জাতীয়

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি আজই জারি হতে পারে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট দূরীকরণে ৬৭ হাজার ২০৮ জন শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। আজ এনটিআরসিএ-এর ওয়েবসাইটে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বাসস’কে জানান, টেলিটকের কর্তৃপক্ষের সাথে এ সংক্রান্ত কারিগরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আজই ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ গণবিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহে এটি প্রকাশিত হবে। ইতোমধ্যে আমরা এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছি।

এনটিআরসিএ’র খসড়া প্রস্তুতকৃত বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পদের মধ্যে দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে ২৯ হাজার ৫৭১টি, মাদ্রাসায় ৩৬ হাজার ৮০৪টি এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে ৮৩৩টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হবে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের সময় এই সংখ্যা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে এনটিআরসিএ।

আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা :

আগ্রহী নিবন্ধনধারী প্রার্থীরা আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে (ই-এপ্লিকেশন) আবেদনের শেষ সময় ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। পদভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা ও আবেদনের শর্তাবলী এনটিআরসিএ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.ntrca.gov.bd) এবং টেলিটকের ওয়েবসাইট (http://ngi.teletalk.com.bd)-এ পাওয়া যাবে।

আবেদনের নিয়মে পরিবর্তন :

নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজতর করতে এবারের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে একজন প্রার্থী ৪০টি প্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগ পেলেও এবার তা কমিয়ে মাত্র ৭টি করা হয়েছে। তবে পছন্দের ৭টি প্রতিষ্ঠানের বাইরেও যদি কেউ নিয়োগ পেতে আগ্রহী হন, তবে তাকে ই-অ্যাপ্লিকেশন ফরমে থাকা ‘আদার অপশন’ বক্সে ‘ইয়েস’ নির্বাচন করতে হবে।

বয়স ও নিবন্ধনের মেয়াদ :

আবেদনকারীদের বয়স ২০২৫ সালের ৪ জুন তারিখে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। উল্লেখ্য, ওই দিন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ফলাফল প্রকাশের তারিখ হতে পরবর্তী ৩ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের বিষয়ে নির্দেশনা :

বর্তমানে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকগণ একই পদে বা সমপদে আবেদনের সুযোগ পাবেন না। তবে কোনো শিক্ষকের যদি ভিন্ন পর্যায়ের (যেমন- স্কুল থেকে কলেজ) নিবন্ধন থাকে এবং সেখানে ইনডেক্স না থাকে, তবে তিনি আবেদন করতে পারবেন।

এনটিআরসিএ জানিয়েছে, এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষক স্বল্পতা অনেকাংশেই দূর হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
তেলের সংকটে পাম্পে ভিড়: ঈদযাত্রা নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

