩৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৮৬টি মামলা হয়েছে।
অপরদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৬টি বাস, তিনটি ট্রাক, নয়টি ক্যাভার্ডভ্যান, ৩১টি সিএনজি ও ৫৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৭৯টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১৪টি বাস, ১৯টি ট্রাক, ৩৬টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৮টি সিএনজি ও ১৬১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৫১টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২৮টি বাস, ১২টি ট্রাক, ১৫টি ক্যাভার্ডভ্যান, ৭৯টি সিএনজি ও ১৫৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪১২টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৯১টি বাস, ২৮টি ট্রাক, ৪৪টি কাভার্ডভ্যান, ৯২টি সিএনজি ও ২২৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৮১৪টি মামলা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযানকালে ৬৯২টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৪২৯টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
সোমবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করে।
ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে না পারলে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-২ ও সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী নারী। তাদের পেছনে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে চট্টগ্রাম থেকে রংপুর, যশোর থেকে ফরিদপুর, সব অঞ্চলের নারীরা সমান সুযোগ পাবেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) প্রাঙ্গণে জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলা-২০২৬-এর তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নারী উদ্যোক্তার অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ হবে আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগানে ৫ নভেম্বর ৬০টি স্টল নিয়ে শুরু হয় এ সামিট। শামা ওবায়েদ বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ কোনো সুবিধা বা অগ্রাধিকার প্রয়োজন নেই। তারা অন্য উদ্যোক্তাদের মতো নিজেদের ন্যায্য অধিকার ও সমান সুযোগ চান। এমন একটি সময় আসা উচিত, যখন উদ্যোক্তার আগে ‘নারী’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে না। নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত হলেই প্রকৃত অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। তিনি বলেন, যশোরের কোনো নারী নকশিকাঁথা তৈরি করেন, রংপুরের কোনও নারী শতরঞ্জি বানান কিংবা চট্টগ্রামের কোনও তরুণী অনলাইনে খাবারের ব্যবসা করেন। কিন্তু তাদের অনেকেই পণ্য বাজারজাতকরণ, নতুন বাজার খুঁজে পাওয়া, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে নিজেদের উদ্যোগ বড় করতে পারছেন না। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮১টি মিশনকে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্যের সম্ভাব্য বাজার ও চাহিদা খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে কোন ধরনের বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাজারের সংযোগ তৈরিতে মিশনগুলো কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশি কূটনীতিক, মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের একটি জায়গায় তাদের পণ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে চান তিনি। এসএমই ফাউন্ডেশন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা যোগাযোগ করলে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতিকে (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিল্পকলা, ফটোগ্রাফি, চলচ্চিত্র, নাটক, নাচ, পাটজাত পণ্য, প্রসাধনী ও গহনাসহ বিভিন্ন পণ্য এ অর্থনীতির অংশ। এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান অনেক বেশি। সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে দেশীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেয়েদের প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়েদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সরকার কাজ করছে। নারী শিক্ষার প্রসার ও যথাযথ সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে নারীরা সব ক্ষেত্রেই আরও ভালো করবেন। নিজেকে একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের প্রত্যেকের পেছনে সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প রয়েছে। এসব গল্প দেশের ১৭ কোটি মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারেন। আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলোতে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের কী ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন বাজার খোঁজা, অর্থায়ন, ব্যাংক ঋণ সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করবে। অনুষ্ঠানে নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশসহ যেকোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তাদের সমস্যা সমাধানে নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি। এর আগে জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা সামিট ২০২৬-এ আট জন নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। ওই আট জন নারী উদ্যোক্তা হলেন– সাগুফতা সুলতানা-ঢাকা বিভাগ, মঞ্জুলিকা চাকমা-চট্টগ্রাম বিভাগ, শান্তনা-সিলেট বিভাগ, হেনা খাতুন-ময়মনসিংহ বিভাগ, আফরোজা আজিজ মুন্নি-রাজশাহী বিভাগ, উম্মে কুলসুম পপি-রংপুর বিভাগ, বিলকিস আহমেদ লিলি-বরিশাল বিভাগ ও মরিয়ম নার্গিস-খুলনা বিভাগ। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয় ও চেয়ারপার্সন, এসএমই ফাউন্ডেশনের সচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা, গ্রাম পুলিশ প্রধানের মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিকের পরিমাণ ৭০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৮০ হাজার এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের জন্য ৮০ হাজার টাকার পরিবর্তে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে এসব ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারের এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল পর্যায়ে কোথায় কী ঘটছে, কারা কোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে কিংবা কোথাও পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সুবাদে আগেভাগেই কিছু তথ্য জানতে পারেন। এসব তথ্য যথাসময়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জানালে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন নিরাপদ থাকলে বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে। তৃণমূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি বজায় থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব পুরো দেশেই পড়বে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরায়ন ও নগরায়ন বাড়লেও দেশের অধিকাংশ মানুষের শিকড় এখনো গ্রামকেন্দ্রিক। