খেলাধুলা

তাসকিন-রানাকে নিয়ে মিরাজের স্পষ্ট বার্তা

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় দিনটা নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ দল। আজ রোববার মিরপুরে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের বিপক্ষে লিড পায় টাইগাররা। তবে ম্যাচে বড় ভূমিকা রেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বল হাতে এই স্পিনার তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট।


ক্যারিয়ারের ৫৭ টেস্টে খেলতে নেমে এনিয়ে ১২বার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকারের নজির গড়েছেন মিরাজ। ২০১৬ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। সিরিজের ঠিক পরের ম্যাচে ঢাকায় হোম অব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরপর দুই ইনিংসে ৬টি করে উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরা হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। পরে উইকেট সম্পর্কে দিন শেষে জানিয়েছেন নিজের অনূভুতি।
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘ওরকম বেশি স্পিন করছিল না। আমি চেষ্টা করেছি ভালো জায়গায় বল করার। একইসাথে কিছু সুবিধা পেয়েছি। আবার সব বল স্পিন করেছে এমন না। কিছু কিছু বল স্পিন করেছে। ব্যাটারের মনে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। এজন্য হয়ত উইকেট পাওয়া সহজ হয়ে গেছে।’

এসময় মিরাজ আরও বলেন, ‘বোলারদের পরিকল্পনা একটাই ছিল- রান কীভাবে আটকানো যায় এবং কিভাবে ঠিক জায়গায় বল করা যায়। মিরপুরে আমরা খেলি, ধারণা ও অভিজ্ঞতা আছে। বোলাররা ধারাবাহিকভাবে এক জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছি।’
পরে নাহিদ রানাকে নিয়ে বলেন, ‘নাহিদ রানা তো ভালো বোলিংই করেছে। প্রথম দুটি স্পেল একটু খরুচে ছিল। তবে আমরা ওকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছি। ও একটা ব্রেক থ্রুও দিয়েছে আমাদের। এটা অনেক জরুরি ছিল। অনেক রান করে ফেলেছিল, পার্টনারশিপ হয়েছিল।’


ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তাসকিনের সাপোর্ট নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘তাসকিন যেভাবে বল করেছে ওর জন্যই ওদের কম রানে আটকাতে পেরেছি। আমার কাজ সহজ হয়ে গেছে, যখন সে দুই উইকেট নিয়েছে। আমাদের পার্টনারশিপ ভালো ছিল। ১০ ওভারের মতো বল করেছি দুজনে। এক এন্ড থেকে টাইট বোলিং হলে কিন্তু আরেক এন্ড থেকে রান বের হয়ে গেলে উইকেটের সুযোগ তৈরি হবে না। কিন্তু দুই প্রান্ত থেকেই টাইট বোলিং হলে ব্যাটাররা রানের জন্য সুযোগ খুঁজে, কারণ ক্রিকেট রানের খেলা। তাসকিনের জন্য একটু কঠিন ছিল, অনেকদিন পর টেস্ট খেলেছে। তবে ওর বোলিং ওভারঅল খুব ভালো লেগেছে। রানা-ইবাদতও ভালো করেছে। বোলিং ইউনিট খারাপ করেছি মনে হয় না। লিডের আগেই তো আটকে দিয়েছি।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ মুহূর্তে হার, টুর্নামেন্ট ছাড়ল মুম্বাই

ম্যাচের রঙ বদলাল বারবার। শেষের আগের ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের আশা জিইয়ে রাখলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। কিন্তু শেষ ওভারে রাজ বাওয়ার এলোমেলো বোলিংয়ে হেরে গেল তারা। একই সঙ্গে পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল প্রথম পর্ব থেকে।   রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২ উইকেটে জিতেছে শিরোপাধারী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। রায়পুরে রোববার ১৬৭ রানের লক্ষ্য শেষ বলে ছুঁয়ে ফেলেছে তারা।   বেঙ্গালুরুর জয়ে মুম্বাইয়ের সঙ্গে প্লে-অফের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে লখনৌ সুপার জায়ান্টসও, যারা দিনের প্রথম ম্যাচে হেরেছে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে।   বিস্তারিত আসছে................

