খেলাধুলা

দাপুটে জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

৮৯ রানে অলআউট হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতেই বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো এরপর থেকেই। টানা দুই ওয়ানডে জিতেছে দাপটের সঙ্গে। আজ শাহাদাত হোসেন দীপুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জিতেছে ৭ উইকেটে। সে সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। এর মধ্য দিয়ে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে যুব টাইগাররা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল।

 

প্রিটোরিয়ায় গত ৩ আগস্ট ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট দক্ষিণ আফ্রিকার (ইউএসএসএ) বিপক্ষে বাংলাদেশ ইমার্জিং জিতেছিল ডাকওয়ার্থ লুইস ও স্টার্ন মেথডে ২৬ রানে। আজ একই প্রতিপক্ষকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে দীপুর দল। ১৬৯ বল হাতে রেখে বাংলাদেশ পেয়েছে ৭ উইকেটের বিধ্বংসী জয়।

 

প্রিটোরিয়ায় আজ ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ ইমার্জিং। ইনিংসের ষষ্ঠ বলে ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট দক্ষিণ আফ্রিকার (ইউএসএসএ) পেসার এসোসা আইহেভবাকে তুলে মারতে গিয়ে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন হাবিবুর রহমান সোহান।

 

১ রানে উইকেট পড়ার পর তিন নম্বরে নেমেছেন ইমার্জিং দলের অধিনায়ক শাহাদাত হোসেন দীপু। তবে তার সঙ্গে ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিনের জুটি বড় হয়নি। এক ওভার বিরতিতে এসে রবিনকে (৮) ফিরিয়েছেন আইহেভবা। ইফতিখার হোসেন ইফতি ও দীপু এরপর বিপদে দলের হাল ধরেন। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তারা (ইফতি-দীপু)। ১১তম ওভারের শেষ বলে ইফতিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ইউএসএসএর বাঁহাতি স্পিনার লেতন ত্রস্কি।

 

দীপু বিস্ফোরক ব্যাটিং করলেও ইফতি খেলেছেন ধীরেসুস্থে। ২৪ বলে ১৬ রান করা ইফতির বিদায়ে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের স্কোর হয়ে যায় ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৮। তারপর আর বাংলাদেশকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দুজনে স্বাগতিক দলের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন।

 

চতুর্থ উইকেটে ৭২ বলে ৮৯ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন ইরফান শুক্কুর ও দীপু। ২১.৫ ওভারে বাংলাদেশ ইমার্জিং করে ৩ উইকেটে ১৬৭ রান। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭৩ রান আসে দীপুর ব্যাটে। ৫৬ বলের ইনিংসে ১২ চার ও ১ ছক্কা। শুক্কুরও ফিফটি ছুঁয়েছেন। ৩৯ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৫৮ রান।

 

টস জিতে আজ ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক দীপু। একটা পর্যায়ে ইউএসএসএর স্কোর ছিল ১৯ ওভারে ১ উইকেটে ১২৬ রান। এখান থেকেই ধসের শুরু। ৪০ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকেরা ৩৩.৫ ওভারে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায়। ইনিংস সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন ডেভিড টিগার। ৫৭ বলের ইনিংসে ৮ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন তিনি। বাংলাদেশের চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৬.৫ ওভারে ২৮ রানে পেয়েছেন ৪ উইকেট।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দাপুটে জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ

