খেলাধুলা

সাকিবের সব রেকর্ড মুছে ফেলতে বিসিবিকে বললেন শফিকুল

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইল থেকে দেওয়া পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। যেখানে তিনি একজন ‘দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে’ প্রকাশ্যে পূজা করা ব্যক্তির ক্রিকেট ইতিহাসে থাকার কোনো অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন।

ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম ও পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর এবং এডি বার্লো সাকিবের চেয়ে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের হাতে রক্ত লেগে ছিল না। তারা সাকিবের মতো এত দুর্নীতিগ্রস্তও ছিলেন না। তাদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল এমন একটি বর্ণবাদী শাসনের অংশ হওয়া, যা তাদের বর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার কাজে ব্যবহার করেছিল- যার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাদের বাদ পড়তে হয়েছিল, যদিও ব্যারি রিচার্ডস সম্ভবত তার সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন।

 

তিনি আরও লেখেন, হয়তো কোনো একদিন বিসিবি সভাপতি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সাকিব একজন হিটলারকে পূজা করেন এবং দেশে ফিরে একটি খুনি শাসনব্যবস্থাকে পুনর্বাসিত করার স্বপ্ন দেখেন। তার ‘ক্যাপ্টেন’ (শেখ হাসিনা)—যাদের সংঘটিত গণহত্যার অপরাধগুলো জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করেছে। তার সেসব অপরাধের জন্য সাকিবের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। আমাদের ক্রিকেটে গণহত্যাকারীর পূজারীদের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তাকারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের চাটুকারদের ক্রীড়া বীর হিসেবে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।

 

পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, ২০০৯ সালে বিডিআর সদর দপ্তরে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি এবং অ্যাথলেটিক্সের জাতীয় চ্যাম্পিয়নসহ বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের জন্য কেউ অশ্রুপাত করেনি। কেউ তাদের ক্ষমার জন্য আবেদন জানায়নি। সাকিবের জানা উচিত যে, গণহত্যাকারীকে পূজা করে কেউ রেহাই পেতে পারে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রিয়াল মাদ্রিদের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিচ্ছেন রাফায়েল নাদাল

স্প্যানিশ টেনিস কিংবদন্তি রাফায়েল নাদালকে পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির বোর্ড পরিচালক হিসেবে তার নিয়োগের প্রস্তাব সদস্যদের অনুমোদনের জন্য সাধারণ সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।   ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপাজয়ী নাদাল আগে থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।   এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ জানিয়েছে, নাদালের মতো ক্রীড়াঙ্গনের একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হওয়া ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য গর্বের বিষয়। তার ক্রীড়াসাফল্যের পাশাপাশি বিনয়, প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দাতব্য কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।   টেনিস ক্যারিয়ারে নাদাল জিতেছেন ৯২টি একক শিরোপা। অলিম্পিকে দুবার স্বর্ণপদক অর্জনের পাশাপাশি স্পেনের হয়ে পাঁচবার ডেভিস কাপ জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তার। দীর্ঘ সময় টেনিসের বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানেও ছিলেন এই স্প্যানিশ তারকা।   রিয়াল মাদ্রিদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ৪০ বছর বয়সী নাদাল। ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। ক্লাবের কাছ থেকে শেখার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখতেও আগ্রহী তিনি।   ২০২৪ সালের নভেম্বরে পেশাদার টেনিস থেকে অবসরের ঘোষণা দেন নাদাল। এরপর থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এমনকি একসময় তিনি ক্লাবটির সভাপতি হতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে বর্তমানে ৭৯ বছর বয়সী ফ্লোরেন্তিনো পেরেজই ক্লাবটির সভাপতি। গত জুনে আরও চার বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।   উল্লেখ্য, নাদালের চাচা মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল নাদাল খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার হয়ে। তবে রাফায়েল নাদাল ছোটবেলা থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থক। পেশাদার টেনিস থেকে অবসর নেওয়ার পরও ভ্রমণ, বিভিন্ন কাজ ও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে খুব বেশি সময় বাড়িতে থাকা হয় না বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কোচ নওশাদের চোখে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল বাংলাদেশ

বিসিবির নির্বাচক হাবিবুল বাশার। সংগৃহীত ছবি

এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে ‘এ’ দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ: হাবিবুল বাশার

ছবি: সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের ষষ্ঠ স্থান, পাঁচ ম্যাচে হজম ২৯ গোল