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

এমএলএসে নতুন ইতিহাস মেসির, মাত্র ৬৪ ম্যাচেই ১০০ গোল অবদান

ছবি: সংগৃহীত

ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে আবার ৫ পয়েন্টে এগিয়ে আর্সেনাল

ছবি: সংগৃহীত

নতুন বিদেশি কোচ চূড়ান্তে আরও অপেক্ষা, দুই বছরের পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বাফুফে

ছবি: সংগৃহীত
নাটকীয় জয়, শিরোপার স্বপ্নে আরও উজ্জ্বল আর্সেনাল

নাটক, নাটক আর নাটক! লন্ডন স্টেডিয়ামে রোববার রাতে কী নাটকই না মঞ্চস্থ হলো।   যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটের খেলা চলছে। আর মিনিট দেড়েক পরেই শেষ বাঁশি বাজার কথা। এমন সময়েই কিনা গোল করে বসলের ওয়েস্ট হামের ক্যালাম উইলসন। ২২ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখা আর্সেনালকে হতাশায় ডুবিয়ে যে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট হাম।   নাটকের শেষ অঙ্কের শুরু তখনই। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) জানাল আর্সেনাল গোলরক্ষক দাভিদ রায়াকে সম্ভবত ফাউল করা হয়েছে গোলের বিল্ডআপে। অনেক অ্যাঙ্গেলের ভিডিও দেখেও যখন তাঁরা সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি, মাঠের পাশের মনিটর দেখতে ছুটলেন রেফারি ক্রিস কাভানা। সময় নিয়েই রিপ্লে দেখে মাঠে ফিরে মাইকে ঘোষণা দিলেন ফাউলের শিকার রায়া, গোল বাতিল, ফ্রিকিক পেয়েছে আর্সেনাল।   ফল, ১-০ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আরও কাছে আর্সেনাল। আর অবনমনের শঙ্কা আরেকটু বেড়ে গেল ওয়েস্ট হামের। এই জয়ের পর ৩৬ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট আর্সেনালের। এক ম্যাচ কম খেলা নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে দলটি। নিজেদের শেষ দুটি ম্যাচ জিতলেই ২২ বছর পর আবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হবে দলটি। অন্যদিকে ৩৬ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে ওয়েস্ট হাম। ১৭ নম্বরে থাকা টটেনহামের পয়েন্ট ৩৭, তবে স্পাররা ম্যাচ একটি কম খেলেছে।   নাটক কম হয়নি আগেও। আক্রমণের পর আক্রমণ গড়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না আর্সেনাল। ৮৩ মিনিটে অবশেষে গোল পায় গানাররা। মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের নেওয়া শট ওয়েস্ট হামের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ঢুকে যায় জালে।   এই গোলটা ধরে রেখেই আর্সেনাল যখন জয়ের খুব কাছে, তখনই আবার নাটক। ওয়েস্ট হামের গোল, গোল বাতিল, শিরোপার আরও কাছে আর্সেনাল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

তাসকিন-রানাকে নিয়ে মিরাজের স্পষ্ট বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

ধোনির বিশেষ রেকর্ড স্পর্শ করলেন রোহিত ও কোহলি

ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রচারস্বত্ব না থাকায় বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ

৫ উইকেট শিকার করে মাঠ ছাড়ার সময় মিরাজের বল প্রদর্শন। আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। ছবি : সংগৃহীত
মিরাজের ফাইফারে এগিয়ে বাংলাদেশ, মিরপুর টেস্টে তৃতীয় দিন শেষ

