ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনায় ইউরোপের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি
তার মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীন কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং পৃথক পৃথক আলোচনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকে একজন একক প্রতিনিধি নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ওই প্রতিনিধির হাতে আলোচনার জন্য সুস্পষ্ট ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা বলেন মেলোনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে মেলোনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও পক্ষের উদ্যোগে একাধিক আলোচনার কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এতে ইউরোপের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে এবং মনে হচ্ছে, কোনো সুসংগঠিত পরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউরোপ কার্যত গুরুত্ব হারাতে পারে।
তিনি বলেন, আলোচনার ধরন বা কাঠামোর চেয়ে চূড়ান্ত ফলাফল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই ফলাফলে কার্যকর প্রভাব রাখতে হলে ইউরোপকে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে। এ জন্য কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং তাঁর আলোচনার ক্ষমতা কতটুকু হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
মেলোনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি নিজে কিংবা ইতালির জন্য আলোচনার টেবিলে কোনো বিশেষ আসন চাইছেন না। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়া কোনো প্রতিনিধি সদস্যদেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার নিয়ে আলোচনা করলে তা মেনে নেবে না রোম।
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ইস্যুতে বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে। কোথাও কয়েকটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠক করছেন, কোথাও ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। আবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোর মধ্যে পৃথক আলোচনা চলছে। মেলোনির মতে, এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় ইউরোপের কূটনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এমন পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষা করছে, যারা যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে চায়। মানুষের জীবন এবং ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত থাকায় এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম তিন দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন।
এর আগে বুধবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রাসেলসে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়েও ন্যাটোর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার পৃথক আলোচনা হয়েছে।
মেলোনি চান, আগামী সপ্তাহে ডাবলিনে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় কাউন্সিলের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসুক। এরপর যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ডিসেম্বরের সম্মেলনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় আর্থিক ও সামরিক সহায়তাকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনায় জোটটির আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইউরোপের অবস্থান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মেলোনির সাম্প্রতিক চিঠি সেই উদ্বেগকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থেকে চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশগুলো হলো ভারত, চীন, ইরাক ও কাতার। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে যখন নানা বাধার মুখে পড়ছে, তখন চার দেশের জন্য এ সুযোগ তৈরি করল তেহরান। মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ধরনের পরাজয়ের পরপরই এ সিদ্ধান্তের খবর সামনে এসেছে। ইরানের সঙ্গে ওই চার দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোগাদ্দাম এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ভারতীয় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার ফলে দেশটি থেকে ওষুধ আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, চীনা জাহাজকে ছাড় দেওয়ার উদ্দেশ্য বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা। মোগাদ্দামকে উদ্ধৃত করে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা বলেছে, ‘বর্তমানে আমরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থেকে চারটি দেশকে ছাড় দিয়েছি। দেশগুলো হলো ভারত, চীন, ইরাক ও কাতার। এসব দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করছে এবং আমেরিকানরাও সেগুলোতে বাধা দিচ্ছে না।’ এই সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরতা এবং এ অঞ্চলে বিস্তৃত বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে ইরানের এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে ছাড় দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, জাহাজগুলো বিনা খরচে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় জাহাজগুলোকে এখনো প্রণালি পারাপারের জন্য শুল্ক দিতে হতে পারে। অর্থাৎ, তেহরানের এই ছাড় মূলত চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে, পারাপারের আর্থিক খরচ মওকুফের ক্ষেত্রে নয়। তালিকায় চীনের অন্তর্ভুক্তি তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং দেশটির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগী। চীনা জাহাজ চলাচলের সুযোগ বজায় রেখে এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুরক্ষিত রাখতে চাইছে তেহরান। অন্যদিকে, ইরানের কাছে কাতার ও ইরাকেরও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। কাতার বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ। উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথ সচল রাখার ক্ষেত্রেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর ইরানের দৃষ্টিতে ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিজেদের স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সূত্র: এনডিটিভি
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন বা পানিতে পেতে রাখা বোমার আঘাতে আরও দুটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরেছে বলে জানিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। এর মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় ওই পানিপথে অন্তত ৫টি ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেল। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, সামুদ্রিক সতর্কতা উপেক্ষা করে এবং সমন্বয় ছাড়াই নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করার কারণেই এই দুই তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন পথ ব্যবহার করে পার হওয়ার চেষ্টা করায় মোট পাঁচটি ট্যাংকারে আগুন লাগার কথা জানিয়েছে নৌবাহিনী। এদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই তথ্য জানান। এর আগে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আঘাত হানার আগে ধ্বংস করার দাবি করেছিল জোট, যদিও হুতিরা এ দাবি অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর হাজার হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এবং ডজনের বেশি জাহাজে প্রস্তুত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই তারা ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবে। গত মাসেও পত্রিকাটি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এই হামলা হবে সংক্ষিপ্ত তবে তীব্র। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করার সময় পৃথক দুটি ঘটনায় এসব জাহাজে আগুন লাগে। আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, একটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি নৌপথ দিয়ে অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অন্যদিকে, প্রণালির পূর্বাঞ্চলে নির্ধারিত নৌপথ দিয়ে বের হওয়ার সময় আরেকটি সুপারট্যাংকারে আগুন লাগে। পরবর্তী সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে একটি টাগবোট ওই জাহাজের কাছে গেলে সেটিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, জাহাজগুলোর নাম ও জাতীয়তা কী এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি আইআরজিসি। ইরানের দেওয়া এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ড্রোন অক্ষত অবস্থায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছে। দেশটির দাবি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট ড্রোন দুটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেগুলো নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা কিংবা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। সূত্র: রয়টার্স