সারাদেশ

তারেক রহমানের জনসভায় বগুড়ায় অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন চুরি

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টা পর্যন্ত বগুড়া সদর থানায় অন্তত ৫০টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। চুরি যাওয়া ফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রেজাউল করিম তালুর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও।

 

জানা গেছে, তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ বগুড়া শহরে আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যার আগেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে প্রবেশ করতে না পেরে হাজারো মানুষ সাতমাথা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন তারেক রহমানকে একনজর দেখার এবং তার বক্তব্য শোনার আশায়।

এই বিপুল জনসমাগম ও ঠাসাঠাসি ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সংঘটিত হয় মোবাইল ফোন চুরির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। অনেক ভুক্তভোগী জানান, ভিড়ের মধ্যে অচেনা স্পর্শ টের পেলেও বুঝে ওঠার আগেই তাদের পকেট বা ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার সময় অনেকেই লক্ষ্য করেন, তাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম মোবাইল ফোনটি আর নেই।

চুরি হওয়া ফোনগুলোর মালিকদের মধ্যে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ কর্মী-সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। অনেকের ফোনে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ছবি ও জীবিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য, ফলে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভুক্তভোগীরা বগুড়া সদর থানায় অভিযোগ জানাতে শুরু করেন।

বগুড়া সদর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জেবুন্নেছা বেগম জানান, শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় ৫০টির বেশি জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেকে মৌখিক অভিযোগ জানাতে থানায় আসছেন।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সাতমাথা এলাকা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের একজন, ব্যবসায়ী রাজেদুর রহমান রাজু বলেন, “বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্টেশন রোডের বিআরটিসি মার্কেটের সামনে হাজারো মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানকে দেখার চেষ্টা করছিলাম। ঠেলাঠেলির একপর্যায়ে পকেটে থাকা দেড় লাখ টাকা মূল্যের আমার শখের ফোনটি খোয়া যায়।”

 

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল ইসলাম বলেন, “ফোন হারানোর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের ফোন উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে হারানো ফোনগুলো উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ

জ্বালানি তেলের অভাবে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে এ রুটে কোনো স্পিডবোট চলাচল করেনি। এতে স্পিডবোটের অপেক্ষায় থাকা অনেক যাত্রী গন্তব্যে যেতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।   স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন এ নৌরুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের প্রায় ৯০ শতাংশই স্পিডবোট ব্যবহার করেন। দ্রুত যাতায়াতের কারণে এটি যাত্রীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নৌযান। তবে স্পিডবোট বন্ধ থাকলেও এ রুটে ফেরি, ট্রলার এবং এমভি মালঞ্চসহ অন্যান্য নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। হঠাৎ স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ বিকল্প নৌযানে গন্তব্যে পৌঁছালেও অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।   ঢাকা থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রেলযোগে চট্টগ্রাম পৌঁছান যাত্রী মিজানুর রহমান টিটু। কিন্তু ঘাট কর্তৃপক্ষের ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্পিডবোট চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেখে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “ঈদের আগে হঠাৎ করে স্পিডবোট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটে অনেক যাত্রী আটকে পড়ছেন। স্পিডবোট না থাকায় এখন বাধ্য হয়ে কাঠের বোট সার্ভিস বা মালবাহী বোটে করেই সন্দ্বীপ যেতে হবে।” বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জগলুল হোসেন নয়ন জানান, এ রুটে স্পিডবোট চালাতে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার লিটার অকটেন তেলের প্রয়োজন হয়। তবে সরকারি সংস্থা মেঘনা অয়েল কোম্পানি থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেও তারা তেল পাননি।   তিনি বলেন, “আমরা তেল সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কবে নাগাদ তেল পাওয়া যাবে তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।” এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজ প্রবেশ করেছে এবং খুব শিগগিরই তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

বিয়ের ফাঁদে প্রতারণার অভিযোগ, স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর সংবাদ সম্মেলন

