তিন দফা পিছিয়েও শেষ হয়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর সম্প্রসারণ প্রকল্পাধীন নতুন ক্যাম্পাসের নির্মাণ। প্রকল্পের সামগ্রিক ভৌত অগ্রগতি ৮৬ শতাংশ হলেও বর্তমানে অর্থাভাবে আটকে আছে নির্মাণকাজ।
একনেকে আরডিপিপি অনুমোদনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যেই ক্যাম্পাস হস্তান্তরের আশ্বাস পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ মার্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ব্যাটালিয়ন ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালের নভেম্বরে সেনাবাহিনী ভূমি উন্নয়ন ও ভৌত কাজ শুরু করে। তৎকালীন সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।
তবে দ্বিতীয় মেয়াদেও সম্পন্ন না হওয়ায় তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত। ইতোমধ্যেই ২০২৬-এর জুন মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। কারণ হিসেবে জানা যায়, অর্থাভাবে কাজ শেষ হয়নি এখনো। বর্তমানে আরডিপিপি প্রকল্পের আওতায় ২৪২ কোটি টাকার একটি বাজেট আটকে রয়েছে।
প্রকল্পটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই-বাছাই শেষ করে বর্তমানে পরিকল্পনা দপ্তরে যাচ্ছে। এর আগে একবার ছাড় পেলেও বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি যায়। বর্তমানে পরিকল্পনা দপ্তরের ছাড়পত্র পেলেই প্রকল্পটি একনেকে উঠতে পারে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আরডিপিপি প্রকল্প অনুমোদন পেলেই পরবর্তী একবছরের মধ্যে কাজ শেষ করে নতুন ক্যাম্পাস হস্তান্তরযোগ্য হওয়ার আশ্বাস পেয়েছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতিও সন্তোষজনক বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে জানা যায়, অনুমোদিত ডিপিপি প্রকল্পটির মোট পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সেখানে প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। যা মোট অনুমোদিত অর্থের ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ, ক্রমপুঞ্জিভূতব্যয়ের অগ্রগতি এখানে ৮৬ শতাংশ।
আরো জানা যায়, প্রকল্পাধীন নির্মিতব্য ভবনগুলোর সামগ্রিক ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৮৬ শতাংশ। এর মধ্যে কাজ সম্পন্ন এবং হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে, উপাচার্যের বাসভবন, মেডিক্যাল ও ডে-কেয়ার সেন্টার এবং একটি প্রধান ফটক, সাব-স্টেশন। এ ছাড়া ছাদ ঢালাই শেষে ফিনিশিংয়ের কাজ চলমান ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রী হল-২, কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবন, স্কুল ভবন, দ্বিতীয় প্রশাসনিক ভবন, দ্বিতীয় প্রধান ফটক, সুইমিং পুল, দ্বিতীয় প্রধান ফটক এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ।
তা ছাড়া নির্মাণকাজ চলমান ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে, দুটি ছাত্র হলের (১০ তলা ভবন ভবন) ছাত্র হল-১ এর অষ্টম তলার ছাদ ঢালাই ৫০ শতাংশ এবং ছাত্র হল-২ এর ষষ্ঠ ও সপ্তম তলার ছাদ ঢালাই ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্রী হল-১ (১০ তলা) এর ষষ্ঠ তলার ছাদ ঢালাই ৫০ শতাংশ, শিক্ষকদের বাসভবন (১০ তলা)- এর ১০ম তলার ছাদ ঢালাই শেষে ফিনিশিংয়ের কাজও ৯০ শতাংশ সম্পন্ন, ডরমিটরি ভবন (১০ তলা)-এর ১০ম তলার ছাদ ঢালা সম্পন্ন এবং বাকি কাজ আরডিপিপি অনুমোদনের পর শেষ করা হবে, প্রকৌশল অনুষদ ভবন (১০ তলা)-এর ষষ্ঠ তলার ছাদ ঢালাই ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, টিএসসি কেন্দ্র (পাঁচ তলা)-এর ফাউন্ডেশনের কাজ সম্পন্ন এবং বাকি আরডিপিপি অনুমোদনের পর সম্পন্ন করা হবে।