৮৯ রানে অলআউট হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতেই বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো এরপর থেকেই। টানা দুই ওয়ানডে জিতেছে দাপটের সঙ্গে। আজ শাহাদাত হোসেন দীপুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জিতেছে ৭ উইকেটে। সে সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। এর মধ্য দিয়ে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে যুব টাইগাররা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল।   প্রিটোরিয়ায় গত ৩ আগস্ট ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট দক্ষিণ আফ্রিকার (ইউএসএসএ) বিপক্ষে বাংলাদেশ ইমার্জিং জিতেছিল ডাকওয়ার্থ লুইস ও স্টার্ন মেথডে ২৬ রানে। আজ একই প্রতিপক্ষকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে দীপুর দল। ১৬৯ বল হাতে রেখে বাংলাদেশ পেয়েছে ৭ উইকেটের বিধ্বংসী জয়।   প্রিটোরিয়ায় আজ ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ ইমার্জিং। ইনিংসের ষষ্ঠ বলে ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট দক্ষিণ আফ্রিকার (ইউএসএসএ) পেসার এসোসা আইহেভবাকে তুলে মারতে গিয়ে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন হাবিবুর রহমান সোহান।   ১ রানে উইকেট পড়ার পর তিন নম্বরে নেমেছেন ইমার্জিং দলের অধিনায়ক শাহাদাত হোসেন দীপু। তবে তার সঙ্গে ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিনের জুটি বড় হয়নি। এক ওভার বিরতিতে এসে রবিনকে (৮) ফিরিয়েছেন আইহেভবা। ইফতিখার হোসেন ইফতি ও দীপু এরপর বিপদে দলের হাল ধরেন। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তারা (ইফতি-দীপু)। ১১তম ওভারের শেষ বলে ইফতিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ইউএসএসএর বাঁহাতি স্পিনার লেতন ত্রস্কি।   দীপু বিস্ফোরক ব্যাটিং করলেও ইফতি খেলেছেন ধীরেসুস্থে। ২৪ বলে ১৬ রান করা ইফতির বিদায়ে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের স্কোর হয়ে যায় ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৮। তারপর আর বাংলাদেশকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দুজনে স্বাগতিক দলের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন।   চতুর্থ উইকেটে ৭২ বলে ৮৯ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন ইরফান শুক্কুর ও দীপু। ২১.৫ ওভারে বাংলাদেশ ইমার্জিং করে ৩ উইকেটে ১৬৭ রান। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭৩ রান আসে দীপুর ব্যাটে। ৫৬ বলের ইনিংসে ১২ চার ও ১ ছক্কা। শুক্কুরও ফিফটি ছুঁয়েছেন। ৩৯ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৫৮ রান।   টস জিতে আজ ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক দীপু। একটা পর্যায়ে ইউএসএসএর স্কোর ছিল ১৯ ওভারে ১ উইকেটে ১২৬ রান। এখান থেকেই ধসের শুরু। ৪০ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকেরা ৩৩.৫ ওভারে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায়। ইনিংস সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন ডেভিড টিগার। ৫৭ বলের ইনিংসে ৮ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন তিনি। বাংলাদেশের চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৬.৫ ওভারে ২৮ রানে পেয়েছেন ৪ উইকেট।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাকিবের দেশে ফেরার সুযোগ দেখছেন না ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল

সংগৃহীত ছবি

তথ্য গোপনের অভিযোগে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ পাকিস্তানি অলরাউন্ডার

ছবি: সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কা টেস্টের আগে ভারতীয় শিবিরে অস্বস্তি

