আন্তর্জাতিক

সৌদির আলটিমেটামের পর ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল আরব আমিরাত

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫

সৌদি আরবের আলটিমেটামের পর ইয়েমেনে নিজেদের মিশন সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। শিগগিরই ইয়েমেন থেকে সব সেনাদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে আবুধাবি। 

 

স্থানীয় সময় মঙ্গরবার (৩০ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে আরব আমিরাত। খবর রয়টার্সের।

এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী দক্ষিণ ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে হামলা চালায়।

ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) সঙ্গে আমিরাতের আঁতাত এবং এই ইস্যুতে সৌদির সঙ্গে তিক্ততা ও আস্থার সংকটের জেরে গতকাল মঙ্গলবার আবুধাবির উদ্দেশ্যে আলটিমেটাম দিয়েছিল রিয়াদ। সৌদি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আবুধবাবির সেনাদের ইয়েমেন ত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য আমিরাত থেকে পাঠানো অস্ত্র ও সাঁজোয়া যানবাহী চালানে তারা হামলা চালিয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের এমন ঘষণার পর মঙ্গলবার উত্তেজনা চরমে ওঠে। রিয়াদ হাজরামাউত ও মাহরা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানোর পর শুক্রবার এসটিসির অবস্থানেও বিমান হামলা হয়।

ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইয়েমেনের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করা অন্যান্য বিষয় নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

কুয়েত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ জানিয়েছে, তারা সংলাপ জোরদার এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর যে কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করবে। কাতার বলেছে, সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের নিরাপত্তা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে আমিরাত সরকার জানিয়েছে, তারা ইয়েমেনে তাদের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং এখন দেশটিতে অবস্থানরত সকল আমিরাতি সেনাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার বিষয়টি রিয়াদের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই ইস্যুতে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক তিক্ততা ও আস্থার সংকট গত মঙ্গলবার এক চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আবুধাবিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সেনাদের ইয়েমেন ত্যাগ করতে হবে। সৌদির এই নজিরবিহীন আল্টিমেটাম এবং সরাসরি সামরিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ইয়েমেনে চলমান দীর্ঘ যুদ্ধের সূচনা ঘটে ২০১৪ সালে, যখন ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখলে নেয়।

এর পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল-হাদী সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। হুথিদের প্রতিহত করা এবং হাদীর সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠন করা হয়।

২০১৫ সাল থেকে ওই জোট ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। তবে বহু বছরের সংঘর্ষের পরও হুথিদের সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জোটের ভেতরেই ক্ষমতার বণ্টন, প্রভাব বিস্তার ও কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

২০১৯ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ধীরে ধীরে ইয়েমেন থেকে তাদের সেনা উপস্থিতি কমাতে শুরু করে, যদিও প্রকাশ্যে তারা জোটের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখে। একই সময়ে আমিরাত-সমর্থিত দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) দক্ষিণ ইয়েমেনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তারে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই তৎপরতা সৌদি-সমর্থিত কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইয়েমেন থেকে আমিরাতের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা যুদ্ধের ময়দানে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এখন সৌদি আরব এককভাবে এই সংঘাত চালিয়ে যাবে নাকি ভিন্ন কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক কৌশল গ্রহণ করবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও জল্পনা চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ছিল ‘চমৎকার’ : নেতানিয়াহু

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর এক ভিডিও বার্তায় ওই আলোচনাকে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।   নেতানিয়াহু বলেন, এই বৈঠক ‘পূর্ণ অংশীদারত্ব, দ্বিপক্ষীয় সমর্থন এবং ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—সেই অভিন্ন লক্ষ্য নিশ্চিত করার বোঝাপড়ারই প্রতিফলন।’   তিনি আরও বলেন, ‘ইসরাইলের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য মতবিনিময় এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ ছিল এই বৈঠকে।’ তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আর কিছু জানাননি।   এর আগে, হোয়াইট হাউস যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটিকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছিল।   এদিকে, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এই সফরের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন অধিকারকর্মীরা। সূত্র: আলজাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মথুরায় ৩ বছরের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প: শপিং মলের অংশ ধস, বহু মানুষ আটকা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চিপ শিল্পে স্বনির্ভরতার পথে চীন

ছবি: সংগৃহীত
ভারত সীমান্তে চীনের ১১ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়ন

