প্রবাস থেকে বেশিরভাগই বিভিন্ন মানি ট্রান্সফার এজেন্সির মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কিন্তু গ্রিসে তিন শতাধিক প্রবাসীর সেই কষ্টার্জিত অর্থই দেড় মাস ধরে আটকে রেখেছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এনবিএল মানি ট্রান্সফার এসএ’। এরই মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে ঝুলছে তালা। এতে চরম হতাশায় রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের একজন গ্রিস প্রবাসী মোহাম্মদ ইসলাম। তার স্ত্রী অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য জরুরিভাবে ২ হাজার ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ টাকা পাঠান গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ওমোনিয়ায় অবস্থিত ‘এনবিএল’ মানি ট্রান্সফার এজেন্সির ‘এনবিএল কুইক পে’র মাধ্যমে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ২১ তারিখে পাঠানো এই রেমিট্যান্স এখনো পৌঁছায়নি ইসলামের পরিবারের অ্যাকাউন্টে। প্রতিষ্ঠানটিতে বারবার গিয়েও কোনো সদুত্তর পাননি এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
ওই প্রতিষ্ঠানের একটি সূত্র বলছে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে মোহাম্মদ ইসলামের মতো তিন শতাধিক প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স এখনো দেশে পরিবারের অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। এ নিয়ে দূতাবাসেও লিখিত অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। এসব ভুক্তভোগীর তালিকায় রয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীও। অনেকের ধারণা, আটকে থাকা টাকার পরিমাণ অন্তত ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হবে। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর রেমিট্যান্স প্রেরণের রশিদ যাচাই করে দেখা গেছে, প্রত্যেকের পাঠানো অর্থের পরিমাণ দুই থেকে তিন লাখ টাকার বেশি।
প্রবাসীদের দাবি, কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত এই অর্থ নিয়ম মেনে বৈধ পথে পাঠিয়ে এতদিনেও তারা কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। উল্টো গত কয়েকদিন ধরে সংশ্লিষ্ট মানি ট্রান্সফার এজেন্সিটিতে তালা ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। এতে চরম দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন প্রবাসীরা।
অনেকেই পরিবারের একমাত্র ভরসা। দেশে থাকা মা-বাবার চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা, সংসারের নিত্য খরচ– সবই নির্ভর করে এই রেমিট্যান্সের ওপর। কিন্তু তাদের এই অর্থ আটকে থাকায় দেশে থাকা স্বজনরাও পড়েছেন বেকায়দায়।
ভুক্তভোগী প্রবাসী রফিক মিয়া জানান, ‘কষ্ট করে কাজ করি শুধু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। দেশের বাড়িতে বাবা অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু দেড় মাস হয়ে গেল, টাকা পৌঁছায়নি। এখন ফোন করলে বাড়ির লোকের নানা কথা শুনতে হয়।’
আরেক প্রবাসী শরিফের ভাষায়, ‘আমরা কেউ বড় লোক না। মাস শেষে বেতন পাঠাই দেশে। সেই টাকাই যদি এভাবে আটকে যায়, তাহলে বিদেশে থাকার মানে কী? এজেন্সিতে গেলে দরজা বন্ধ, কারও কোনো খোঁজ নেই।’
প্রবাসী কবির মিয়ার অভিযোগ, শুরুতে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হলেও এখন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগই করা যাচ্ছে না। এতে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, টাকা আদৌ ফেরত পাবেন কি না তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে এনবিএল মানি ট্রান্সফার এজেন্সিতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে তালা ঝুলছে। প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ এস এম রনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে হোয়াটসঅ্যাপে এক বার্তায় তিনি জানান, ‘গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি নেই।’
এ ব্যাপারে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন।
এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রবাসীদের হতাশা ও ক্ষোভ। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে আটকে থাকা কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধার করা হোক, যাতে বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো মানুষগুলো অন্তত পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের হজ কোটায় হজে যেতে ইচ্ছুক প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) নাগরিকরা সরকারি অথবা বেসরকারি যে কোনো ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে পারবেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের হজে যাওয়ার নিয়ম জানিয়ে সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ই-হজ সিস্টেমে (www.hajj.gov.bd) প্রাক-নিবন্ধনের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, হোয়াটসঅ্যাপ-সক্রিয় মোবাইল ফোন নম্বর ও বাংলাদেশের ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আরও বলা হয়, প্রাক-নিবন্ধনের সময় ই-হজ সিস্টেমে নিজেকে এনআরবি (নন রেসিডেন্স বাংলাদেশি) হিসেবে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি যে দেশে বসবাস করছেন সেই দেশের নাম উল্লেখ করে বৈধ বসবাসের প্রমাণপত্র (ডকুমেন্ট) আপলোড করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিগগির হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৭ ঘোষণা করা হবে। এরপর ই-হজ সিস্টেমে ঘোষিত প্যাকেজ নির্বাচন করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধিত হজযাত্রীরা হজ পালনের সুযোগ পাবেন।
সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় জিহাদ মজুমদার (২৫) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। নিহত জিহাদ মজুমদার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার দক্ষিণ রামপুর এলাকার মৃত ইসহাক মজুমদারের ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। স্বজনদের ভাষ্য, ঘটনার দিন জেদ্দার একটি সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দেশে মৃত্যুসংবাদ পৌঁছানোর পর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হিসেবে জিহাদ প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে আসছিলেন। তাঁর আয়েই পরিবারের অনেকটা নির্ভরতা ছিল। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে। জিহাদের অকাল মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে পরিচালিত কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কিছু বাংলাদেশি প্রবাসীর অসচেতন ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ভবিষ্যতে কনস্যুলার ট্যুর পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে কনস্যুলেট জানায়, কনস্যুলার ট্যুর পরিচালনার জন্য ভাড়া নেওয়া বিভিন্ন ভেন্যুতে কিছু সেবাগ্রহীতার দায়িত্বহীন আচরণের কারণে সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দরজা-জানালা, চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র নষ্ট করা, দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ, ল্যাম্পপোস্ট ভাঙচুর, স্থাপনার ক্ষতিসাধন এবং ব্যবহৃত পানির বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে না ফেলার মতো ঘটনা বারবার ঘটছে। এসব ঘটনার কারণে কনস্যুলেটকে ভেন্যুর মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কনস্যুলেট আরও জানায়, অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তির কারণে অনেক ভেন্যুর মালিক ভবিষ্যতে কনস্যুলার ট্যুরের জন্য তাদের স্থান ভাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে ভবিষ্যতে মোবাইল কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা গ্রহণে। এ পরিস্থিতিতে সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে ভেন্যুর সম্পদ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় আইন ও শৃঙ্খলা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণই কনস্যুলার ট্যুরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।