জাতীয়

তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৫, ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।

সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়,  সাক্ষাৎকালে উপাচার্য জাতীয় ঐক্যের প্রতীক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বেগম জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান। 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা ও সার্বিক পরিবেশ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের নিয়মিত সংলাপের অংশ হিসেবে উপাচার্য এই সাক্ষাৎ করেন।

এসময় অধ্যাপক নিয়াজ জাতীয় নির্বাচন পূর্ববর্তী ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ডাকসু নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।

এছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গৃহীত নানা কর্মসূচি সম্পর্কে তারেক রহমানকে অবহিত করেন।

ড. নিয়াজ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতার অনেক প্রভাব রয়েছে। তাই ক্যাম্পাসের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শ ও সহযোগিতা চান।

জবাবে তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এর আগে, ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সংরক্ষিত শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা ইসির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সংশোধন আনার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে প্রয়োজন হলে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা যায়।   ইসি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই কমিশনের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সংশোধনীর খসড়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় সশস্ত্র বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পথ তৈরি হবে।   ইসির কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একই ধরনের বিধান এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কার্যকর করতে চায় কমিশন, যাতে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের মোতায়েন করা সম্ভব হয়।   বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন-সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র‍্যাব, আনসার, আনসার ব্যাটালিয়ন, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং প্রতিরক্ষা সেবা বিভাগকে বোঝানো হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই সংজ্ঞার আওতায় নেই।   প্রস্তাবিত পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা কয়েকটি সংজ্ঞায় সংশোধনী আনছি। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে। স্থানীয় সরকারের কিছু স্তরের নির্বাচনে তারা ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অন্য ক্ষেত্রে নেই। যেসব ক্ষেত্রে নেই, সেখানে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনে এই বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   তিনি জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার অথবা বুধবার কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।   সংজ্ঞা পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা মানেই তাদের মোতায়েন বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজন হলে মোতায়েন করা হবে, আর প্রয়োজন না হলে হবে না।   বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের নজির নেই। তবে ২০১১ সালের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে পাঁচ দিনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছিল তৎকালীন নির্বাচন কমিশন। যদিও সেই অনুরোধ বাস্তবায়ন হয়নি।   গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যকে আট দিনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল। ভোটের আগের তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের চার দিন তারা দায়িত্ব পালন করেন।   বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ১৩টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় এবং অনেক জনপ্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন বড় ধরনের নির্বাচনী ব্যাকলগের মুখে পড়েছে।   এই পরিস্থিতিতে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আগামী আগস্টের প্রথমার্ধে তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে এবং স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের আচরণবিধির খসড়া মতামতের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।   এ ছাড়া ইসি ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০২৫ সংশোধন করেছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ভোটকেন্দ্র রাখার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।   নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আইনি পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন না।   তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা সম্ভব হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গার্ল গাইডসে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত ও সংস্কারের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর বহরের নিরাপত্তা গাড়ির সামনে ইটের টুকরা, তদন্তে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হওয়ায় ছাত্রশিবির ছাড়লেন সাদিক কায়েম

ছবি: সংগৃহীত
টিভি টকশো থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা গোলাম মাওলা রনির

সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি টেলিভিশনের টকশোতে আর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।   সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, "আলবিদা টকশো। অনিবার্য কারণবশত আজ থেকে কোনো টিভি টকশোতে যাবো না। শুধু আমার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলবো ইনশাআল্লাহ।"   ফেসবুক পোস্টে সিদ্ধান্তের কারণ বিস্তারিত উল্লেখ না করলেও পরে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে নিয়মিত টেলিভিশনের বিভিন্ন টকশোতে অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাতে বাসায় ফিরতে হওয়ায় তার স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।   রনির ভাষ্য, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এখন পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম প্রয়োজন। বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তিনি টেলিভিশনের টকশো থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   তবে টকশোতে অংশগ্রহণ বন্ধ করলেও নিজের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে নিয়মিত সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ ও মতামত প্রকাশ অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা পেছানোর আহ্বান ছাত্রদলের

ছবি: সংগৃহীত

বন্যাপ্রবণ ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি স্থগিত, জরুরি চিকিৎসা সেবায় বিশেষ প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত

নিউমার্কেট–ধানমন্ডির জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে, রাঙামাটির ৬ উপজেলায় ফের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির ছয়টি উপজেলায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং গত দুই দিন ধরে সেখানে পানি কমতে শুরু করেছে।   সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকায় আবহাওয়ার উন্নতি হলেও কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ১০০ ফুট মিন সি লেভেল অতিক্রম করেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে জেলার ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৩ হাজার ৪৮৭ জন অবস্থান করছেন। এছাড়া এখনো ৭ হাজার ৬৪৬টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।   হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বরকল, লংগদু, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে বরকল উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি পেঁপে বাগান, ধানখেত ও বিভিন্ন সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলার চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।   স্থানীয়রা জানান, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে কৃষিজমি ও বসতঘর প্লাবিত হচ্ছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।   অন্যদিকে, পানি কমতে শুরু করায় বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির অনেক প্লাবিত সড়ক ও বসতবাড়ি আবার দৃশ্যমান হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে কাদামাটি পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন।   এদিকে পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের ব্রিজঘাট সেতু ধসে পড়ায় শনিবার থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের কারণে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের একটি অংশেও যান চলাচল বন্ধ আছে।   জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জেলায় ১৩৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লেও সোমবার সকাল থেকে রাঙামাটি শহরের সঙ্গে ছয়টি উপজেলার নৌপথে লঞ্চ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় পানির স্রোত বেশি থাকায় নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার মামলায় ঢাকায় ধরা পড়লেন শফিক ডাকাত

ছবি: সংগৃহীত

নকল ও ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শোভন কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে শিল্পখাতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করলো এডুকো ও ইএসডিও

0 Comments