দিনের খেলা শেষের ঘোষণা আসতেই আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবরোকে ঘিরে ধরলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত ছিল পর্যাপ্ত আলো থাকলে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত চালানো যাবে খেলা।  কিন্তু বিকেল সাড়ে ৫টায় লাইট মিটার দেখে আম্পায়াররা তুলে নিলেন বেলস। পাকিস্তানিরা তা মানতেই পারছিলেন না। শেষ বিকেলে অন্তত একটি-দুটি উইকেট নিতে শান মাসুদ-শাহীন আফ্রিদিরা ছিলেন মরিয়া। আম্পায়ারের সঙ্গে তাদের দরবার চলতেই থাকল। বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় ততক্ষণে হনহন করে ড্রেসিং রুমের পথে হাঁটা দিয়েছেন।  এর আগে মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে দিনটি নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। আগের দিনের এলোমেলো বোলিংয়ের হতাশা কাটিয়ে মিরপুর টেস্টে ঘুরে দাঁড়াল স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ধরা দিল ২৭ রানের লিড। তৃতীয় দিন শেষ করল ৩৪ রানে এগিয়ে থেকে।  ১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিন শুরু করে পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে। এক সময় যদিও লিড নেওয়ার পথেই এগোচ্ছিল সফরকারীরা। তবে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে ৩৭ রানের মধ্যে। বাংলাদেশ তৃতীয় দিন শেষ করেছে বিনা উইকেটে ৭ রানে। বৃষ্টিতে এ দিন খেলা বন্ধ ছিল দুই ঘণ্টা। আগের দিনের একমাত্র উইকেট শিকারী মিরাজ এ দিন আরো ৪ উইকেট শিকার করেন।টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্দশবার তিনি পেলেন ইনিংসে ৫ উইকেটের স্বাদ। আরেক স্পিনার তাইজুল ইসলামের প্রাপ্তি ২ উইকেট। সকালে ২ উইকেট নিয়ে অবশ্য বাংলাদেশের ফেরার দুয়ার খুলে দেন তাসকিন আহমেদ। দিনের শুরুটা পাকিস্তান করেছিল আগের দিনের রেশ নিয়েই। ৮৫ রানে দিন শুরু করা আজান আওয়াইস সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান দিনের পঞ্চম ওভারে। টেস্ট অভিষেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা ষষ্ঠ ব্যাটার তিনি; ছয়জনের তিনজনই পাকিস্তানের।  তখনো পর্যন্ত দারুণ খেলতে থাকা আজান এরপরই মনোযোগ হারান। তাসকিনের বলে আলগা শটে ক্যাচ তুলে দেন স্লিপে।১০৪ রানের জুটি ভাঙার পর উইকেট ধরা দেয় আরো ৩টি। টানা সাত ওভারের ওই স্পেলে পাকিস্তানি অধিনায়ক শান মাসুদকে ফেরান তাসকিন। এরপর মিরাজের পালা। সুইপের চেষ্টায় শূন্য রানেই বিদায় নেন সৌদ শাকিল। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মিড অনে ধরা পড়েন আবদুল্লাহ ফজল। অভিষিক্ত বাঁহাতি করেন ৬০ রান। ২০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন টালমাটাল পাকিস্তান। এর মধ্যেই সালমান আলী আগাকে শূন্য রানে আউট করে উল্লাসে মেতে ওঠেন তাসকিন। কিন্তু তাকে ও তার সতীর্থদের থামিয়ে দেয় আম্পায়ার উদ্যত এক হাত। নো বল! সালমান বেঁচে গিয়ে শতরানের জুটি গড়েন মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে। শুরুতে একটু নড়বড়ে থাকলেও পরে সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়ান দুজন। দ্বিতীয় নতুন বলেও পেসাররা পারেনি জুটিতে ফাটল ধরাতে। শেষ পর্যন্ত সফল হন তাইজুল ইসলাম। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসা রিজওয়ানকে (৭৯ বলে ৫৯ রান) ফেরান তিনি বুদ্ধিদীপ্ত ডেলিভারিতে। এরপরই বৃষ্টিতে বন্ধ থাকে খেলা। দুই ঘণ্টার বিরতিতে যেন ধার বেড়ে যায় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের। বিরতির পরপরই নাহিদ রানা থামান ৫৮ রান করা সালমানকে। নোমান আলী ও শাহীন আফ্রিদিকে ফিরিয়ে মিরাজ পূর্ণ করেন ৫ উইকেট। শেষ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তাইজুল। শেষ বিকেলে বাংলাদেশের দুই ওপেনারের সামনে ছিল চ্যালেঞ্জ। তবে সেই পরীক্ষায় বেশি পড়তে হয়নি তাদের। ১.৫ ওভার পরই খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা। আজ বৃষ্টিতে অনেক ওভার নষ্ট হওয়ায় আগামীকাল খেলা শুরু হবে ১৫ মিনিট আগে। সংক্ষিপ্ত স্কোর বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১১৭.১ ওভারে ৪১৩ অলআউট (শান্ত ১০১, মুমিনুল ৯১, মুশফিক ৭১; আব্বাস ৫/৯২)। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬ অলআউট (আজান ১০৩, ফজল ৬০, রিজওয়ান ৫৯, সালমান ৫৮; মিরাজ ৫/১০২)। বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১.৫ ওভারে ৭/০ (জয় ২*, সাদমান ০*; আব্বাস ০/০)।  * তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৩৪ রানে এগিয়ে। 

মারিয়া রহমান মে ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম সেশন বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত

মেসির ১ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট, মায়ামির জয়

ছবি: সংগৃহীত

রেয়াল মাদ্রিদের ‘সঙ্কট’ নিয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ বার্সেলোনা কোচের

0 Comments