দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। এরপর তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি একই সঙ্গে তারেক রহমানের শনিবারের (২৭ ডিসেম্বর) কর্মসূচিতেও আলোকপাত করেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। এরপর তিনি ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। তবে তিনি নির্বাচন কমিশনে নাকি সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার হবেন—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, তারেক রহমান কখন ও কোথায় ভোটার হবেন, সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য এখনো নির্বাচন কমিশনের কাছে আসেনি।
এদিন তারেক রহমান জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের খোঁজ নিতে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), যা সাধারণভাবে পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত, সেখানে যাবেন।
উল্লেখ্য, আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। এছাড়া গণ-অভ্যুত্থানে আহত অনেকেই এখনো পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তিনি নিজের বিয়ের দাওয়াত দিলে ড. ইউনূস তার নতুন জীবনের জন্য শুভ কামনা জানান। সোমবার (১১ মে) বিকেলে ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন সাদিক কায়েম নিজেই। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘জুলাই বিপ্লব বিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স’-এ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর লক্ষ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ সাক্ষাৎ হয়েছে।’ সাদিক কায়েম জানান, সাক্ষাৎকালে তিনি জুলাইয়ের শহীদ নাফিজের স্মৃতি সংবলিত একটি স্মারক চিত্রকর্ম ড. ইউনূসের হাতে তুলে দেন। একই সঙ্গে জুলাইকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে জুলাই কনফারেন্সসহ ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করে তাদের ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছেন ড. ইউনূস। ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন, ‘গণমানুষের প্রত্যাশিত সংস্কার, উপেক্ষিত জনরায় এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আগামীর পথচলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সার্বিক সহযোগিতা ও মূল্যবান পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫ আগস্ট পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করায় দেশবাসীর পক্ষ থেকে ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এবার উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শিক্ষকরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা আগামীকাল সোমবার (১১ মে) থেকে একাডেমিক কার্যক্রম কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। রবিবার (১০ মে) বিকালে ‘সাধারণ শিক্ষক সমাজ’–এর ব্যানারে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুপুরে প্রক্টর রাহাত হোসাইন, সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেন। প্রক্টর রাহাত হোসাইন পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করে বিকালে বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্য যে তালবাহানা করছেন, তাতে এই পরিবেশে তার সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব। তাই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম বলেন, ‘প্রক্টর ও সিন্ডিকেটের ৯ শিক্ষক, যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, সেখান থেকে সবাই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সবকিছুতে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।’ শিক্ষকদের এই কর্মসূচির পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত আবার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে সেশনজটের শঙ্কা বেড়েছে। শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি–সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখন পাঁচ দিন একাডেমিক কার্যক্রম চালাবেন বলে সমঝোতা হয়েছিল। সেই বৈঠকে পদোন্নতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে চলমান সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের। এরপর শিক্ষকরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শুধু পাঠদানে ফিরেছিলেন। শিক্ষকরা আরও জানান, তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ৯ মে ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান হবে। কিন্তু শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। এ ছাড়া অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকরা রবিবার সভা করে শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে যায়। এ সম্পর্কে উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘শনিবারের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচ জন প্রতিনিধিসহ সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষকরা আবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। আমরা বিধি অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিক।’ দুই শিক্ষকের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমার কাছে এখনও পদত্যাগের কোনও চিঠি আসেনি। তারা অব্যাহতি নেবেন, তা আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন।’ পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে সেই পদোন্নতি কার্যক্রম আটকে দিয়ে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে পদোন্নতি দিতে পরামর্শ দেয়। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন নীতিমালায় যুক্ত হলেও বরিশালসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি। তাই আগে ২০২১ সালের নিয়োগ সংবিধি সিন্ডিকেট পাস করে ইউজিসির অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন উপাচার্য।
আসন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি অ্যাপ্লিকেশন জমা হয়েছিল। সেই থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করছি। আমরা আশা করছি এ মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আবারও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারব। আমাদের এই নাম ঘোষণা প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। সারজিস আলম আরও বলেন, ‘আমাদের সারাদেশ থেকে এনসিপিতে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের যারা পরিশ্রমী, গ্রহণযোগ্য, যারা মানুষের ওপর কখনো জুলুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, যাদের সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা তাদের পর্যায়ে অপরাধের সম্পৃক্ততা ছিল না, তারা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, তারা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে।’ সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা, কোনো সময়সীমা আমরা পাইনি। আমরা আশা করব যে সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা টাইমলাইন আমাদেরকে দেবে। যেহেতু ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, তাই সিটি কর্পোরেশন, উপজেলায় নির্বাচনের সময়সীমা দেওয়া হবে। তারা যেটা বলছেন, অতি দ্রুত, সেটা পাঁচ বছরও হইতে পারে, পাঁচ মাসও হইতে পারে। আমরা এটা স্পষ্ট সময়সীমা দাবি করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাদেরকে প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে, তারা প্রশাসকের পদে থেকে ভোট চাচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কাজ নগরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু তারা পোস্টার দিয়ে পুরো নগরের সকল দেয়াল ভরে ফেলেছেন। আমরা এর আগেও নির্বাচনের নিরপেক্ষতার স্বার্থে দাবি জানিয়েছি যে, প্রশাসক যারা নিয়োজিত হয়েছেন তারা সেই সিটে বসে প্রশাসকের চেয়ারে বসে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা যদি নির্বাচন অংশগ্রহণ করেন তাহলে এটা নির্বাচনটা একদম শুরু থেকেই বিতর্কিত, একপাক্ষিক এবং নির্বাচনে কোন ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।’ গুরুত্বপূর্ণ জেলায় যারা প্রার্থী ঢাকার সাভার উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সালামত উল্লাহ রনি, শিল্পাঞ্চল খ্যাত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় মো. তুহিন মাহমুদ এবং টাঙ্গাইল পৌরসভায় মেয়র পদে মাসুদুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর পৌরসভায় মেয়র পদে সাইফ খাঁন এবং মাদারীপুর পৌরসভায় মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় জোবাইরুল আলম মানিক, নোয়াখালী পৌরসভায় মেয়র পদে কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় শফিকুল ইসলাম শফিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আমিনুল হক চৌধুরী এবং চাঁদপুর সদর উপজেলায় জসিম গাজী প্রার্থী হয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বগুড়ার সদর উপজেলায় এ এম জেড শাহরিয়ার এবং শিবগঞ্জে জাহাঙ্গীর আলম, রাজশাহীর গোদাগারী উপজেলায় আতিকুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভায় ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন লিয়ন, কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলায় অ্যাডভোকেট আবুল হাশিম বাদশা নির্বাচন করবেন। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মো. জাকারিয়া (লাদেন) এবং কানাইঘাট উপজেলায় বুরহান উদ্দিন ইউসুফ চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম এবং শেরপুর সদর উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লিখন মিয়াকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। রংপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় মাওলানা এম এ তাফসীর হাসান, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায় ফরিদ আহমেদ এবং ভোলা সদর উপজেলায় জিয়াউর রহমান মনোনয়ন পেয়েছেন।