দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট দূরীকরণে ৬৭ হাজার ২০৮ জন শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। আজ এনটিআরসিএ-এর ওয়েবসাইটে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বাসস’কে জানান, টেলিটকের কর্তৃপক্ষের সাথে এ সংক্রান্ত কারিগরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আজই ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ গণবিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহে এটি প্রকাশিত হবে। ইতোমধ্যে আমরা এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছি।
এনটিআরসিএ’র খসড়া প্রস্তুতকৃত বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পদের মধ্যে দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে ২৯ হাজার ৫৭১টি, মাদ্রাসায় ৩৬ হাজার ৮০৪টি এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে ৮৩৩টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হবে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের সময় এই সংখ্যা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে এনটিআরসিএ।
আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা :
আগ্রহী নিবন্ধনধারী প্রার্থীরা আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে (ই-এপ্লিকেশন) আবেদনের শেষ সময় ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। পদভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা ও আবেদনের শর্তাবলী এনটিআরসিএ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.ntrca.gov.bd) এবং টেলিটকের ওয়েবসাইট (http://ngi.teletalk.com.bd)-এ পাওয়া যাবে।
আবেদনের নিয়মে পরিবর্তন :
নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজতর করতে এবারের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে একজন প্রার্থী ৪০টি প্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগ পেলেও এবার তা কমিয়ে মাত্র ৭টি করা হয়েছে। তবে পছন্দের ৭টি প্রতিষ্ঠানের বাইরেও যদি কেউ নিয়োগ পেতে আগ্রহী হন, তবে তাকে ই-অ্যাপ্লিকেশন ফরমে থাকা ‘আদার অপশন’ বক্সে ‘ইয়েস’ নির্বাচন করতে হবে।
বয়স ও নিবন্ধনের মেয়াদ :
আবেদনকারীদের বয়স ২০২৫ সালের ৪ জুন তারিখে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। উল্লেখ্য, ওই দিন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ফলাফল প্রকাশের তারিখ হতে পরবর্তী ৩ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের বিষয়ে নির্দেশনা :
বর্তমানে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকগণ একই পদে বা সমপদে আবেদনের সুযোগ পাবেন না। তবে কোনো শিক্ষকের যদি ভিন্ন পর্যায়ের (যেমন- স্কুল থেকে কলেজ) নিবন্ধন থাকে এবং সেখানে ইনডেক্স না থাকে, তবে তিনি আবেদন করতে পারবেন।
এনটিআরসিএ জানিয়েছে, এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষক স্বল্পতা অনেকাংশেই দূর হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত গার্ল গাইডসের ফি এবং সরকারি অনুদান ব্যবহারে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের তদন্তে আর্থিক অসঙ্গতি, অনিয়মিত নিয়োগ, ভ্যাট না কাটা, ভুয়া ভাউচার এবং পরিকল্পনাবহির্ভূত ব্যয়ের মতো বিষয় উঠে এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, সংগঠনের নির্বাচন, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে একই নেতৃত্ব ক্ষমতায় রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও সরকারি বরাদ্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাঠপর্যায়ে গার্ল গাইডিং কার্যক্রম প্রত্যাশিতভাবে পরিচালিত না হলেও বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। সংগঠনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সদস্যও এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা ও অতিবর্ষণের কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ সব বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ দাবি জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় দেশের অন্তত সাতটি জেলার লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে পরীক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক চাপ এবং যাতায়াত সংকটে পড়েছেন। অনেক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সড়ক ডুবে যাওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ছাত্রদলের দাবি, বন্যার কারণে বহু শিক্ষার্থীর বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা অব্যাহত থাকলে সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এবং মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন ব্যাহত হতে পারে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি ও অন্যান্য পরীক্ষা স্থগিত রেখে পরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রোববার (১২ জুলাই) গভীর রাতে ঢাকার কামরাঙ্গীচর এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে র্যাব-৯-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুন্নবী। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার শফিক নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া গ্রামের শহীদ ব্যাপারীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১১ মে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে চারজন র্যাব সদস্য বাঞ্ছারামপুরে যাওয়ার পথে খাগাতুয়া এলাকায় পৌঁছালে শফিক ডাকাত ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে অন্যান্য র্যাব সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আহত চার সদস্যের মধ্যে তিনজন গুরুতর জখম হন। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং দুজনের হাত ভেঙে যায়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শফিক আত্মগোপনে ছিলেন। র্যাব জানায়, একটি বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৯ ও র্যাব-১০ যৌথ অভিযান চালিয়ে কামরাঙ্গীচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সোমবার সকালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনা হয়।