এটি এমন এক পরজীবী, যা ত্বকের ভেতর দিয়ে শরীরে ঢুকে রক্তে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে। নীরবেই এটি ডিম পাড়ে, আর এসব ডিম জমা হয় মানবদেহের লিভার, ফুসফুস ও যৌনাঙ্গে।
অনেক সময় বছরের পর বছর ধরে মানুষের শরীরে এই পরজীবীর উপস্থিতি থাকলেও তা ধরা না-ও পড়তে পারে।
এই পরজীবীর সংক্রমণ স্নেইল ফিভার নামে পরিচিত।
স্নেইল বা শামুক এই পরজীবী বহন করার কারণেই এই নামকরণ। এই রোগের বিষয়ে মানুষের জানাশোনা অনেক কম।
কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো এই পরজীবী সংক্রমিত রোগ ক্রমেই বদলাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, অলক্ষ্যে থাকা এই পরজীবীর সংক্রমণ এমনভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, ভবিষ্যতে এটি নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবছর এই রোগের জন্য চিকিৎসা নেন বিশ্বের প্রায় ২৫ কোটি মানুষ। যাদের বেশির ভাগই আফ্রিকা মহাদেশে বাস করে। কারণ যেসব শামুক এই পরজীবী বহন করে, সেগুলো মূলত আফ্রিকায়ই পাওয়া যায়।
তবে বিশ্বজুড়ে ৭৮টি দেশে এই রোগের সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে চীন, ভেনেজুয়েলা ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বিষয়টি এখন একটি বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে এমন সব পরিবর্তন এসেছে, এটি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই সতর্কবার্তাটি এসেছে এমন এক সময়, যখন ৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এই দিবসের লক্ষ্য হলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া, যেগুলো মূলত দরিদ্র অঞ্চলে বসবাসকারী ১০০ কোটির বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে।
এই পরজীবী বহন করে বিশেষ ধরনের শামুক। এই শামুক যে পানিতে থাকে, সেখানে এই পরজীবীর লার্ভা পানিতে ছড়িয়ে পড়ে।
এখন কোনো মানুষ বা প্রাণী যদি কোনোভাবে সেই পানির সংস্পর্শে আসে বা গোসল করতে নামে, তখন তার স্নেইল ফিভার হতে পারে। এই লার্ভাগুলোতে চামড়া গলিয়ে ফেলার মতো এনজাইম ছাড়ে এবং ত্বকের ভেতর দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়ে।
এরপর এগুলো ধীরে ধীরে মানুষের শরীরের ভেতরে বড় হয়ে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বসবাস শুরু করে। স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে।
এই ডিমগুলোর কিছু মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তবে অনেক ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে যায়।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সেগুলো ধ্বংস করতে গিয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।
কিছু ডিম তলপেট ও যৌনাঙ্গের আশপাশে আটকে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস। এই রোগে পেটব্যথা থেকে শুরু করে ক্যান্সার এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
স্নেইল ফিভার সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে সেরে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ, যেমন ছোট শিশু, কৃষি শ্রমিক ও জেলেদের কয়েক বছর ধরে পরামর্শ দিয়ে আসছেন তাঁরা যেন প্রতিবছর এই ওষুধ খায়।
তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়াসহ অন্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরজীবীর নতুন কিছু ধরন পাওয়া গেছে, যেগুলো প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ধরা না-ও পড়তে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরে থাকা পরজীবী আর প্রাণীর শরীরে থাকা পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে নতুন ‘হাইব্রিড (মিশ্র)’ ধরন তৈরি করছে।
এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষ ও প্রাণী উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে। ফলে রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা আরো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন যে, মানুষ ও প্রাণীর শরীরের পরজীবীগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রজনন করছে। কিন্তু তারা নিশ্চিত ছিলেন না, এই হাইব্রিড ডিমগুলো শরীরের বাইরে টিকে থাকতে ও বেঁচে থাকতে পারছে কি না।
এটা প্রমাণ করতে গবেষকরা মালাউইর কিছু নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ ও প্রাণীর কাছ থেকে নমুনা নেন। তাঁরা দেখেন, এসব পরজীবীর ৭ শতাংশই ছিল পরিবর্তিত হাইব্রিড, যা তাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। এর মানে হলো এই নতুন পরজীবীগুলো সফলভাবে বংশবিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতে আরো ছড়িয়ে পড়বে। বিবিসিকে অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ‘প্রকৃতিতে যদি এভাবে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা অনেক বড় হয়ে যাবে।’
তিনি সতর্ক করেছেন, যেহেতু গবেষণা শুধু কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় করা হয়েছে, তাই এটা হয়তো ‘হিমশৈলের চূড়া মাত্র, আসল সমস্যা আরো বড় হতে পারে। বিশেষ করে, অনেক সময় পরীক্ষায় এই সংক্রমণ ধরাই পড়ছে না।
ভবিষ্যতে এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো পুরনো পরজীবীদেরও হারিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন তিনি। তখন এটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত নন, এই হাইব্রিড পরজীবী বহন করা রোগীদের কিভাবে চিকিৎসা করতে হবে।
অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ‘নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের একটা বার্তা—জেগে উঠুন। বড় সমস্যা হওয়ার আগেই কি আমরা দ্রুত কিছু করতে পারি না?’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিক্ষাকে জীবনব্যাপী একটি নীতি-কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক জীবনব্যাপী শিক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে চলমান ডিজিটাল, সবুজ ও জনমিতিক পরিবর্তন দেশগুলোর ভেতরে এবং এক দেশের সাথে আরেক দেশের বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নতুন এক প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করেছে। ‘ভবিষ্যতের জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষা এবং দক্ষতা’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়, আধুনিকায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সবুজ রূপান্তর এবং জনমিতিক পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কর্মী জরিপ, অনলাইন চাকরির চাহিদা বিশ্লেষণ, প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য এবং প্রশিক্ষণ কার্যকারিতা নিয়ে ১৭৪টি গবেষণার পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আইএলও’র মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হংবো বলেন, ‘জীবনব্যাপী শিক্ষা বর্তমানের কাজ ও ভবিষ্যতের সুযোগের মধ্যে সেতুবন্ধন। এটি শুধু কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার বিষয় নয়; বরং শোভন কাজ নিশ্চিত করা, উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়া এবং যা স্থিতিশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এটি টেকসই উন্নয়ন কৌশলের একটি অপরিহার্য উপাদান।’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ গত এক বছরে কোনো কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক খাতে স্থায়ী পদে নিযুক্ত পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যে নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত এই ধরনের প্রশিক্ষণের হার ৫১ শতাংশ। এই ব্যবধানটি শেখার সুযোগে স্পষ্ট বৈষম্য তুলে ধরে, বিশেষ করে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের মধ্যে এবং বিভিন্ন শিক্ষাস্তরের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, ‘প্রতিবেদনের বৈশ্বিক প্রবণতাগুলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নিয়োগদাতারা এখন প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি ‘সফট স্কিল’ সম্পন্ন কর্মী খোঁজেন। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা জরুরি, যাতে পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।’ অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপনের আইএলও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি যোগাযোগ, দলগত কাজ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার চাহিদা অনেক বেশি। আইএলওর হিসাবে, বিশ্বে প্রায় ৩২ শতাংশ কর্মী পরিবেশ সম্পর্কিত কাজে যুক্ত। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সবুজ রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত সব কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শোভন কাজ নয়। সঠিক দক্ষতা ও নীতির সমন্বয় না থাকলে এসব নতুন সুযোগ উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত নাও করতে পারে। বিশ্বে দীর্ঘমেয়াদি সেবা খাতে কর্মীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে - ২০২৩ সালে যেখানে সাড়ে ৮কোটি ছিল, তা ২০৫০ সালে ১৫.৮ কোটিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই খাতের অনেক বেতনভুক্ত কর্মী এখনো কম মজুরি ও অনুপযুক্ত কর্মপরিবেশে কাজ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনব্যাপী শিক্ষাকে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মক্ষেত্র ও সামাজিকভাবে প্রসারিত করতে হবে। জীবনব্যাপী শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার সক্ষমতা বা উৎপাদনশীলতা নয়; বরং এটি শোভন কাজ, উদ্ভাবন, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি। তবে অনেক দেশেই শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো খণ্ডিত এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে ভুগছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর ৩৪ শতাংশ দেশ প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষায় শিক্ষা বাজেটের ১ শতাংশের কম ব্যয় করে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই হার ৬৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে সরকার, নিয়োগদাতা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শেখার সুযোগ সম্প্রসারণ, শক্তিশালী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মানুষের জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসাথে প্রতিবেদনটি সুশাসন, সমন্বয়, অর্থায়ন এবং সামাজিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তাকেও তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনের সতর্কবার্তা - দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতের কর্মজগতের এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক কর্মীকে পিছিয়ে ফেলতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ১৫ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৩১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫২ শিশুর এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৫৯ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৭ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪১ হাজার ৭৯৩ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে ১৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ৭০৫ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হওয়া ১৭ মৃত্যুর মধ্যে ১২টিই ঢাকা বিভাগে ঘটেছে।
জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আজ অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, কবি, সাহিত্যিক, ওলামা-মাশায়েখ, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবার নিজেদের দলীয় ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণ জানায় জামায়াতে ইসলামী। ওইদিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।