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, রাষ্ট্র ও সমাজেও ব্যাপক সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছিল। পরিকল্পিতভাবে হীনস্বার্থ ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব উসকে দিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মূল্যবোধ বিনষ্ট করা হয়েছিল। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় পরিবারে পরিবারেও বিরোধ ও বিবাদ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা আজাদ কাশ্মীর (পিওকে) উদ্ধারের পাশাপাশি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর আমলে ‘জোরপূর্বক হস্তান্তরিত’ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চল ভারতের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। বিজেপির এই সাংসদ দাবি করেন, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর অঞ্চল একসময় প্রাচীন ‘তিপ্রা’ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই ঐতিহাসিক যোগসূত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে আজাদ কাশ্মীর পুনর্দখল করার পাশাপাশি নেহেরু জোরপূর্বক যে ভূখণ্ডগুলো হস্তান্তর করেছিলেন, তা ফেরত নেওয়ার সময়ও এসেছে; হোক সেটি নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা সিলেট।’ দুবের বক্তব্য অনুযায়ী, অবিভক্ত ত্রিপুরার শেষ স্বাধীন রাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য তার ভূখণ্ড নিয়ে মধ্যস্থতার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নেহেরুকে বারবার জবাবদিহিতার মুখে দাঁড় করিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘তৎকালীন রাজা বীর বিক্রম সিংহ নেহেরুর সঙ্গে ক্রমাগত লড়াই চালিয়ে গেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, তার ভূখণ্ড নিয়ে কীভাবে আলোচনা হতে পারে? কীভাবে নোয়াখালী পাকিস্তানকে দেওয়া হতে পারে? কীভাবে সিলেট বা চট্টগ্রামের ওপর গণভোট আয়োজন করা যায়? তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এটি তার রাজ্য এবং তা ভারত বা পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হবে নাকি স্বাধীন থাকবে—সেই সিদ্ধান্ত একান্তই তার।’ ত্রিপুরার ভারতে অন্তর্ভুক্তির ইতিহাস টেনে তিনি আরও বলেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন এবং মহারানি কাঞ্চন প্রভা ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ভারতে অন্তর্ভুক্তির সনদে (ইনস্ট্রুমেন্ট অব একসেশন) স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে ত্রিপুরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৪৬ সালে নোয়াখালীতে সংঘটিত হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে জওহরলাল নেহেরুর তীব্র সমালোচনা করেন এই বিজেপি নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নেহেরু এতটাই মরিয়া ছিলেন যে নোয়াখালীর হত্যাকাণ্ডের দিকে নজর না দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারে মুসলিম লীগকে যুক্ত করার বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন। দুবে বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট নয়, বরং ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর নেহেরু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন এবং তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মুসলিম লীগ ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ শুরু করে। তার দাবি, ১৯৪৬ সালের ১৫ অক্টোবর নোয়াখালীতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং একদিনেই প্রায় ১০ হাজার হিন্দু নিহত হন। কিন্তু নেহেরু সেখানে না গিয়ে কীভাবে মুসলিম লীগকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করবেন, তা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (নর্থ-ইস্ট) অনুন্নয়নের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়াকে দায়ী করে দুবে দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দর না থাকার কারণেই সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আজ যদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে পিছিয়ে পড়া মনে হয় বা এখানকার খনি, খনিজ ও গ্যাসসম্পদ পুরোপুরি ব্যবহার করা না যায় এবং অঞ্চলটি যদি বিচ্ছিন্ন বোধ করে, তবে তার একমাত্র কারণ চট্টগ্রাম বন্দর না থাকা। তাই এখন চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট ও নোয়াখালীকে ভারতের সীমানায় ফিরিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে। সিলেটের গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপির এই সাংসদ। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস দল পরবর্তীতে বাহারুল ইসলামকে রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত করে পুরস্কৃত করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বাহারুল ইসলাম মুসলিম লীগের ‘রেড আর্মি’র সদস্য ছিলেন, যারা নোয়াখালীর হত্যাযজ্ঞে জড়িত ছিল এবং চট্টগ্রামকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা ও সিলেটে গণভোট আয়োজনের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছিল। পরবর্তীতে কংগ্রেসের হাত ধরে তিনি রাজ্যসভার সদস্য হন, সেখান থেকে হাইকোর্টের বিচারক এবং অবসর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে আসীন হন। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট থেকে অবসরের পরও কংগ্রেস তাকে আবারও রাজ্যসভার সাংসদ করে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিকে ‘ইতিহাস সংশোধনের সময়’ উল্লেখ করে নিশিকান্ত দুবে বলেন, যেভাবে পাকিস্তানের কাছ থেকে আজাদ কাশ্মীর পুনরুদ্ধারের সময় হয়েছে, ঠিক একইভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট ও নোয়াখালীকে ফিরিয়ে আনার সময়ও উপস্থিত। এর আগে ত্রিপুরার রাজপরিবারের প্রধান ও ‘তিপ্রা মথা’ দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেব বর্মাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেশভাগের সময় তার ঠাকুরমাকে অন্ধকারে রেখে সাবেক ত্রিপুরা রাজ্যের একটি বড় অংশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যুক্ত করার অভিযোগ তোলেন। দেশভাগের সেই অধ্যায়কে ভারতের ইতিহাসের ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি লেখেন, আজ যদি ভারতের ওই অঞ্চলের সরাসরি সমুদ্রসংযোগ থাকত, তবে শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে কোনো সামরিক উদ্বেগ থাকত না। ভারত সরকারের সেই কৌশলগত ভুলের চড়া মূল্য এখন ত্রিপুরা, সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দেশকে দিতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তার দলের ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’ আন্দোলনকে প্রায়ই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হলেও অতীতের ঐতিহাসিক ভুলের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অংশগুলোকে পুনরেকত্রীকরণ করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।