ছবি : সংগৃহীত

দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

ছবি : সংগৃহীত
কিশোর অটোচালককে হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় কিশোর অটোরিকশাচালক মো. মাসুম ওরফে বাবু (১৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে Rapid Action Battalion (র‍্যাব)। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে Rapid Action Battalion-11।   শনিবার (৭ মার্চ) রাত থেকে রোববার (৮ মার্চ) ভোর পর্যন্ত নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব-১১ এর সিপিসি-৩ (নোয়াখালী ক্যাম্প) ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তাররা হলেন—চাটখিল উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের জালাল আহম্মেদের ছেলে মো. রাজু (৩৫), একই গ্রামের আলী আরশাদের ছেলে মো. রুবেল ওরফে কানা রুবেল (৩২) এবং সুন্দরপুর গ্রামের মো. মাহাবুবের ছেলে মো. মুন্না (৩৫)।   র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার দশানী টবগা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কিশোর মাসুম। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে চাটখিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের পরদিন চাটখিল উপজেলার ছোট জীবনগর এলাকার ওহাব তৈয়বা মেমোরিয়াল হাসপাতালের পাশের একটি সেতুর নিচ থেকে মাসুমের অটোরিকশাটি ব্যাটারিবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এতে তাকে অপহরণ করে হত্যার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়।   নিখোঁজের এক মাসেরও বেশি সময় পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে চাটখিল উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের একটি মাছের প্রজেক্ট সংলগ্ন জঙ্গল থেকে স্থানীয়রা মাসুমের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাটখিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে র‍্যাব আধুনিক গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে।   অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে চাটখিল পৌরসভা এলাকা থেকে প্রথমে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১২টায় হাটপুকুরিয়া বাজার এলাকা থেকে মুন্না এবং রাত ২টা ১০ মিনিটে ধর্মপুর এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব-১১ সিপিসি-৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার Mithun Kumar Kundu জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাটখিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে সেখান থেকে পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করেছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

এয়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণে নিহতের পরিবারের পাশে এমপি জিন্নাহ কবিরের সহধর্মিণী

ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকবে সরকার : এমপি নায়াব ইউসুফ

ছবি—সংগৃহীত

বছরে ১ কোটি করে গাছ লাগাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

ছবি : সংগৃহীত
‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের নারীরা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন’

  বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেছেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল উদযাপনের দিন নয়, এটি নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে নতুন করে স্মরণ করার দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়। তার নেতৃত্বে দেশের নারীরা রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। গ্রামীণ নারী থেকে শুরু করে শহরের শিক্ষিত নারী—সবাইকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নারীর শিক্ষা বিস্তার, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।  রোববার (২৬ মার্চ) দুপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা মহিলা দল আয়োজিত ‘অদম্য নারী সম্মাননা’, কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না। মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, যা জাতির অগ্রযাত্রার অন্যতম শক্তি। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের নারীরা রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। গ্রামীণ নারী থেকে শুরু করে শহরের শিক্ষিত নারী—সবার আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করতে তার সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন কোনো দয়া নয়, এটি একটি জাতির অগ্রগতির অপরিহার্য শর্ত। যে সমাজ নারীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে, সেই সমাজই প্রকৃত অর্থে উন্নত ও মানবিক হয়ে ওঠে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর নেতৃত্বের শক্ত ভিত্তি গড়ে ওঠার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট উইমেন চেম্বারের পরিচালক শ্যামা হক চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেকের সহধর্মিণী দিলারা মালিক এবং সিলেট মহানগর মহিলা দলের সভাপতি নিগার সুলতানা ডেইজী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে ‘অদম্য নারী সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। তারা হলেন—সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট জেলা মহিলা দলের সভাপতি সালেহা কবির শেপী, সিলেট জেলা বিএনপির সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা মহিলা দলের দপ্তর সম্পাদক সুলতানা রহমান দিনা, সফল নারী উদ্যোক্তা জলি পুরকায়স্থ ও মোছা. রিমা বেগম এবং নির্যাতিত নারীনেত্রী বিলাতুন নেছা। এ ছাড়াও কুইজ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার লাভ করেন মোছা. রিমা বেগম, বন্যা সিদ্দিকী ও ফাহিমা আক্তার ফাইজা।  অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জামান রুজি, ডা. রেজওয়ানা হাবিবা, জান্নাত জামান চৌধুরী, হালিমা বেগম বিলকিস, শেখ নাজমা বেগম, নুরুন্নাহার ইয়াসমিন, বিলকিস আক্তার, রেহানা আক্তার বর্ষা, আসমা আলম, শাফিয়ামখাতুন মনি, হাফসা খান, রিনা আক্তার, রাহিলা জেরিন, ফাতেমা আক্তার পারুল, রেহানা ফারুক শিরিন, ফাতেমা আক্তার সানদানি, জলি পুরকায়স্থসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান মার্চ ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ রক্ষায় ব্লক ইট ব্যবহারের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

ইফতার মাহফিল ঘিরে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ভিড়ল চার জাহাজ

0 Comments