ছবি: সংগৃহীত
ফারহানকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন লঙ্কান কোচ, শিরোপায় এগিয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদকে নিয়ে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার কোচ আব্দুল্লাহ আল মুতাইরি। তাঁর বিশ্বাস, আগামী এক দশকের মধ্যে ফারহান দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে উঠবেন। একই সঙ্গে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাগতিক বাংলাদেশকেই শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন তিনি।   বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফারহানকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান কুয়েতি এই কোচ। তাঁর সরাসরি ও রসাত্মক মন্তব্যে সংবাদ সম্মেলনে বেশ প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়।   সংবাদ সম্মেলন শেষে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে মজার ছলে আল মুতাইরি বলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ফারহানের জার্সি তিনি নিজের সংগ্রহে রাখতে চান। অন্য কোনো খেলোয়াড় সেই জার্সি নিতে চাইলে তাঁকে সাসপেন্ড করার কথাও রসিকতার ছলে উল্লেখ করেন। তবে হামজা চৌধুরীর জার্সি নেওয়ার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এর আগে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ফারহানের প্রশংসা করে আল মুতাইরি বলেন, তিনি এই তরুণ ফুটবলারের বড় ভক্ত এবং তাঁকে ভালোভাবে চেনেন। তাঁর মতে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ফারহান দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবলার হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।   সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলও নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে। কয়েকটি ম্যাচে ভালো ফল পাওয়ায় দলটির পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তারপরও সাফের শিরোপা জয়ের দৌড়ে নিজেদের এগিয়ে রাখছেন না লঙ্কান কোচ।   আল মুতাইরির মতে, এবারের আসরে প্রথম ফেভারিট বাংলাদেশ। স্বাগতিক হিসেবে নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধার পাশাপাশি দলটির সামর্থ্যও রয়েছে। এরপর ভারতকে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের মূল দল অংশ না নিলেও অতীতে বয়সভিত্তিক দল নিয়ে সাফল্য পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন এই কোচ।   শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মজার ছলে আল মুতাইরি জানান, তাঁদের দল মূলত ভালো ফুটবল খেলতে এসেছে। বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হলে সেটি দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তবে সাফ টুর্নামেন্টের বাইরে শ্রীলঙ্কার ফুটবল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নেওয়া এই কোচের প্রধান লক্ষ্য আগামী এশিয়ান কাপে শ্রীলঙ্কাকে খেলার যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করছেন বলে জানান তিনি।   উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সাফ পুরুষ চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী দিনেই মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। একই দিনে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। আগামী রোববার নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা, তাদের প্রতিপক্ষও ভুটান।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তরুণ ফরোয়ার্ড জেজে গ্যাব্রিয়েলকে দলে নিতে আগ্রহী রিয়াল মাদ্রিদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়লেন বিরাট কোহলি, ওডিআইতে বিশাল মাইলফলক অর্জনকারী প্রথম ব্যাটসম্যান হলেন তিনি। ছবি : সংগৃহীত

কিউইদের বিপক্ষে কোহলির ইতিহাস, ভাঙলেন শচীনের রেকর্ডও

ছবি: সংগৃহীত

ইয়ামাল-রাফিনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভিলাকে হারাল বার্সা

ছবি: সংগৃহীত
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ হাসি ইউনাইটেডের

