আন্তর্জাতিক

দাবানলের ধোঁয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে গর্ভের শিশুর ওপর: গবেষণা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর থাবায় দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে প্রকৃতির চিরচেনা রূপ। আর এর সঙ্গেই নতুন এক নীরব ঘাতক হয়ে হাজির হয়েছে দাবানলের ধোঁয়া।

 

আমেরিকার একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, একদিকে যখন মানুষ কলকারখানা ও যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণে সফল হচ্ছে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় দাবানলের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সেই অর্জনগুলো ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। গত প্রায় দুই দশক ধরে চলা এই গবেষণায় উঠে এসেছে এক নির্মম সত্য; প্রসবপূর্ব সময়ে গর্ভবতী নারীদের দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসার হার দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে।

 

আকাশের এপার থেকে ওপার ছেয়ে যাওয়া এই ধোঁয়া শুধু প্রকৃতিকেই ধ্বংস করছে না বরং হবু মায়েদের ফুসফুস ভেদ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যাওয়া অতিক্ষুদ্র পিএম২ দশমিক ৫ কণার মাধ্যমে সরাসরি আঘাত হানছে অনাগত সন্তানের ওপর। 

 

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ শিল্প বা যানজটের ধোঁয়ার চেয়ে দাবানলের এই ধোঁয়া আরও বেশি বিষাক্ত ও ভয়ংকর। এর ফলে অকাল জন্ম কিংবা কম ওজনের শিশুর জন্ম নেওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রান্তিক গ্রাম এবং আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো এর শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

 

শুধু আমেরিকাই নয়, ইউরোপের দেশগুলোতেও সুদূরপ্রসারী এই বিষাক্ত ধোঁয়া সীমানা পেরিয়ে মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। একসময়ের নির্মল বাতাস এখন জলবায়ুর চরম রূপের কারণে এক অদৃশ্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে, যা মোকাবিলায় এখনই বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

সূত্র: ইউরো নিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
গাছে বেঁধে গায়ে আগুন, সেই ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যু

অভিযোগের পর দুই দীর্ঘ মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন ভারতের পাঞ্জাবের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌর। গত ৩ জুলাই অপহরণের পর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে একটি গাছে বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ আগস্ট চণ্ডীগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিজিআইএমইআর)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২৮ বছর।    মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   সোশ্যাল মিডিয়ায় মনজিতের শেষ পোস্টটিতে তার এক বন্ধু ভক্তদের কাছে খানিকটা ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, খুব শিগগিরই মনজিৎ সুস্থ হয়ে নিজের মুখেই পুরো ঘটনার বর্ণনা দেবেন। তবে সেই মুহূর্ত আর কখনো আসেনি।    এর আগে, গত ২৮ জুলাই পাঞ্জাবের আরেক ইনফ্লুয়েন্সার ‌গিলমোহালির একটি পোস্টে মনজিতের শারীরিক অবস্থার আপডেট দিয়ে বলা হয়েছিল, ‘মনজিৎ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করুন। সে এখন প্রায় ৫০ শতাংশ সুস্থ। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে সে নিজেই লাইভে এসে কার সঙ্গে কী ঘটেছে তা বিস্তারিত বলবে। দয়া করে ঘরে বসে কাউকে বিচার করবেন না। ভালো কিছু বলতে না পারলে খারাপ বলবেন না। আমরা আপনাদের সামনে হাতজোড় করছি, কারণ তার পরিবার ও মনজিৎ নিজে অত্যন্ত ভীতিগ্রস্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’   ভুক্তভোগী মনজিতের মায়ের দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪-এর একটি মদের দোকানের কাছে মনজিৎকে শুভি ও পিন্ডা নামের দুই পরিচিত ব্যক্তি দেখা করার কথা বলে ডেকে আনে। পরবর্তীতে তারা তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে পাঞ্জাবের রূপনগর জেলার মোরিন্ডা নামক স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়, একটি তুত গাছে বেঁধে ফেলা হয় এবং গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তার এক বন্ধু দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি কম্বল দিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।   ঘটনার পর মনজিৎকে প্রথমে মোরিন্ডার একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে মোহালিতে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে শরীরের মারাত্মক দগ্ধ অবস্থার কারণে গত ৯ জুলাই চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর হাসপাতালে রেফার করা হয়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক সপ্তাহ অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। গত ৫ আগস্ট অল্প সময়ের জন্য তার জ্ঞান ফিরে এলে তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন। তবে এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে এবং ২৬ আগস্ট তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই হামলার নেপথ্যের আসল কারণ বা উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত জীবনে বিচ্ছেদপ্রাপ্ত মনজিৎ কৌর মৃত্যুর সময় তার সাত বছরের একটি ছেলেসন্তান রেখে গেছেন।   হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনার পর ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৪০(১) (অপহরণ), ১০৩(১) (হত্যা) এবং ৩(৫) (যৌথ অপরাধমূলক দায়) ধারায় একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।    চণ্ডীগড় সেক্টর ৩৪ থানার এসএইচও শাদি লাল জানিয়েছেন, নিহতের মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। পলাতক দুই অভিযুক্ত শুভি ও পিন্ডাকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত ও সত্য উন্মোচনে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য ডিজিটাল ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।   সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ভাষণ নিয়ে বাজি, সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মীকে জরিমানা

সংগৃহীত ছবি

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫, ডিএনএ সংরক্ষণের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ওমানের হরমুজ সমঝোতা, বাস্তবায়নে নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় প্রতিদিন ১ হাজার ড্রোন হামলার লক্ষ্য জেলেনস্কির

  রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। প্রতিদিন অন্তত ১ হাজার ড্রোন হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   শুক্রবার রাতে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাওয়ায় পাল্টা হামলার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।   তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বাড়বে।   জেলেনস্কি বলেন, ‘আরও বেশি হতে হবে। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে এবং আমরা এই কাজ সম্পন্ন করব।’   এদিকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জন র‌্যাটক্লিফের সফর নিয়েও কথা বলেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, মস্কোয় সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিয়েভকে তথ্য দেওয়া হয়েছে।   জেলেনস্কি বলেন, সেখানে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। তবে বৈঠকগুলোর বিস্তারিত জানাননি তিনি। তথ্য দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদও জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।   ক্রেমলিন জানিয়েছে, র‌্যাটক্লিফ মস্কোয় রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।   স্থবির হয়ে থাকা শান্তি আলোচনার মধ্যেই র‌্যাটক্লিফের মস্কো সফরকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি গোয়েন্দা যোগাযোগের বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নাসা-সিনেটসহ মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় চীনা হ্যাকারদের নজর

ছবি : সংগৃহীত

খাড়গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’, ক্ষুব্ধ রাহুল

ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে: বিশ্লেষক

ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ৬৬৯ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ২৩৬২

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এখনো ২ হাজার ৩৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ৬৬৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। নেপাল পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।   শনিবার (২৯ আগস্ট) পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফাল জানান, নিখোঁজদের মধ্যে ১ হাজার ৮৬৩ জন নেপালি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫৯১ জন পুরুষ ও ২৬৪ জন নারী। এছাড়া নিখোঁজ ৪৯৯ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ২২৩ জন পুরুষ ও ৩০০ জন নারী রয়েছেন। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে ১৪৮ জন নারী, ২৬৮ জন পুরুষ, ২২ জন কিশোরী ও ২০ জন কিশোরের মরদেহ রয়েছে। এছাড়া ২১১টি আংশিক মানব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ২০টি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   বন্যার পর চলমান উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০১ জন আহত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫০৬ জন পুরুষ এবং ৭৯৫ জন নারী।   প্রলয়ংকারী এ বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ১ হাজার মানুষ বর্তমানে নুয়াকোটের নয়টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে ধাদিংয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা সব বাস্তুচ্যুত মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   নিখোঁজদের উদ্ধারে এবং মৃতদের শনাক্ত করতে নেপালে এখনো ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।   সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে বিপর্যয়ের ৫ মাস আগেই মিলেছিল দুর্যোগের পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও ৭৫০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি ইরানের

0 Comments