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারত। অধিনায়ক শুবমান গিল ডান হাতের অনামিকায় চোট পাওয়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে মাঠে নামতে পারেননি। ফলে আগামী ১৫ আগস্ট গলে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে তার খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।   বৃহস্পতিবার ভারতের অনুশীলন সেশনে ডান হাতের অনামিকায় আঘাত পান গিল। চোটটি কতটা গুরুতর, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।   ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, গিলের শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখছে দলের মেডিকেল টিম। প্রথম টেস্ট শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি থাকায় তার ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অবস্থায় থাকবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।   বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুশীলনের সময় গিল ডান হাতের অনামিকায় আঘাত পেয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাকে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   গিলের অনুপস্থিতিতে প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহ-অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। ফলে প্রথম টেস্টে গিলকে পাওয়া না গেলে নেতৃত্বের দায়িত্বও রাহুলের কাঁধে পড়তে পারে।   শুধু গিলের চোটই নয়, শ্রীলঙ্কা সফরে ভারত আগে থেকেই বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে হারিয়েছে। হাঁটুর চোটের কারণে দলের অন্যতম প্রধান পেসার জাসপ্রীত বুমরাহ এই সফরে নেই। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে হার্শিত রানা এবং ওয়াশিংটন সুন্দরও দলের বাইরে। এছাড়া কোয়াডের চোটের কারণে নিতিশ কুমার রেড্ডিকেও পাওয়া যাচ্ছে না।   ফলে গিলের চোট ভারতীয় শিবিরের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তিনি শুধু দলের অধিনায়কই নন, ব্যাটিং লাইনআপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও। টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ব্যাটিং পরিকল্পনায় তার ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। দুই ম্যাচের এই সিরিজ ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে ভারত পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম এবং শ্রীলঙ্কা ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। আগামী বছর দ্য ওভালে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ।   এই পরিস্থিতিতে গিলের ফিটনেসের দিকে এখন বাড়তি নজর থাকবে ভারতীয় দলের। আগামী ১৫ আগস্ট গলে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এরপর ২৩ আগস্ট কলম্বোয় শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।   প্রথম টেস্টের আগে গিল ফিট হয়ে উঠতে পারলে ভারত স্বস্তি পাবে। কিন্তু চোটের কারণে তাকে শেষ পর্যন্ত বাইরে থাকতে হলে অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যাটিং কম্বিনেশনেও পরিবর্তন আনতে হবে ভারতকে। তাই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই গিলের চোট ভারতীয় দলের জন্য বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নারী এশিয়া কাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ, ৩১ আগস্ট মিশন শুরু বাংলাদেশের

ছবি : রয়টার্স

স্পেনে ফিরছেন রদ্রি: বার্সেলোনার সাথে চার বছরের চুক্তি চূড়ান্ত

ছবি: সংগৃহীত

ফিফার বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল উয়েফা

ছবি: সংগৃহীত
নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে ইতিহাসে বাটলার

ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার জস বাটলার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডকে টপকে এই ফরম্যাটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি।   দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের হয়ে ওয়েলশ ফায়ারের বিপক্ষে খেলতে নেমে এই কীর্তি গড়েন বাটলার। ম্যাচটিতে মাত্র ২০ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৬টি ছক্কা। এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।   ম্যাচের আগে বাটলারের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে রান ছিল ১৪ হাজার ৭৮২। পোলার্ডের ১৪ হাজার ৮০৩ রানকে ছাড়িয়ে যেতে তার দরকার ছিল মাত্র ২২ রান। সেই লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে যান তিনি এবং ইনিংস শেষে তার মোট রান দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮৩৩।   বাটলারের এই অর্জন আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে তার কম ইনিংসে রেকর্ড গড়ার কারণে। পোলার্ড যেখানে ৬৬৩ ইনিংসে ১৪ হাজার ৮০৩ রান করেছিলেন, সেখানে বাটলার মাত্র ৪৯২ ইনিংসেই ১৪ হাজার ৮৩৩ রানে পৌঁছে গেছেন। অর্থাৎ, ১৭১টি ইনিংস কম খেলেই তিনি এই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন।   টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মুকুট এর আগে কয়েকবার হাতবদল হয়েছে। দীর্ঘদিন এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ক্রিস গেইল। পরে সেই অবস্থান দখল করেন কাইরন পোলার্ড। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন বাটলার।   টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে বাটলারের পরিসংখ্যানও তার সাফল্যের প্রমাণ দেয়। এখন পর্যন্ত এই সংস্করণে তিনি করেছেন ৯টি সেঞ্চুরি ও ১০৬টি হাফ সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত পারফরম্যান্সের কারণেই তিনি এই অনন্য অবস্থানে পৌঁছেছেন। ৩৫ বছর বয়সি এই ব্যাটার ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সংগ্রহ করেছেন ৪ হাজার ২১২ রান। পাশাপাশি আইপিএল, এসএ২০ ও দ্য হান্ড্রেডসহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ম্যাচ, আয়ারল্যান্ডের সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন অনিশ্চিত

সংগৃহীত ছবি

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় চাপে আয়ারল্যান্ড

সংগৃহীত ছবি

ত্রিনিদাদ টেস্টে পাকিস্তানের দাপট, পাত্তাই পেল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ

0 Comments