প্রথমার্ধে খুঁজেই পাওয়া গেল না ম‍্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয়বার নেওয়া পেনাল্টিতে ব‍্যবধান কমিয়ে ঘুরে দাঁড়াল তারা। সিকি শতাব্দীর মধ‍্যে ইংল‍্যান্ডে কোনো ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে রোমার প্রথম জয়ের সম্ভাবনা গুঁড়িয়ে দিয়ে দারুণ জয় তুলে নিল মাইকেল ক‍্যারিকের দল।   চ‍্যাম্পিয়ন্স লিগের ম‍্যাচে ৩-২ গোলে জিতেছে ইউনাইটেড। ইউরোপ সেরার মঞ্চে চলতি আসরে এটা তাদের দ্বিতীয় জয়।   সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম‍্যাচে প্রথম জয় পেল তারা।   জোড়া গোল করে ইউনাইটেডের ঘুরে দাঁড়ানো জয়ের নায়ক মাতেউস কুইয়া। স্বাগতিকদের প্রথম গোলের উৎস যে পেনাল্টি সেটাও তিনিই আদায় করে নিয়েছিলেন। সেটা থেকেই দ্বিতীয়বার শট নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করেন অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেস।   যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন কুইয়া। তবে জয় নিয়ে আর ভাবতে হয়নি ইউনাইটেডকে।   ওল্ড ট্র‍্যাফোর্ডে একাদশ মিনিটে ম‍্যাচে নিজেদের প্রথম সুযোগেই এগিয়ে যায় রোমা। বাম দিক থেকে চমৎকার ক্রসে ডান দিকে মাতিয়াস সুলেকে খুঁজে নেন রদ্রিগো মোরা। অনেক সময় পাওয়া সুলে ঠাণ্ডা মাথায় জাল খুঁজে নেন।   ১৭তম মিনিটে সফল স্পট কিকে ব‍্যবধান দ্বিগুণ করেন দনিয়েল মালেন। দুই-তিন পা দৌড়ে বাম দিকের পোস্ট ঘেঁষে জাল খুঁজে নেন তিনি। ইউনাইটেড গোলরক্ষক ডাইভ দেন উল্টো দিকে।   সুলের শট আইডেন হেভেনের হাতে লাগলে এই পেনাল্টি পায় রোমা।   ১৯তম মিনিটে স্কোর লাইন ৩-০ হয়ে যেতে পারত। সুলে শট নেওয়ার আগেই কোনোমতে বল কেড়ে নিতে পারেন হেভেন।   ৩৯তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় রোমা। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার সুলে কোনো সতীর্থকে খুঁজে নেওয়ার আগে দারুণ স্লাইডে বল কেড়ে দেন লেনি ইউরো।   ৪৫তম মিনিটে মালেনের শট ডাইভ দিয়ে কোনোমতে ঠেকান ইউনাইটেড গোলরক্ষক। ফিরতি শটও ব‍্যর্থ করে দেন তিনি।   প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে একটুর জন‍্য জালের দেখা পাননি সুলে। তার বাঁকানো শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্টে লেগে!   প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটা শট লক্ষ‍্যে রাখতে পারে ইউনাইটেড। সেটা অনায়াসেই ফেরান রোমা গোলরক্ষক। তখন বোঝার কোনো উপায় ছিল না, দ্বিতীয়ার্ধে কতটা কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে তাকে।   ৫৫তম মিনিটে কুইয়াকে ডি বক্সে রোমার জানলুকা মানচিনি ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড।   ৫৭তম মিনিটে ফের্নান্দেসের স্পট কিক ঠেকিয়ে দেন রোমা গোলেক্ষক। কিন্তু শট নেওয়ার আগেই ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে ডি বক্সে ঢুকে পড়ায় ফের শট নেওয়ার সুযোগ পান ইউনাইটেড অধিনায়ক। এবার সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি।   ৬০তম মিনিটে এমবুমোর শট কাছের পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে, দূরের পোস্ট ছুঁয়ে ফিরে আসে! দ্রুত আলগা বল ক্লিয়ার করেন রোমার একজন ডিফেন্ডার।   ৬৭তম মিনিটে গোললাইন থেকে শট ঠেকিয়ে ব‍্যবধান ধরে রাখেন রোমা অধিনায়ক ক্রিস্তান্তে।   ৮৩তম মিনিটে লিওনার্দো বালের্দির অবিশ্বাস‍্য ভুলে সুযোগ পেয়ে যান কুইয়া। ফের্নান্দেসের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বলে পা ছোঁয়াতে পারেনি বালের্দি। খুব কাছ থেকে বাকিটা সারেন কুইয়া।   তিন মিনিট পর দুরূহ কোণ থেকে গতিময় শটে ফের জাল খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ৩-২ ব‍্যবধানে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। ওল্ড ট্র‍্যাফোর্ড যেন ফেটে পড়ে উল্লাসে। জার্সি খুলে তাদের সঙ্গে উদযাপনে মাতেন কুইয়া। তাতে দেখেন হলুদ কার্ড।   যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। বাকি সময় ইউনাইটেড খেলে ১০ জন নিয়ে।   ২০০১ সালের পর প্রথমবার ইংল‍্যান্ডে কোনো ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে জয়ের আশা জাগানো রোমার শেষটা হয় হতাশার। অন‍্যদিকে প্রবল চাপে থাকা ইউনাইটেড দুঃসময় কাটিয়ে আশা জাগাল কক্ষপথে ফেরার।   ৪ ম‍্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে আছে ইউনাইটেড। ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৯ নম্বরে রোমা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আতলেতিকোর মাঠে বায়ার্ন মিউনিখের জয়

সংগৃহীত ছবি

দাদার স্মরণে তহবিল সংগ্রহের ম্যারাথনে অংশ নিয়ে মৃত্যু

ছবি : ক্রিইকইনফো

নারী টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ফিফটির নতুন ইতিহাস গড়লেন প্রেমা রাওয়াত

0 Comments