আরও দুটো পাম্প ঘুরে বৃহস্পতিবার রাত ৩টার সময় ডিজেল নেওয়ার জন্য রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় লাইনে দাঁড়ান মিনি কাভার্ড ভ্যানচালক মো. ইসমাইল। তিনি যখন ‘ট্রাস্ট পাম্প’ থেকে তেল নিয়ে বের হন তখন শুক্রবার সকাল ৮টা। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর ইসমাইল তেল পেয়েছেন ১০ লিটার। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর ট্রাস্ট পেট্রোল পাম্পে লাগাতার এক কিলোমিটারের বেশি যানবাহনের সারি ছিল। সেনাকল্যাণ ট্রাাস্ট পরিচালিত এই পেট্রোল পাম্পটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তেল বিক্রি করছে। বাস ও ট্রাক চালকেরা বলছেন, ঢাকার কিছু পাম্পে তাও তেল বিক্রি করছে। কিন্তু ঢাকার বাইরের অবস্থা আরও করুণ। পাম্পগুলো তাদের নিয়মিত গ্রাহক, চুক্তিবদ্ধ বড় পরিবহন কোম্পানি বা পরিচিতদের বাইরে অন্যদের তেল দিচ্ছে না। তেলের এই অনিশ্চয়তা থেকে আন্তঃজেলা ট্রাক ও বাসগুলো ঢাকা থেকে তেল নেওয়ার জন্য ভিড় করছে। তিন-চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে তেল না পাওয়ারও অভিযোগ করছেন চালকেরা। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঈদ যাত্রায় ব্যাপক ভোগান্তি হতে পারে বলে আগাম সতর্ক করছেন বাস কোম্পানির কর্মকর্তা ও মালিক নেতারা। সরকারের তরফে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে নানাভাবে আশ্বস্ত করা হলেও জ্বালানি তেল বিতরণে বিশৃঙ্খলা আরও বেড়েছে। পাম্পগুলো কিছুক্ষণ জ্বালানি তেল বিক্রি করে আবার বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে যেসব পাম্পে নিয়মিত তেল দেওয়া হচ্ছে তাদের ওপর চাপ বাড়ছেই। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় গত কয়েক দিনে পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঢাকায় তেল বিক্রি ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার খবর আসে। এই পরিস্থিতিতে গত ৬ মার্চ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার, এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে। ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারবাহী যানবাহনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরপর অনিয়ম, মজুদদারি ও বেশি দামে বিক্রি ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট চালানোর নির্দেশ দেয় সরকার। অবৈধ মজুদ, বেশি দাম নেওয়া ও চোরাচালান ঠেকাতে এই অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়। জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং, মোবাইল কোর্টের নজরদারি এবং পাম্পে দীর্ঘ লাইনের চাপে ফিলিং স্টেশন চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। পাম্প মালিকরা তেল থাকার পরেও এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির জন্য সরকারের কিছু উদ্যোগকে দায়ী করছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য ১৫ মার্চ থেকে রেশনিংয়ের পরিবর্তে স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহের কথা বলা হচ্ছে। সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষা পর ১০ লিটার সকালে ইসমাইল নামে যে কাভার্ড ভ্যানচালকের সঙ্গে কথা হয় তিনি এসেছিলেন রাজধানীর ফলের আড়ত খ্যাত বাদামতলী থেকে। তিনি বলছিলেন, সরকার যে ৭০-৮০ লিটার কইরা তেল দিতে বলছে পিকাপ ভ্যানে সেইটাও তো কোথাও পাইতাছি না। তেলই দেয় না পাম্পগুলান। এরা তো তবুও ১০ লিটার দিছে। তেল না পাওয়ার কারণে দুইদিন গাড়ি বসিয়ে রেখেছিলেন জানিয়ে ইসমাইল বলেন, “মঙ্গলবার এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় এক পাম্পে ঢুকালাম। দেড় ঘন্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর পাম্প থেকে জানান দিল যে আর তেল নাই। কেমনটা লাগে কন! ট্রিপ ধইরা কি আমি মাঝ রাস্তায় গাড়ি বন্ধ কইরা বইয়া থাকুম। এজন্যে ট্রিপই ধরি না দুইদিন। কিন্তু সামনে ঈদ, বাইর তো হইতে হইব। তিনি বলছিলেন, তার ‘অশোক লেইল্যান্ড দোস্ত’ মডেলের গাড়িটা ১ লিটার ডিজেলে ১০ কিলোমিটারের মতো চলে। কিন্তু ট্যাংকিতে অন্তত ২০ লিটার ডিজেল না থাকলে যে কোন ট্রিপ ধরাই মুশকিল। তেজগাঁওয়ের সিটি ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে কথা হয় হাজী পরিবহন নামে একটি বাসের চালক আবুল বাশারের সঙ্গে। এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়ানোর পরেও তিনি তখন পাম্প থেকে অন্তত দেড় কিলোমিটার দূরে লিংক রোডে। ঢাকা-হালুয়াঘাট রুটে চলাচলকারী বাসটির চালক আবুল বাশার বলছিলেন, গাজীপুরের ওই দিকে কোথাও তেল নাই। আর যাত্রী নিয়া তো আপনি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়াইতে পারবেন না। যে কোম্পানির নিজস্ব পাম্প আছে তাগো কথা আলাদা। কিন্তু আমরা তো খুব বিপদে আছি। তেল নিতে পারতেছি না। তিন-চার ঘণ্টা ধইরা লাইনে দাঁড়াইলেও কয় লিটার তেল দেয় আল্লাই জানে। আমারে তো দিনে দুইটা রাউন্ড ট্রিপ দিতে দেড়শ’ লিটার তেল লাগবো মিনিমাম। বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবন সংলগ্ন পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাবের পেট্রোল পাম্পে গিয়েও পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যায়নি। তবে বাস-ট্রাকে ডিজেল দেওয়া হচ্ছিল। ভুঁইয়া পরিবহন বাসের চালক এমদাদুল হক বলছিলেন, গাড়ি বন্ধ কইরা কই বাড়ি যামু, রোজা-রমজান মাস। এহন আইসা খাড়ায়া আছি তেলের লাইনে। কাইলকাও রাইতভর খাড়ায়া পরে ৫০ লিটার তেল পাইছি। ঈদযাত্রার কী হবে? বৃহস্পতিবার থেকে বাসে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রার আগাম টিকেট দেওয়া শুরু হয় ৩ মার্চ। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এরকম থাকলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আগাম সংকেত দিয়ে দিয়েছেন বাস সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন পর্যন্ত ডিজেল সংকটের কারণে দূরপাল্লার বাস অপারেটরগুলো খুব বেশি ট্রিপ বাতিল করেনি বলে এদিন গাবতলী ও কল্যাণপুর ঘুরে জানা গেল। কল্যাণপুরের গ্রামীণ পরিবহনের বাসের ম্যানেজার মো. হাসান বলেন, আমরা তো ঈদের সব বুকিং ফুল কইরা রাখছি। এখন পর্যন্ত আমরা শুধু একদিন একটা এসি গাড়ির ট্রিপ বাতিল করছি। এছাড়া গাড়িগুলান সব চলতেছে। তিনি বলেন, ঢাকা-রাজশাহী আপ-ডাউনে নতুন গাড়িগুলোতে ১২০ থেকে ১৩০ লিটার ডিজেল লাগে, আর পুরনো হলে আরেকটু বেশি। এসি গাড়িতে ডিজেলের এই খরচ দেড়শ’র ওপরে চলে যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে নানাভাবে ম্যানেজ করে চালানো হচ্ছে। দেশের অন্যতম বড় অপারেটর হানিফ এন্টারপ্রাইজের মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সামাদ বলছেন, ঢাকায় যা লাইন সব তো অক্টেনের জন্য। ডিজেলের সংকট আছে, তবে আমরা এখনো চালাচ্ছি। তবে তেল সংকটের কারণে হানিফ এন্টারপ্রাইজ শেষের দিকে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয়। যদিও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে হানিফ এন্টারপ্রাইজের একাধিক নিজস্ব পেট্রোল পাম্প রয়েছে। নিজস্ব পেট্রোল পাম্প রয়েছের দেশের আরেক পুরনো বাস অপারেটর সোহাগ পরিবহনেরও। তবে সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক তালুকদার সোহেল বলছেন, পাম্পে রেশনিংয়ের কারণে তেল পেতে সমস্যা হচ্ছে। বাসগুলোকে চাহিদামাফিক তেল দেওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চললে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি হতে পারে, বলছেন এই ব্যবসায়ীও। আসলেই কি ঈদের যাতায়াতে তেলের কারণে ভোগান্তি হতে পারে? জবাবে তিনি বলেন, আগামী কয়েকদিনে তেলের কী পরিস্থিতি দাঁড়ায় সেটা তো প্র্যাকটিক্যালি এখনি বলা সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি এরকম থাকলে আপনি যদি স্পেকিউলেট করেন, তাহলে কিছু শঙ্কা তো থেকেই যায়। এর মধ্যেই অনেক বাস কোম্পানি আগাম নোটিস দিয়ে ট্রিপ বাতিল বা অতিরিক্ত ভোগান্তির বিষয়ে যাত্রীদের সতর্ক করে দিয়েছে। এসি স্লিপার বাস অপারেটর আইকনিক এক্সপ্রেস গেল ১০ মার্চ তাদের ফেইসবুক পেইজে যাত্রীদের সতর্ক করে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকটে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও তেলের ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে… আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আইকনিক এক্সপ্রেসের নির্ধারিত কিছু ট্রিপ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যারা ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছেন বা করবেন, তাদের নিয়মিত আমাদের কাউন্টারে যোগাযোগ রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। যদি কোনো যাত্রা বাতিল হয়, তবে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দেওয়া হবে। বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, এখন তেলের যে রেশনিং করা হচ্ছে তাতে গাড়িগুলোর পাম্পে গিয়ে তেল ভরতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। তাতে সমস্যা তো হচ্ছেই। তবে ঈদের সময় এভাবে রেশনিং করলে আমরা যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পারবো না। তখন তো যাত্রী নামিয়ে দিয়ে এসেই গাড়িগুলো আবার ঘুরে যায়। তখন রেশনিং থাকলে গাড়িগুলো যাত্রী টানবে না পাম্পে গিয়ে তেলের জন্য লাইন দেবে। সরকারকে দায়ী করছেন পাম্প মালিকরা পেট্রোল পাম্প মালিকেরা এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও তেল সরবরাহ স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু ৫ মার্চ সরকারের তরফ থেকে তেল সাশ্রয়ের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হলে মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ায়। লোকজন ট্যাংক ভর্তি করে তেল কিনে মজুদ করা শুরু করলে পেট্রোল পাম্পগুলো রাতারাতি খালি হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে ৬ মার্চ সরকার তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দেয়। পাশাপাশি পাম্পগুলোর সরবরাহ কমিয়ে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেছেন, “সারাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের প্রকৃত ঘাটতি নেই। সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে দেশের মোট পেট্রোল ও অকটেন চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সিলেটেই উৎপাদিত হয়। প্রথমে গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় শুরু হয়। এর ফলে বাজারে হঠাৎ চাপ তৈরি হয়। তবে সংকটের সূচনা গুজব থেকে হলেও, পরবর্তীতে বিপিসি তড়িঘড়ি করে জ্বালানি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা না করেই রেশনিংয়ের একটা নীতিমালা দেয়। এই বিপণন নীতিমালা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত ও দীর্ঘায়িত করেছে। দুর্ভোগের সম্ভাবনা দেখছেন না সড়কমন্ত্রী তবে সরকারের তরফ থেকে রোববার থেকে সারাদেশে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ট্রেনে ঈদযাত্রার প্রথম দিন শুক্রবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তেলের দামও বাড়ানো হবে না। তিনি বলেন, তেলে কোন সমস্যা হবে না। বিশেষ করে পাবলিক পরিবহন যারা আছে তারা তেল অবাধে পাবেন, এটা নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী আমাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন ১৫ মার্চ থেকে পর্যাপ্ত তেল গণপরিবহনে সরবরাহ করা হবে। আর তেলের দাম বাড়ানো হবে না। যার ফলে ভাড়াও বাড়বে না। যার কারণে আমি এখন পর্যন্ত তেল সংক্রান্ত দুর্ভোগ হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখছি না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা

ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি ও সংসদ উপনেতা পদ ঘিরে আলোচনা

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খবর জানান তার ছেলে ইয়াসির আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত

মির্জা আব্বাসকে নিয়ে গুজব, যা বললেন ছেলে ইয়াসির

মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন

  ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় বিএনপির এই নেতাকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার কথা ছিল। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দেশেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন বিকেল ৩টার পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার আগেই প্রথম দফায় তার অপারেশন সম্পন্ন হয়। এরপর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সন্ধ্যার পর আবারও দ্বিতীয় দফায় তার অস্ত্রোপচার হয়।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরাকে রিফুয়েলিং বিমান ভূপাতিত, নিহত ৪ মার্কিন সেনা

ছবি: সংগৃহীত

২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সব ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করবে: স্পিকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সব ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করবে।   শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১০টার কিছু আগে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার এ কথা বলেন।   সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে বিরোধী দলগুলোর ওয়ার্কআউট প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, “বিরোধীদল তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি করেছে। প্রথম দিনই ওয়ার্কআউটটি না করলেই ভালো হতো। যাই হোক, এটি তাদের বিষয়।”   স্পিকার আরও জানান, সংসদের সরকার ও বিরোধী দল উভয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংসদ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে বিরোধী দল সরকারকে গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান করবে। বিশেষ করে ফ্যাসিস্টদের বাংলাদেশে পুনরায় উত্থান না হয়। সেজন্য সংসদের সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।   তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি এবং সংসদ দেখতে চাই। আশা করি এই ঐক্য স্থাপন করতে সক্ষম হব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বিধান এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের ভূমিকা পালন করবে।”

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নববধূ মিতুসহ তিনজনের দাফন সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত

শৈলকুপায় ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০

ছবি: সংগৃহীত

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে স্বর্ণের বারসহ যুবক আটক

0 Comments