ভারত সীমান্তসংলগ্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে এনডিটিভির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   ভ্যান্টরের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে দুটি ঘাঁটিতে মোট ১১টি জে-২০ মোতায়েন ছিল। এর মধ্যে ৯ জুলাই শিনজিয়াংয়ের হোতান বিমানঘাঁটিতে সাতটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা যায়। এটি একটি বেসামরিক ও সামরিক উভয় ধরনের বিমানঘাঁটি। ঘাঁটিটি ভারতের লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার এবং উত্তর লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে।   এনডিটিভির দাবি, ভারতমুখী কোনো চীনা ঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বেশি জে-২০ মোতায়েনের ঘটনা এটিই প্রথম।   আরেকটি স্যাটেলাইট ছবিতে তিব্বতের লাসা অঞ্চলের দামশুং বিমানঘাঁটিতে চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। এই ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার দূরে।   ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর জোশি বলেন, হোতানে সাতটি এবং দামশুংয়ে চারটি জে-২০ মোতায়েন দেখাচ্ছে যে, ভারত সীমান্তে উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন চীনের নিয়মিত সামরিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এটি আর কেবল শক্তি প্রদর্শনের অংশ নয়।   তার মতে, ভারতের জন্য এখন উত্তর সীমান্তে স্টেলথ যুদ্ধবিমানের হুমকি একটি স্থায়ী বাস্তবতা। তাই স্টেলথ শনাক্তকারী সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা দ্রুত শক্তিশালী করা জরুরি।   জে-২০ যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্টেলথ প্রযুক্তি। অত্যন্ত কম রাডার সংকেতের কারণে এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না। এ কারণে ভারতের বর্তমান যুদ্ধবিমান, এমনকি ফরাসি নির্মিত রাফালও জে-২০-এর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে, কারণ রাফাল স্টেলথ যুদ্ধবিমান নয়।   বর্তমানে ভারতের হাতে কোনো স্টেলথ যুদ্ধবিমান নেই। দেশটির নিজস্ব অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) প্রকল্পের প্রথম স্টেলথ যুদ্ধবিমান অন্তত আরও এক দশক পর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে যদি সব প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে চীনের জে-২০ বহর দ্রুত বেড়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে প্রায় ৫০টি জে-২০ ছিল, ২০২২ সালের শেষ দিকে তা বেড়ে প্রায় ২০০টিতে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বছরে প্রায় ১২০টি করে জে-২০ উৎপাদন শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের হাতে ৩০০ থেকে ৫০০টি জে-২০ রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাস, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের জে-২০ বহর এক হাজারে পৌঁছাতে পারে।   ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, বছরে ১২৫টি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা চীনের উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প ও শক্তিশালী উৎপাদনব্যবস্থার প্রমাণ। তার মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা, শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবলের ফল।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ভারতের বিমানবাহিনীর হাতে মাত্র ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়া ২৬০টির বেশি সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান রয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য আরও ২৬টি রাফাল কেনার চুক্তি হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে ভারতীয় বিমানবাহিনী এ বিষয়ে এনডিটিভির প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

টোকিও সরকারের চালু করা ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ২৬৫ জুটির বিয়ে

ছবি: সংগৃহীত

হিজবুল্লাহর দৃঢ়তা বিশ্বের মুক্তিকামী জাতিগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা: খামেনি

ভলোদিমির জেলেনস্কি, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

কই দিনে জেলেনস্কি ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক সেবা ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের অঙ্গীকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশের সামাজিক সেবা (সোশ্যাল কেয়ার) ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের অঙ্গীকার করেছেন।    তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে চাপের মুখে থাকা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস)-এর ওপর চাপ কমানো হবে।   সোমবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।   সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এনএইচএস দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা এবং সীমিত সম্পদের সংকটে ভুগছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক সেবার বেশিরভাগই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।    দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহ পর বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমার যতটুকু রাজনৈতিক শক্তি আছে, তার সবই আমি ভেঙে পড়া সামাজিক সেবা ব্যবস্থা ঠিক করতে কাজে লাগাব। এ ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তন না এনে আমি দায়িত্ব ছাড়তে চাই না।’   বার্নহ্যামের বাবা আলঝেইমারে আক্রান্ত। তিনি বহু বছর ধরে সামাজিক সেবা ব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছেন। ২০০৯ থেকে ২০১০ সালে গর্ডন ব্রাউনের সরকারে স্বাস্থ্যসচিব থাকাকালেও তিনি এ বিষয়ে কাজ করেন।   সে সময় তিনি এনএইচএসের মতো ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি জাতীয় পরিচর্যা সেবা (ন্যাশনাল কেয়ার সার্ভিস) চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।   বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমি যত দ্রুত সম্ভব সামাজিক সেবা ব্যবস্থার সংস্কারে এগোব।’   তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা চালু করতে ‘সময় লাগবে’। তবে দায়িত্বে থাকাকালেই ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ আনতে তিনি আশাবাদী।   বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বাসাবাড়ি ও আবাসিক পরিচর্যা সেবা আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এসব সেবা দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চাহিদা সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছে।   সামাজিক সেবার ব্যবস্থা না থাকায় বয়স্ক ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিতে না পারাও এনএইচএসে দীর্ঘদিনের শয্যা ও জনবল সংকটের অন্যতম কারণ।   প্রধানমন্ত্রী ক্রমবর্ধমান কল্যাণ ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, মানুষকে কাজে ফিরতে উৎসাহিত করতে ভাতা পাওয়ার শর্ত আরও কঠোর করা হতে পারে।   বার্নহ্যাম বলেন, ‘সহায়তার ধরন বদলাতে হবে। পাশাপাশি মানুষের সামনে যে সুযোগগুলো আসবে, সেগুলো গ্রহণের শর্তের সঙ্গে কিছু সহায়তা যুক্ত করতে হবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

৩৫ দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের ফাঁদে ট্রাম্প, খুঁজছেন বের হওয়ার পথ

ছবি : সংগৃহীত

মোদিবিরোধী পোস্টের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের অভিযান

0 Comments