এ ছাড়া রয়েছে অডিটরিয়ামের (তিনতলা) দ্বিতীয় তলার ছাদ, আন্তর্জাতিক কমপ্লেক্স (ছয় তলা) তৃতীয় তলার ছাদ, স্পোর্টস কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত জিমনেসিয়াম ও খেলার মাঠ, সীমানাপ্রাচীর, শেডসহ গাড়ির ওয়ার্কশপ, আরসিসি রোড, সারফেস ড্রেন, লেক খনন ও জলাধার নির্মাণ, বহিঃবিদ্যুতায়ন কাজ, গ্যাস লাইন সংযোগ ওভারহেড ট্যাংক ও গভীর নলকূপ। ৮৬ শতাংশ কাজের অগ্রগতি নিয়েও আটকে আছে প্রকল্পের আছে। সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশনটির পক্ষ হতে জানানোর হয়েছে, আরডিপিপি প্রকল্প অনুমোদন হলেই অবশিষ্ট কাজ সম্পন্নের শুরু করতে পারবেন। নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণ শেষ হলে বর্তমান ক্যাম্পাসের ৫০ একরের সাথে নির্মাণাধীন ১৯৪ একর যুক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন গিয়ে দাঁড়াবে ২৪৪ একরে।
নতুন ক্যাম্পাসের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এস এম শহিদুল হাসান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘আরডিপিপি প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য কাজ আটকে রয়েছে। একনেকে এটি পাস হয়ে এলেই শীঘ্রই কাজ শেষ হয়ে।’
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘অনেকবার পিছিয়েছে সর্বশেষ এ বছর শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু টাকার জন্যে আটকে রয়েছে। একটা প্রকল্প গিয়েছে, সেটা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একনেকে অনুমোদন পেলেই তারা (সেনাবাহিনী ২৪ ব্যাটালিয়ন) কাজ শুরু করতে পারবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. জালিল রাহিমি জাহানাবাদি। বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মৌলায়ী আরানি তার সঙ্গে ছিলেন। বৈঠককালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চলমান যৌথ সহযোগিতামূলক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম এবং ভাষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম জোরদার করার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা মতবিনিময় করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ফারসি ভাষা কার্যক্রমের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ নিয়েও তারা আলোচনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সৌর প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও ফার্মেসিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের ওপর তারা জোর দেন। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়েও আলোচনা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি ভিজিটিং প্রফেসর, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এবং ইরানের মধ্যে বহু বছর ধরে একটি চমৎকার ঐতিহাসিক, সামাজিক, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও বন্ধন বিদ্যমান রয়েছে। আগামী দিনে বিভিন্ন একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ইরানের রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. জালিল রাহিমি জাহানাবাদি শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ইরানি অধ্যাপক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর এবং এর সঙ্গে যৌথ সহযোগিতামূলক একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণে গভীর আগ্রহ প্রদর্শনের জন্য ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান। এর আগে, ইরানি রাষ্ট্রদূত টিএসসি মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এবং ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মৌলায়ী আরানি বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সদস্য সচিব মেহেদী হাসান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি। সোমবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মোনামি লেখেন, আমি আমার পারসোনাল প্রোফাইল থেকে, একান্তই পারসোনাল এক্সপিরিয়েন্সের একটা ছবি ও পোস্ট দিলাম; যেটা সম্পূর্ণ জাতীয় ও রাজনৈতিক ইস্যুর সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু আমার ছবি শেয়ার করে এরকম অমার্জিত ও নির্লজ্জ পোস্ট দেওয়া একমাত্র ছাত্রদল দিয়েই সম্ভব। অবশ্য আমি এতে অবাক হইনি। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলকে অন্যদের চেয়ে ভালো ভাবার কোনো কারণ দেখি না। যারা সুশীল, তাদের সুশীলতা কেবল লীগ (মায়াকান্না) আর দলের (বিশিষ্ট) শিক্ষকদের জন্যই। আর কোনো শিক্ষক এর আওতায় পড়ে না। আর যদি জামায়াত ট্যাগ থাকে, তাহলে তো হলোই। যেমন আমি। ঢাবির এই শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডাকসুর পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আর বামদের এসব কেবল চুপ করে দেখে যাচ্ছি। নিজেকে সান্ত্বনা দিই, আমি যেহেতু শিক্ষক, আমি ওদের না হয় ক্ষমাই করে দিই। কিন্তু মানুষ হিসেবে, কষ্ট পাওয়াটা সাভাবিক। ‘আমি কেবল ভাবি, এতে ওদের কী লাভ হয়? দলের কাছে বাহবা পাওয়া নাকি নিজেকে খুব নির্লজ্জ হিসেবে জাহির করা? করলেই বা কি, এসব উদ্ধত আচরণ দিয়ে জীবনে কেউ খুব বেশি কিছু করতে পারে না। যাগগে, পারিবারিক শিক্ষা না থাকলে আর রাজনীতিকে একমাত্র পেশা বানাতে চাইলে হয়তো এসব করতে হয়’, যোগ করেন তিনি। মোনামির ওই পোস্টের নিচে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা লিখেছেন, ‘একটা লাইফলেস বাম আছে। বিদেশ গেছে, তাও সভ্য হতে পারে নাই বিন্দুমাত্র। অযথা এমন ব্যক্তিগত ছবি, অভিব্যক্তি শেয়ার দেয়। ওদের টার্গেট আপনি বেশি, কারণ আপনাকে খারিজ করে দেওয়া যাচ্ছে না কোনো ফ্রেম করে।’ জবাবে মোনামি একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামের এক বড় নেত্রীর অনেক বড় একটা সাহায্য করেছিলাম, সহকারী প্রক্টর থাকাকালে। সব দরজা যখন তার জন্য বন্ধ, তখন প্রক্টর অফিসে এসে কেঁদেছিল, ব্যবস্থা না করলে ওর পড়ালেখা হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। আমি ওর জন্য কত দৌড়ঝাঁপ দিলাম। অবশেষে ওকে সাহায্য করতে পারলাম। ওকে বললামও, সবকিছুর পাশাপাশি এবার পড়াশোনাটা শেষ করো কিন্তু। আমাকে জড়িয়ে ধরলো। সেই একই মেয়ে কিছুদিন পর রাজুতে দাঁড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে ভাষণ দিলো। আমি কী পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি, আমি বলে বোঝাতে পারব না। আল্লাহ হয়তো এর উত্তম প্রতিদান আমাকে দেবেন, মানুষ থেকে কৃতজ্ঞতা আশা করা ভুল, এরা অকৃতজ্ঞ এবং কৃতঘ্ন হবে এটাই হয়তো সাভাবিক।’
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন গ্রহণ আগামী ২১ আগস্ট থেকে শুরু করার পরিকল্পনা করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললে চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। রবিবার (১৬ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে এক বৈঠকে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এ বিষয়ে আলোচনা করেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিজ্ঞপ্তির আনুষ্ঠানিক খসড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে মাউশি। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ২১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে বদলির আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত। আবেদন জমা নেওয়ার জন্য মোট সাত দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর পরবর্তী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রক্রিয়াটি শেষ হলেই চূড়ান্তভাবে শিক্ষকদের বদলি কার্যকর করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষকরা নির্ধারিত তিনটি এলাকার বাইরে অন্য কোথাও বদলির আবেদন করতে পারবেন না। নির্ধারিত এলাকার বাইরে আবেদন করতে গেলে ‘আবেদন যোগ্য নন’ বলে নোটিফিকেশন দেখাবে সফটওয়্যার। মাউশি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা এবং স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের বাইরে অন্য কোথাও বদলি আবেদন করা যাবে না। এই এলাকাগুলোর বাইরে আবেদন নেবে না সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি সেভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে।