জাতীয়

তারেক রহমানের জনসভা, কানায় কানায় পূর্ণ ফেনী পাইলট মাঠ

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেনীর নির্বাচনি জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। জনসভা শুরুর আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। এ ছাড়া, মাঠের বাইরে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টেও অবস্থান করছেন অনেক নেতাকর্মী।

 

ফেনী ছাড়াও নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে বাস, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যান ব্যবহার করে আসা নেতাকর্মীরা শহরের প্রবেশমুখে এসে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষ নেতারা। নেতাকর্মীদের অনেকের হাতে তাদের দলীয় প্রতীক ধানের শীষ শোভা পাচ্ছে। আবার দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, মাফলার পরে এসেছেন বহু নেতাকর্মী।

 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

 

পরশুরামের বীরচন্দ্র নগর থেকে আসা আবুল কাশেম বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও সরাসরি কখনোই তারেক রহমানকে দেখার সুযোগ হয়নি। এর আগে তিনবার তিনি ফেনী আসলেও এবারই প্রথম দলীয় প্রধান হয়ে আসছেন। মাঝে দীর্ঘ সময় তিনি দেশের বাইরে থেকে দল পরিচালনা করেছেন। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই সফর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে অনেক বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করছি।

 

ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, এ জনসভার ফেনীর অতীতের সব উপস্থিতি ছাড়িয়ে যাবে। ইতোমধ্যে মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতি। শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছেন।

 

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়া পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ জনপদের সঙ্গে বেগম জিয়ার আত্মার সম্পর্ক ছিল। দলমত নির্বিশেষে জনপদের মানুষ এখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত। দলীয় প্রধানের জনসভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নিচ্ছেন।

 

এদিকে জনসভা ঘিরে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জনসভার মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে- রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।

 

প্রায় দুই দশক সময় পর সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক ভিটা ফেনীর জনপদে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশের ভবনে সাঁটানো হয়েছে তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন। বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে শহরজুড়ে অন্তত ১০টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে বড় পর্দা।

 

বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের এ জনসভায় পরিচয় করিয়ে দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।

 

এ সফরে দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি মহাসমাবেশে অংশ নেন তারেক রহমান। ফেনী জনসভা শেষ করে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি জনসভায় তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। রাতে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সর্বশেষ জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে ১৬ দেশ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে ১৬টি দেশ ইতোমধ্যে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এই দেশগুলো থেকে মোট ৫৭ দ্বিপাক্ষিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংস্থার শত শত প্রতিনিধি এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকবেন। বিভিন্ন দেশের মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া ১৪ জন। দেশটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ পর্যবেক্ষক পাঠাবে তুরস্ক, যাদের দলে রয়েছেন দেশটির সংসদ সদস্যরা। এই দলের নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল। অন্য দেশগুলো থেকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর সংখ্যা হলো—ইন্দোনেশিয়া (৫), জাপান (৪), পাকিস্তান (৩), ভুটান (২), মালদ্বীপ (২), শ্রীলঙ্কা (১), ফিলিপাইন (২), জর্ডান (২), ইরান (১), জর্জিয়া (২), রাশিয়া (২), কিরগিজস্তান (২), উজবেকিস্তান (১) এবং দক্ষিণ আফ্রিকা (২)। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ জালাল সিকান্দার সুলতান এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সমন্বয় কার্যক্রমে সহায়তাকারী সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি দেশ তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নান্না আকুফো-আডো ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন। এই দলে রয়েছেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস এবং মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহাম্মদ রাদজি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। এই মিশনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরও অন্তত সাত সদস্য থাকবেন—লুকাস মান্ডল (অস্ট্রিয়া), লোরান্ত ভিনচে (রোমানিয়া), তোমাশ জদেখোভস্কি (চেকিয়া), লেইরে পাইহিন (স্পেন), শেরবান দিমিত্রিয়ে স্টুর্দজা (রোমানিয়া), মাইকেল ম্যাকনামারা (আয়ারল্যান্ড) এবং ক্যাটারিনা ভিয়েরা (নেদারল্যান্ডস)। প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ প্রায় ২ হাজারের মতো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি

ছবি : সংগৃহীত

গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন: সরকার

ছবি : সংগৃহীত

একযুগ পর চালু হলো ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট

ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজের নাম পরিবর্তন

রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজের নাম পরিবর্তন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ড. আনোয়ার ল’ কলেজ নামে পরিচালিত হবে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলেজ কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ঢাকা জেলায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজের নাম পরিবর্তন করে ড. আনোয়ার ল’ কলেজ নামে পরিচালনা করা হবে।   নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশের অনুলিপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আইসিটি দপ্তরের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার দক্ষিণ কমলাপুর ও মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত কলেজটির অধ্যক্ষের কাছেও অফিস আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন না সরকারি কর্মকর্তারা : ইসি

ছবি : সংগৃহীত

নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সরকারের চুক্তি সম্পূর্ণ বৈধ

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। পুরোনো ছবি

ভারতের কূটনীতিকদের পরিবার সরানোর কোনো কারণ খুঁজে পাই না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

রমজানে বিদ্যুৎ সরবরাহ কেমন থাকবে?

আসন্ন রমজান, জাতীয় নির্বাচন, সেচ মৌসুম এবং গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে। বাড়তি চাহিদার বিদ্যুতের জন্য ৩৮ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সরকার এ ভর্তুকি না দিলে আগামী মাস থেকে দেশে লোডশেডিং বাড়তে পারে।   সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগকে এমন চিঠি দিয়ে পিডিবি জানিয়েছে, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রির কারণে সংস্থাটি বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতির মধ্যে পড়েছে। পিডিবির একটি সূত্র জানায়, অর্থাভাবে পিডিবি সরকারি-বেসরকারি কোনো কম্পানিকে বিল দিতে পারছে না। শীতের আবেশ কেটে গরমের মৌসুম আসছে। চাহিদাও বাড়ছে বিদ্যুতের। এখন ভর্তুকির মাধ্যমে পিডিবিকে অতিরিক্ত টাকা না দিলে নির্বাচন, সেচ এবং রমজানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হবে। এমনটি হলে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।   পিডিবির অর্থ বরাদ্দের চাহিদার ব্যাপারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, এ সরকারের মেয়াদ অনেকটা শেষ। এখন নতুন করে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। নতুন সরকার এসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। জানা যায়, সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ২৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি। এখন চাহিদা ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট। এরপরও কয়েকদিন ধরে রাজধানী ছাড়া সারা দেশে লোডশেডিং হচ্ছে। সোমবার দুপুরে লোডশেডিং হয়েছে ১ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট।  পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি-বেসরকারি কম্পানিগুলো ৮-৯ মাস ধরে বিদ্যুতের বিল পায় না। তারা ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে পারছে না। একইভাবে গ্যাসের বিল ও ব্যাংকের দেনা দিতে পারছে না বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎ কম্পানি। দেনার কারণে অনেক কম্পানির তেল আমদানির এলসি খুলছে না ব্যাংক। পিডিবি জানায়, গ্যাস এবং তেলভিত্তিক অপ্রয়োজনীয় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন এবং কয়লাভিত্তিক আদানি, এসএস পাওয়ার, রামপাল, পায়রাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম তুলানামূলকভাবে বেশি হওয়ায় ৮ বছর ধরে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। পিডিবি এখন প্রতি ইউনিট ১২ দশমিক ৩৫ টাকায় বিদ্যুৎ কিনে বিক্রি করছে ৬ দশমিক ৬৩ টাকায়। এতে প্রতি মাসে ঘাটতি হচ্ছে হাজার কোটি টাকার বেশি।  যদিও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি বিষয়ে তদন্তে গঠিত জাতীয় কমিটি বলেছে, বিগত আওয়ামী সরকার অপ্রয়োজনীয় ৭৭০০ থেকে ৯৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছিল। এ কারণে প্রতিবছর সরকারকে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা

বাংলাদেশ বিমান। ছবি : সংগৃহীত

১৪ বছর পর ঢাকা থেকে করাচি যাবে বিমানের ফ্লাইট

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনকারীরাই ভবিষ্যতে বিশ্বে নেতৃত্বে দেবে : প্রধান উপদেষ্টা

0 Comments